ধারাবাহিক উপন্যাস-পঞ্চা নামে ভালুকটি-চিত্ত ঘোষাল

পূর্বপ্রকাশিত র পর

dharapancha01 (Small)

চিত্ত ঘোষাল

মামা আমাকে বলে দিয়েছিল পঞ্চাকে যে আমরা বিক্রি করে দিচ্ছি সেকথা বস্তির কাউকে না বলতে। লিফলেটগুলোও মামা বিলি করেছিল দূরে দূরে। “হাজার প্রশ্ন করবে, লক্ষ লক্ষ উপদেশ দেবে –এ আর ভালো লাগে না,” মামা বলেছিল।

নিলামের দিন দশটার একটু আগেই পঞ্চাকে নিয়ে আমরা চলে গেলাম মাঠে।

কুড়ি-পঁচিশ জন লোক এসেছে। তারা কেউ বস্তির নয়। বাঁচা গেল। বস্তির কয়েকটা বাচ্চা ছেলে শুধু চু-কিতকিত খেলছিল।

মামা ফিশফিশ করে আমাকে বলল, “চটপট কাজটা সেরে ফেলি আয়।”

অচেনা লোকগুলোর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম আমরা।

“আপনারা ভালুক কিনতে এসেছেন?” মামা জিজ্ঞেস করল।

   “বেশ, এই ভালুক। দেখুন এর চেহারা-ছবি। খুব বাধ্য অনুগত ভদ্র –হ্যাঁ, অত্যন্ত ভদ্র।”

একটা খিটখিটে চেহারা লোক বলে উঠল, “ভালুকের আবার ভদ্র-অভদ্র।”

“হয়, ভালুকেরও ভদ্র-অভদ্র হয়। আপনি জানেন না বলেই হয় না তা কেন ভাবছেন?” মামা দাবড়ে দিল লোকটাকে, “বলুন, দাম বলুন এবার এক এক করে, কে কত দিতে পারবেন?”

সেই লোকটা বলল, “তিরিশ টাকা।”

আমি রেগেই ছিলাম, তিরিশ টাকা শুনে হাড়পিত্তি জ্বলে গেল একেবারে, “আপনাকে ভালুক কিনতে হবে না। তিরিশ টাকায় বড়ো সাইজের ছুঁচো পাবেন, তা-ই একটা কিনে নিন।”

“কী? কী বললি ছোঁড়া?” রেগে আমার দিকে তেড়ে এল লোকটা।

চুপচাপ বসে ছিল পঞ্চা। হঠাৎ একটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। লোকটা ভয় পেয়ে পেছিয়ে গেল। তারপর বিড়বিড় করতে করতে চলেই গেল একেবারে।

একজন রোগামতো গরিব-গরিব চেহারার মানুষ বলল, “আমি একশো টাকা দিতে পারি।”

“কী করবেন ভালুক নিয়ে?” মামা জিজ্ঞেস করল।

“আমার চাকরি নেই। খেলা-টেলা দেখিয়ে যদি…”

“কিন্তু অত কমে তো ভালুক দিতে পারব না ভাই। বলুন আর কে কী দিতে পারবেন?”

কেউ কিছু আর বলে না। সবাই চুপ। বুঝতে পারি, এত লোক যে এসেছে সে শুধু মজা দেখতে। আমি আর মামা মুখ চাওয়াচাওয়ি করছি।

হঠাৎ দেখি ভিড়ের পাশ দিয়ে টুকটুক করে এক মাড়োয়ারি ভদ্রলোক এগিয়ে আসছে। পেছন পেছন চাকর গোছের তাগড়াই দু’জন লোক।

“সমঝলম,” আমাদের সামনে এসে মাড়োয়ারি বলল, “ভল্লু খরিদনে কোই আসে নাই। লেকেন হামি আসিছি। হামার নাম মোটেরাম কংকরিয়া। না ভাই, কংকরিয়া হোনেসে ভি হামি চালে কংকর মিশানোর গন্‌দা কারবার করি না। হামার একটা রোলিং মিল আছে –কংকরিয়া রোলিং মিল।”

dharapancha5501 (Medium)

“দেখেছি তো,” মামা বলল, “আপনি কিনবেন ভালুক? পুষবেন বুঝি?”

মোটেরাম শব্দ না করে হাসল। ওপর পাটির সামনের তিনটে দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো, “না ভাই, হামি কুছু পুষি না –জন্তুজানবারের কথা বলছি। হামার বিবি আছে –মোটুমতী, নামটা হামি দিলাম, একশো পন্‌দরো কিলো ওজন আছে না –তাকে পুষি। সাত বেটা, চার বেটি –তাদের পুষি।”

সন্দেহে কুঁচকে যায় মামার কপাল, চোখ, “তবে আপনি পঞ্চাকে কিনতে চাইছেন কেন? দেখুব মোটেরামজি, পঞ্চা আমাদের বড়ো আদরের ভালুক। দায়ে পড়ে ওকে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা চাই ও এমন জায়গায় যাক যেখানে ও ভালো থাকবে, আরামে থাকবে।”

“শুনেন ভাই, হামি ভল্লুকে বহুৎ মজামে রাখব, খিলায়ে খিলায়ে অ্যায়সা তাগড়াই বানাব যে আপনি শোচতে ভি পারবেন না।”

“কিন্তু কেন?”

“হামি বেওসাদার মানুষ। স্বোয়ার্থ ছাড়া কুছু করি না। স্বোয়ার্থ না থাকলে হামি ভল্লু কেন কিনব? হামার কারখানায় রাতে পাহারা দেয় দুটো দারোয়ান। আউর একঠো লাগবে। আপনাদের ভল্লুর সব খবর আমি জানি। তাই হামি শোচলাম কী আউর একঠো আদমি না রেখে এই ভল্লুটাকে হামি কিনে লিব। রাতে হামার কারখানা পাহারা দিবে।”

চুপচাপ খানিকক্ষণ কী যেন ভাবল মামা, তারপর বলল, “বেশ, কত দেবেন বলুন।”

“আপনি বোলেন।”

“পাঁচ হাজার দিন।”

“বোলেন কী?” মোটেরাম যেন মস্ত একটা আছাড়া খেল, “পান্‌চ হাজার!”

“কেন, বেশি বলেছি?”

“বহুৎ বেশি, হামি তো শোচলাম চার-পান্‌চশো হবে।”

“মোটেরামজি, আপনার রাতের দারোয়ানদের মাইনে কত?”

“উসব পেরাইভেট বাত পুছবেন না।”

“বেশ। কিন্তু মাইনে যত কমই দেন না কেন হাজার-দেড় হাজার তো দিতেই হয়। তারপর যখন রিটায়ার করবে প্রভিডেন্ট ফান্ড গ্র্যাচুইটিও দিতে হবে। আর পঞ্চার জন্য মাসে আপনার খরচ হবে বড়ো জোর পাঁচশো টাকা। পঞ্চার দাম এক বছরেই উঠে আসবে আপনার। নাঃ, পাঁচ হাজারের কমে আমি বেচব না।”

“বাঙালি লোক ভি বেওসা বুঝে গেল,” খুব দুঃখিত ভাবে মাথা নাড়তে লাগল মোটেরাম, “লেও বাবা, পান্‌চ হাজারই লেও।”

বলতে বলতে কোমর থেকে একটা গেঁজে খুলে এনে তা থেকে একটা মোটা নোটের বান্ডিল বের করে আনল মোটেরাম। একখানা একখানা করে ভারি যত্ন করে শুনতে লাগল নোটগুলো।

মামা পঞ্চার পাশে মাটিতে বসে তার গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করছে। আমার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। একটু সরে দাঁড়িয়ে আছি। তিনবার গুনে পঞ্চাশখানা একশো টাকার নোট মামার হাতে দিয়ে মোটেরাম বলল, “লেও ভাই, বহুৎ নুকসান হয়ে গেল, একটা ভল্লুর দাম পাঁচ হাজার!”

“না মোটেরামজি,” মামা নোট গুনতে গুনতে বলল, “লোকসান হলে আপনি পঞ্চাকে নিতেন নাকি? আমার তো মনে হচ্ছে আমরাই ঠকে গেছি। দশ হাজার বললেও আপনি রাজি হতেন।”

“কী যে বোলেন আপনি?” জিব কেটে মাথা নাড়ল মোটেরাম, “আরে এ লাড্ডু, এ জিলাইবি, ভল্লুকা রশি পাকড়। জয় সীয়ারাম..”

দুই চাকর পঞ্চার গলার দড়ি হাতে নিয়েছে কি নেয়নি বইচই করে বস্তির একদল ছেলেবুড়ো মাঠে ঢুকে পড়ল। সকলের সামনে পরানদাদু আর বদ্যিনাথদাদু। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের ঘিরে ধরল সবাই। আমরা হতভম্ব। মোটেরামের চোখে ছানাবড়া।

রেগে লাল পরানদাদুই প্রথমে কথা শুরু করল, “পোলাপানেরা গিয়া খবর না দিলে আমরা তো জানতেই পারতাম না যে তুমি পঞ্চারে বিক্রয় করনের মতলব করছ। এইডা কি আমাগ ভালোবাসার প্রতিদান হইল নয়কড়ি?”

“পরানবাবু ঠিক বলেছেন। আমরা যে এত ভালোবাসি পঞ্চাকে তার কোনো দাম নেই? তোমরা ওকে বিক্কিরি করে দেবার কথা ভাবতে পারলে? ছি ছি!”

জীবনে বোধ হয় এই প্রথম বদ্যিনাথদাদু পরানদাদুর কোনো কথায় সায় দিল। বদ্যিনাথদাদুর কথা শেষ হতে না হতে একদল স্লোগান দিয়ে উঠল, “পঞ্চা ভালুক কার ভালুক? তোমার আমার সবার ভালুক, সবার ভালুক, সবার ভালুক। পঞ্চাননকে বিক্রি করা –চলবে না চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ –জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ। বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম…”

এই যখন চলছে হঠাৎ দেখা গেল থানার বড়োবাবু তাঁর দুই কনস্টেবল ক্যাবলা আর ভ্যাবলাকে নিয়ে মাঠে ঢুকছে।

“চুপ, চুপ সবাই,” বলতে বলতে বড়োবাবু ভিড় সরিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল, “এই মাঠে ভালুক নিলাম হচ্ছে শুনেই চলে এসেছি। এ তো সাধারণ নিলাম নয় –ভালুক নিলাম। জানতাম গোলমাল একটা হবেই। ঠিক সময়ে এসে পড়েছি। এর নাম বাবা ও. সি. রাধেশ্যাম মুখুটি। এক মাইল দূর থেকেও গোলমালের গন্ধ পাই। তা, গোলমাল কীসের? আপনি কে?” শেষ প্রশ্নটা মোটেরামকে।

মোটেরাম হাত জোড় করে বলল, “হামি মোটেরাম কংকরিয়া। এই বাবুর কাছ থেকে ভল্লুটা হামি কিনলাম। এখুন এরা ঝামেলা পাকাচ্ছে কি ভল্লু বিকতে দেবে না।”

“হুঁ…উ…উ,” ভীষণ গম্ভীর মুখ করল দারোগাবাবু, “ভালুক বেচাকেনা দুই-ই বে-আইনি কাজ।” তারপর মামার দিকে ঘুরে বলল, “তোমাদের ভালুকের খবর সব আমি জানি সেই জিতু চোরকে ধরার সময় থেকেই। আমি কঠোর কর্তব্যপরায়ণ, কিন্তু মনের ভেতরটা আমার গরম রসগোল্লার মতন নরম তুলতুলে। এইজন্যেই জঙ্গলের জীবকে বে-আইনি ভাবে তোমরা আটকে রেখেছ জেনেও তখন কিছু বলিনি। কিন্তু এখন যা শুরু হয়েছে তাতে আমাকে তো কিছু করতেই হবে।”

মোটেরাম মামাকে বলল, “হামার টাকাটা ফিরত দিন হামি চলে যাই। ভল্লু দারোয়ান হামার কপালে লিখে নাই রামজি।”

মামাও চুপচাপ টাকাগুলো পকেট থেকে বার করে তার হাতে দিতে সে দুই চাকরকে নিয়ে তাড়াতাড়ি সরে পড়ল।

“বেশ, এবার শুনি কার কী বক্তব্য,” দারোগাবাবু বলল।

বদ্যিনাথদাদু পরানদাদু মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। পরানদাদু বলল, “আপনেই কন বৈদ্যনাথবাবু।”

হাতজোড় করে বদ্যিনাথদাদু দারোগাবাবুর দিকে ঘুরল, “হুজুর, ভালুক এদের। কিন্তু আমরাও একে কম ভালোবাসি না। পঞ্চা এই বস্তির মস্ত সহায়। সে আসাতে চুরি বন্ধ হয়েছে। আপনার ঝামেলা কত কমেছে বলুন হুজুর? সেই জিতু চোরের ঘটনার পর থেকে কোনো চোর এখানে চুরির চেষ্টাও করেনি।”

“তা ঠিক। এই তো জিতু চোর সেদিন ফিরেছে তিন মাস জেল খেটে। এক হাঁড়ি রসগোল্লা নিয়ে থানায় এসেছিল আমাকে প্রণাম করতে। এমনিতে ব্যাটা আমাকে খুব ভক্তিশ্রদ্ধা করে তো! তা আমি বললাম, ‘এবার চুরি-টুরি ছেড়ে দে জিতু।’ সে বলল, ‘ছেড়ে দিলে খাব কী স্যার? তবে ওই ধুকধুকিয়া বস্তিতে আর ঢুকছি না বাবা। অন্ধকারে গা মিলিয়ে, একেবারে শব্দ না করে ভালুকের চোর ধরার কায়দাই আলাদা। না বাবা, ওদিকে আর না।’”

“তবেই বোঝেন,” পরানদাদু বলল, “তা ছাড়া পোলাপানগুলাও আর পাড়ার বাইরে যায় না। ওর লগেই খেলা করে।”

“বুঝলাম,” দারোগাবাবু এবার মামার দিকে ঘুরল, “তাহলে ন’কড়ি না কী যেন তোমার নাম…”

    “আজ্ঞে ন’কড়ি।”

“হুঁ। তোমার বক্তব্য বলো শুনি।”

মামা মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল একটুক্ষণ, তারপর বলল, “বিক্রি করতে যখন পারব না আপনিই নিয়ে যান পঞ্চাকে।”

“ধেত্তেরি…” খিঁচিয়ে উঠল দারোগাবাবু, “ভালো কায়দা। আমার ঘাড়ে একখানা দু’শো কেজির ভালুক চাপিয়ে দিতে চাইছ! বেশ মজা যা হোক!”

“আজ্ঞে দু’শো না, দেড়শো কেজি,” আমি মিনমিন করে শুধরে দিলাম।

“ওই হল। ভালুক নিয়ে তোমরা যা শুরু করেছ, আমি কিন্তু ভয়ানক রেগে যাচ্ছি।”

এদিকে ভিড়ের মধ্যে আবার স্লোগান শুরু হয়েছে। অনেক বাচ্চারাও গলা মিলিয়েছে- “পঞ্চা এখানেই থাকছে থাকবে –থাকছে থাকবে। যাবে না সে যাবে না –কোথাও যাবে না। তোমার ভালুক আমার ভালুক, সবার ভালুক পঞ্চানন, তোমার আমার আপনজন।”

কটমট করে মামার দিকে তাকাল দারোগাবাবু, “কী ঝামেলায় আমাকে ফেলেছ বুঝতে পারছ?”

তখন ভ্যাঁক করে কেঁদে ফেলল মামা, “কী করব দারোগাবাবু, আমরা যে বড়ো গরিব! খেলা দেখিয়ে প্রথম প্রথম ভালোই রোজগার হত। এখন সামান্যই হয়, অন্য রোজগারও তেমন কিছু নেই। নিজেরাই পেট ভরে খেতে পাই না। ওকে কী খাওয়াব?”    পরানদাদু মামার কথা শুনছিল। সে ভিড়ের দিকে ঘুরে দু’হাত তুলে বলল, “এই তোমরা চ্যাঁচানি বন্ধ করো। শুনো, নয়কড়ি কইতাছে অর্থাভাবে ওরা পঞ্চারে ভরণপোষণ করতে পারতাছে না।”

    হইহই করে উঠল পাড়ার লোকেরা, “সেকথা বললেই হত। আমরা সবাই মিলে পঞ্চার খাবার দেব। হল তো?”

ভিড়ের মধ্যে গোপাল ডাক্তারও ছিল, সে হাত তুলে বলল, “আমি পঞ্চার সব চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছি। ফি লাগবে না, ওষুধও ফ্রি।”

হাবুল মন্ডল ঘোষণা করল, “আমি পঞ্চাকে রোজ চারটে করে কলা খাওয়াব।” আরো অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিল।

“বেশ, শান্তিপূর্ণভাবে সব মিটে গেল। চল্‌ রে ভ্যাবলা ক্যাবলা…” বলে দারোগাবাবু তার দুই কনস্টেবলকে নিয়ে চলে গেল। তারপর আনন্দে সবাই যে নাচানাচি হইহট্টগোল শুরু করল সে আর কী বলব। একসময় বাচ্চারা পঞ্চাকে ঘিরে নিয়ে চলে গেল চাতালের দিকে।

আমি আর মামা ফিরে এলাম ঘরে। আমাদেরও মন খুব হালকা, খুশি-খুশি। পঞ্চা এখন আমাদের দু’জনের হয়েও সকলের। তাকে নিয়ে আর আমাদের চিন্তা নেই।

পরানদাদু একটা কমিটি করে দিয়েছে। পঞ্চার খাওয়াদাওয়া দেখাশোনার সব দায়িত্ব তাদের। অবশ্য পঞ্চাকে নিয়ে মাঝে-মধ্যে খেলা দেখিয়ে মামা যা পায় সেটা আমাদেরই।

তবে আজকাল খেলা দেখাতে বেরোনো বড়ো একটা হয় না। বস্তিতে ঢোকার মুখে একটা ছোটো চালার নিচে আমর তেলেভাজার দোকান দিয়েছি। দোকানটা যে আমরা দিতে পেরেছি সেও পঞ্চারই জন্যে। বস্তির লোকেরাই খুশি হয়ে আমাদের দোকান দেবার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

বেশ বিক্রি হয় আমাদের দোকানে। সেই যে একদিন খেলা দেখিয়ে ফেরার সময় এক তেলেভাজাওলার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল, সে-ই মামাকে মশলার ভাগ-টাগ শিখিয়ে দিয়েছে। খুব ভালো লোক দক্ষিণামামু। তার শেখানো কায়দায় তেলেভাজা বানিয়ে আমাদের দোকানের তেলেভাজারও বেশ সুনাম হয়েছে। দামও আমরা অন্য দোকান থেকে কম নিই। ভালোই চলে যাচ্ছে আমাদের।

পঞ্চা মাঝে মাঝে দোকানে এসে বসে থাকে। মামা ওকে ফুলুরি আলুর চপ-টপ দেয়। আমরা নাম দিয়েছি পঞ্চার তেলেভাজা। লোকে কিন্তু বলে ভালুকওলার তেলেভাজা।

    এখন আমার একটাই লক্ষ্য –মাধ্যমিকে স্টার আমাকে পেতেই হবে, আর তিনটে অন্তত লেটার। ভবেশবাবুস্যারের নাম আমাকে রাখতেই হবে। মামাও খুশি হবে খুব। যেদিন রেজাল্ট বেরোবে সেদিন পঞ্চার পছন্দের ভালো ভালো জিনিস সব তাকে খাওয়াব। তার জন্যেই তো সব। বলো, সত্যি না!

dharapancha5502 (Medium)শেষ

ছবি মৌসুমী

আগের সব কটা এপিসোড এই লিংকে পাবে