গল্প ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি ঋতা বসু বর্ষা ২০১৯

ঋতা বসুর আগের গল্পঃ শিকার ও শিকারীমিষ্টিবুড়ির কাণ্ড

মাসি পিসি দুজনের ভারি ভাব। ওরা নদীতে চান করে একসঙ্গে। খায় একসঙ্গে।খেলে একসঙ্গে।ঘুমোয়ও একসঙ্গে।একদিন বনের মধ্যে দুজনে খেলা করছিল।গাছের ডালে দোলনা বেঁধে মাসি বসল পিসি ঠেলা দিল। পিসি বসল মাসি ঠেলা দিল। তারপর দুজনে লুকোচুরি খেলল অনেকক্ষণ ধরে। শেষটায় ক্লান্ত হয়ে পথের মাঝেই ঘুমিয়ে পড়ল।

মহা মুশকিল। ঘাসগুলো ওদের গায়ের নিচে অনেকক্ষণ চ্যাপ্টা হয়ে থাকার জন্য নিশ্বাস নিতে পারছে না ভাল করে।পিঁপড়েদের লাইনটাকে অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে।মাসিপিসির লম্বা লম্বা কালোচুল লাল হলুদ ফুলগুলোকে ঢেকে দিয়েছে।কাঠবেড়ালিরা গাছ থেকে মাটিতে নামতে পারছে না।তখন তারা সবাই মিলে বনের দেবতার কাছে গিয়ে নালিশ করল।

বনের দেবতা এসে অনেক ডাকাডাকি করেও মাসিপিসির ঘুম ভাঙ্গাতে পারল না। শেষে পিঁপড়েরা রেগে গিয়ে মাসি পিসির পায়ে কামড়ে দিতেই দুজন ধড়মড় করে উঠে বসল। দেবতা রেগে গিয়ে বললেন- তোমরা আর কোনদিন ঘুমোতে পারবে না।সারাক্ষণ জেগে থাকতে হবে তোমাদের।

মাসি পিসি ভয়ানক কান্নাকাটি জুড়ে দিল। না ঘুমিয়ে তারা তো থাকতেই পারে না।  

তখন বনের দেবতা বললেন অভিশাপ তো ফিরিয়ে নেয়া যায় না।তবে তোমরা যদি কারও চোখ ছুঁয়ে দাও সে ঘুমিয়ে পড়বে। তোমরা একে অন্যকে ছোঁবে।একজন ঘুমিয়ে উঠলে পর আর অন্যজন ঘুমোতে যাবে। দুজনে যেন কক্ষনো একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ো না।

মাসি পিসি ভারি খুশি হয়ে উপুড় হয়ে দেবতাকে প্রণাম করল। তারপর বনের পথে হাটতে হাটতে দেখল কাঠুরে কাঠ কাটছে। কাঠুরে গিন্নি শুকনো পাতা জড়ো করে রান্না করবে ভাবছে কিন্তু তাদের ছেলে আর মেয়েটা করতে দিচ্ছে না।ছেলে বলছে আমার সঙ্গে খেলা কর। মেয়ে বলছে আমার খাতায়  ছবি এঁকে দাও। কাঠুরে বলছে -আমার খুব খিদে পেয়েছে। শিগগিরি খেতে দাও। 

কাঠুরে বউ রেগেমেগে বলল – এই ছেলেমেয়ে দুটোর খাওয়া দাওয়া সব হয়ে গেছে তবু ঘুমোয় না। এরা  না ঘুমলে তো কোন কাজ করতে পারছি না। কি করি এখন?কেউ যদি এ দুটোকে ঘুম পাড়িয়ে দিত কি ভাল হত।

এ কথা শুনে মাসি পিসি দৌড়ে এসে বাচ্চাদুটোর চোখ ছুঁয়ে দিয়েই গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। কাঠুরে বৌ পেছন ফিরে দেখে ঘাসের ওপর পাপড়ি বোজা ফুলের মত তার ছেলে মেয়ে ঘুমোচ্ছে।

তারপর থেকে ছেলেমেয়ের ঘুমের সময় হলেই কাঠুরে বৌ ডাকে- কেউ কি আছে আমার বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দেবে?

তারপর আস্তে আস্তে সমস্ত মায়েরা জানতে পারল। তারা খুশি হয়ে মাসিপিসির নাম দিল ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি।ছেলেমেয়েদের ঘুমের সময় তারা গান করে ডাকে ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি মোদের বাড়ি এসো।খাট নেই,পালং নেই চোখ পেতে বস।

কিন্তু তারা তো ভারি ব্যাস্ত।বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর জন্য তাদের কত দূর দূর যেতে হয়। তখন গান করে করে মাসি পিসিদের ডেকে ডেকে মায়েদের গলা ব্যাথা হয়ে যায়। কাছাকাছি থাকলে তারা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে।বাচ্চারা ছাড়া আর কেউ তাদের দেখতে পায় না। ঘুম না আসা চোখ তারা হাত দিয়ে বুজিয়ে দিলেই খোকা খুকুরা ঘুমে ঢুলে পরে।

অলঙ্করণঃ জয়ন্ত বিশ্বাস

জয়ঢাকের গল্প ও উপন্যাস

2 Responses to গল্প ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি ঋতা বসু বর্ষা ২০১৯

  1. Rumna Gupta says:

    খুব ভালো লাগলো ..!! ছোট বেলায় ফিরে গেলাম

    Like

  2. Sumanta Basu says:

    bah re khub sundor

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s