ধারাবাহিক উপন্যাস অন্তিম অভিযান পিটার বিশ্বাস বসন্ত ২০১৮

এই উপন্যাসের আগের পর্বগুলো

dharaontim01 (Small) (2)

। ৮ ।

১ আগস্ট ২১২৬

মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝামাঝি বিস্তীর্ণ গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় একসময় পার্থিব বিজ্ঞানীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল দুটি কারণে। প্রথমত তাদের খনিজ সম্পদের সম্ভার, এবং দ্বিতীয়ত তাদের মধ্যেকার কার্বনভিত্তিক গ্রহাণুগুলোতে খনিজ জলের বিপুল সঞ্চয়। তবে উপনিবেশ স্থাপনের অসুবিধা ও বিপুল খরচের বোঝা এই সম্পদ সংগ্রহের পথে বাধা তৈরি করছিল। প্ল্যানেটারি রিসোর্সেস এবং ডিপ স্পেস ইনডাসট্রিজ নামে দুটি কোম্পানি এ-বিষয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিল। এঁদের ঐকান্তিক চেষ্টায় একুশ শতকের তিনের দশকে দুটি প্রধান কার্বনভিত্তিক গ্রহাণু থেকে খনিজ উত্তোলনের কাজও শুরু করা হয় পরীক্ষামূলকভাবে। গ্রহাণুদুটি মঙ্গল ও সূর্যের মধ্যবর্তী ল্যাগ্রাঞ্জিয়ান বেল্টে থাকায় তাদের অবস্থান সুস্থিত। ফলে পৃথিবী থেকে তাদের কাছে পৌঁছানো অপেক্ষাকৃত সহজ ও কম বিপজ্জনক ছিল।

তবে একবিংশ শতাব্দির দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যটা বদলে যায়। ভারতের অন্তরীক্ষ কর্পোরেশন ২০৫৬ সালে সৌরজগতের বৃহত্তম ইউরেনিয়াম ও প্ল্যাটিনামের সঞ্চয় আবিষ্কার করে যথাক্রমে চাঁদের প্ল্যাংক উপত্যকা ও মঙ্গলগ্রহের ওলিম্পাস পর্বতের পাদদেশে। ততদিনে এই দুটি জায়গাতেই খনিজ জলের বেশ কিছু সঞ্চয়ও নজরে এসেছে। এর পর,  অপেক্ষাকৃত কম খরচে এই দুটি জায়গায় খনিজ উত্তোলন শিল্প গড়ে তোলবার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্ল্যানেটারি রিসোর্সেস এবং ডিপ স্পেস ইনডাসট্রিজ সহ আরো বহু কোম্পানি। একে একে অন্যান্য মূল্যবান খনিজেরও সন্ধান আসতে শুরু করে দুটি জায়গা থেকেই।

এর ফলে গ্রহাণুপুঞ্জে খনিজ উত্তোলনশিল্প গড়ে তোলবার প্রচেষ্টায় ভাটা আসতে শুরু করে। দ্বাবিংশ শতাব্দির সূচনায় কার্বনভিত্তিক দুই গ্রহাণু সি১৭৬৮ এবং সি২১৩২তে গড়ে উঠতে থাকা পরীক্ষামূলক খনিগুলোর কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। নিচু প্রতিফলনক্ষমতার এই দুই কার্বন গ্রহাণু তাদের শরীরে বসানো উজ্জ্বল বৈদ্যুতিক আলোগুলো হারিয়ে ফের মহাশূন্যের অন্ধকারে মিশে যায়। তাদের বুকে পরিত্যক্ত খনিদের অতিকায় গর্তগুলো, তাদের পৃষ্ঠতলে বসানো জল নিষ্কাষক প্ল্যান্টগুলো, জনশূন্য ধ্বংসস্তূপ হয়ে একটি ব্যর্থ পরীক্ষার অ-দেখা অবশেষ হয়ে থেকে যায়।

মহাকাশ এক অসামান্য সংরক্ষক। এর পরবর্তী দীর্ঘ দশকগুলোতে সে জায়গাগুলো একেবারে অপরিবর্তিতই থেকে গিয়েছিল।

তবে কোন কৌতুহলী দর্শক যদি ২১২৬ সালের সেই আগস্ট মাসের শুরুতে এই অন্ধকার ও পরিত্যক্ত গ্রহানুদুটির বুকে কোন অনুসন্ধানী যান পাঠাতেন তাহলে তাদের বুকের বৃহত্তম খনিগহ্বরদুটির ভেতরে তিনি কিছু প্রাণের সন্ধান পেতেন। পুরু কার্বনস্তরের ঘোমটায় নিজেদের ঢেকে সেখানে দুটি অতিকায় মহাকাশযান স্থির হয়ে কোনকিছুর অপেক্ষায় ছিল। সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক নীরবতা বজায় রাখা যানদুটি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখবার জন্য প্রায় তিন শতাব্দির পুরোনো একটি প্রযুক্তির ব্যবহার করত। মর্সকোড ভিত্তিক সেই আদিম বেতারযোগাযোগ ব্যবস্থা পৃথিবীতে বহুকাল পরিত্যক্ত। ফলে সে প্রযুক্তিতে নিজেদের মধ্যে খুব ছোটোখাটো ও সাদাসিধে সাংকেতিক বার্তাবিনিময় পৃথিবীর অনুসন্ধানী যানদের পক্ষে টের পাওয়া, বা টের পেলেও তা যে কোন বুদ্ধিমান ভাষা তা বোঝার সম্ভাবনা ছিল না।

প্রথম প্রথম বিচিত্র অবস্থানের জন্য  তাদের গ্রাহকযন্ত্রেরা পার্থিব কোন সম্প্রচারই ভালো করে ধরতে পারত না। তবে উপস্থিত আর সে সমস্যা নেই। কারণ নিকটবর্তী মঙ্গলগ্রহে পার্থিব তথ্য সম্প্রচারের একটি শক্তিশালী রিলেকেন্দ্র বসানো হয়েছে। এর কারণ, গত এক বছর ধরে সেখানে হঠাৎ বেড়ে ওঠা পার্থিব উদ্বাস্তুর ঢল। মঙ্গল উপনিবেশ পার্থিব সরকার দখল করবার পর থেকে হঠাৎ করেই পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গলে অভিবাসনের জন্য ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সরকারী উদ্যোগে মানুষজনের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শাখা অফিস, ও কিছু কিছু কলকারখানাও সেখানে সরিয়ে আনা হচ্ছে।  

এই ব্যস্ততার পেছনে যে আতঙ্কটা কাজ করছে তার ব্যাপারে লুকিয়ে থাকা যানদুটোর বাসিন্দারা ওয়াকিফহাল।  তবে তাঁরা এ-ও জানেন, সাধারণ মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাব্যবস্থা ও কলকারখানা যথাসম্ভব মঙ্গলের বুকে সরিয়ে আনবার কাজেই পার্থিব কর্তৃপক্ষ বেশি ব্যস্ত। এখানকার সামরিক প্রতিরক্ষাকে জোরদার করবার অবসর বা ইচ্ছা তাঁদের নেই। কারণ, মঙ্গলের বিদ্রোহীদলকে পর্যূদস্ত করে উপনিবেশের দখল নেবার পর তাদের তরফ থেকে আর কোন আক্রমণের ভয় তাঁরা পাচ্ছেন না।

ফলে অন্তিম দিনটির পর বিধ্বস্ত পার্থিব কর্তৃপক্ষের মঙ্গল শাখাকে এক ঝটিকা আক্রমণে পর্যূদস্ত করে দেবার জন্য তাঁদের এই দুটি সশস্ত্র যানই যথেষ্ট হবে।

২১২৬ সালের পয়লা আগস্ট, পার্থিব সময় ভোর চারটের সময় তেমনই একটি সুদীর্ঘ সম্প্রচার শুরু হচ্ছিল।  সি ২১৩২ এর পরিত্যক্ত টাইটানিয়াম খনিগর্ভে নিশ্চল হয়ে থাকা মালবাহী যানটির নিয়ন্ত্রণকক্ষে মৃদু একটা আলো জ্বলছিল। সেখানে অতিকায় একটি পর্দার সামনে অপেক্ষায় থাকা মানুষদুজনের মুখে আনন্দ আর উদ্বেগ একইসঙ্গে মিশে ছিল।

“কী মনে হয় লালপিওতে? কোন ফল হবে আজকের পরীক্ষায়?”

অ্যাডমিরাল লালপিওতে মুখে মৃদু একটা হাসি টেনে আনলেন, “বিজ্ঞানটা তোমার এলাকা জেমস। আমার নয়। তুমি বল।”

“এই এলেনা মেয়েটা ক্রিস্টোফারের সঙ্গে না থাকলে উত্তরটা দিতে দুবার ভাবতাম না আমি,” জেমস আরিয়ানা মাথা নড়লেন, “মেয়েটার একটা ষষ্ঠেন্দ্রিয় আছে। টাইটানিয়াম ফসফেট অনুঘটকের ব্যবহার করে থার্মোনিউক্লিয়ার ডিটোনেশানের শক্তিবিচ্ছুরণের হারকে যেভাবে  বাড়িয়ে তুলল, তা ওর বন্ধু ক্রিস্টোফারের সাধ্য ছিল না। আবার টিভি ইন্টারভিউতে নিজেই স্বীকার করেছে বিষয়টা আন্দাজে ঢিল ছিল।”

লালপিওতের ভুরুদুটো কুঁচকে উঠছিল, “তুমি বলতে চাইছ এদের আজকের এই শেষ চেষ্টাটা সুইফট টাটলকে গুঁড়িয়ে–”

“আরে না না। সেকেন্ডে পঁয়ত্রিশ মাইল বেগে ছুটতে থাকা একটা ষোলো মাইল ব্যাসার্ধের বস্তুর জন্য ওই দু-হাজার মেগাটনের বিস্ফোরণ তো পালকে ছোঁয়া। তবে একটা আন্দাজের জোরে আণবিক ওয়ারহেডের শক্তিকে দুশো থেকে এক লাফে দশ গুণ বাড়িয়ে দিতে যে পারে, আর কিছুদিন সময় হাতে পেলে-”

“বাস্তবে ফিরে এস জেমস। চোদ্দো দিনের মধ্যে সেটা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে তোমার সন্দেহের কারণটা কী? নাকি অকারণে-”

“অকারণে নয় লালপিওতে। এই হিসেবগুলো দেখ। এখনো প্রায় সোয়া চার কোটি মাইল দূরে রয়েছে পৃথিবীর মৃত্যুদূত। গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় এখনো পার করেনি। আঘাতটা যদি তার গতিপথকে এক লক্ষভাগের একভাগের বেশি বদলে দেয় তাহলে পথ বদলে সেটা কাছাকাছি থাকা দু-কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গ্রহাণু এন-ই২৬০৭ এর গায়ে ধাক্কা খাবে। এই ধাক্কাটার শক্তি আমার হিসেবমত কিন্তু ছেলেখেলা হবে না। প্রায় পঞ্চাশ হাজার মেগাটন। সেটা ঘটলে—এর পরিবর্তিত গতিমুখের সম্ভাব্য হিসেবটা দেখ—”

পর্দায় হঠাৎ বেঁকে যাওয়া দাগটার সরাসরি মঙ্গলগ্রহের বিষুব অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে লালপিওতে চাপা গলায় প্রশ্ন করলেন, “সম্ভাবনা?”

“শতকরা দশ ভাগ।”

“কোনভাবে-”

জেমস আরিয়ানার মুখে একটু বিষণ্ণ হাসি খেলে গেল, “না। প্রজেক্ট টাটল ব্লাস্টারের মূল গবেষণাটা আমারই করা লালপিওতে। আমি সব দিক ভেবে দেখেছি। এই মুহূর্তে এদের এই শেষ চেষ্টাটা ব্যর্থ হবার প্রার্থনা ছাড়া আমাদের আর কিছু করবার নেই।”

পর্দার দিকে খানিকক্ষণ শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন লালপিওতে। এতদিনের একটা পরিকল্পনা, একটা স্বপ্ন শেষ মুহূর্তে এসে এইভাবে একটা সুক্ষ্ম সুতোয় ঝুলে থাকবে তা হয়ত তিনি কল্পনা করেননি।

তবে বেশিক্ষণ সেভাবে বসে থাকার কোন ইচ্ছে তাঁর ছিল না। আপাদমস্তক বাস্তববাদি মানুষটা, যার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই তেমন ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববার কোনো অর্থ খুঁজে পান না।

“সেক্ষেত্রে ব্যারণ, দীর্ঘ একটা সময় পাব আমরা এই আস্তানায় বসে ভাববার। এত সহজে আমাদের উপস্থিতি টের পাবে না ওরা। হয়ত অন্য কোন পথ হয়ত বের হবে আপনাদেরই হাতে। আমার আসল শক্তি—আপনি, গ্রোভার, জালাল–আপনারা আমার সঙ্গেই রইলেন তো! আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখব আমরা। তবে আর নয়। হাতের তির ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে। আসুন দেখা যাক।”

পর্দা থেকে হঠাৎ করে মুছে গেছে আরিয়ানার হিসেবনিকেশের অঙ্গক আর রেখাচিত্রের দল। তার অর্ধেক জুড়ে মার্স চ্যানেলে মঙ্গলের উৎক্ষেপণক্ষেত্রে  কমলা আগুনের রেখা জেগে উঠেছে অতিকায় একটা ক্ষেপণাস্ত্রযানের রকেটে। পর্দার বাকি অর্ধেক জুড়ে অজস্র পার্থিব চ্যানেলের সম্প্রচার ছোটো ছোটো দৃশ্যের টুকরো হয়ে ভাসছিল। ভীত আতঙ্কিত মানুষের দল সেখানে পৃথিবীর নানান প্রান্তে আকাশের দিকে মুখ তুলে হিরের টুকরোর মত জ্বলজ্বল করতে থাকা সাক্ষাত মৃত্যুদূতের দিকে দেখছে।  সেইসঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় ভেসে আসা ধারাবিবরণীগুলো সব আশঙ্কাকে গোপন করে আশার বাণী শোনাচ্ছিল তাদের। দুই তরুণ বৈজ্ঞানিক ক্রিস্টোফার ও এলেনার শেষতম আবিষ্কার, সুইফট টাটলের বিরুদ্ধে সভ্যতার শেষ উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ হয়ত তাদের রক্ষা করবে মহাকাশ বেয়ে ধেয়ে আসা ওই রাক্ষসের হাত থেকে।

*****

“প্রার্থনা করো ক্রিস। ও ছাড়া আমাদের হাতে এখন আর কোন অস্ত্র নেই।”

পর্দার সামনে একত্র হওয়া মানুষগুলো নিঃশব্দে বসে ছিল। ঠিক চার মিনিট আগে পৃথিবী থেকে শেষ নির্দেশ ধেয়ে গেছে মঙ্গলের উৎক্ষেপণক্ষেত্রে অপেক্ষায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ডি-১২২ এর গণকমস্তিষ্কে। যে কোন মুহূর্তে এখন—

“প্রার্থনা আমরা সবাই করছি এলেনা,” ঘরটার চারদিকে ছড়িয়ে থাকা অজস্র সম্প্রচার পর্দার দিকে হাত ঘুরিয়ে একবার দেখাল ক্রিস। সেখানে পৃথবীর প্রত্যেকটা প্রধান শহরের পথে বের হয়ে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। রাস্তাগুলো জুড়ে বসানো বড় বড়ো পর্দার বুকে একেকবার ভেসে উঠেছে শক্তিশালী দুরবিনে ধরা দেয়া অতিকায় ধূমকেতুটার শরীর। সূর্যের উত্তাপ পেয়ে শরীর থেকে লক্ষ মাইল লম্বা উজ্জ্বল বাষ্পের ধারা ছড়িয়ে সে ধেয়ে আসছে পৃথিবীকে লক্ষ করে। আবার প্রমুহূর্তে মঙ্গলের উৎক্ষেপণক্ষেত্রে অপেক্ষায় থাকা শেষ আশার আলো ডি ১২২ এর ছবিটা ভেসে আসতে উল্লাসে ফেটে পড়ছে তারা।

“কিন্তু সে প্রার্থনায় যদি কোন ফল না হয়—”

“সাফল্যের সম্ভাবনা শতকরা দশ ভাগ। গত এক বছর ধরে করা সবকটা চেষ্টার সাফল্যের মিলিত সম্ভাবনার চাইতেও বেশি ক্রিস।”

“সে সাফল্যের অর্থও তো মঙ্গল উপনিবেশের ধুলো হয়ে উড়ে যাওয়া। আমাদের হিসেব ঠিক হলে-”

“একটাও প্রাণ যাবে না ক্রিস। আজকের পরীক্ষাটা সফল হলে মঙ্গলের গায়ে ওর ইমপ্যাক্টের আগে প্রায় পাঁচদিন সময় মিলবে। ইভ্যাকুয়েশান প্ল্যান সম্পূর্ণ তৈরি আছে,” তার হাতদুটো ধরে নীল চোখের মেয়েটা বলে উঠল, “আর যদি ব্যর্থ হই তাহলে, আমাদের যান—”

নিঃশব্দে হাতদুটো ছাড়িয়ে নিয়ে মাথা নাড়ল জিষ্ণু, “ব্যর্থ হলে ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের মঙ্গলে সরিয়ে নেবার পরিকল্পনাটা একদম সঠিক, আমি মানছি এলেনা। কিন্তু আমি—আমার বোধ হয় যাওয়া হবে না। একটা শেষ চেষ্টা করতে হবে আমাকে।”

“এর পরেও—কী চেষ্টা করবে তুমি? তুমি না যুক্তির পূজারি একজন বৈজ্ঞানিক? পাগলামো কোরো না ক্রিস। তাছাড়া  তোমাকে এখানে এভাবে রেখে—”

নীরবে মাথা নাড়ল ক্রিস্টোফার, “আমি জানি না। শুধু জানি আমার কিছু একটা রহস্য আছে। সে রহস্যের চাবিকাঠি আছে আমার বাবার কাছে। আজ সকালে টাইকোর কাছ থেকে একটা নির্দেশ পেয়েছি আমি। পরীক্ষা ব্যর্থ হলে আমাকে অন্য কোথাও যেতে হবে।”

“কোথায়?”

“আমি সে-কথা—”

“ইগনিশান!” স্পিকারে ডঃ বাজপেয়ীর গপম্ভীর গলাটা ভেসে আসতে হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে পর্দার দিকে ফিরে তাকাল তারা। সেখানে ভেসে থাকা ছবিতে অতিকায় ক্ষেপনাস্ত্রযানটার তলায় প্লাজমার উত্তপ্ত ঢেউ জেগে উঠেছে। কয়েক মুহূর্ত মাত্র। তারপর মঙ্গলের সামান্য অভিকর্ষ্কে অবহেলায় ছিঁড়েখুঁড়ে তার আকাশের দিকে ধেয়ে গেল দানব অস্ত্র। পর্দায় বদলে যাওয়া ছবিতে তখন মঙ্গলকে ঘিরে বিভিন্ন দূরত্বে পাক খেয়ে চলা কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটদের পাঠানো ছবিদের মিছিল চলেছে। সেখানে তৃতীয় স্টেজের থ্রাস্টারের বাঁধন কাটিয়ে সংরক্ষণ চেম্বারের দেয়াল খুলে গিয়ে মহাকাশের অন্ধকারে মুখ বাড়িয়েছে মৃত্যুমুখী ডি-১২২।

অ্যাটিচুড নিয়ন্ত্রক ছোটোছোটো থ্রাস্টারের ধাক্কায় কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নিজের গতিমুখকে স্থির করে নিল সে। তারপর প্লাজমার সুতীব্র বিচ্ছুরণে অন্ধকার মহাকাশের  বুকে একটা নীলচে সাদা রেখে টেনে দিয়ে সে ধেয়ে গেল তার শিকারকে লক্ষ করে।

ক্রমশ

 জয়ঢাকের সমস্ত ধারাবাহিক একত্রে

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s