ক্যামেরার পেছনে ওয়ান টু থ্রি ক্লিক শম্পা গুহমজুমদার বসন্ত ২০১৯

আগের পর্বগুলো

প্রতিফলন/প্রতিবিম্ব

আজ আমরা লাদাখের জলছবি আঁকব। 

ফটোগ্রাফিতে Reflection এর ছবি খুবই উল্লেখযোগ্য। আজ আমরা শিখব জলের মধ্যে পাহাড়ের প্রতিলনের  ছবি কিভাবে তুলতে হয়।

যেকোন কিছুরই প্রতিবিম্ব হতে পারে। কোন মন্দির, গাছপালা, জীবজন্তু, মানুষ সব কিছুরই রিফ্লেকশন হতে পারে। আয়নাতেও রিফ্লেকশন ধরা যেতে পারে।

প্রকৃতির প্রতিবিম্বকে ফ্রেমবন্দি করতে হলে কিন্তু কোন জলাধার থাকতে হবে। লেক, নদী, সমুদ্র, পুকুর বা বর্ষার জমা জলেও সামনের দৃশ্যের প্রতিবিম্ব ধরা পড়বে।  জলাধার যদি অনেক বড় হয় তা হলে রিফ্লেকশন সহজেই ক্যামেরাতে শুট করা যাবে।

মুশকিলটা হয় যখন জলাধার বা জমে থাকা জলের পরিমাণ কম থাকে। একটুখানি জমা জলেও যে প্রতিবিম্ব ধরা যায় তা কারো নজরেই আসে না। কিন্তু আলোকচিত্রীরা জানেন যে কীভাবে তা ফ্রেমবন্দি করতে হবে। ক্যামেরাকে একদম জলের কিনারে রাখতে হবে। যেটা দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যাচ্ছে না , জলের কিনারাতে চোখ রাখলে তা দেখা যাবে। অর্থাৎ ক্যামেরা নিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়লে তবেই প্রতিফলনকে ক্লিক করা সম্ভব।

তবে, যেখানে সেখানে তো ক্যামেরা নিয়ে শুয়ে পড়া যাবে না, তখন ব্লাইন্ড ফটোগ্রাফি করতে হবে। মানে ক্যামেরাকে মাটির লেভেল-এ রাখতে হবে। আন্দাজে ফোটো শুট করতে হবে। এখানে একটি ফটোতে লাদাখের নুব্রা ভ্যালির ছবিতে উটের সারি আছে, ওখানে জলে যে রিফ্লেকশনটা দেখা যাচ্ছে সেটা খুবই কম জল জমে ছিল।

একই জায়গার আর একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে ফটোগ্রাফাররা উপুড় হয়ে জলের কিনারাতে ক্যামেরা রেখে এই উটের সারি আর পাহাড়ের রিফ্লেকশন ফ্রেমে ধরার চেষ্টা করছে।  আমি ওইভাবে তুলতে পারব না তাই আমাকে ক্যামেরা গ্রাউন্ডে রেখে ব্লাইন্ড ফটোগ্রাফি করতে হয়েছে।

এই ছবিতে ফটোগ্রাফারদের ডেডিকেশন ও প্যাশন কতোখানি হতে পারে তা বোঝা যাচ্ছে।

বর্ষাকালে রাস্তাতে জমা জলে খুব সুন্দর শহরের দৃশ্যের প্রতিবিম্ব পাওয়া যেতে পারে। এই ছবি তুলতে হলে ফটোগ্রাফারকে এগিয়ে পিছিয়ে নিজের পজিশন ঠিক করে নিতে হবে, যাতে সামনের জলে রিফ্লেকশন পাওয়া যায়। অনেক সময়ে সাবজেক্ট ও রিফ্লেকশন দুইই ফ্রেমে থাকতে পারে বা কেবল রিফ্লেকশনটাই ধরা থাকল। এটা ঠিক শেখানো যায় না। এটা ফটোগ্রাফারের ভিশ্যুয়ালাইজেসনের উপর নির্ভর করে। জলে মিল্কি ওয়ের লঙ এক্সপোজার শটের রিফ্লেশনের অসাধারন সব ছবিও আমরা দেখে থাকি।

আজকে যে ছবিগুলি দিলাম তা লাদাখে তোলা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

যেহেতু এখানে প্রকৃতি খুব সুন্দর আর লেকের জলে হিমালয় পর্বতের ছায়া  এক অপার্থিব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে তাই লাদাখ ল্যান্ডসকেপ ফটোগ্রাফারদের কাছে স্বর্গরাজ্য। প্যাংগং লেকের জলে হিমালয় পর্বত আর মেঘ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রৌদ্রের খেলার জলছবি খুবই আকর্ষণীয়। দাঁড়িয়ে ফোটো তুললে কখনই সমগ্র পাহাড়ের প্রতিবিম্ব পাওয়া যাবে না। তাই বসে পড়ে এই ছবি নিতে হবে। ঝোড়ো হাওয়া দিলে জলে ঢেউ উঠলে পারফেক্ট রিফ্লেকশন হবে না। শান্ত জলে নিখুঁত ছবি তোলা সম্ভব।  বাস বা গাড়িতে যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে ট্রাভেল করবে রাস্তার দিকে নজর রাখতে হবে। সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে আশপাশে জলাধার আছে কিনা নজর রাখতে হবে। সেখানে গাড়ি থামিয়ে জলের কিনারে গিয়ে দেখে নিতে হবে যে জলে কোন রিফ্লেকশন আসছে কিনা। এইভাবে অনেক অচেনা দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করা যাবে। মোবাইলেও খুব ভালো ফোটো হবে। এখানে মোবাইলের তিনটে ফোটো শেয়ার করলাম। রিফ্লেকশনই তুলতে গেলে যে খুব দূরে কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুঁজতে হবে এমন নয়। তোমার বাড়ির সামনের জলেও হয়ত খুব ভালো প্রতিফলন পেয়ে যেতে পারো। একটু নজর রাখতে হবে। আশা করি আমার এই লেখা পড়ে তোমরাও নিজেদের ক্রিয়েটিভিটিকে আরও কাজে লাগাতে পারবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s