ধারাবাহিক উপন্যাস-অন্তিম অভিযান-পিটার বিশ্বাস

পূর্বপ্রকাশিত র পর

dharaontim01 (Small) (2)

“কার্তাং-এ স্বাগত। আমি টাইকো, কার্তাং-এর নিয়ন্ত্রক গণক। কোড ভি এস ১৯৭৪৫৬। সঙ্গে নতুন লোক দেখছি কা পোন? কে হে?”

পর্দার বুকে ভেসে থাকা কুকুরটা হাসি হাসি মুখে কথাক’টা বলে দুবার মৃদু ভুক ভুক করে ডাক দিয়ে উঠল। বেশ মোটা কিন্তু সুরেলা গলা। সেদিকে চোখ রেখে জিষ্ণুর মুখে হাসি ফুটল একটু।

কা পোন সতর্ক চোখে তার মুখটার দিকে দেখছিল। ঘন্টাকয়েক আগে গুহাগ্রামে যান নিয়ে এসে পৌঁছোবার পর থেকে জিষ্ণুর মুখে হাসি দেখেনি সে একবারও। যন্ত্রচালিতের মতন যান থেকে ওয়ার্কশপে জ্বালানির বাক্স সরিয়ে নেবার কাজ সেরেছে তার দলের সঙ্গে। তারপর প্রফেসর বোসকে একলা রেখে এসে তার সঙ্গে যানে উঠেছে।

“উফ্‌ আংকল, অনেক রকম কমপিউটার ইনটারফেস দেখেছি, কিন্তু অ্যানিমেটেড কুকুর—”

কা পোনের চোখদুটো হাসিতে কুঁচকে উঠল, “অ্যানিমেটেড বটে আবার আসল কুকুরও বটে। ওর নাম টাইকো। আমার ছোটোবেলার বন্ধু। একটা শিকার অভিযানে গিয়ে মারা গেল। বেশ কিছু ভিডিও ছবি ছিল ওর। সেগুলো কাজে লাগিয়ে ইনটারফেসটা বানিয়ে নিয়েছি। টাইকো এখন আমার ফ্রেন্ড ফিলজফার গাইড যা বলবে। যান চালায়, দরকারে তথ্য জোগায়, অবস্থা বিশ্লেষণ করে কী করা উচিত সে নিয়ে পরামর্শও দেয়। টাইকো খুব ভালো লোক, তাই না রে টাইকো?”

টাইকো গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ল একবার। তারপর ফের জিষ্ণুর দিকে ঘুরে দেখে নিয়ে বলল, “তোমার বন্ধুটি তো বেজায় অভদ্র হে কা পোন। নিজের নামটাও বলল না এখনো!”

বিস্মিত চোখে ছবিটার দিকে দেখছিল জিষ্ণু। গম্ভীর হয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে অপেক্ষা করছে টাইকো। চাঁদে থাকতে যে শিক্ষাগণকদের কাছে সে পড়াশোনা করত তাদের থেকে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে এখন যন্ত্রগণোকের প্রযুক্তি। ভিএস শ্রেণীর এই  যন্ত্রগণকগুলোতে কৃত্রিম চেতনা রয়েছে। ব্যক্তিত্ত্বও আছে এদের। সে খবর তার অজানা নয়। কিন্তু তা যে এতটা উন্নত সে কথা জিষ্ণু ভাবতে পারেনি।

তার মনের কথাটা বুঝে ফেলেছিল কা পোন। মুচকি হেসে বলল, “লেটেস্ট প্রোগ্রাম আপগ্রেড। সবে কয়েক সপ্তাহ হল সেট আপ করেছি। এখনো এটা বাজারে আসেনি। তবে খরচ করতে পারলে কোনকিছুই নাগালের বাইরে থাকে না সে তো জানই।”

“আমার নাম জিষ্ণু। জিষ্ণু বসু।” পর্দায় ভাসন্ত ছবিটার দিকে তাকিয়ে জিষ্ণু বলে উঠল।

“আলাপ করে ভালো লাগল,” টাইকো গরগর করে উঠল। এখনো তার রাগ পড়েনি পুরোপুরি।

“থ্যাংক ইউ টাইকো,” কা পোন একবার হাত নাড়াল তার দিকে, “তুমি এবারে যেতে পার। যানের নিয়ন্ত্রণ নাও। আমরা কোথায় যাব তা তো তোমায় আগেই জানিয়েছি।”

“জানালা দিয়ে একবার দেখুন,” বলে পর্দা থেকে মিলিয়ে গেল কুকুরটা।

বাইরে তীব্র সার্চলাইটের আলোয় শ খানেক ফুট নীচে সমুদ্রের জলে ঢেউ খেলে যাচ্ছিল। তীব্র গতিতে ক্রমশই পেছনে ছুটছে তা। সেদিকে দেখতে দেখতে কা পোন মাথা নাড়ল একবার, “মাঝে মাঝে এই নতুন কন্ট্রোল প্রোগ্রামটা আমাকেও চমকে দেয় বুঝলে? কোন ফাঁকে জমি ছেড়ে উঠে এতটা পথ পাড় হয়ে এসেছে টেরও পাইনি।”

“তার মানে আপনার নির্দেশ ছাড়াই টাইকো-”

আমাদের জ্বালানি নামিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাবার যে নির্দেশটা পাঠিয়েছিলেন প্রফেসর বোস, সেটা টাইকোই রিসিভ করেছিল জিষ্ণু। যান আর তার আরোহীর জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকলে এরা নির্দেশের অপেক্ষা করে না। নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়।”

হঠাৎ করেই নির্জন সেই গুহার ছবিটা ফের ঝাঁপিয়ে এল জিষ্ণুর চোখের সামনে। সেখানে অতিকায় একটা ক্ষেপণাস্ত্রের পেটের ভেতরে তীব্র শক্তিপ্রবাহে এতক্ষণে ঝলমল করে উঠেছে চৌম্বক কয়েলের বন্দিশালা। একলা একজন বৃদ্ধ যন্ত্রের সামনে বসে তার মধ্যে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে চলেছেন প্রাণঘাতী প্রতিবস্তুর পিণ্ড দিয়ে। এতটুকু ভুল, সামান্য একটা হিসেবের গরমিল হলেই—

“কাজ কতদূর এগোল একবার দেখে নিতে চাই কা পোন” বলতে বলতে হঠাৎ কন্ট্রোল প্যানেলের ডানদিকের যোগাযোগ সার্কিটের বোতামগুলোর ওপরে হাত রাখতে গেল জিষ্ণু। প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই তীব্র একটা যন্ত্রণার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল তার গোটা শরীরে। পর্দায় টাইকোর মুখটা ভেসে উঠেছে ফের। রাগে গরগর করছে সে। দাঁতগুলো বের হয়ে এসেছে আক্রমণের পূর্বমুহূর্তের ঢঙ-এ। জানে ত্রিমাত্রিক ছবি একটা, তবু বুকের ভেতরটা ভয়ে কেঁপে উঠল জিষ্ণুর একবার।

“যান নিয়ন্ত্রণে অননুমোদিত হস্তক্ষেপ। কন্ট্রোল প্যানেলের ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা হয়েছে। শত্রুকে সাবধানতামূলক আঘাত দেয়া হল–” টাইকো গর্জন করছিল।

“হাতটা সরিয়ে নাও জিষ্ণু, শিগগির–”  বলতে বলতে একটা আলতো ঠেলা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়ে টাইকোর দিকে ফিরল কা পোন, “অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আছে টাইকো। কন্ট্রোল প্যানীর নিয়ন্ত্রণ আমাকে ফিরিয়ে দাও।”

“কিন্তু কা পোন, এই আগন্তুক যানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় হাত দিতে চলেছিল। এই অবস্থায়-”

“আঃ! কথা শোন টাইকো। নাহলে-” কা পোন এইবার উঠে দাঁড়াল পর্দার সামনে, “আমি, কমান্ডার কা পোন, তোমাকে আদেশ করছি, তুমি যানের নিয়ন্ত্রণ  ফিরিয়ে দাও।”

জবাবে টাইকো ফের কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তাকে সে সুযোগ না দিয়ে কা পোন ফের বলে উঠল, “ওভাররাইডিং কমান্ড কোড, ক-৩১৪৭।”

“টাইকোর মুখটা কালো হয়ে গেল যেন একটু। বিড়বিড় করে বলল, “চরম আদেশ। যো হুকুম প্রভু।”

কন্ট্রোল প্যানেলের ওপরে আঙুল চালাতে চালাতে কা পোন আপনমনেই বলল এবার, “আমারই ভুল। শুরুতেই তোমার অনুমোদন দিয়ে দেয়া দরকারি ছিল। এখন এস,”

কন্ট্রোল প্যানেলের গায়ে বসে থাকা ছোটো একটা লেন্সের গায়ে জিষ্ণুর বাঁহাতের মণিবন্ধটা চেপে ধরল কা পোন। পর্দায় দ্রুত কিছু তথ্য ভেসে উঠছিল। পরিচয়-চিপ থেকে তার যাবতীয় খবর জেনে নিচ্ছে কার্তাং-এর যন্ত্রগণক।

তথ্য বিনিময় শেষ হতে প্যানেলের বোতামগুলোয় আঙুল চালিয়ে দ্রুত কিছু নির্দেশ দিল কা পোন। তারপর হাসিমুখে জিষ্ণুর দিকে ফিরে বলল, একবার টাইকোকে ডাকবে নাকি?”

জিষ্ণু একটু ইতস্তত করছিল, “মানে-আমি-টাইকোকে-”

“ডেকে দেখোই না?”

একটু ভয়েভয়েই জিষ্ণু ডাক দিল, “টাইকো?”

প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই সামনের পর্দায় একটা লাফ দিয়ে এসে দাঁড়াল টাইকো। তার হাবভাব বদলে গিয়েছে একেবারে। জিষ্ণুর সামনে পর্দার গায়েই চার হাতপা ছড়িয়ে বসে বলল, “অভিবাদন ফার্স্ট মেট জিষ্ণু। কার্তাং-এ ফের একবার আপনাকে স্বাগত জানাই। আদেশপালনের জন্য বান্দা হাজির—”

“ধন্যবাদ টাইকো। আশা করি এরপর থেকে তুমি জিষ্ণুর সমস্ত আদেশ আমার আদেশ হিসেবেই পালন করে চলবে এবং আমার মতন, যানে থাকাকালিন তার নিরাপত্তার দায়িত্বও নেবে।” কা পোনের গলায়  কর্তৃত্বের সুর ছিল।

“নিশ্চয় ক্যাপ্টেন। আনন্দের সাথে। আদেশ করুন জিষ্ণু।”

“আমার বাবার ওয়ার্কশপের সঙ্গে যোগাযোগ কর। আমি একবার-”

“এক মুহূর্ত চুপ করে থাকল টাইকো। তারপর বলল, “তিনি ভালো আছেন। তাঁর কাজ সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে। রাত্রি শেষ হবার কিছু আগেই তা শেষ হবে বলে তাঁর গণকের অনুমান।”

“আমি একবার তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই।”

টাইকো একটু গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ল, “আপনার আদেশ শিরোধার্য জিষ্ণু। কিন্তু ভিডিও সংযোগস্থাপনের আগে একটি নিবেদন ছিল।”

“বল।”

আমার স্মৃতিভাণ্ডারে প্রফেসর বোসের এই মুহূর্তের কাজ সম্পর্কে যা তথ্য এসেছে তা সঠিক হলে এখন তিনি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ করছেন। তাঁর সঙ্গে এই সময়ে যোগাযোগ করতে গেলে মনঃসংযোগ নষ্ট হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে দুর্ঘটনা ঘটবার সম্ভাবনা বেশি। তাঁর নিরাপত্তা বিষয়ে আপনার উদ্বেগ লক্ষ করে আমি তাঁর গণকের সঙ্গে প্রতিমুহূর্তে যোগাযোগ রেখে চলেছি ও আমার গণনাশক্তিকে তার কাজে ব্যবহার করবার অনুমতি দিয়েছি। এতে কাজটি আরো দ্রুতগতিতে এগোতে পারবে। পরিস্থিতির ওপরে আমরা দুজন নজর রেখে চলেছি।”

“থামো। এটা বিপজ্জনক হতে পারে। যোগাযোগ চ্যানেলের ওপরে কেউ নজর রাখলে তারা একাঘ্নির বিষয়ে-”

“নিশ্চিন্ত থাকুন মালিক। ভি এস ১৯৭৪৫৬-এর সাংকেতিক যোগাযোগব্যবস্থা এই মুহূর্তে যেকোন পরিচিত প্রযুক্তির চোখে সম্পূর্ণ অদৃশ্য। আমার নিবেদন, এখন প্রফেসর বোসের সঙ্গে কোন ভিডিও সংযোগ না করাটা উচিত হবে।”

“উফ্‌ফ্‌। ঠিক আছে। নিবেদন গৃহীত হল। তুমি এখন যেতে পার।”

dharaontim02 (Medium)

জিষ্ণুর মুখে হাসি ফুটে উঠছিল। টাইকো পর্দা থেকে মিলিয়ে গেছে। মনের ভেতর একটা আশ্চর্য ভরসা গড়ে উঠছিল তার। আর পাঁচটা পোষা কুকুরের মতন টাইকোও তার পরিচিতদের মনে ভরসা জাগিয়ে তুলতে পারে। তাছাড়া তার কথাগুলোতে যুক্তি রয়েছে।

“মুখ নিচু করে কী এত ভাবছ বল দেখি নতুন ফার্স্ট মেট? তার চেয়ে জানালা দিয়ে দেখ একবার বাইরে—”

কা পোন কখন যেন তার আসন ছেড়ে উঠে গেছে। যানের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ডাকছিল সে।  জিষ্ণু উঠে জানালার ধারে গেল।

“পৃথিবীর যে সামান্য কিছু জায়গায় শহর এখনও থাবা বসায়নি এটা তারই একটা। দেখে নাও। এর পরে হয়ত আর কখনো এ চেহারা দেখতে পাবে না ব্যারেন আইল্যান্ডের।”

শেষরাত্রের চাঁদের আলোয় অতিকায় ওলটানো বাটির মত দ্বীপটা তাদের পায়ের তলায় ঘুমিয়েছিল।  তার শরীরের জমাটবাঁধা পাথুরে আগ্নেয়ভস্মের মধ্যে মিশে থাকা আকরিককণাদের গায়ে ঝিলিক দিচ্ছিল চাঁদের আলো। যানটা নিঃশব্দে ভাসছিল মাত্র ত্রিশ ফুট উঁচুতে।

“বেশিদিন আর এ দশা থাকবে না হে। লাজলোর নজর পড়েছে দ্বীপটার ওপরে। শক্তি উৎপাদন শিল্পে মোটা লগ্নী করতে চলেছে লোকটা। এ দ্বীপে আগ্নেয়গিরির কল্যানে অঢেল ভূ-তাপশক্তি মিলবে। লাজলো একে ছেড়ে দেবে না। আজ না হোক কাল—”

**********

dharaontim01 (Medium)

জানালার পাশে দুটো চেয়ারে পাশাপাশি বসেছিল ওরা দুজন। কতক্ষণ যে কেটে গেছে তাদের এইভাবে বসে তারা নিজেরাও তা জানে না। দেখতে দেখতে চাঁদ মাঝ আকাশ থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ল। তাদের পায়ের নীচে জোয়ারের জল বেড়ে উঠে ঢেকে দিয়েছে দ্বীপের খানিকটা এলাকা। জল আর বালিতে পড়ন্ত চাঁদের চিকিমিকি—

পুবের আকাশে যখন সবে হালকা লালের ছোঁয়া লেগেছে তখন ভরাট একটা নীচু গলার শব্দে তন্দ্রা কেটে গেল জিষ্ণুর। কা পোনও চোখ খুলে ফেলেছে গলার শব্দটা শুনে।

“পর্দায় বাবার ছবিটা ভাসছিল। হাসছেন প্রফেসর বোস। বহুদিন পরে সেই পুরোনো ঝকঝকে হাসিটা ফের ছেয়ে আছে তাঁর বয়োজীর্ণ মুখে। তাদের ঘুরে তাকাতে দেখে চশমাটা খুলে একবার মুছে নিয়ে ফের চোখে পরলেন তিনি। তারপর বললেন, “কাজ শেষ। কোন ত্রুটি হয়নি। এবং কা পোনকে আরো একবার ধন্যবাদ। তোমার জাহাজের গণকের সাহায্য না পেলে এত জটিল একটা কাজ এত নিখুঁতভাবে শেষ করা কঠিন হত।”

জিষ্ণু হাসিমুখে বলল, “থ্যাংক ইউ টাইকো।”

প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই পর্দায় সত্যব্রত বোসের ছবিটার পাশে টাইকোর ছবিটা ফুটে উঠল। ঘনঘন লেজ নড়ছে তার।

“এবার তোমরা ফিরে আসতে পারো,” সত্যব্রত ফের কথা বলে উঠলেন, “এবারে বিশ্রামের সময়। আজ এই আনন্দের দিনটা আমি বিশেষভাবে উদযাপন করতে চাই। আমরা আজ বনভোজনে যাব জিষ্ণু। কতকাল পরে, ফের একবার খোলা আকাশের তলায়—কা পোন তুমিও যাবে আজ আমাদের সাথে।”

মৃদু হেসে মাথা নাড়ল কা পোন, “ধন্যবাদ প্রফেসর বোস। কিন্ত সেটা সম্ভব হবে না। পলিনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জে একটা ভালো দাঁও মারবার সুযোগ এসেছে। এবারে আমি দিনপনেরোর জন্য নিজের ব্যাবসাপাতি দেখে তারপর ফিরে আসব। জিষ্ণুকে পৌঁছে দিয়ে আমি আর অপেক্ষা করব না ওখানে।”

তার কথা চলতেচলতেই দ্বীপের আকাশ থেকে উড়ান দিয়েছে কার্তান। মেঘ ছাড়িয়ে অনেকটা উচ্চতায় পৌঁছে শব্দের চেয়ে বহুগুণ বেশি গতিতে দূরত্বকে গিলে খাচ্ছিল সে। পায়ের নীচে বাংলার অদৃশ্য সমতলভূমি ছাড়িয়ে গিয়ে এগিয়ে আসছিল পাহাড়—

ক্রমশ

উপন্যাসের আগের সমস্ত পর্ব একত্রে এইখানে