ধাঁধা ইন্দ্রশেখর বর্ষা ২০১৬

 

dhadha mojaপ্রথম ধাঁধা

পশ্চিম দিক থেকে ঝড় উঠল। পাগলা হাওয়ার দল ছুটে আসছে সমুদ্র পেরিয়ে দ্বীপের দিকে। তার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়েছিল সে। এমনসময় হঠাৎ দ্বীপের পশ্চিমদিকে বাজ পড়ল কড় কড় করে। সে সভয়ে দেখল আগুন ধরে গেছে সেদিকের শুকনো গাছপালায়। আগুনের বেড়াজাল পশ্চিমদিক থেকে হাওয়ায় ভর করে ধেয়ে আসছে তার দিকে।  সঙ্গে একটা বালতিও নেই, কাছাকাছি কোন জলও নেই। গোটা দ্বীপ জুড়েই শুকনো গাছপালার ভিড়। চারপাশে উন্মত্ত সমুদ্র ফুঁসছে। পালাবে কোথায়? বাঁচবে কেমন করে সে?

 দ্বিতীয় ধাঁধা

রেস্তোরাঁয় বেজায় ভিড়। দামি রেস্তোরাঁ। সবাই ঢুকতে পারে না। তার বাইরে দাঁড়িয়ে একটা রোগাভোগা মানুষ ভেতরে বসে খেতে থাকা একটা মোটাসোটা বড়োলোক মানুষকে দেখছিল। রোগা মানুষটার বাড়িতে আজ ভাতের জোগাড় নেই। ভিক্ষে চাইলে কেউ দেবে না। খানিক ভেবে তার মুখে একটু হাসি ফুটল। ভেতরে গিয়ে মোটা লোকটার পাশে দাঁড়িয়ে বলে, “আমার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে স্যার। আপনি জেকোন মানুষের নাম বলুন, আমি তাঁর নাম আছে এমন একটা গান গেয়ে দেব।”

“বানিয়ে বানিয়ে গাইবে নাকি?” মোটা লোকটা হেসে বলল।

“উঁহু। একেবারে আসল গান। আগে থেকেই আছে এমন গান।”

“ধুস তাই কখনো হয় নাকি?”

“হয় স্যার। আমি বাজি ধরতে পারি। পাঁচশো টাকা বাজি।”

“বাজি ধরবি যে তার টাকাপয়সা আছে?”

“না। নেই। তবে এ বাজি আমি হারব না।” লোকটার মুখে একটুকরো হাসি ফুটে উঠল।

“বেশ। তাই হোক। আমার মেয়ের নাম আন্নাকালী। শোনা দেখি এবারে গান! হেরে গেলে কিন্তু আজ তোকে—”

বলতেবলতেই লোকটার মুখটা কেমন যেন হয়ে গেল। রোগা মানুষটা হাসিহাসি মুখে একটা গান ধরেছে। তার বানানো নয়। এ গান চিরকালের চিরচেনা গান—  গানটা কী?

তৃতীয় ধাঁধা

বাদলবাবুর মেয়ের বিয়ে। এমননুষ্ঠানে অনেক অচেনা লোক অতিথি সেজে খেয়ে যায়। বাদলবাবু তাই কায়দা করেছেন। অতিথিদের একটা পাসওয়ার্ড থাকবে। দরজায় দারোয়ানকে সেটা বললে ঢুকতে দেবে। নেমন্তন্নপত্রে  পাসওয়ার্ডটার ব্যাপারে বলে দিয়েছেন তিনি।

চালাক ছোকরা ব্যাপারটা শুনেছে। সে নেমন্তন্ন পায়নি। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে শুনছে কে কী বলে।

একজন এলেন, দারোয়ান বলল “twelve”. অতিথি বললেন “six” বলে ভেতরে চলে গেলেন।

আরেকজন এলেন। দারোয়ান বলল “six”. অতিথি বললেন “three” বলে ভেতরে চলে গেলেন।

চালাক ছোকরা কায়দাটা বুঝে গেছে। সে-ও সটান দরজায় গিয়ে হাজির। দারোয়ান বলল “eight”. ছোকরা জবাব দিল “four”.দারোয়ান তাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল।

পাসওয়ার্ডটা কী হবে?

 চতুর্থ ধাঁধা

 সে এক বিরাট দুর্গ। চারপাশে সুরক্ষিত। তার রাজা বেজায় পাজি। খুব অত্যাচারী। তার রাজ্য থেকে কারো বাইরে যাবার আইন নেই। বাইরে থেকে কেউ এলে দারোয়ান বলে, “আমাদের রাজার অনুমতি আছে? না থাকলে দরজা থেকেই বিদেয় করে দেয়। দুর্গের দরজা থীক বেরোলে একটা নদী। তার ওপরে একটা কাঠের ব্রিজ। ব্রিজ পেরোতে সময় নেয় দশ মিনিট। দারোয়ান প্রত্যেক পাঁচ মিনিট বাদে নিজের কুঠুরি থেকে বেরিয়ে ব্রিজে একপাক ঘোরে তারপর ফের দুর্গের দরজায় তার কুঠুরিতে গিয়ে ঢুকে দোর বন্ধ করে দেয়।

তা এহেন দুর্গ থেকেও একটা লোক পালিয়ে গেছিল। দারোয়ান তাকে দেখেছিল, পালাতে সাহায্যও করেছিল। কেমন করে?

 

পঞ্চম ধাঁধা

সাতটা সেতু পেরিয়ে ঠাকুমার বাড়ি যেতে হয়। প্রত্যেক ব্রিজের নীচে একটা করে রাক্ষস থাকে। ব্রিজ পেরোতে গেলে তোমার কাছে যা জিনিস আছে তার অর্ধেকগুলো তাকে দিয়ে দিতে হবে। তখন সে খুশি হয়ে তোমাকে সেসব থেকে একখানা ফেরত দেবে।

মা বলল, পিঠে বানিয়েছি, ঠাকুমাকে গিয়ে দুটো পিঠে দিয়ে আয়।

বলো দেখি তোমাকে কটা পিঠে নিয়ে বের হতে হবে বাড়ি থেকে?

ষষ্ঠ ধাঁধাঃ

লোক-আমার পাসওয়ার্ড খারাপ হয়ে গেছে। মেলবক্স খুলছে না। একটা নতুন পাসওয়ার্ড দিন।

কোম্পানির লোক-কী পাসওয়ার্ড ছিল? ক অক্ষরের?

লোক—পাঁচ অক্ষরের। মিৎসুহিশি।

কোম্পানির লোক- বেশ পালটে দিলাম। তবে এবারের দশ অক্ষরের পাসওয়ার্ড একেবারে অন্যরকমের।

লোক-থ্যাংক ইউ। দাঁড়ান দেখি পাসওয়ার্ডটা দিই—হ্যাঁ। খুলেছে।

পাসওয়ার্ডটা কী?

জয়ঢাকের সমস্ত ধাঁধামজারহস্য একত্রে