ডানাওয়ালা বন্ধুগণ বন যখন বারান্দায় শেলী ভট্টাচার্য

বন যখন বারান্দায়

শেলী ভট্টাচার্য

সারাটা বছর গুরগাঁওতে থাকার জন্য হিয়ার কলকাতায় আসা মানেই ভীষণ রকম ব্যস্ত  রুটিন। সে ব্যস্ততা আদুরে দিনে লুটোপুটি খাওয়ার ব্যস্ততা। গরমের ছুটিটা তাই দারুণ আনন্দে কাটে হিয়ার। এ দিদার বাড়ি, ওই ঠাম্মির বাড়ি, এ পিপির বাড়ি, ওই মাসির বাড়ি করে হইহই করে বয়ে যায় ছুটির বরাদ্দ সব দিনগুলি। তবে হিয়ার দাদানবাড়িই ওর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। তার অন্যতম কারণ হল প্রকৃতির সবুজ কোল। দাদানবাড়ির চারপাশ জুড়ে রয়েছে বিবিধ ফুল ও ফলের বাগান। আর বাড়ির পেছনে আছে একটা মস্ত বড়ো পুকুর। তাতে আবার শাপলা,কলমিশাকও আছে। মাত্র ছয় বছর বয়সেই হিয়া তাই অনেক গাছ চিনে গেছে। তার সাথে সাথে অনেক ফুল আর পাখিও চিনে গেছে ও। কোকিল, টিয়া, টুনটুনি, বুলবুল, ঘুঘু, শালিক, ইষ্টিকুটুম, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, ফিঙে আরও কত পাখি আসে হিয়ার দাদানের বাগানে। সেখানে এসে ওরা পাকা পেয়ারা, আতা, আম, কাঁঠাল, কলা ঠুকরে ঠুকরে খায়। হিয়ার তাই দেখে ভীষণ মজা লাগে। ওতো গুরগাঁওতে পায়রা ছাড়া আর তেমন কোনও পাখিই দেখতে পায় না। মাঝে মধ্যে দু একটা টিয়া ট্যাঁ ট্যাঁ করতে করতে উপর দিয়ে উড়ে যায়। ডাক শুনে ছুটে আসতে আসতে ওরা নজরের বাইরে চলে যায়। ওদের বারান্দার রেলিং এ একমাত্র ধূসর ছিটছিট রঙের পায়রারাই এসে বসে।

বিকালে হিয়া দিদার সঙ্গে ছাদে খেলতে খেলতে বলল “দিদুন, তোমাদের এখানে থাকলে আমার আর ঘড়িতে এলার্ম শুনে সকালবেলা স্কুলের জন্য উঠতে হত না। পাখির ডাকেই রোজ ঘুম ভেঙে যেত।”

হিয়ার দিদা সে কথা শুনে হেসে ওঠেন। আর হিয়ার পছন্দের গানটা গুনগুন করে গেয়ে ওঠেন মিষ্টি সুরে “বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে,আয় না যা না গান শুনিয়ে।”

হিয়াও তখন মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে দিদুনের সঙ্গে সুর মেলায়। কিন্তু ওর শিশুমনে খুব শখ হয় পাখিকে কাছ থেকে দেখার,আদর করার। দাদানবাড়িতে এসে পাখিকে আদর করতে না পারলেও,কাছ থেকে অন্তত দেখতে পায় ও। কিন্তু গুরগাঁও চলে গেলে তাও পায় না। পাবেই বা কী করে? সেখানে যে শুধু উঁচু উঁচু বিল্ডিং উদ্ধত মাথা তুলে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সবুজ তো সেখানে শৌখিনতা দেখাতে কারও কারও বারান্দায় বা পথের ধারের স্বল্পস্থানেই সীমাবদ্ধ। আর তার চেয়ে একটু বেশি আছে পার্কের গণ্ডিতে। তাতে করে রকমারি পাখিকে আর দেখা হয়ে ওঠে না হিয়ার।

একবার হিয়া কলকাতায় ওর এক মামাবাড়ি গিয়ে একটা বড়ো খাঁচায় হরেক রঙের বদ্রিপাখি দেখেছিল। তারপর ওবাড়ি থেকে এসে মায়ের কোলে বসে খুব বায়নাও করেছিল। পাখি পুষবে বলে রীতিমতো জেদ ধরেছিল ও। তাদের ওইই স্নান করাবে,খাবার দেবে রোজ। কিচ্ছুটি মাকে খেয়াল রাখতে হবে না। কিন্তু হিয়ার মা সটান নাকচ করে দিয়েছিল সেই প্রস্তাব। আর তার কারণটাও হিয়াকে বুঝিয়েছিল। সত্যিই তো হিয়াকে কেউ যদি একটা ঘরে সারাজীবন আটকে রেখে দেয়,হিয়ার কি তা ভালো লাগবে? হিয়াও কিছুক্ষণ চিন্তা করে বুঝতে পেরেছিল মায়ের কথার পেছনের যুক্তিগুলোকে।

আরেকবার কলকাতায় আরেক মাসির বাড়ি গিয়ে হিয়া দেখেছিল একটা দারুণ দেখতে পাখির বাসা। তাতে যদিও পাখি থাকে না। শুধু ঘর সাজানোর জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ওটা। আর ওর মধ্যে রাখা আছে দুটো ছোটো ছোটো রঙ করা মাটির তৈরি পাখি। আর দুটো সাদা মাটির তৈরি ডিম। হিয়ার মা ওকে সেই বাসাটা চিনিয়ে দিয়ে বলেছিল, এটা বাবুই পাখির বাসা। হিয়া বাসাটার দিকে চোখ বড়োবড়ো করে চেয়ে দেখছিল,পাখির অদ্ভুত সুন্দর শিল্পকলাকে।

সেদিন হিয়া ওর মাকে বাড়ি ফেরার পথে বলছিল “মামাবাড়িতে খাঁচায় পাখি ছিল, আর এই মাসিবাড়িতে পাখির বাসা ছিল। কিন্তু বাড়িতেই বাসা গড়ে কি পাখি রাখা যায় না মা?”

“তা কীকরে হবে? পাখিতো বনের গাছে বাসা বাঁধে। বাড়িতে বড়োগাছ থাকলেও তার ডালে বাসা বাঁধে।”

মায়ের এ উত্তরে কিন্তু ওর কৌতূহল দমে যায়নি। বরং ওর চিন্তা নিজের মতো করে এগিয়েই চলছিল,নিজের সমস্যার সমাধান করতে।

“আচ্ছা মা,সব পাখি কি গাছে বাসা বাঁধে? তাহলে আমাদের ওখানে যে পায়রাগুলো উইন্ডো এসির উপর বাসা করে থাকে।”

“হুম, ঠিক দেখেছিস তুই। অনেক পাখি গাছ ছাড়াও উঁচু ল্যাম্পপোস্টে,বাড়ির ঘুলঘুলিতে,এসির ছাদে,জানলার কার্নিশে বাসা গড়ে। আর আমাদের ওখানে তো বড়ো গাছই কম। তাই বিল্ডিংয়ের আনাচকানাচেই পাখিরা বাসা গড়ে নিজেদের ব্যবস্থা করে নেয়।”

কথাগুলো শুনে তখনকার মতো হিয়া চুপ করে যায়। কিন্তু ওর মনের মধ্যে চেপে রাখা ইচ্ছেটা মাঝেমধ্যেই উঁকিঝুঁকি মারতে থাকে।

সেবার  ছুটির শেষে গুরগাঁও ফিরতেই,একটা দারুণ ঘটনা ঘটে। হিয়ার মা একমাস পর বাড়ি ফিরে দেখে ওদের বারান্দার এককোণের একটা ফুলের টবের পাশে পায়রা বেশ কিছু শলার ভাঙা কাঠি জোগাড় করে এনে রেখেছে। এসব দেখেই হিয়ার মায়ের বুঝতে অসুবিধে হয় না,যে কী হতে চলেছে সেখানে।

এর কয়েকদিন পর হিয়া স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই মায়ের হাত ধরে টানাটানি করতে শুরু করে দেয়। আর উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকে “দেখে যাও মা,কী কাণ্ড!”

ওর চোখেমুখে সে এক কী ইউরেকা মনোভাব তখন। যেন এলিয়েন দর্শন হয়েছে। হিয়ার মা কিন্তু ওর এই অবাকদর্শনের বস্তুটিকে সকালেই দেখেছিল। কিন্তু মেয়েকে নিজে থেকে জানায়নি। ভরসা নেই, ওটিকে ছুঁয়ে বসবে হয়তো ওর উড়নচণ্ডী কৌতূহলের স্রোত। না, তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। হিয়ার ক্ষুদে একজোড়া চোখের প্রখর সার্চিং টাওয়ারে শেষমেশ ধরা পড়ে গেছে বস্তুটি।

অগত্যা মেয়ের সাথে বারান্দায় গেল হিয়ার মা।

“দেখো, পায়রার ডিম”  হিয়ার দু’চোখ তখন ডিমের মতোই গোল গোল হয়ে গেছে আনন্দে আর বিস্ময়ে। আবিষ্কারের ঝলকানি যেন ঠিকরে বের হচ্ছিল তার থেকে।

হিয়ার মা শান্তস্বরে বলল,“আমি সকালেই দেখেছি। তুই ধরিসনি তো?”

“না,না। কিন্তু ধরলে কী হবে?” সংযমিত মনের প্রশ্ন।

“খবরদার ধরবি না। তাহলে কিন্তু আর ওর থেকে ছানা বের হবে না।”

হিয়ার চোখেমুখে তখনও একটা আস্ত সাজানো প্রশ্নপত্র। তারপর সারাটা দিন ধরে, নাহোক দুইশতবার ওদিকে গিয়ে বকের মতো গলা বাড়িয়ে উঁকি মারতে লাগল হিয়া। হিয়ার মা সেসব দৃশ্য দেখে তখন মনে মনে প্রার্থনা করছে,যেন ওর কঠিন কৌতূহল ওর সরল সংযমের উপর জয়ী না হয়! এই কারণেই যখন হিয়ার মা প্রথমবার দেখেছিল,দুটো পায়রা গন্ডাখানেক শলার কাঠি আর ভাঙা সরু ডালাপালা এনে জমা করেছে টবের পাশে, ফেলে দিতে চাইছিল সব। কিন্তু কেন যেন,এগিয়ে গিয়েও, ওদের মনের ঘর গড়ার আশাটাকে হাতে ধরে ভেঙে দিতে পারেনি ও। কোথাও হয়তো নিজের গৃহস্থালি হৃদয় বাঁধা দিয়েছিল আবেগে।

দু’দিন পর আবার হিয়ার সেই আবিষ্কারক চোখের ঝলক। স্কুল থেকে ফিরে বলল “মা, দুটো ডিম।”

এবার প্রথম ও-ই দেখেছে। হিয়ার মাও মেয়ের কাছে শুনে গিয়ে দেখল ডিমদুটো। আর ওকে কোলে টেনে নিয়ে বসিয়ে আদুরে গলায় বোঝাতে থাকল “তুই এরকম বারবার ডিমদুটোর কাছে যাস না। ওই দেখ,ওর মা ডিমদুটোকে পেটের নীচে কেমন ঢেকে রাখতে চাইছে। আর ওই ছাদটার রেলিং এ বসে ওদের বাবা ডিমদুটোর উপর নজর রাখছে। কিছু হলে কিন্তু ওরা তোকে … ”

মায়ের অর্ধসমাপ্ত কথাকে হুড়মুড়িয়ে ঢেকে বলে উঠল হিয়া “মা বাবা কীকরে হবে? এখনোতো ছানা বের হয়নি। ওরা ডিম থেকে বেরিয়ে  মা বাবা বলে ডাকবে। তাপ্পর তো।”

হিয়ার মা বেমালুম চুপ করে গেল মেয়ের অকাট্য যুক্তিতে। তারপর থেকে সজাগ হয়ে দিনরাত্রি ডিমগুলোতে বসে তা দিতে লাগল তাদের সৃষ্টিকর্ত্রী। আর হিয়ার মাও সজাগ নজরে পাহারা দিতে থাকল তার ছানার কৌতূহলকে। এই দুইয়ের ব্যালেন্সে একটু এদিক ওদিক হলেই,পরিস্থিতি দুঃখজনক হতে পারে।

তবে এ-কদিনে হিয়ার মায়ের সঙ্গে মা পায়রাটির বেশ একটা বিশ্বস্ত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ও বারান্দায় বিভিন্ন কাজের জন্য যখন কাছেও যাচ্ছে,তখনও পায়রাটি ভয় পেয়ে আর উড়ে যাচ্ছে না। দুই প্রজাতির মাতৃহৃদয়ের মধ্যে, সময়ের মধ্য দিয়ে, একটা নীরব বিশ্বস্ততার বোঝাপড়া হয়ে গেছে বোধ হয়।

কিন্তু হিয়ার মনে ওই এক খটকা,ছানা হলেই কিছুদিন পর ওরা উড়ে চলে যাবে। ও আর কাছ থেকে পায়রার সংসারটা দেখতে পাবে না। দুঃখী দুঃখী গলায় মাকেও জানিয়েছে ওর মনের এই কথাটা।

হিয়ার মা একদিন ইউটিউব ঘেঁটে হিয়ার জন্য একটা স্কুল প্রজেক্ট করতে বসে,পেয়ে গেল মেয়ের ইচ্ছাপূরণ করার জন্য একটা দারুণ ব্যবস্থা। ইউটিউবের একটা ভিডিওতে ও দেখল ঘরোয়া ভাবে কীকরে সহজেই ঝরনা তৈরি করা যায়। চারটে একই মাপের খালি প্লাস্টিকের বোতল,তিনটে সরু কাঠের শক্ত চ্যাপ্টা লাঠি,একটা বড়ো গামলা মতো পাত্র,একটা অ্যাকুরিয়াম লিকুইড ফিল্টারের মতো পাম্প আর রাবারের মাপমতো সরু পাইপ লাগবে এইটি তৈরি করতে। এছাড়াতো প্লাস্টিক কাটার,আঠা এসব লাগবেই। তবে এই পুরো ব্যাপারটা তৈরি করার ক্ষেত্রে ২২০-২৪০ ভোল্টের ছোট্ট অ্যাকুরিয়াম লিকুইড ফিল্টারটির গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। হিয়ার মা খুব মন দিয়ে পুরো ব্যাপারটা ইউটিউব চালিয়ে বেশ কয়েকবার দেখল। ভিডিওটিতে প্রথমে সমান সাইজের প্লাস্টিকের বোতলগুলোর উপরের দিকে সমান করে কাটার দিয়ে কেটে চৌকো মতো ফাঁকা জায়গা তৈরি করা দেখাল। তারপর গামলার দুদিকে কাঠের দুটো লাঠি আঠা দিয়ে দাঁড় করাল। আরেকটা কাঠের লাঠিকে বাকি লাঠিদুটোর মাথা বরাবর যোগ করল। এরপর চারটে বোতলকে দুটো করে দু’দিকের কাঠের লাঠির সঙ্গে উপর নীচ করে (জিগজ্যাগ পজিশনে) এমনভাবে আঠা দিয়ে ফিট করল যেন উপরের প্রথম বোতলে জল ঢাললে,সেটি ভরে নীচের অপরদিকের কাঠের লাঠির সঙ্গে লাগানো বোতলের কাটা অংশের মধ্যে গিয়ে পড়ে। আর এভাবে দ্বিতীয় বোতলটি ভরে গেলে তার মুখ দিয়ে জল অপরদিকে (বিপরীত দিকের) নীচে লাগানো তৃতীয় বোতলটিতে গিয়ে পড়বে। অতঃপর উপরের বোতলে ঢালা জলটি সবকটি বোতল হয়ে নীচের গামলায় গিয়ে পড়বে। এবার সেই ফিল্টারের সঙ্গে ছোটো সরু রবারের পাইপ ফিট করে ফিল্টারটিকে গামলার জলে বসিয়ে পাইপের খোলা মুখটিকে সবচেয়ে উপরে ফিট করে রাখা বোতলের ফাঁকা অংশে জুড়ে দিতে হবে। শেষে ফিল্টারের প্লাগ লাগিয়ে ইলেক্ট্রিক সুইচ অন করলেই হয়ে যাবে একটা সুন্দর ঘরোয়া ঝরনা। আর সেটাকে চারপাশে টবে লাগানো বিভিন্ন গাছ দিয়ে ঘিরে রাখলেই মনে হবে যেন ছোট্ট একটা বন তৈরি হয়ে গেছে। হিয়ার মায়ের এটা দেখে মনে হল,ও যদি এভাবে জিনিসটা তৈরি করে বারান্দায় রাখতে পারে,তাহলে পায়রাগুলোর জলের চাহিদাও মিটে যাবে। এমনিতেই এখানে পুকুর বা ডোবা,তেমন কিছুই চোখে পড়েনা। কিছু বাড়ির বারান্দায় বা ছাদে ওদের জন্য মাটির পাত্র করে জল রেখে দেওয়া হয়। তো এইভাবে যদি হিয়ার মা ওদের বারান্দায় একটা ছোট্ট বনের মতো প্রকৃতির ছাউনি তৈরি করে দেয় আর একটা মাটির পাত্রে কিছু খাবার দিয়ে রাখে,তবে পায়রার দল সেখানে এসে রোজই তাদের জল ও খাবার পেয়ে আনন্দে খেলাও করতে পারবে। আর পাখি না পুষেও পাখিদেরকে কাছ থেকে সবসময় দেখার সখটাও হিয়ার পূরণ হয়ে যাবে।

যেমনি ভাবা,তেমনি কাজ হয়ে গেল হিয়ার মায়ের। পায়রার ডিম ফুটে বাচ্চা দুটো একটু বড়ো হতেই সব জিনিসগুলো জোগাড় করে বারান্দাতেই ও বানিয়ে ফেলল হিয়ার মনের মতো একটা আস্ত পাখির আস্তানা। তারপর তার চারপাশের টবে মানিপ্ল্যান্ট রেখে তার লম্বা সবুজ ডালগুলোকে কাঠিগুলোর উপর পেঁচিয়ে দিল। আর পাশে রাখল বিভিন্ন পাতাবাহারি গাছ, পাম গাছ আর আরও কিছু ফুলের গাছ। তারপর ওয়ালটেয়ারের সমুদ্রতট থেকে কুড়িয়ে আনা কিছু রঙবেরঙের ছোটো ছোটো পাথর দিয়ে ও সাজিয়ে দিল টবের গোড়াগুলোকে।

হিয়া তো স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে মায়ের এই কাণ্ড দেখে খুশিতে ডগমগ করে উঠল। আর আদুরে স্বরে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলল “তুমিতো বারান্দায় পাখির জন্য একটা সুন্দর বন তৈরি করে ফেলেছ মা।”

তারপর ছুটে গিয়ে মায়ের ফোন এনে ঝটপট কয়েকটা ছবি তুলে ওর দিদুনকে পাঠিয়ে দিল। আর মায়ের কোলে বসে আহ্লাদি স্বরে গুনগুন করে গেয়ে উঠল দিদুনের শেখানো গানটা “বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে,আয় না যা না গান শুনিয়ে।”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s