টাইম মেশিন ইতিহাসের খন্ডচিত্র সব দিতে হবে বাসুদেব দাস বর্ষা ২০১৬

timemachinebasudebnetaji (Medium)নেতাজি সুভাষচন্দ্র তখন ব্যাঙ্ককে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সুভাষচন্দ্রের আকুল আহ্বানে ভারতীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায় তাঁর হাতে সর্বস্ব তুলে দিচ্ছেন।

এমনই একদিনের কথা। নেতাজির আহ্বানে এগিয়ে এল এক সহজসরল গোয়ালা। পকেটে তার শেষ সম্বল দুশো ডলারের নোট। মেজর জেনারেল চট্টোপাধ্যায় তাঁকে বোঝাবার চেষ্টা করে বললেন, “তুমি যে সমস্তটাই আজাদ হিন্দ ফৌজের ফান্ডে দান করে দিতে চাইছ, কাল সকালে তোমার খাবার জুটবে কীভাবে সে কথা কি একবার ভেবে দেখেছ?”

কে শোনে কার কথা! ঘুরিয়েফিরিয়ে গোয়ালাটি কেবলই বলে চলেছে, “নেতাজি তো নিজের জন্য কিছুই রাখতে বলেননি। তিনি তো দেশের জন্য সমস্ত কিছুই দিতে বলেছেন।”

শেষমেস একটা রফায় আসা গেল। অনেক বোঝানোর পর সে বিশ ডলার রেখে বাকি টাকাটা আজাদ হিন্দ ফান্ডে দান করতে রাজি হল।

বেশ কিছুক্ষণ পরের কথা। নেতাজি তখন সমবেত বিশাল জনতার  উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন। আসন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য দেশবাসীকে সর্বস্ব দান করবার অনুরোধ জানালেন। ব্যস, আর যায় কোথায়! সেই সহজসরল গোয়ালাকে তখন আর পায় কে? দৌড়ে এসে নেতাজির হাতে বাকি বিশ ডলার তুলে দিলেন। মুখে তাঁর এক অপূর্ব পরিতৃপ্তির হাসি।

সেদিন সবার জন্য আরো বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। একটু বাদেই এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখা গেল। গোয়ালাদের এক বিশাল লাইন দাঁড়িয়ে পড়ছে। হাতে তাদের তেল চিটচিটে পাশবই। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদেরও তো কিছু করণীয় রয়েছে! তাই আজ দূরদুরান্ত থেকে তাঁরা নেতাজির আহ্বান শুনে ছুটে এসেছেন তাঁদের যৎসামান্য সঞ্চয় নেতাজির হাতে তুলে দেবার জন্য।

এখানেই কিন্তু শেষ নয়। পরের দিন আবার ম্লান মুখে সমস্ত গোয়ালারা এসে লাইন করে দাঁড়িয়েছে। আবার কী হল? ব্যাপার বেশ গুরুতরই বলা যেতে পারে। টাকাপ্যসা যা ছিল সবই তো নেতাজির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বাকি রয়ে গেছে গরুমোষগুলি। তাই এগুলি দান করবার জন্য আজ সঙ্গে নিয়ে এসেছে।

সবকিছু দেখেশুনে মেজর জেনারেল এ সি চট্টোপাধ্যায় স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। এ-ও কি সম্ভব? কী ছিল নেতাজির সেই প্রাণ আকুল করা আহ্বানে যা শুনে সহজসরল গোয়ালারা তাঁদের যথাসর্বস্ব নেতাজির হাতে তুলে দেবার জন্য দূরদুরান্ত থেকে ছুটে এসেছে?