কাতুকুতু দুর্ভাগা ইত্যাদি রসিকলাল দাস শীত ২০১৬

katukutulogo১। মরা কুকুর পাঁচ হাজার

একটা লোক একটা জ্যান্ত আর একটা মরা  কুকুর নিয়ে বসে হাউমাউ করে কাঁদছে। দেখে আরেকটা লোক এগিয়ে এলঃ

“কাঁদছিস কেন?”

“কাঁদব না? মাত্র গতকাল একজোড়া কালো রেয়ার ব্রিড কুকুর কিনলাম এক হাজার টাকা দিয়ে, আজ তার মধ্যে একটা মরে গেল।”

“বেশ। আমায় তুই জ্যান্ত আর মরা দুটোই বেচে দে। এক হাজার দিচ্ছি। হল তো?”

“সে কী রে? মরা কুকুর—”

“আহা তুই দে না! মরা কুকুরের অনেক দাম।”

“অ্যাঁ?”

পরদিন আবার দুজনের দেখা। দু নম্বর লোকটা তখন একতাড়া নোট নিয়ে গুনছে। তার পায়ের কাছে জ্যান্ত কুকুরটা বসে লেজ নাড়াচ্ছে। প্রথমজনকে আসতে দেখে সে বলল, “এই দ্যাখ। মরা কুকুর বেচে চার হাজার ন’শো আটানব্বই টাকা পেয়েছি।”

“কী করে?”

“সিম্পল। জ্যান্ত কুকুরটাকে সামনে রেখে লটারি ডাকলাম। দু’টাকা করে টিকিট। দামি কুকুর। আড়াই হাজার লোক টিকিট কাটল। যে জিতল তাকে মরা কুকুরটা দেখিয়ে বললাম, “কুকুরটা হার্ট অ্যাটাক হয়ে মরে গেছে। এই বলে তাকে টিকিটের দামটা ফেরৎ দিয়ে দিলাম।”

২। দুর্ভাগা

লোকটা করুণ মুখ করে এক কাপ চা নিয়ে বসেছিল ছোট্ট রেস্তোরাঁটাতে। ঠিক তখন বাইরে একটাkatukutu03 মোটরবাইক ভোঁ করে এসে থামল। তার থেকে নেমে এসে এক হুমদো জোয়ান ভেতরে ঢুকে এদিকওদিক তাকিয়ে রোগামত লোকটাকে দেখে হঠাৎ এসে তার টেবিলে বসে পড়ে এক টান মেরে চায়ের কাপটা নিয়ে চোঁ চোঁ করে খেয়ে মুখটা মুছে হ্যা হ্যা করে হেসে বলে, “আমি হলাম নাকু গুণ্ডা। তোর চা আমি খেয়ে ফেললাম। এখন কী করবি তুই? পারলে আমায় মার দেখি! হে হে হে হে হে”

জবাবে লোকটা ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলল।

নাকু গুণ্ডা তাই দেখে হেসেই খুন। বলে, “রামো! হুমদো গোঁফওলা লোক আবার কাঁদে! ছ্যা ছ্যা। কাঁদলি কেন রে?”

জবাবে লোকটা নাকটাক মুছে বিড়বিড় করে বলে, “আজ আমার দিনটাই খারাপ যাচ্ছে। সকালে উঠে বাথরুমে পা পিছলে আছাড় খেলাম। অফিস গিয়ে শুনলাম চাকরিটা চলে গেছে। রাস্তায় বেরোতে পাওনাদার এসে যা নয় তাই বলে গাল দিল। শেষে ভাবলাম এ জীবন রেখে আর কী হবে? তাই এই চায়ের দোকানে এসে এক কাপ চায়ে একটা বিষের বড়ি গুলে নিয়ে চুমুক দিতে যাব তা তুই ব্যাটা এসে সেটাও খেয়ে ফেললি। হায় হায় হায়—আমায় মরতেও দিলিনা রে!”

৩।katukutu01 katukutu02

 

 

 

 

 

৪।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

গত সংখ্যার কাতুকুতু–> মানুষ শিকার পদ্ধতি ইত্যাদি