টাইম মেশিন

ইতিহাসের খণ্ডচিত্র

অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়

অকথিত ধ্যানচাঁদ

timemachinedhyanchand (Medium)

বার্লিন অলিম্পিক। জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করছেন ধ্যানচাঁদ

১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকের আসর জমজমাট তখন। হকির ফাইন্যাল ম্যাচে ইন্ডিয়া বনাম জার্মা্নি। ইন্ডিয়ার হকি দলের ক্যাপ্টেন ধ্যানচাঁদের নাম তখন বিশ্বজোড়া। সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলা এই মানুষটির হকি-স্টিকে যেন আঠার মত লেগে থাকে বল। ধ্যানচাঁদের মাঠে নামা মানেই যেন অন্যান্য দলের বুকে শিরশিরানি ভয়। ম্যাচ শুরু হল। দেখা গেল, জার্মান খেলোয়াড়েরা ধ্যানচাঁদের উপস্থিতিতে রীতিমত ভয় পেয়ে খুব আক্রমণাত্মক ভাবে খেলতে শুরু করেছে। যেনতেনপ্রকারেণ আঘাত হানাই যেন ধ্যানচাঁদকে আটকে দেওয়ার একমাত্র উপায়।

হঠাৎ এক আঘাতে ধ্যানচাঁদের মুখ রক্তে ভরে গেল।  দেখা গেল জার্মান টিমের কোন খেলোয়ারের আঘাতে ধ্যানচাঁদের একটি দাঁত উপড়ে গেছে। সহযোগীদের সাথে মাঠের বাইরে এলেন আহত রক্তাক্ত ধ্যানচাঁদ। জার্মানরা যেন খানিক নিশ্চিন্ত। আর নিশ্চয়ই মাঠে ঢুকবে না  হকির এই মহাত্রাস। কিন্তু এলাহাবাদে জন্মানো এই রাজপুতের রক্তে ছিল প্রবল জেদ, আত্মবিশ্বাস আর তীব্র দেশপ্রেম। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আবার মাঠে নামলেন উনি। জার্মান খেলোয়ারেরা আর দর্শকেরা অবাক! শুরু হল ধ্যানচাঁদের ‘ম্যাজিক’। হকির এই জাদুকর জাদুদন্ডের কেরামতিতে প্রতিপক্ষকে চমকে দিলেন খেলার বাকি সময়টুকু। একের পর এক গোলে ধরাশায়ী হয়ে গেল জার্মান দল। ম্যাচের শেষে ভারত জয়ী হল ৮-১ গোলে। আর তারমধ্যে ধ্যানচাঁদের কৃতিত্ব ৬ টি গোল!

এখানেই শেষ নয়। আরো কিছু আশ্চর্য ঘটনার জন্য ইতিহাস অপেক্ষা করছিল। জানা গেল জার্মান সুপ্রিমো অ্যাডলফ হিটলার এই অলিম্পিকের পরে ধ্যানচাঁদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জার্মানি দলে খেলার জন্য এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জার্মান নাগরিকত্ব এবং জার্মান মিলিটারী বাহিনীর উচ্চপদের চাকুরির। সে আমলে এ এক লোভনীয় আমন্ত্রণ। কিন্তু দেশপ্রেমী এই হকির জাদুকর সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন হিটলারের এই প্রস্তাব এবং সারা দেশের মানুষের মাথা ঊঁচু করে দিয়েছিলেন বিশ্বের দরবারে।