জয়ঢাকের খবরকাগজ- ফিরে এল কালো শেয়াল-৪আগস্ট২০১৭

জয়ঢাকের খবরের কাগজ

নীল শেয়ালের গল্প তো আমরা জানি।বেচারা এক শেয়াল ধোপার জামাকাপড় রং করার নীল গামলায় পরে গিয়ে নীল রং ধারণ করে অন্য জন্তুদের মনে ভয় ধরিয়ে রাজা হয়ে বসেছিল। কিন্তু কালো শেয়াল! সম্প্রতি ব্রিটেনের ইয়র্কশায়ারে  দেখা গেল অতি বিরল কালো শেয়াল। অরিন্দম দেবনাথের  প্রতিবেদন

বহুল প্রচলিত প্রাচীন মতবাদ অনুযায়ী কালো শেয়ালের দেখা পাওয়া মানে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা। কালো শেয়াল লুকিয়ে থাকে ছায়ার পেছনে। তাকে দেখা যায় না। আর কোন কারণে যদি কালো শেয়াল দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে সামনে যাকে দেখা যাচ্ছে সে হল না-শরীরী। কালো শেয়াল মানে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে চলেছে।

শুধু কালো শেয়াল কেন কালো কুকুর আর কালো বেড়ালও হল অলুক্ষুণে। যদি চলার পথে এদের দেখা পাও তবে খানিক দাঁড়িয়ে যাও, না হলে ফিরে যাও।- এই বিশ্বাসটা প্রায় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।

দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের হালিফাক্সএর বাড়ির দোতলার ঘরে বসে এহেন কালো শেয়ালের দেখা পেলেন রবার্ট বার্নস নামের এক ভদ্রলোক। তাঁর বাড়ির পেছনের বাগানে খেলা করছিল কালো শেয়ালটি।

বার্ন্‌স্‌ প্রথমে ভেবেছিলেন ওটা কোন কালো রঙের কুকুর হবে। কিন্তু এত মোটাসোটা কালো কুকুর আসবে কোথা থেকে? তারপর ভাল করে নজর করে দেখলেন, না এটা তো কোন কুকুর নয়, মুখটা শেয়ালের মত ছুঁচলো।মোটা লম্বা লেজ।তারপর দেখলেন তার সঙ্গে খেলা করতে এল একটা লাল শেয়াল। দুটোর গড়ন এক।খালি রং আলাদা। তাছাড়া কুকুর আর শেয়াল একসাথে খেলবে না।

শেয়াল দেখতে অভ্যস্ত ফুলারের কোন ভুল হয়নি।কালো রঙের প্রাণীটি একটা শেয়াল। লাল শেয়াল আর কালো শেয়ালটা মিলে খানিক বাগানে খেলা করে পালিয়ে গেল।

একটা ভিডিও তুলে নিয়েছিলেন ভদ্রলোক। শেয়াল নিয়ে খানিক অনুসন্ধান করে জানলেন জিনঘটিত ত্রুটির কারণে কালো রং নিয়ে জন্মানো এই শেয়ালটি অতি দুর্লভ প্রজাতির মধ্য পড়ে। আগে ব্রিটেনের মাটিতে কালো রঙের শেয়াল দেখা যেত। এছাড়া কানাডার জঙ্গলে গুটিকয়েক কালো শেয়ালের সন্ধান পাওয়া গেছিল। কিন্তু দুর্লভ কালো চামড়ার জন্য শিকারির এদের নির্বংশ করে দিয়েছে।

খুব একটা হই-হট্টগোল না করে ভদ্রলোক এবারে ফোন করে চলে গেলেন তাঁরই নামের এক শিল্পী তথা চিত্রগ্রাহক বন্ধু রবার্ট ফুলারের কাছে।

রবার্ট ফুলার ছবি দেখে অবাক। কালো শেয়াল!যদিও ছবিগুলোর গুণমান ভাল ছিল না। প্রায় পুরো ছবি অস্পষ্ট। যদিও ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে কোন দ্বিমত ছিল না যে ওটা একটা কালো রঙের শেয়াল।

ফুলার আর বার্নস, দুই রবার্ট মিলে ঠিক করলেন খুঁজে বের করতে হবে শেয়ালটাকে।স্পষ্ট ছবি তুলতে হবে।

সেই সময় ফুলারের কাছে এই ধরণের জন্তুর ছবি তোলার জন্য উপযুক্ত পেশাদারী ক্যামেরার সরঞ্জাম ছিল না। তাছাড়া ছবি তুলতে চাইলেই তো আর শেয়ালটা এসে হাজির হবে না! শুরু হল ধৈর্যের পরীক্ষা। সে’সময় ফুলার ব্যাস্ত ছিলেন একটি চিত্র প্রদর্শনী নিয়ে। বার্নস খোঁজ নিতে শুরু করলেন কালো শেয়ালের। খবর পেলেন হালিফাক্সেরই আর দুই বাসিন্দা মাতেজা কুদুর ও ক্রেগ ব্রেনেন নামে দুজন একই দিনে কালো শেয়ালের দেখা পেয়েছেন।

মাতেজা কুদুর হঠাৎ দেখেন তাঁর বাড়ির দেয়ালের মাথায় উঁকি মারছে এক বিশাল কালো কুকুর।ভালো করে দেখেন এটা কুকুর নয় কালো শেয়াল। তখন কয়েকদিন ধরেই সে এলাকায় কালো শেয়ালের গল্প ছড়াচ্ছিল। এত সামনাসামনি তার উপস্থিতি টের পেতেই পাঁচ মিনিটের মধ্যে ছবি তোলার জন্য নিয়ে কুদুর তাঁর ট্যাবটা নিয়ে এলেন।

ভেবেছিলেন ট্যাব নিয়ে ফিরে এসে বুঝি আর দেখা পাবেন না কালো শেয়ালের। কিন্তু তাঁকে তাকে অবাক করে শেয়ালটা তখনও দাঁড়িয়ে ছিল প্রাচীরের ওপর। তারপর নেমে এসেছিল তাঁর বাড়ির ভেতরে। ঘরের কাচের জানলার ভেতর দিয়ে কুদুর এবারে দেখতে পেলেন শেয়ালটা এসে পাখির

খাঁচার নিচে দাঁড়িয়ে খানিক গন্ধ শুঁকল।মাত্র মিটারখানেক দূরত্ব ছিল দুজনের মাঝে। মাতেজা পরে জানতে পেরেছিলেন যে তিনি পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ প্রাণীটিকে হাত বাড়ানো দূরত্ব থেকে দেখেছিলেন।

ফুলার লক্ষ করেছিলেন প্রায় রাত্তিরেই কালো শেয়ালটা তাঁর বাগানে আসে।অতএব বাগানে তিনি নিয়মিত খাবার রাখতে শুরু করলেন। তারপর এক রাতে এগারোটার সময় আগমন ঘটল কালো শেয়ালের। আগে থেকে বসিয়ে রাখা ক্যামেরায় অসাধারণ সব  ছবি উঠল তার।   

কালো শেয়াল এতোই দুর্লভ যে ব্রিটেনের ‘ন্যাশনাল ফক্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটির’ মারটিন হেমিংটন কালো শেয়ালের ছবিগুলো দেখে উত্তেজনায় প্রায় চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছিলেন।কিছুদিন আগেই হ্যালিফ্যাক্সের শেষ কালো শেয়াল বব-এর মৃত্যু হয়েছে তখন। এবার বোঝা গেল, আশা শেষ হয়ে যায়নি অতি উর্লভ এই প্রাণীর। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা রায় দিলেন অন্তত সন্এতান ধারণক্ষম জোড়া কালো শেয়াল আছে অঞ্চলে। 

জয়ঢাকের খবরের কাগজ

       

 

Advertisements