ধারাবাহিক অভিযান এভারেস্ট এরিক শিপটন অনুবাদ বাসব চট্টোপাধ্যায় বসন্ত ২০১৭

আগের পর্বগুলো

  khelaeverest03-medium  everesttitlepic (Small)

 

 

অবশেষে কঠিন পরিশ্রমে বিপজ্জ্বনক পথ অতিক্রম করে পশ্চিম CWM এর প্রবেশপথের কাছেই তৃতীয় শিবির স্থাপিত হল। সমস্যার সমাধান করেও পরবর্তী দূর্গমতম পথ এবং আইসফল অঞ্চল সেরপারা নিরাপত্তা বন্দনীতে সন্তর্পণে অগ্রসর হতে থাকল।

West CWM এর অন্তবর্তী আবহাওয়া তেমন প্রতিকূল ছিল না। সব সদস্যদেরই তৃতীয় শিবিরে নিয়ে আসা হয়েছিল, ফলে CWM –এ আরো একটি শিবির স্থাপিত হল। শুধু তাই নয় সাউথ কলের ঢালের নিচেও স্থাপিত হল পঞ্চম শিবির।

২৫ শে মে শৃঙ্গ আরোহণের জন্য সকলেই প্রস্তুত। Rene Ditter’s পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক হল শৃঙ্গের উদ্দেশ্যে প্রথম দলে থাকবেন Lambart, Flory, Aubert এবং সাতজন শেরপা। একদিনেই সাউথ কলে ষষ্ঠ শিবির স্থাপন করে তাদের মধ্যে তিনজন শেরপা ফিরে আসবে নিচের শিবিরে। ঐ দিনই বাকি শেরপাদের সহযোগিতায় অধিকতর উচ্চতায় দক্ষিণ-পূর্ব রিজ বরাবর অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গা নির্বাচন করে একটি শিবির স্থাপিত হবে, যেখান থেকে শৃঙ্গ জয়ের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হবেন অভিযাত্রীরা। কিন্তু পরিকল্পনায় ছিল গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি, প্রথম লোটসে গাত্র আরোহণের সময় অভিযাত্রীরা অন্তবর্তী শিবির স্থাপন করেছিলেন। সে অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা একদিনেই সাউথ কল পৌঁছবেন প্রতিজ্ঞা করলেন। এই ভুল সিদ্ধান্তের ফলে অভিযাত্রীদের সাউথ কল পৌঁছনোর আগেই দূর্গমতম এবং কঠিনতম পথে খোলা আকাশের তলায় রাত কাটাতে হল (BIVOUAC)। সাউথ কল যখন অতিক্রম করলেন, অভিযাত্রীদের শরীর তখন ক্লান্ত অবসন্ন।

অভিযানে ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহারের যন্ত্রপাতি ছিল শৌখিন কিন্তু পূর্বে অপরীক্ষিত। ফলে ন্যুনতম সুবিধাও আরোহীদের ভাগ্যে জুটল না।

২৭ শে মে Lambert, Aubert, Flory এবং শেরপা তেনসিং দক্ষিণ গাত্র বরাবর অগ্রসর হলেন। সাথে একটি তাঁবু ব্যতীত কোনো আরোহণের সাজসরঞ্জাম বহন করেননি আরোহীরা। সিদ্ধান্ত হল (রিজ বরাবর) তাঁবু স্থাপন করে পরের দিন ফিরে আসবেন আরোহণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ২৭৫০০ ফুট উচ্চে পৌঁছে Lambert স্থির করলেন একমাত্র শেরপা তেনসিং-কে সাথে নিয়ে ঐ শিবিরে রাত কাটাবেন। বাকী সদস্য ফিরে যাবেন নীচের কলে।

এটা একটি সাহসী সিদ্ধান্ত হওয়া সত্ত্বেও, আমি ভালো করেই বুঝতে পারছিলাম কতটা দ্রুততায় Lambert এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কারণ উচ্চ হিমালয়ের প্রতিটা পদক্ষেপে চরম সংগ্রাম। নিচে নামার  সুযোগ পেলে পুনরায় এই উচ্চতায় আসার তিক্ত অভিজ্ঞতা অভিযাত্রীদের যেন না ঘটে। এই দলভুক্ত একজন অভিযাত্রী শৃঙ্গজয়ের তীব্র বাসনায় যত দ্রুত সম্ভব আরোহণ করতে থাকলেন। শুধু তাই নয় ২৭০০০ ফুট উচ্চতায় স্লিপিং ব্যাগ এবং রান্নার স্টোভ ছাড়া রাত্রিযাপন একজন পর্বতারোহীর পক্ষে কতটা বিপজ্জনক তা অনুভব করা সম্ভব। এ হেন পরিস্থিতিতে যে কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। কিন্তু অভিযাত্রীরা সেই ভয়াবহ রাতে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে উষ্ণতা বিনিময়ের দ্বারা শীতের প্রকোপ থেকে নিজেদের প্রাণপনে রক্ষা করলেন। পরের দিন ২৮০০০ ফুট উচ্চতায় না পৌঁছনো পর্যন্ত বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে এগিয়ে চললেন আরোহীরা।

৩০ শে মে Lambert এবং তেনসিং এর উল্লেখযোগ্য আরোহণ দক্ষতার পরিচয় দিলেন। অন্য দিকে সাউথ কলে শিবিরে থাকলেন Dittert, Chevalley, Asper, Hofstetter, Roch এবং দুজন শেরপা। আগামী তিন দিন এবং তিনরাত্রি ঝোড়ো হাওয়ার প্রকোপে অভিযাত্রীরা শিবিরবন্দী হয়ে রইলেন। ফলে সব অভিযাত্রী দলই শৃঙ্গ জয়ের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। ১৯৫২ সালে নেপাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া অনুমতির ভিত্তিতে সুইস অভিযাত্রীরা বর্ষার শেষে অভিযান শুরু করলেন। আট সদস্যের সেই দলের নেতৃত্বে (যাদের মধ্যে সাতজন অভিজ্ঞই পথপ্রদর্শক) Dr. Chevalley ছাড়াও ছিলেন Lambert।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই অভিযাত্রীরা বুঝেছিলেন এভারেস্ট অভিযানের অনুকূল সময় বর্ষাকাল। শীতের মরসুম জুড়ে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার প্রকোপ থাকে। কিন্তু কোন কারণে সেই প্রবণতা যদি বসন্তকাল পেরিয়েও বন্ধ না হয় তাহলে উচ্চ হিমালয়ে বর্ষার মরসুমেও অভিযান অসম্ভব হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের শেষাশেষি বর্ষা শেষ হয়। অক্টোবর মাসের অভিযানে ২৫০০০ ফুট উচ্চতায় তীব্র শীতের দংশন সহ্য করতে হয় আরোহীদের।

সুতরাং পরিকল্পনার পরিবর্তন ঘটিয়ে সুইস অভিযাত্রীদল ঝোড়ো হাওয়া ও তীব্র ঠান্ডা সহ্য করেও অগ্রসর হতে থাকলেন। কিন্তু সাউথ কলের দূর্ঘটনায় এক শেরপা সদস্যের মৃত্যুতে অভিযানে বিলম্ব ঘটল। অভিযাত্রীদের অগ্রগতি নভেম্বরের মাঝামাঝিও সম্ভব হল না।

সেইসময় তাঁরা CWM এর শীর্ষে এবং সাউথ কলের অন্তর্বর্তী স্থানে শিবির স্থাপন করেছিলেন। ফলে পূর্ববর্তী অভিযানের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১৯ শে নভেম্বরের অভিযানে সেই শিবির স্থানান্তরিত করে সাউথ কলে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন Peiss, Lambert এবং তেনসিং। শিবিরে ঘটেছিল তাঁদের এক ভয়ানক রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতা। কষ্ট সহ্য করার অপরিসীম ক্ষমতা এবং দৃঢ়তার প্রমাণ দিতে হয়েছিল অভিযাত্রীদের। তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে কোনো মানুষের পক্ষেই দীর্ঘক্ষণ জীবিত থাকা সম্ভব নয়। অবশেষে প্রকৃতির কাছে অভিযাত্রীরা পরাজয় স্বীকার করলেন।

ক্রমশ

জয়ঢাকের খেলা লাইব্রেরিতে এমন অনেক অভিযানের সংগ্রহ

সুইস অভিযানের অ্যালবাম

khelaeverest02-medium

অভিযাত্রীদল 

khelaeverest04-medium

অভিযাত্রীদল ফেরার পরের নিউজ রিপোর্ট

khelaeverest05-medium

অভিযানের নেতা ল্যাম্বার্ট ও তেনজিং

অভিযানশেষে  সুস্থ হয়ে ওঠার পালা

জয়ঢাকের খেলা লাইব্রেরিতে এমন অনেক অভিযানের সংগ্রহ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s