ক্যামেরার পেছনে ওয়ান টু থ্রি ক্লিক শম্পা গুহমজুমদার বর্ষা ২০১৬

আগের সংখ্যায় -ফটো এডিটিং

পোর্ট্রেট

onetwothree01 (Medium)বন্ধুরা,তোমরা গরমে সবাই ভালো আছো তো? গরমকালটা ফোটোগ্রাফারদের কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় নয়। প্রকৃতির রহস্যময়তা, যেটা শীত বা বর্ষাকালে হয়ে থাকে, সেটা গরমের সময়ে পাওয়া যায় না। বসন্ত বা শরতকালে প্রকৃতি সেজেগুজে রঙিন হয়ে ওঠে। হয়ত তোমার ল্যান্ডস্কেপ বা নেচারের ফোটো তুলতেই ভালো লাগে। তাই বলে গরমকালটা তো ঘরে বসে কাটানো যায় না! ঘরের মধ্যে কিন্তু সাবজেক্টের কোন খামতি নেই। এসো,আজ আমরা একটু পোর্ট্রেট ফোটোগ্রাফি নিয়ে আলোচনা করি।

onetwothree03 (Medium)পোর্ট্রেট মানে যে শুধু মানুষের মুখের ফোটোকেই বোঝায়, তা নয়। পশুপাখির ক্লোজআপও হতে পারে। এদের মুখের নানা অভিব্যক্তিও পোর্ট্রেট ফোটোগ্রাফি। আবার মানুষের পুরো ফিগারের ফোটোও তোলা যেতে পারে। সাধারণত পোর্ট্রেট ফোটোতে আমরা মুখের ক্লোজআপ নিয়ে থাকি।

নানাধরণের পোর্ট্রেট হতে পারে। মানুষ যখন মগ্ন হয়ে কোনো কাজ করছে, জানে না যে তার ছবি তোলা হচ্ছে, ফোটোগ্রাফার হয়ত কোনো এক বিশেষ মুহূর্তের অভিব্যক্তি ক্যাপচার করতে পারল। আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি ইত্যাদি ভাবকে কীভাবে আলোকচিত্রী  তুলে ধরতে পারবেন, সেটা তার মুনসিয়ানার উপর নির্ভর করবে। আর একধরণের পোর্ট্রেট হল সাবজেক্ট জানে যে তার ছবি তোলা হচ্ছে। সাধারণত মানুষ নিজের সুন্দর ও হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি তুলতে চায়। তাই তুমি যদি কাউকে পোজ দিতে বল, তাহলে সে খুব সুন্দর হাসি ফুটিয়ে তুলবে। আর এক ধরণ হচ্ছে মডেল যদি অভিনয় করতে পারেন, তাহলে তুমি যেভাবে বলবে সে সেই ভাবটাই মুখের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে পারবে।

onetwothree04 (Medium)বাচ্চাদের পোর্ট্রেট বেশ সহজ ও প্রাণবন্ত হয়। ওরা যখন খেলার মুডে থাকে, তখন দূর থেকে সেই মুহুর্তের ক্লোজআপ নিতে পারলে ভাল হয়। একদম ছোটো বাচ্চা যখন কাঁদে বা হাসে অথবা মা যখন বাচ্চাকে আদর করেন…এই ভাবগুলি ছবিতে নেবার চেষ্টা করলে ভাল হয়। তোমরা বাড়ির লোকজনদের দিয়েই  শাত পাকানো শুরু করে দিতে পার।

onwteothree02 (Medium)কোনো শিক্ষিত, সচেতন মুখের থেকে সাধারণ মুখের অভিব্যক্তি কিন্তু বেশি আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। আগেও তোমাদের বলেছি যে যেকোনো ছবির মধ্যে যদি একটা গল্প লুকিয়ে থাকে,তাহলে ছবিটি আরো প্রাঞ্জল হয়। তোমাদের বাড়িতে নানা কাজকর্ম করতে যেসব কর্মচারিরা আসেন,তাঁদের ছবি তুলে দেবার প্রস্তাব দিতে পার। খুশি হয়ে হয়তো পোজ দেবেন। কিন্তু তার মুখের হাসি ও চোখের তলায় কালির মধ্যে লুকিয়ে থাকবে অনেক দিনের অনেক দুঃখ-বঞ্চনার কাহিনী। এই মুখের ভাবটা কোনোরকম মেকআপ দিয়েই কোন শিক্ষিত মুখে ফোটানো সম্ভব না। কাজের মেয়েটি ছবি তোলা হবে শুনে যদি আবার খুব সাজগোজ করে আসে, তার মুখে যে লজ্জা বা সঙ্কোচ ফুটে উঠবে, তাও বেশ আকর্ষণের বিষয় হবে।

বৃদ্ধমানুষদের ছবি তো খুবই সুন্দর ও শিল্পসম্মতভাবে তোলা যায়। চামড়ার কুঞ্চন ছবিতে অনেক পুরনো দিনের গল্প শোনাবে। বাড়ির ছাদে বা ঘরের মধ্যে ছবি তোলার সময়ে মনে রেখ যে সাবজেক্টের মুখের উপর সরাসরি সূর্যের আলো যেন না পড়ে। আলো পাশ থেকে আসবে আর একটু আলোছায়া হলে ছবিটি শিল্পম্মত হবে। দোলের দিন রঙমাখা মুখের ছবি তো অনন্য হবে। রাতে টেবিলল্যাম্পের আলো মুখের উপর ফোকাস করে আলোছায়া তৈরি করা যেতে পারে। কোন মন্দির বা ধর্মশালাতে গেলে দেখতে পার সাধুবাবারা আছেন কি না আশেপাশে। এঁদের পোর্ট্রেটও চমৎকার হবে। সাধারণ ছবিকে একটু অসাধারণ মাত্রা দেবার জন্য কিছু বুদ্ধি খাটানো যেতে পারে। যেমন বারান্দার জানালাতে কাচের পাল্লা থাকলে সাবজেক্টকে তার পিছনে দাঁড়াতে বা বসতে দিতে হবে। বাড়িতে গাছে ওষুধ দেবার স্প্রেয়ার থাকলে কাচের উপর সামান্য জল স্প্রে করে ছবি তোলা যায়। সাবজেক্টের পিছনে কালো কাপড় ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এইভাবে সাধারণ ছবিতে একটু নতুনত্ব আনা যায়। আবার বলি যে মানুষের মুখ নিঃশব্দে অনেক কথা বলে। সুন্দর মুখের ছবি  সবসময়েই ভাল উঠবে,এই ধারণা কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়। বরঞ্চ যে মুখে অভিব্যক্তি বেশি,সেই পোর্ট্রেট তোলার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

আমি এর সাথে আমার তোলা বাচ্চাদের কিছু ছবি তোমাদের সঙ্গে ওপরে শেয়ার করলাম।

তোমাদের কিন্তু পৃথিবীখ্যাত আলোকচিত্রীদের পোর্ট্রেট-ফোটোগ্রাফি দেখতে হবে। ভাল ছবি তুলতে শেখার এর চেয়ে ভাল উপায় আর নেই। দু একটি উদাহরণ দিই ।

onetwothree05 (Medium)onetwothreeclick06 (Medium)স্টিভ ম্যাককারির ১৯৮৪ সালে তোলা বিশ্বখ্যাত আফগান মেয়ের ছবি, যেটা ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক পত্রিকার কভারে ছাপা হয়েছিল। ডোরোথিয়া ল্যাঙ-এর ১৯৩৬ সালে তোলা মাইগ্র্যান্ট মাদার,ইউসুফ কার্শের ১৯৫৭ সালে তোলা আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ছবি, অ্যানি লিবোভিজের ১৯৯০ সালে তোলা নেলসন ম্যান্ডেলা, সেবাস্টিও সাল্গাদোর তোলা অসাধারণ সব পোট্রের্ট।

বর্ষাকালের ছবিও  খুব সুন্দর হয়। কিন্তু ক্যামেরাতে যেন জল না লাগে। হিউমিডিটি ক্যামেরার ক্ষতি করে। এই সময় ক্যামেরা শুকনো ও air tight জায়গাতে রাখাই ভালো। 

সবাই ভাল থেকো।

ক্রমশ

ছবি বিষয়েঃ

এ লেখার প্রথম চারটি ছবি লেখকের তোলা।

পঞ্চম ছবিঃ স্টিভ ম্যাককারি

ষষ্ঠ ছবিঃ ডরোথিয়া ল্যাং

 

এই লেখার সবকটি পর্ব একত্রে এইখানে পাবে