বইপড়া পুরোনো বই আমার ভূত দেখা শিব্রাম চকরবরতি পিয়ালী বন্দ্যোপাধ্যায় শরৎ ২০১৮

বইটি এক যুগলবন্দী হাসির। পড়তে যেমন মজা তেমনি ছবি দেখেও। লেখক যদি হন শিব্রাম, আর ইলাস্ট্রেটর শৈল চক্রবর্তী  তখন হাসতে তুমি বাধ্য। এখানে নিদান দেওয়া আছে ভূতের গল্প মানে সত্যিকারের গল্প। আছে নতুন শব্দভান্ডার যা কস্মিনকালেও তোমার ভোকাবুলারিতে নেই। যেমন ভাড়াটে আমরা জানি,কিন্তু ‘পাড়াটে’!!? আর অজস্র আছে শব্দ নিয়ে খেলা। “পরের বাড়িতে তৎপর হয়ে থাকা এমন পরার্থপরতা কি ভাল” কিম্বা “বিনি বিনা কারণেই কলতলায় আছাড়…”! আরো আছে বাড়ি খুঁজে পাওয়ার বিভ্রাট,বাড়ি বেচার বিভ্রাট। বাড়ি খুঁজতে গিয়ে তার আর্কিটেকচার দেখে বিরক্ত হয়ে বলেন, ”পয়সা খসিয়ে ইঁটকাঠ বসিয়ে কী বানিয়ে রেখেছে এরা! জমির ওপর এসব কী জমিয়ে রেখেছে! শুধু বিরক্তিতেই শেষ নয়, একটা সমাধানও ভাবা আছে লেখকের। ভূমিকম্প হওয়া জরুরি, যাতে এই বিশ্রী বাড়িগুলো ভূমিসাৎ হয়। কী সহজ প্রতিবিধান! আজকের জটিলতার এই যুগে এই নির্মল হাসির ভান্ডার ফিরে ফিরে পড়া উচিত সব্বার।

তারপর ভূত দেখা। আজব আজব নামের মানুষ (কিম্বা ভূত)। একজন লালায়িত রায়, এখানে শ্রী শৈল চক্রবর্তীর অনবদ্য কার্টুন। আর একজন হলেন তুষানল বাবু। নামের সাযুজ্য রেখে তিনি লেখকের দিকে ধিকি ধিকি এগিয়ে আসেন।

এরপর গৃহসমস্যা সমাধান গল্পের পাতা উল্টোলে ছবিই বুঝিয়ে দেবে কে হারল কে জিতল। বোন বিনির মুখে রাজ্যজয়ের হাসি দিয়েছেন শ্রী শৈল, আর দাদা ভ্যাবাচ্যাকা। বন্ধুর বাড়িভাড়ার বিজ্ঞাপনে সাহিত্য ফলানোর ফল যে কী হল তা গল্পের শেষ ছত্রেই বিদ্যমান।

শরৎচন্দ্রের পাম্পশু হারিয়েছে। চিন্তিত মুখে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় কোথায় গেল, তিনি বিরক্ত মুখে বলেন, আমি কি জানি? আমি কি নিয়েছি নাকি! দমফাটা হাসির মজায় মন মেতে উঠবেই এর প্রত্যেক পাতায় চোখ রাখলে।

বই শেষ হয়ে আসে ইরান দেশের বিচার দিয়ে। পড়তে পড়তে কেমন যেন মনে হয় লেখকরা বুঝি এমনি দূরদৃষ্টিসম্পন্নই হন! আজকের পৃথিবীর বহু দেশই এমন বিচার দেখছে। চোর বলে চুরি আমার পেশা। নিজের জাতব্যবসা ছেড়ে দিলে পেট চলবে কী করে! পরের সৌভাগ্য দেখলে সবার চোখ টাটায়,শুধু চোরের হয়না। সে চায়, সবার বাড়বাড়ন্ত হোক। সেই শুনে কাজি বলেন ঠিক ই তো!  চোরের মত এমন উদার মন পৃথিবীতে আর কার!

এটুকুই আলোচনায় থাক।বাকি অংশ রসিকরা পড়ে রস নেবেন।

বইটার ইলেকট্রনিক ফর্ম্যাট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাবলিক লাইব্রেরি নেটওয়ার্ক থেকে বিনামূল্যে মিলবে। বলিয়ের ছবিতে ক্লিক করলে ডাউনলোড সাইটে পৌঁছোবে।

রিভিউ করলেনঃ পিয়ালী বন্দ্যোপাধ্যায়

 বই পড়া সম্পূর্ণ লাইব্রেরি

Advertisements