পুজো স্পেশাল মুর্শিদাবাদ গল্প প্রতিযোগিতা দ্বিতীয় স্থান-আবেদ চাচার সাঁকো জলি নন্দীঘোষ শরৎ ২০১৮

জয়ঢাকের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস

সে এক ভারি মজার গ্রাম ছিল। নাম তার বাঁটী। গ্রামের কোনো এক খ্যাপা-পাগলা ভবঘুরে তার নাম দিয়েছিল “রাজবাঁটী”। সারাদিন সে গায়ে, রুখো চুলে ধূলো মেখে এপাড়া ওপাড়া ঘুরে বেড়াত আর যাত্রার নটের অ্যাক্টো করার ঢঙে চিৎকার করে বলত “শোনো শোনো … সবাই শোনো, ইয়্যা হল্যো রাজবাঁটী গ্রাম, আর আমি হলাম গ্যে এখ্যেনকার  রাজামশাই……”।

বোঝো কাণ্ড! তবে সত্যি কথা বলতে কী, পাগলের কথায় মোটেই কিছু ভুল ছিল না। এই গ্রাম ছিল সত্যিকারের সেরা গ্রাম। প্রকৃতি দেবী যেন তাঁর কোমল আশীর্বাদের হাতখানি ছুঁয়ে দিয়েছিলেন এ-গ্রামের মাথার ওপরে। গ্রামের দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে যেত স্বচ্ছতোয়া ছোট নদী। প্রায় সারা বছর জল থাকত তার ঢালু আর গভীর বুকে। ছোট ছোট ঢেউয়েরা সকাল সন্ধে ছলাক-ছলাক সুর তুলে গান গাইত। বয়ে যেত কুল কুল করে। চারিদিক ছিল আমবাগান, কাঁঠালবাগান, লিচুবাগান, বাঁশঝাড় আর দিগন্ত জোড়া সবুজ খেত – শস্য দিয়ে সাজানো।

ওহো বলাই হয়নি। এই গ্রামটি হল মুর্শিদাবাদ জেলায়। ছয়ঘড়ি বাঁশ স্টপেজে নেমে, টাঙ্গা চড়ে প্রায় একঘণ্টা পথ পেরিয়ে তবে এই গ্রামে ঢুকতে হয়। এই গ্রামের পথে-ঘাটে, গাছপালায়, জল-কাদায়, আকাশ-বাতাসের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকত গল্প। গ্রামের প্রতিটি লোক যেন সেই গল্পের এক একটি জীবন্ত চরিত্র। সেখানে ছিল আমার মামার বাড়ি।

আর সবচেয়ে মজার ছিল বাঁটী গ্রামের লোকের ভাষা। তাদের সুর টেনে কথা বলার বিশেষ ধরন। এই যেমন, আমরা মামার বাড়ি যাবার দুদিন পর হয়ত দেখা হল পাড়ার গজেন দাদুর সাথে। সে জিজ্ঞেস করল, “আত্‌সীর বিটি, কখুন এল্যা মা…আ”? আমার মায়ের নাম অতসী। অদ্ভুত কায়দায় প্রত্যেকটি নামের অপভ্রংশ করে উচ্চারণ করত সবাই। এভাবে গ্রামের অনিল কাকা হয়ে যেত ওলিন কাকা। দিলীপ ঘোষকে ডাকা হতো দিলপ্যা, কিংবা নৃপেন মামা হয়ে উঠত নিপ্‌না।

গ্রামের ছোট নদীর দুই পাড় ছিল বেশ উঁচু। আর খাড়াই। পারাপারের জন্য আবেদ চাচা সাঁকো বাঁধত ভরা বর্ষাকালে। বছরভর সেই বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পেরোত বাঁটী গ্রামের সমস্ত লোকজন,কুকুর,ছাগল,ভেড়া, সবই। সে সাঁকোও কম আজব ছিল না। দুদিকে ইয়া লম্বা বাঁশের খুঁটি। তাঁর সাথে মোটা তাঁর দিয়ে বাঁধা বাঁশের মাচা। এক হাত অন্তর বাঁশ। পেরোতে হতো খুব সাবধানে। পা ফস্কে গেলেই চিত্তির!

তা সেবার কান্ডখানা বাধল এই সাঁকো নিয়েই। আবেদ চাচা জাতে মুসলমান। পেশায় বাঁশ-বেতের কারিগর। তাঁর মতো হাল্কা, মসৃণ আর চাঁদের মতো গোলমুখো বাঁশের ঝুরি-ধামা-কুনকে বানাতে ও তল্লাটে আর কেই পারতো না। আশপাশের দু-পাঁচটি গ্রাম তো বটেই, এমনকি সদর শহর বহরমপুর থেকেও ফরমাশ দিয়ে লোকে কিনে নিয়ে যেত আবেদ চাচার বানানো বাঁশের নানান জিনিসপত্র।

বিশেষ করে কচি বাঁশের ছাল তুলে, তা জলে ভিজিয়ে নরম করে সে বানাত বিশেষ এক ধরনের শীতলপাটি। গরমের দিনে এই শীতলপাটির কদর ছিল খুবই। মনে পড়ে, আমরা গরমের ছুটিতে ফি বছর মামার বাড়ি যেতাম আর আবেদচাচা প্রতিবারেই একটি করে নতুন শীতলপাটি এনে চটাস করে ফেলত বারান্দার মেঝের ওপর। বলত, “বছরান্তর ছেলেপিল্যা এস্যাছে, মামা হয়্যা কিছু তো দিত্যা হয়… পাটিখানই আনল্যাম……ধনেদের লেইগ্যা”।

আমরা বারান্দাতেই পাটি বিছিয়ে বসে সব ভাইবোনেরা মিলে হইহই শুরু করে দিতাম। যদিও আমরা আবেদ চাচাকে কখনই মামা বলে ডাকিনি। মামা- মাসীরা এবং পাড়ার সবাই বলত আবেদ চাচা, আমরাও বলতাম আবেদ চাচা। 

ভারি মজার ছিল মানুষটি। গায়ে সবসময় বড় ছ্যাদাওলা নেটের রঙিন হাতকাটা গেঞ্জী আর লুঙ্গি।পায়ে হাওয়াই চটি। আমরা পাটির ওপর বারান্দায়, আর সে বসত পেয়ারা গাছের তলায় ভাঙা মোড়াখানা টেনে নিয়ে। তারপর কত যে গল্প বলত আমাদের! তার ছোটবেলায় এই ছোট নদী কত ভয়ঙ্কর ছিল, কেমন করে সে এক বর্ষার রাতে ঢেউয়ের ঝাপটায় ঘরের দাওয়া থেকে তার  দু- মাসের ছোট্ট বোনটিকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল,  তার মা সন্তানের শোকে রাতভর ছুটে বেড়িয়েছিল নদীর চর বরাবর, তার চিৎকার আর কান্নার ভয় পেয়ে কেমন নদীর দুপাড়ের লোকেরা ঘরে দোর দিয়ে দম বন্ধ করে জেগে বসেছিল সারাটা রাত- পেত্নী কান্না ভেবে – এসব নানান গল্প করতে আবেদচাচা। আমরা ভাইবোনেরা শুনতাম হাঁ করে। অবাক হয়ে। মাঝখানে একবার হাঁক পেড়ে আবেদ চাচা আমার দিদিমাকে বলত, “কই গো খুড়ীমা, এক কাপ চা দিবা নাকি… ই”।

দিদিমা সাদা কলাই-এর থালায় এক কাপ চা আর দু’খানা রুটি পাঠাত আমার সেজমামার হাতে। খুশিতে ডগমগ হয়ে উঠতো আবেগ চাচার মুখখানা। চা–রুটি খেতে খেতে  সেজমামার সাথে আর একপ্রস্থ গল্প জুড়ত। সেই ফাঁকে আমারা টুক করে বেড়িয়ে পড়তাম সদর  দরজা গলে। বার উঠোনে খোপ কেটে কিৎ কিৎ খেলতাম।

বেশ কিছুক্ষণ পর আবেদ চাচা বেরিয়ে যেত। শুনতে পেতাম তার গলা, “বেলা অনেক হল্যো , আসি গো ষষ্ঠী দাদা…আ”।

আমার বড়মামা ছিল খুব বিদ্বান মানুষ। অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে হয়েও লেখাপড়া করেছিল বিস্তর। ছোটবেলায় শুনতাম মামা কলকাতায় গিয়ে কলেজ পাশ কব্রে তারপর ডবল এম. এ. পাশ দিয়ে তবে গ্রামে ফিরেছে।  তার  ইস্কুলে পড়ার ব্যাপারটাও খুব সহজ ছিল না। ছোট নদীর বুকে সে সময় কোনো সাঁকো  তৈরি হয়নি। এপাড়ের ছেলেমেয়েরা তাই বাঁটীর ‘ সুমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ অব্দি পড়েই লেখাপড়ার পাট চুকোত। 

কিন্তু বড়মামা ছিল যেমনি পড়াশোনায় ভালো তেমনি জেদি। গোঁ ধরে বসল লেখাপড়ার সে  করবেই। দিদিমা বলত বইয়ের পোঁটলা মাথায় নিয়ে বড়মামা নাকি  ছোটনদীর হাঁটুজল পেরোত জলের মধ্যে হেঁটে হেঁটে কিম্বা বর্ষায় বুকসমান জল সাঁতরে, গামছা পরে। ওপারে ইস্কুলে যাবার জন্য। পড়াশোনায় তার এমন মতি দেখে নদীর ওপারে কাছাকাছি শহর ইসলামপুরে  এক আত্মীয় নিজের বাড়িতে  বড়মামার থাকার বন্দোবস্ত করলেন। তা না হলে গ্রামের এর সব ছেলেপুলের মতোই বড়মামাকেও  প্রথমিক অর্জিত জ্ঞান  সম্বল করেই  বাকি জীবনটা  কাটাতে হত।

কলকাতা  থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফিরেই বড়মামা  চাকরি পেল। বহরমপুরের একটি ইস্কুলে পড়ানোর। সুখের চাকরি। সাথে কোয়ার্টার ফ্রি । কিন্তু মাসদুয়েক যেতে না  যেতেই বড়মামার মাথায় ঢুকল এক চিন্তা। তার দিন রাতের কাজ , ঘুম সব মাথায় উঠল। কেবলই তার মনে  হতে  লাগল, “এত পড়ালেখা করে, যদি গ্রামের কোনো উন্নতিই না করতে পারব তবে কেন মিছিমিছি এত কষ্ট করে লেখাপড়া করলাম!” বড়মামা ঠিক  করল গ্রামে ইস্কুল  তৈরি করবে।

জায়গা ঠিক হল ছোট নদীর ওপারে। দেড়বিঘে ধানী জমি পরিষ্কার করে সারি দিয়ে চালা ঘর তোলা হল। টিউবওয়েল বসানো  হল। গাদা গাদা বইপত্তর  এল। সরকারী অনুদানের জন্য নাহক ছোটাছুটি করল বড়মামা,  কলকাতার সরকারী অফিসে। গ্রামের ছেলেমেয়েদের আনন্দের যেন আর সীমা রইল না। মুখে হাসি ধরে না তাদের । আনন্দে –আবেগে দিশেহারা গ্রামের ছেলে – বুড়ো সব্বাই । শিবতলার মন্দিরে ভিড় জমে গেল। বড়মামার নামে কতজন যে হরির লুট দিল তার ঠিক নেই। ধন্যি ধন্যি করতে লাগল সবাই বড়মামাকে। দু’হাতে  তুলে আশীর্বাদ  করল গুরুজনরা।

সে বছর ছিল খানিক খরার বছর। ইস্কুল যখন তৈরি হল, ছেলে- মেয়েরা ইস্কুল যাওয়া শুরু করল, তখন ছোট নদীর বুকে পায়ে ডোবা জল। বোশেখ- জষ্ঠি গড়িয়ে আষাঢ় এল। দিনরাত বৃষ্টি আর বৃষ্টি। চুপসে ভিজে একসা হল ঘাট-  মাট, গাছগাছালি, আর ছোট নদীর বুকে দেখতে দেখতে জমল সাতার জল। দু-কুল উপচে জল ঢুকল খাস জমি, ঝোপ- জঙ্গলে। পানুমাঝি নৌকা নামাল ঘাটে। ঘোর বর্ষায় বাঁটী গ্রামের লোকজনের দুর্দশার আর অন্ত রইল না।

নতুন ইস্কুলের উৎসাহী পড়ুয়ারা বড়মামার কাছে এল অভিযোগ নিয়ে। পানু মাঝির একখানা নৌকা পারাপারের জন্য যথেষ্ট নয়। তাছাড়া মুঠোয় চার আনা পয়সা না দেখলে পানু মাঝি তাদের নৌকায় তুলতে চায় না। কচি- কাঁচার দল অত পয়সা পাবেই বা কোথায়! ফের চিন্তায় পড়ল বড়মামা। শুধুমুধু ইস্কুল গড়লেই তো হল না! বর্ষাকালে ছোট নদীর থৈ থৈ জল পেরিয়ে ছেলেপুলেদের ওপারে যাতায়াতেরও একটা ব্যবস্থা করতে হবে তো।

অনেক ভাবনা চিন্তার পর বড়মামা ডাকল বলল, “আবেদ চাচাকে খবর দে ষষ্ঠী।”
আবেদ হাজির হল। বলল, “বলে মাস্টার দাদা, কিছু দোষ ঘাট করল্যাম নাকি গো… ও?”
বড়মামা হেসে বলল, “ না না আবেদ, দোষ কেন করবে?”
সে বলে, “তবে হুট কর‍্যা ডাকল্যেন যে দাদা?”
বড়মামা বলল, “ আগে বোসো। তারপর মন দিয়ে শোন কেন ডেকেছি”
“ হু বল্যেন।”

বড়মামা বলে চলে, “ নতুন ইস্কুল গড়েছি জানো তো? এই গ্রাম থেকে ছেলেমেয়ের দল পড়তে যায় সেই ইস্কুলে। কিন্তু পানু মাঝি যে পারাণি ছাড়া ওদের নৌকায় উঠতেই দেয় না। অথচ ওরা ইস্কুল যেতে চায়… এর থেকে আনন্দের কথা কী হতে পারে আবেদ?”

আবেদ চাচা শুনছিল চুপ করে। বড়মামা বলল,“এই সমস্যার সমাধান করতে পারো একমাত্র তুমিই।”

“আমি! বল্যেন কী গো দাদা? কি কর‍্যা?”

“হ্যাঁ তুমি। ছোট নদীর বুকে সাঁকো বাঁধতে হবে। আর সে কাজ করবে তুমি।”

বড়মামার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বলতে বলতে, “ গ্রামের ছেলেমেয়েরা নদী পেরিয়ে সহজেই ইস্কুল যেতে পারবে। প্রয়োজনে শহরে যেতে পারবে। লেখাপড়া শিখবে। তাদের জ্ঞনের আলোয় গ্রাম উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। উন্নতির পথে পা বাড়াবে। আমাদের স্বপ্ন সার্থক হবে। অশিক্ষার আর অজ্ঞানতার অন্ধকার বড় ভয়ঙ্কর আবেদ।”

আবেদচাচা মুর্খ হলেও বুঝতে পারে সব। সেলামের ভঙ্গী করে বড়মামাকে বলে, “আপনি মানুষ লয় গ্যো মাস্টার দাদা- ফেরেস্তা।”

পরদিন সকাল থেকেই শুরু হয় কাজ। বাঁশঝাড় থেকে সব চেয়ে লম্বা আর মোটা বাঁশ কেটে গরুর গাড়ি বোঝাই করে চাচা নিয়ে এসে ফেলে নদীর ওপারে চরে। চলে মাপজোক, তারপর ক্ষিপ্র হাতে বাঁশে দা-এর কোপ বসায়। আকাশ-বাতাস ভেদ করে আওয়াজ ওঠে ঠকা- ঠক ঠুক্‌ ঠুক্‌। নদীর ঢেউ দুলে ওঠে। সঙ্গে পানু মাঝির নৌকাও। থমকে তাকায় সে। বুঝে উঠতে পারে না কিছু।

এ-খবর রটতে সময় লাগে না। গ্রামের ছেলে–বুড়ো, কচিকাঁচার দল, বাড়ির বউ- মেয়েরা অব্দি ঘোমটা মাথায় হাজির হয় নদীর দুপাড়ে। তাদের আনন্দ যেন আর বাঁধ মানে না। সবার মুখে একটাই কথা, “ শুইনছ্যো গো, আবেগ চাচা নদীতে সাঁকো বাইন্ধছ্যে…।”

গ্রামবাসীদের উল্লাসে, হর্ষে, গ্রামে এক উৎসব শুরু হয়ে যায়। বুড়ো গজেনদাদু তার বাড়ির সামনে উঁচু ঢিবির ওপর বসে হুঁকো টানতে টানতে বলে, “ ইয়্যা, দুধ লিয়্যা ওপারে যেত্যে আর কুনু ঝামেলা থাইকল্য না।” গজেন দাদুর গোয়াল থেকে দিনে কম করেও দশ সের দুধ ওপারে বাবলুর সমিতিতে যায়। লবুমামা অর্থাৎ নবকুমার বত্রিশ পাটি দাঁত প্রদর্শন করে বক্তব্য রাখল, “ কঠিন কথা গো, আবেদচাচা ছোট নদীর বুকে সাঁকো বাইন্ধছ্যে… ইয়্যা তো সেই বিরিজ গড়ার মতনই ব্যাপার হল্যো, না কি?”

সাঁকো বাধার খবরে সবচেয়ে উৎসাহ আর আনন্দ যাদের, তারা হল নতুন ইস্কুলের পড়ুয়ারা। তপু, স্বপন, মুংলা, হারু, পুর্নিমা, পলু, প্রতিমা, কানাই- দল বেঁধে ভিড় জমাল আবেদ চাচার চারপাশে। স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দে দিশেহারা ওদের কচি- কচি মনগুলো। আর অন্ধকার নয়। আলোর দিন আসছে। ওদের চোখের তারায় ঝিলিক দিয়ে ওঠে সেই আলোর ছটা। নতুন ইস্কুলের হেডমাস্টার মশাই বড়মামাও খুব খুশি। হাত নেড়ে নেড়ে উদাত্ত কণ্ঠে সে আবৃত্তি করেই চলেছে তার কবি নজরুলের কবিতা, “ ওরে, ভয় নাই আর, দুলে উঠছে হিমালয় চাপা প্রাচী…. গৌরিশিখরে তুহিন ভেদিয়া জাগিছে সব্যসাচী।”

সুর্য ওঠে মাথার ওপর। খর তাপে চাঁদি তেতে ওঠে। উৎসাহী গ্রামবাসীদের ভিড় পাতলা হয়ে আসে। শুধু আবেদচাচা কাজ করে চলে নিরন্তর। বাঁশ কাটে, চাঁছে, তার দিয়ে বাঁধে সাঁকোর মাচা। দুই হাত সমানে চলে তার- সব্যসাচী মতই।

Advertisements

3 Responses to পুজো স্পেশাল মুর্শিদাবাদ গল্প প্রতিযোগিতা দ্বিতীয় স্থান-আবেদ চাচার সাঁকো জলি নন্দীঘোষ শরৎ ২০১৮

  1. Rumela Das says:

    অদ্ভুত সুন্দর মনের মত গল্প লিখেছো দিদি!

    Like

  2. Sudeep says:

    অসম্ভব সুন্দর লেখা

    Like

  3. পীযূষ কান্তি দাস says:

    সুন্দর গল্প । আসলে গ্রাম বাংলার সেই স্বপ্নের দিন গুলো কেমন যেন হারিয়ে গেছে । এ লেখায় গ্রাম্য ভাষার সাথে গ্রামের মিঠে ভালোবাসাও মিশে আছে ।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s