ক্যামেরার পেছনে ওয়ান টু থ্রি ক্লিক শম্পা গুহমজুমদার বসন্ত ২০১৭

এই লেখার সব এপিসোড একত্রে

cam01

ডকুমেন্টেশন   (Documentation)

 আজকের দিনে ফেসবুক খবর আদানপ্রদান ও যোগাযোগের সবথেকে উপযুক্ত একটি মাধ্যম।  সাধারণত বেড়ানোর ফোটো আমরা ফেসবুকে পোস্ট করি।  নিজের পছন্দমতন বিষয় সবাই শেয়ার করে ও নানাধরণের জ্ঞান আহরণও করে থাকে।  নিজের আগ্রহ ও রুচি অনুযায়ী পছন্দের গ্রুপও  তৈরি হয়ে যায়।  সবাই সবার ফোটো দেখে ও মন্তব্যও করে।  

তোমরা যারা ফোটো তুলতে ভালবাসো তোমাদের গ্রুপে অনেক ফোটোগ্রাফার বন্ধু আছে নিশ্চয়ই।  একটু ভাবনাচিন্তা করে ফোটো তুলে তা সুন্দরভাবে পরিবেশনও করা যেতে পারে।  আর একই বিষয়ের ফোটোগুলিকে ঘটনা-পরম্পরায় সাজিয়ে ফেসবুক বা অন্য ওয়েবপেজে পোস্ট করলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করা যায়।  ৫,৮ বা ১০ টা ফোটোকে সাজালে একটি গল্পের জন্ম দেওয়া যেতে পারে।

একটি ফোটোতে যা সম্পূর্ণ বলা যায় না। একেই ডকুমেন্টেশন বলা হয়ে থাকে। খুব সাধারণ দৈনন্দিন ঘটনাকেও ছবির মধ্যে দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশ করা যায়।  একটা ছোট্ট পতঙ্গের নানা ভঙ্গিমার ছবি পোকার জীবনকাহিনী হতে পারে, সেইরকম কোন অখ্যাত জায়গার ছবিও সাজানোর গুণে একটি গল্প তৈরি করতে পারে।  

এটাই আমি বোঝাতে চাইছি যে ভ্রমণের গল্প বলার জন্য কোন বিখ্যাত জায়গাতেই বেড়াতে যেতে হবে তা কিন্তু নয়। যে বিষয়েই তোমার ইন্টারেস্ট থাকুক না কেন সব বিষয়ের উপরেই গল্প তৈরি করা যাবে।  বিষয় সাধারণ হলে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু সাধারণ বিষয়কে কিভাবে আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে তা ফোটোগ্রাফারের উপর নির্ভর করছে, উদ্ভাবনী-ক্ষমতা একটু তো থাকতেই হবে। ভিডিওতে টুকরো টুকরো ঘটনা জুড়ে গল্প তৈরি হয়।  

স্টিল পিকচারের ক্ষেত্রে ঘটনাকে তুলে ধরা একটা কঠিন কাজ।  কারণ এগুলি স্থিরচিত্র।  তাই ছবি কিভাবে সাজাবে এটা তোমাকে একটু ভাবতে হবে। একটি উদাহরণ দিঃ

ধরে নিলাম তোমার মানুষের ছবি  ও পোর্ট্রেট তুলতে  ভাল লাগে। তুমি বাড়িতেই ছবি দিয়ে গল্প তৈরি করার খেলা শুরু করতে পারো।  বাড়িতে বয়স্ক কেউ থাকলে তো আরো ভাল;তাঁর ছবি শ্যুট করতে পারবে।  দিনের নানা সময়ে তিনি কী করেন,সেই ফোটো তুলতে পার।  সব বয়স্ক মানুষ এরই অবসাদ ও নিঃসঙ্গতা থাকে।  এই দিকটাও তুলে ধরা যায়।  মা -বাবা-ভাই- বোনেদের ও সাবজেক্ট বানাতে পার।  কিন্তু ওই যে বললাম সাবজেক্ট পছন্দ করার সময়ে বৈশিষ্ট্য থাকলে আপনাআপনিই ফোটো ইন্টারেস্টিং  হবে।

আমি এখানে কলকাতার মল্লিকবাজারের কিছু ছবি দিলাম।  হাওড়াব্রিজের নীচে গঙ্গার মল্লিকঘাটের পাশে এই পাইকারি ফুলের বাজার বেশ নামকরা। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখানে বেড়াতে যায়না। খুবই নোংরা  আর সঙ্কীর্ণ পথ ভিড়ে ঠাসাঠাসি। তার মধ্যেই গাড়ি ট্রাক চলছে।  একেবারেই হইহট্টগোলে ভরপুর।  সারা পৃথিবী থেকে ফোটোগ্রাফাররা কিন্তু এখানে আসেন ছবি তুলতে। এখান থেকেই কলকাতা ও তার আশেপাশের বাজারে ফুলের সরবরাহ যায়। হয়তো ছবিগুলো খুব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বা অসাধারণ নয়। তাই সেট থেকে যেকোনো একটা ছবিকে বেছে নিলে এমনকিছু ইন্টারেস্টিং লাগবে না। এবারে ভাবতে হবে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি ছবিগুলোকে সাজাবে । উজ্জল ফুলের পসরার পাশেই পচা আবর্জনার স্তূপ ? কয়েকটি ছবির মাধ্যমেই বৈপরিত্যের দিকটি তুলে ধরতে চাও ?  যার অন্তর্নিহিত অর্থও হয়তো প্রকাশ পাবে। আবার  প্রাত্যহিক জীবনে এর এক ঝলক দেখানো উদ্দেশ্য হতে পারে। এই সেটটিতে দশটি ছবি আছে। গল্প তৈরির  ক্ষেত্রে ছবিগুলি ঠিক কিভাবে সাজাবে,এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর কোনো নিয়ম নেই,এটা ঠিক শেখানোও যায়না। ফটোগ্রাফারের  নিজস্ব স্বাধীনতা আছে সে কেমন ভেবেছে তা দেখাবার। তবে একটা ছবির সঙ্গে পরের ছবিটার সামঞ্জস্য বা মিল থাকতে হবে। এখানে প্রথম ছবিটি লঙ্গশটে পুরো বাজারটাই দেখাচ্ছে। তারপর রাখা হয়েছে বাজারের ক্লোজ আপ। চার নং ও পাঁচ নং এর ছবিটি দেখ। ৮ নং এ কেউ আবার মাথায় ঝুড়ি নিয়েছে। পরের ছবিটি মাথার ঝুড়ির ক্লোজ আপ। এভাবে একটা ছন্দ তৈরি হয় যা একটা গল্প তৈরি করে। শেষের দুটি ছবিতেও একটা মিল আছে। কাঁধে করে ফুলের বোঝা নেওয়ার ই দুটি আলাদা ছবি। এত রঙের মধ্যেও কিন্তু লুকিয়ে আছে খেটে খাওয়া মানুষের নির্বিকার হাবভাব। তাই রঙের পাশে রঙহীন জীবনের এক ঝলক চিত্র হয়তো তুলে ধরা গেছে। অন্যভাবে ভাবলে, ফুল মানুষের জীবনে রঙ রূপ আনন্দ ও ভালবাসার অঙ্গ। ।  আবার এই ফুল কিছু মানুষের কাছে বর্ণহীন জীবনযাত্রার পাথেয়।  এই  ডকুমেন্টেশন এর নাম দিলাম “Colour of Crowd “,  বা জীবনের রঙ হতে পারে।  গল্পের নামের মধ্যেই যেন স্রষ্টার  চিন্তার ছাপ থাকে।   

ছবিতে  গল্প যে সবসময়ে একই জায়গায় একই বিষয় হতে হবে তাও নয়। ফুলের বাজারের সঙ্গে ফলের পাইকারি বাজার,সবজির বাজারও দেওয়া যেতে পারতো। তাহলে বাজার শিরোনামে বিভিন্ন বাজারকেও দেখানো যেতে পারতো। প্রাকৃতিক নিসর্গ,ভ্রমণ-চিত্র,বনের জীবজন্তুর ছবি,সবকিছুর উপরেই ডকুমেন্টেশন করা সম্ভব। বিষয়টা একটু অন্যরকম হলে,ছবি সাধারণ হলেও গল্পটা জমে যাবে। তাই ছবিতে গল্প বলার সময়ে ছবির বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। ফেসবুকে ভ্রমণের উপরে খুব ভাল ভাল ছবি দেখা যায়। অনেক তথ্যও পাওয়া যায়। তাই তোমরা এবারে ছবি ছোট ছোট গল্পের আকারে সাজিয়ে পোস্ট করো আর বিভিন্ন বিষয়কে সুন্দরভাবে বন্ধুদের কাছে তুলে ধরো।

onetwothree60-1-medium

onetwothree60-2-medium

onetwothree60-3-medium

onetwothree60-4-medium

onetwothree60-5-medium

onetwothree60-6-medium

onetwothree60-7-medium

onetwothree60-8-medium

onetwothree60-9-medium

onetwothree60-10-medium

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s