ক্রিসমাস স্পেশাল “ক্রিসমাস বিশ্ব জুড়ে” সুজয় রায় শীত ২০১৬

অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিসবেন শহরের একটি দৃশ্য । ফুটপাতে এক

দরিদ্র ম্রিয়মান গলায় গান গাইছেঃ

splchrist01

Merry Christmas, Joyeux Noel(ফরাসি), Felixz Navidad(স্প্যানিশ), Feltz Natal (পোর্তুগিজ), Folliche Weihnachten (জার্মান)।

প্রত্যেকটি কথা সমার্থক। Christmas অর্থাৎ Christ’s mass, বা খৃস্টের জন্ম উপলক্ষে আনন্দোৎসব। নিউ টেস্টামেন্ট অনুসারে X অক্ষরটি Christ এই নামের প্রথম অক্ষর। অতএব  Xmas ।

নিউ টেস্টামেন্ট খৃষ্টের জন্মতারিখ কবে সুস্পস্ট বলেনি। প্রথা অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ২৫শে ডিসেম্বর মনে করা হয় । এই সময় দক্ষিণ অয়নান্ত  (Winter Solistice) হয়, অর্থাৎ সূর্যের দক্ষিণ গতির শেষ সীমা, যখন বছরে দিন সর্বাধিক ছোটো। তারপর থেকে কল্পনা করে নেওয়া হয় সূর্যের নতুন জন্ম। সাথে সাথে রাত  কমে দিন বাড়তে থাকে। শীতকালীন উৎসব শুরু হয় দক্ষিণ অয়নান্তে। তখন দোলনাতে জোরে দোল দেওয়ার অর্থ হল সূর্যকে আকাশে অনেক উচুঁতে ওঠবার আহ্বান জানানো। 

খ্রিস্টীয় ধর্মমতে বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল Vernal equinox এর সময়ে (মহাবিষুব), মার্চ মাসের কুড়ি তারিখে। আলো সৃষ্টি হয়  চারদিন হরে মার্চের ২৫ তারিখ । খৃস্ট এনেছিলেন নূতন সৃষ্টি বা যুগ। এই বিশ্বাস অনুযায়ী ধরে নেওয়া হয় তাঁকে গর্ভধারণ করা হয়েছিল মার্চ মাসে। সেই অনুসারে নয় মাস পর ডিসেম্বর মাসে যিশুখ্রিষ্টের জন্ম বিশ্বাস করা হয় । বারো দিন যাবৎ খ্রিস্টমাস উদ্‌যাপন করা হয় । ২৫শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে সম্পূর্ণ হয় ৬ই জানুয়ারি যেদিন ফিস্ট অব এপিফ্যানি পালন করা হয় । এইদিন Magi (ম্যাজাই-প্রাচ্যদেশীয় জ্ঞানী ব্যক্তি) সামনে যিশুর আবির্ভাব হয়েছিল । তিন ম্যাজাই যিশুখ্রিষ্টকে উপাহার দিয়েছিলেন । এই দিন, অর্থাৎ ৬ই জানুয়ারি – ম্যথুর এর বিবরণ অনুযায়ী খ্রিস্টমাস কাহিনী সমাপ্ত হয় । ম্যাথু যিশুর দ্বাদশ শিষ্য এবং প্রধান ধর্মপ্রচারকের মধ্যে একজন।বক্সিং ডে ২৬ ডিসেম্বর ইংল্যাণ্ড ও কমনওয়েলথে পালন করা হয়  এইদিন সকল চার্চে সংগ্রহীত প্রণামী বাক্স খোলা হয় ও গরীবদের হাতে বিলি করা হয়। Feast of Naming of Christ পালন করা হয় পয়লা জানুয়ারি । সেদিন বোঝা যায় যে যিশু এর আগে ছিলেন ইহুদি ।

       পূর্বতন প্রাচীন উৎসব বহুলাংশে খ্রিস্টমাসে গিয়ে মিশেছে । খ্রিস্টপূর্ব যুগ বা কালে বড়ো উৎসব ছিল স্যাটারনালিয়া । প্রাচীন কালে গাছ পুজো হত। ক্রিসমাস ট্রি সেই রীতি বজায় রেখেছে । চিরশ্যামল উদ্ভিদ্‌। ম্যাথুর বিবরণ অনুযায়ী যিশুর জন্ম হয়েছিল বেথ্‌লেহেম-এ । চিরসবুজ এক গাছ সেই মহাপুরুষের জন্মের দ্যোতক। কুমারী মা মেরি তাঁকে জন্ম দেন । যিশুর জন্ম আস্তাবলে, কিন্তু নবজাতককে ঘিরে প্রাণীদের উল্লেখ কিন্তু বাইবেলে পাওয়া যায় না । 

      খ্রিস্টমাস উদযাপন কিন্তু অতীতে ছিল বিতর্কিত । চতুর্দশ শতকে এই উৎসব হইচই উচ্ছৃঙ্খলতা, বেপরোয়া শাসনহীন হয়ে উঠেছিল ইংল্যাণ্ডে । প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মসংস্কারের সময় এই ধরনের আমোদপ্রমোদ নিন্দিত হয় । ইংল্যাণ্ডে যে সময় গৃহযুদ্ধ হয়েছিল তখন পিউরিটান সম্প্রদায়ের শাসকরা ১৬৪৭ সালে খ্রিস্টমাস নিষিদ্ধ করে দেয়। ১৬৬০ রাজা দ্বিতীয় চার্লসের এর রাজত্মকালে এই উৎসব আবার প্রচলন করা হয়েছিল । আমরিকাতে নিউ ইংল্যান্ডের পিউরিটানরা এই উৎসব অনুমোদন করেনি। আমেরিকাতে রাষ্ট্রবিপ্লবের পরে সেই উৎসব ইংরেজ দ্বারা প্রভাবিত পরিগণ্য হয়ে অনাদৃত হয়েছিল। ১৮৪৩ চার্লস ডিকেন্স লিখলেন “Christmas carol”।  গল্পখানি জনপ্রিয় হয়, খ্রিস্টমাস সকলের কাছে সমাদৃত হয়ে ওঠে । শুদ্ধতা আসে আনন্দ উৎসবে । এটি পারিবারিক অনুষ্ঠান হিসাবে নতুন মূল্য পেল । রোমান সভ্যতা থেকে স্যাটারনালিয়া উৎসবে যে ভোগবাদ অব্যহত ছিল তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রিন্স এ্যালবার্ট, মহারানি ভিক্টোরিয়ার স্বামী, উইন্ডসর ক্যাসল-এ প্রথম Evergreen tree, বা চিরশ্যামল গাছ হয়ে দাঁড়াল Christmas tree।

       এককালে প্রাচিন ইউলটাইড ও জুভেনালিয়া উৎসবকে বিধর্মী (Pagan) অনুষ্ঠান হিসেবে গণ্য করে হেয় করা হত। ১৮৭০ সালে খ্রিস্টমাসকে যুক্তরাস্ট্রীয় উৎসব হিসাবে আমেরিকায় সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হল। সেখানে লেখক ওয়াশিংটন আর্ভিন জনপ্রিয় গল্প লিখে ঈশ্বর ভক্তির ভাবধারা এনে ফেলেন এই অনুষ্ঠানে।

          চার্চ অব নেটিভিটি রয়েছে বেথলেহেমে। যিশুর জন্ম হয়েছিল এই পূণ্যস্থানে। খ্রিস্টমাসে এখানে সমারোহ করে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান করা হয়। গির্জার সামনে দেশবিদেশের মানুষ ভিড় করে। এলাকার লোকেরা বাড়ির ছাদ, বারান্দা, জানালাতে, ভিড় করে। মিছিল এগিয়ে চলে সেই গির্জার দিকে। সেই মিছিলে আরব ঘোড়াতে পুলিশ চলে। তাদের পেছনে এগিয়ে আসে কালো ঘোড়ার পিঠে একা যে, সে ক্রুশ নিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মিছিলে আরো চলে ধর্মযাজক ও সরকারি পদস্থ ব্যক্তিরা। মিছিল গির্জার ভেতরে সিঁড়ি বেয়ে উত্তরণ করে। ভেতরে আছে গ্রোটো, অর্থাৎ গুহা। তার মেঝেতে আলোয় উদ্ভাসিত এক তারা চিহ্নিত আছে।  এখানে এবার যিশুর প্রতিকৃতি রাখা হয় ।

সান্তা ক্লজ বা সেন্ট নিকোলাস (ডাচ্‌ Sinta Klass) সকলকে উপহার এনে দেয় । Magiরা দিয়েছিলেন শিশু যিশুকে উপহার । সেই অনুসারে সান্তা ক্লজ নিয়ে আসে তার দাক্ষিণ্য । সান্তা যায় বরফে টানা গাড়িতে । যে বলগা হরিন সেই গাড়ি টানে তার নাম রুডলফ। । তার নাকে লাল আলো জ্বলে, সেই আলোয় রাতের আঁধারে পথ দেখা যায় ।

বাইবেলে ম্যাথুর বিবরণ অনুযায়ী ম্যাজাইরা পূর্ব দিগন্ত থেকে একটি তারার গতিপথ অনুসরণ করে এসে পৌছেছিলেন রাজা হ্যারডের–এর দেশের সীমান্তে। হ্যারড তাঁদেরকে যেতে বললেন যে স্থানে তার নাম বেথলেহেম অব জুডিয়া। পূর্ব দিগন্তের সেই তারা এখানে এল। বাইবেল অনুসারে সেটা স্টার অব বেথলেহেম। এই বিশেষ স্থানে ইহুদিদের ভাবী ত্রাণকর্তা জন্ম নিলেন। তিনি যিশুখ্রিস্ট ।  

splchrist02সান্তা ক্লজের আমেরিকায় দুটি ঠিকানা। কানেক্টিকাটের টরিংটন আর ন্যু ইয়র্কের উইলমিংটন। এই স্থানে সান্তার উপহার কেনা যায় এবং বলগা হরিণরা ঘুরে বেড়ায়।

বিভিন্ন জাতি উপজাতি নিজস্ব পরম্পরা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে খ্রিস্টমাস উদ্‌যাপন করে। পেনসিলভ্যানিয়া ও অন্যত্র মোরাভিয়ান গির্জায় পুট্‌জ্‌ (জার্মান পুটজার) অর্থাৎ যিশুর জন্মকাহিনী সাজিয়ে সংগীত সহকারে ফুটিয়ে তোলা হয়। পেনসিলভ্যানিয়াতে জার্মান অধিবাসিরা উপহার নেয় Belsnickle –এর হাত থেকে। তার স্বভাব খামখেয়ালি, গায়ে লোমশ কোট। রাইন নদীর তীরবর্তী জায়গার লোককাহিনী থেকে উঠে এসেছে চরিত্রটি। তার হাতে এক ছপটি, যে দিয়ে জনতার ভিড়ে বাচ্ছাদের মৃদু শাসন করে সে । ফিলাডেলফিয়াতে (লোকমুখে নাম ফিলি) খ্রিস্টমাসে সারাদিন লোকেরা রাস্তায় খেয়ালখুশিমত শৌখিন পোশাক পড়ে বাজনা বাজিয়ে নেচে যায় মিছিল করে। এর নাম মামার্স প্যারেড। ওয়াশিংটন ডিসিতে সুবিশাল ক্রিসমাস ট্রি আলোয় ঝলমল করে ওঠে যখন রাষ্ট্রপতি আলো জ্বেলে দেন। সেটা ক্যাপিটল ক্রিসমাস ট্রি।

splchrist03আমেরিকাতে খ্রিস্টমাসের রঙ সাদা কারণ সে তা বরফের আস্তরণে ঢাকা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় সেই সময় উত্তাপ ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উৎসবে সিডনি সৈকতে হাজার জনতার ভিড় জমে। এই জায়গার নাম বন্ডি। ক্রিসমাসের ভোজ দিনের বেলা বাড়ির বাইরে করা হয় । এমনটা শীতের দেশে সম্ভব হয় না । ১৯৩৭ সাল থেকে শুরু করে মেলবোর্ন শহরে সন্ধ্যায় আকাশের নীচে মোমবাতি হাতে ক্যারল গাওয়া হয়।  রেডিও –র ঘোষক নর্মান ব্যাংক্‌স্‌ মেলবোর্ন একবার ক্রিসমাস ইভ, অর্থাৎ বড়দিনের পূর্বদিনে বেশি রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার ধারে শুনলেন রেডিও থেকে ক্যারল গান ভেসে আসছে

Away in the Manger,

no crib  for bed.

The little Jesus laid down his sweet head.

The little lord Jesus asleepon hay …” খোলা জানালা দিয়ে দেখা গেল এক বয়স্কা মহিলা একা সেই গানে গলা দিয়েছেন। ঘরে একটি মোমবাতির আলো তাঁর মুখে এসে পড়েছে । নর্মান ভাবলেন বড়দিনে অনেকেই একইরকম নিঃসঙ্গ কাটায়। পরের বছর ১৯৩৭ সালে ব্যাঙ্কস্‌ -এর উদ্যোগে মেলবোর্ণে শুরু হয়েছিল সমবেত বহু মানুষের আকাশের তলায় মিলিত কণ্ঠে ক্যারল গাওয়া মোমবাতি জ্বালিয়ে। আজ অস্ট্রেলিয়ার বহু শহরেই এই পরম্পরা চলে আসছে। আমেরিকায় ক্যারল সঙ্গীত বিশেষ বিখ্যাত বস্টন শহরে ।

ইংলণ্ডে সান্তাক্লজ নয়, ফাদার ক্রিসমাস উপহার এনে দেন। এটা নামান্তর মাত্র । বালিশের ওয়ার ও মোজার ভেতর ছোটদের উপহার পৌঁছে যায় রাতে । সকালে প্রার্থনার আগে এই সব উপহার খুলে দেখা হয় না । ক্রিসমাস প্রার্থনাসঙ্গীত অত্যন্ত মধুর । মুখোশ পরে লোকজন প্রথা অনুসারে অভিনয় করে মিছিল যায় । এর নাম “মামার্স” । খ্রিস্টমাসে ভেজে প্রধান খাওয়া হাঁস । আমেরিকায় সেটা টার্কি। বাড়িতে কেক তৈরি করা হয় । 

স্পেনে খ্রিস্টমাসে ধর্মীয় প্রগাঢ়তা বেশি । বিশেষ নাচ হয় যার নাম Jota । এই নাচগানের গীতিকথা বহুবছরের পুরানো। শিশুরা আশা করে তিন ম্যাজাই উপহার নিয়ে শহর, গ্রাম  অতিক্রম করে আসবেন। তিনজন ম্যাজাই-এর মধ্যে বালথ্যাজার সব চাইতে জনপ্রিয় । বালথ্যাজার আসেন গাধার পিঠে চড়ে। এছাড়া উটেরা আসবে । জন্তুরা খাবে মনে করে খালি জুতোর মধ্যে খড় ও বালি রাখা হয়। সকালে শিশুর ঘুম ভাঙলে দেখে জুতো সব উপহারে ভরাট করা আছে । বেশির ভাগ বাড়িতে পশুদের খাওয়ার পাত্র রাখা থাকে, যেমনটা থাকে গির্জাতে । খ্রিস্টমাসে বাড়ির সকলে সেই পাত্র বা manger ঘিরে গান করে। স্পেনের মানুষ আস্তাবলের গরুকে বিশেষ মর্যাদা দেয়, কারণ বিশ্বাস করা হয় যে যখন যিশুর সবে জন্ম হয় তখন সেখানে এক গরু শীতের রাতে গায়ে উষ্ণ নিঃশ্বাস দিয়ে নবজাতককে আরাম দিয়েছিল। পরিবারে এই দৃশ্য সাজিয়ে গান গাওয়ার নাম Nochnena। স্পেনে প্রধান ধর্মীয় সাধ্বী নারী মা মেরি। ছয়জন বালকের বিশেষ পোশাক পরে এক বিশেষ নাচের প্রথা আছে।

splchrist04হাওয়াই অঞ্চলে জাহাজ ভরা উপহার, ক্রিসমাস ট্রি সহ সান্তাক্লজ  সমুদ্রে ভেসে আসে। আরিজোনা অঞ্চলে Las Pasodas নামে পরম্পরা রয়েছে। পরিবারের সকলে সেই কাহিনী অভিনয় করে যেখানে Joseph ও Mary অন্বেষণ করছেন রাতে বিশ্রামের আশ্রয়। এটা মেক্সিকোর লোকগাথা। প্রতিবেশীরা মিছিল করে প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে যিশুর জন্মরাত্রের বৃত্তান্তের সাজানো রূপায়ণ ও যিশুর বিছানা দেখে আসে সপ্রশংস নয়নে।        

পোলাণ্ডে Boze Narodzenie মানে খ্রিস্টমাস । আগের রাতে খাওয়ার টেবিলের তলায় মেঝের ওপর খড় বিচলি পেতে রাখা হয় । এমন করে স্মরণ করা হয় যিশুর জন্মরাতের আস্তাবলের পরিবেশ । টেবিলে দুটি অতিরিক্ত থালা রাখা হয় শিশু যিশুর জন্য ও যদি কোন পথ হারানো পথিক খেতে চায় ও আশ্রয় মিনতি করে।

আলাস্কাতে ছেলে মেয়েরা মশাল জ্বালায় এবং লম্বা বাঁশের ডগায় প্রতীক আকাশের তারা নিয়ে দ্বারে দ্বারে যায় । ক্যারল গাওয়া হয়। প্রতিবেশীরা নৈশভোজ দেয়। এই ভাবে যিশুর ক্রশবিদ্ধ হওয়ার আগে লাস্ট সাপার স্মরণ করা হয় ।

splchrist05ঐতিহাসিক ভাবে সন্ত নিকোলাস ছিলেন এক সিদ্ধ পুরুষ, যাঁর বাস ছিল আজকের দিনের তুর্কিতে। খ্রিস্টপূর্ব ২৮০ সালে তাঁর জন্ম হয় । তিনি শিশু ও দুঃস্থ নারীদের নানাভাবে সাহায্য করতেন। সেই কারণে এদের ত্রাণকর্তা হিসাবে ইতিহাসে প্রাচীনকাল থেকে তিনি কিংবদন্তী পুরুষ হয়ে আছেন। এই সংবেদনশীল মানুষকে ঘিরে অনেক কাহিনী গড়ে ওঠে। আমেরিকাতে এই মানুষকে নিয়ে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন শুরু করেছিল কোকাকোলা প্রতিষ্ঠান। শিল্পী Haddon Sunblom ১৯২০ সালে  কাল্পনিক ছবি আঁকেন তার। সেই প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠে কোম্পানীর প্রতীক। সেই ছবি ধারাবাহিকভাবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয় । শৈল্পিক কুশলতায় অপূর্ব সৃজনশীলতা প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন চিত্রায়ণে।

  উত্তর মেরুতে সব চাইতে বিখ্যাত নাম Santa Claus । এর সন্নিকটে ফিনল্যান্ডের এক গ্রাম আছে যার নাম Rovaniemi। এই শান্তির আলয়ে সান্তার ঠিকানা । প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পঞ্চাশ হাজার পর্যটক আসে সান্তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে। এই ভূমিতে রূপকথা ও বাস্তবতা মিলে মিশে যায়। সান্তাক্লজ পোস্ট অফিসে তার সাক্ষাত পাওয়া যাবে। পৃথিবীর নানা প্রত্যন্ত জায়গা থেকে এই মায়াবি মানুষকে উদ্দেশ্য করে চিঠি আসে । ছোট ছেলে মেয়েরা এল্‌ফ্‌, অর্থাৎ বামন পরী সাজে। চিঠি সব গুছিয়ে রাখে তারা বিভিন্ন দেশের নাম লেখা পৃথক জায়গায়। খোলা প্রান্তরে বরফে বল্‌গা হরিণ চড়ে বেড়ায়। যে বছর শীত কম হয়, লেকের জল জমে বরফ হতে দেরি হয়। সে বছর  সান্তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। এবার বুঝি দূরদূরান্ত থেকে শীতে বরফের খেলাতে অংশ নিতে যাত্রীরা কম আসবে ! আসলে উইন্টার গেম্‌স্‌ এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক জীবনে আয়ের পথ সুগম করে দেয় কিনা!

splchrist06

এই লেখকের আরো লেখা এই লিংকে

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s