ওয়ান টু থ্রি ক্লিক ক্যামেরার পেছনে শম্পা গুহমজুমদার শরৎ ২০১৭

আগের পর্বগুলো

জাম্প

বন্ধুরা ,সবাই কেমন আছ? পুজো এসে গেল। পুজোতে অনেকেই নিশ্চয় বেড়াতে যাচ্ছ?সমুদ্র,পাহাড়, ঐতিহাসিক স্থান কোথাও বেড়াবার প্ল্যান করছ। ক্যামেরার ব্যাগ গোছাবার সঙ্গেসঙ্গে এটাও ভাবতে থাক, ছবিগুলোতে কি একটু নতুন মাত্রা যোগ করা যায়? একটু কি ইন্টারেস্টিং করা যাবে? প্রতিবারই লেখার সময় তোমাদের বলি যে ভালো ক্যামেরা মানেই ভালো ছবি উঠবে তা কিন্তু নয়। ছবির সাবজেক্টকে তুমি কোন অ্যাঙ্গল থেকে দেখছ সেটাই আসল। ল্যান্ডস্কেপ, পোর্ট্রেট, নেচার সবক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য। সমুদ্র আছে এমন জায়গাতে গেলে আগেই জেনে নিতে হবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়। তোমাদের আগেও বলেছি এই সময় আকাশের রঙ ছবিকে একটা অন্য মাত্রা দেয়।

এবারে আরো একটু ইন্টারেস্টিং করবার জন্য চিন্তা করা যাক। তোমার ভাইবোন বা আশপাশের কোন অল্পবয়েসি কাউকে বলতে পার পোজ করবার জন্য। মডেল যদি একটু বেশি উৎসাহী হয় তাহলে তাকে নানান ভঙ্গীতে লাফাতে বলতে পার। কিন্তু ক্যামেরা মাটিতে রেখে তুলতে হবে। তবেই ইম্প্যাকটটা ছবিতে পাওয়া যাবে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এর শ্যিলুয়েও খুব সুন্দর হয়। তবে শ্যিলুয়ে সম্বন্ধে আর একদিন তোমাদের বলব। আজ খানিক লাফালাফিই করা যাক।
একটি ব্যাপারে তোমাদের সাবধান করে দিই। আজকাল ছবি আকর্ষণীয় করবার জন্য মানুষ এত ক্ষেপে উঠেছে যে, জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিয়ে ফেলছে। তাই নিজেকে সাবধান থাকতে হবে আর কাউকে পোজ দিতে বললে তার নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
এখানে আমি আমার তোলা কিছু লাফ-এর ছবি দিলাম। এগুলো দেখে তোমরা আইডিয়া পাবে। নিজেদের আইডিয়াও কাজে লাগিও।
জাম্পের সময় ছবি তুলতে হলে ক্যামেরা সাবজেক্টের সামনে যতটা সম্ভব নিচু করে রাখতে হয়। তবেই মনে হবে লাফটা আকাশের পটভূমিতে ঘটছে। মাঠ, সমুদ্রের সামনে, অথবা উঁচু ঢিবির ওপর সাবজেক্ট থাকলে বেশি ভালো। গাছপালা বাড়ি এইসব থাকলে লাফের ছবির মজাটা চলে যাবে।

এখানে দেখ, নৌকা থেকে লাফাচ্ছে একটা ছেলে। যদি ছেলেটা না থাকত তাহলে এটা একটা মামুলি ল্যান্ডস্কেপের ছবি হয়ে যেত। ছেলেটা লাফাচ্ছে বলেই এখানে একটা গল্প তৈরি হয়েছে। ছবিটা দেখবার পর তাই হয়ত কারো কিছুদিন মনে থাকবে।

ছাতা নিয়ে ছবিটা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, এটা শ্যুট করবার জন্য সাবজেক্টকে লাফাতে বলা হয়েছে। তৈরি করা ছবি হলেও এটা আকর্ষণীয় হয়েছে। ফটোগ্রাফারের কৃতিত্ব এটাই যে সে সঠিক মুহুর্তে ক্লিক করেছে। অর্থাৎ সঠিক মুহূর্তটাকে সে ক্যামেরায় ধরতে পেরেছে।

জলাধারের ওপর থেকে যে লাফ দিচ্ছে এটি ন্যাচরাল ক্লিক। বেশ বিপজ্জনকভাবে ছেলেরা লাফ দিচ্ছিল।

হোয়াইট ডেজার্টে এই দলটি নিজেরা ছবি তোলবার জন্য পোজ দিয়েছিল। আমি সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছি।

তাই ছবি তোলবার সময় আশপাশের সবদিকেই খেয়াল রাখতে হবে। সুযোগ যে কোন সময় আসতে পারে।

ফটোগ্রাফিতে প্রধান বিষয় হল সঠিক মুহূর্তে শাটার টেপা। ফটোগ্রাফারদের বলিয়েকইয়েও হতে হয়। অল্পবয়েসিদের ঠিকভাবে অনুরোধ করলে তারা খুশি হয়ে পোজ দেয়। যে আপত্তি করবে তার ছবি তুলবে না। ছবি তোলবার সময় নিজেরা সাবধানে থাকবে আর যে পোজ দেবে সে যেন বেশি ঝুঁকি না নেয় তা খেয়াল রাখবে।

আচ্ছা, এবার বেড়াতে গিয়ে প্রাণ ভরে জাম্প অ্যাকশানের ছবি তোলো। ক্যামেরা মাটিতে রাখতে ভুলো না যেন।

এই লেখার সব এপিসোড একত্রে

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s