ক্যামেরার পেছনে-ওয়ান টু থ্রি ক্লিক-শম্পা গুহমজুমদার

ফটো এডিট

প্রিয় বন্ধুরা,

এখন ত তোমাদের পরীক্ষা চলছে। কিন্তু জয়ঢাক যখন হাতে পাবে পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে। পড়ার চাপও থাকবে না। এই সময়টা তাই ফোটোগ্রাফি নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করা যেতেই পারে।

আমার মনে হয় Picasa software -এর নাম তোমরা সবাই সুনেছ। কেউ কেউ হয়ত ব্যবহারও করেছ। ফটো এডিট এর প্রথম ধাপে Picasa তেই হাত পাকানো উচিৎ। তারপর আছে Adobe Photoshop. একটু প্রাচীনপন্থী আলকচিত্রীরা মনে করেন ফটোকে এডিট করা মানে ফটোগ্রাফির অবমাননা করা হল। আগেকার দিনে তো ফিল্মে ছবি তোলা হত। এডিট করার কোন সুযোগই ছিল না। সাদা কালো ছবিতে রঙ ধরা যেত না। কিন্তু সে’সব সময়কার অসাধারণ সব ছবি এখনও আমরা মুগ্ধ হেয়ে দেখি।

প্রকৃতির সৌন্দর্য কে সাদাকালো ছবিতে ফুটিয়ে তলার মুনশিয়ানা তখনকার শিল্পীদের মধ্যে ছিল। এখন ছবি তোলা অনেক সহজ হয়ে গেছে। ক্যামেরাতেই দেখে নেওয়া যায় ফটোটি কেমন হল। একটা জায়গার একশোটি ছবি তুলে অপছন্দের ফটোগুলি ক্যামেরা থেকেই ডিলিট করা যায়। আমরা ভাবতেই পারি না যে আগের দিনের শিল্পীরা একটা স্পটে একটাই ফটো তুললেন এবং সেটি একদম পারফেক্ট।

যুগের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তির বদল ও মানুষের জীবনে তার প্রভাব আটকে রাখা যায় না। তাই আমরা চেষ্টা করলেও বক্স ক্যামেরার যুগে ফিরতে পারবো না। শিল্পী রঙ ও তুলি দিয়ে তার মনের কল্পনা বা বাস্তাব কে জীবন্ত করে তোলেন। আমরাও ক্যামেরার সাহায্যে ছবি তুলি ও তাকে এডিট করে আরো সুন্দর করার চেষ্টা করি। কিন্তু এ কথা সত্যি যে ছবি যদি ভালো না হয় তবে এডিট করে তাকে উন্নত করা যায় না। আমরা বিমূর্ত (abstract)পেইন্টিং দেখতে ভালবাসি। তাতে কল্পনা আর বাস্তবের সফল মিশ্রণ তুখোড় শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব। আলোকচিত্রীও উপযুক্ত সফটওয়ারে সম্পাদনা করে ছবির সঙ্গে ছবি জুড়ে তেমনই অপূর্ব শিল্প সৃষ্টি করতে পারেন।

তাই ছবি নিয়ে খেলা বা ছবিকে নতুন মাত্রা দেওয়ার জন্য ছবিকে তুমি এডিট করতেই পারো। শুরুতে  PICASA জাতীয়  সহজসরল সফটওয়ারে, তারপর হাত পাকানোর পর আরো শক্তিধর সমস্ত সফটওয়ারে সে কাজ করতে পারো।

কম্পিউটারে picasa software  বিনিখরচে ডাউনলোড করা যায়। তারপর ফটো ক্যামেরা থেকে কম্পিউটার এ ডাউনলোড করে নিতে হবে। ছবিতে ক্লিক করলে আপনিই ফটো picasa তে খুলে যাবে। এডিট করার আগে ছবিটি নিয়ে একটু ভাবতে হবে সেটিকে সাদা কালো করব নাকি সেপিয়া করব বা সফট ফোকাস করা উচিৎ। এটা নিজেকেই ভাবতে হবে যে তুমি কী চাইছ। ছবিটা হয়ত ভালো হয়েছে কিন্তু একটু ওভার এক্সপোজড (বেশি আলো) হয়ে গেছে। তখন এটিকে সাদা কালো করলে এই ত্রুটি বোঝা যাবে না। বরং ছবিটি অন্য মাত্রা পাবে। আমার মতে ভালো ছবিকে এডিট করারই দরকার পরবে না। একটু ক্রপ করা,লাইট বাড়ানো বা কমানো করা যেতেই পারে। কিন্তু ক্রিয়েটিভ ফটোগ্রাফি বা আবসট্রাকট ফটোগ্রাফিতে ইনটারেস্ট থাকলে তুমি ছবিকে এডিট করে তোমার মনের মতন করে ভেঙেগড়ে নিতে পারবে। এও এক শিল্প। এক ছবির সঙ্গে অন্য ছবি জুড়ে তাতে নানা রঙের প্রলেপ দিয়ে একটি শিল্পকীর্তি সৃষ্টি করা যেতেই পারে।

Picasa তে সড়গড় হলে আমরা পরের ধাপে  Adobe Photoshop software এ এডিট করা শিখব। 

কীভাবে কাজ করবে পিকাসাতে? উদাহরণস্বরূপ একটি গোলাপ ফুলের ফটো কে Picasa তে সম্পাদনা করে দেখাচ্ছিঃ

 

01photography (Medium)১। photo টি অরিজিনাল। এডিট করা হয়নি। 02photography (Medium)২। ক্রপ করা হয়েছে।
03photography (Medium)৩। shadow বাড়ানো হল।তাই রঙটা একটু ঘন লাগছে। 04photography (Medium)৪। warm tone দেওয়া হল। এটা তোমার ওপর নির্ভর করছে। ওয়ার্ম টোনে ছবিটি বেশি ভালো লাগছে মনে হলে তুমি তা করতে পার।
05photography (Medium)৫। ওয়ার্ম টোন-এরপর soft focus করা হল। 06photography (Medium)৬। glow.
07photography (Medium)৭। black & white 08photography.sepia (Medium)৮। sepia.

এবার তুমি ঠিক কর কোন ছবিটা তোমার সব থেকে ভালো লাগছে।  

পরের বার আমরা portrait photography নিয়ে আলোচনা করব।এর মধ্যে তোমরা ছবি নিয়ে এডিট করা অভ্যাস করো।

ক্রমশ

ফটোগ্রাফির সবকটা লেস্‌ন্‌ একত্রে এই লিংকে পাবে