কেমন করে তৈরি হল ইচিং পিচিং

cdlabelগত জুন মাসে (২০১৫) শুরু। কাজ সেরে বাড়ি ফিরে দেখি আমার ইশকুলে পড়া পুঁচকে ছেলেটা গান শুনছে। ইংরিজি গান। তাতে ভূতপেত্নী ফ্লাইং সসার ডাইনি রাক্ষস রাজপুত্তুর কী নেই! বললাম বাংলা গান শুনিস না কেন? ঠাকুরমার ঝুলি, গুগাবাবা? জবাবে সে তার অনেকগুলো গেয়ে শুনিয়ে দিয়ে বলল ওগুলো তো পুরোনো। আর কত শুনব? তখনই খেয়াল পড়েছিল, বেশ কিছু বছর ধরে ছোটদের জন্য নতুন বাংলা গানের বেজায় খরা। অন্তত এ বাংলায়। জীবনমুখী আহ্লাদে মজে ও সোনাব্যাং ও কোলাব্যাং কিংবা সুন্দরবনে সুন্দরী গাছেরা হারিয়ে গেছে।
ঠিক হল কেউ না করলে জয়ঢাক গড়বে ছোটোদের গান।
সাহায্যে এগিয়ে এল কয়েকজোড়া দক্ষ হাত। সারা ভারত ও তিন মহাদেশের অসংখ্য বাঙালি লিখিয়ে ছড়া লিখে পাঠালেন। তার মধ্যে থেকে গণসঙ্গীত , শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও শাস্ত্রীয় যন্ত্রসঙ্গীতেরদুনিয়ার চার গুণী মানুষ মিলে বেছে নিলেন একডজন সেরা লেখা, তাতে সুর বসালেন, তারপর ভীষ্মদেব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও কোমল গান্ধার এই দুই প্রতিষ্ঠানের দুই অভিজ্ঞ গুরু শর্মিষ্ঠাদি ও শীলামাসীমার কাছে শুরু হল বাছাই করা কিশোরকিশোরীদের নিবিড় প্রশিক্ষণ। তারপর, কঙ্কনদার স্টুডিওতে, বিল্বদার মিউজিক এরেঞ্জমেন্টে রেকর্ডিং, মিক্সিং ও সবশেষে আশা অডিওর থেকে হাতে এসে পৌঁছোল ছোটদের মিউজিক এলবাম ইচিং পিচিং। অসামান্য অলংকরণগুলো করে দিয়েছেন প্রিয় শিবশংকরদা। যেকোন সৃজনধর্মী কাজের আত্মাটাকে তাঁর তুলির মতন করে আর কেউ তো ছুঁতে পারে না।