বই পড়া পুরোনো বই আপন কথা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষা ২০১৬

আগের রিভিউ পুরোনো -চুক আর গেক-পিয়ালী ব্যানার্জি

রিভিউ করলেন পিয়ালী ব্যানার্জী

bookreviewpurono01 (Medium)bookreviewpurono02 (Medium)এই বইটা যদিও সাদা-কালোয় তবু এর প্রতিটি পাতায় রঙ লেগে আছে কারণটা আর কিছুই নয় ,কে না জানে ‘অবিনঠাকুর ছবি লেখেন’। বইয়ের নাম আপন কথা। লেখক শ্রী অবনীন্দ্রনাথ নাথ ঠাকুর। প্রচ্ছদ;মূল বই তে সত্যজিত রায়, যা সিগনেট প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। তখন এর দাম ছিল পাঁচ টাকা। পরে আনন্দ পাবলিশার্স বইটি ছাপায় (১৯৮৮)। প্রচ্ছদকার শ্রী অমিয় ভট্টাচার্য,দাম ৫০ টাকা।

আমার কাছে পুরোন মলাটটার আবেদন অনেক বেশি। তবে নতুন বইতে লাভ হয়েছে প্রচুর সাদাকালো ছবি । আমার ভাব পুরোন বই এর সঙ্গে বেশি কারণ তার ন’টি আলাদা আলাদা পর্বের শেষে  একখানা করে ছবি আঁকা ছিল। বইয়ের প্রথম পর্বে “মনের কথা” য় লেখকের স্পষ্ট ঊল্লেখঃ

“ আমার ভাব ছোটোদের সঙ্গে,তাদেরই দিলেম এই লেখা খাতা …যারা কাছে এসে বলে ‘ গল্প বলো’..যারা কপাট আগলে বসে আছে যে  দৈত্য, সেটাকে জাগিয়ে বলে ‘ওপুন চিসম’ অর্থাৎ চশমা খোল,গল্প বল”

দ্বিতীয় পাঠ ‘পদ্মদাসী’।

রাতের বেলায় পদ্মদাসীর কালো হাত কেমন ছন্দে ছন্দে দুধ তুলছে আর ঢালছে,সেইসঙ্গে কল্পলোকে সবুজ মোটা সুতির মশারিকে লাগছে সবুজ কুয়াশা ঢাকা পাহাড়,আর বালিশ হল পাহাড়-পর্বত।

তৃতীয় পর্ব ‘সাইক্লোন।’ 

জানা গেল জানলা দিয়ে ভোরের রোদ্দুর কেমন ঘরে ঢুকে চুপ্ টি করে বসে থাকে ,মানুষ বিছানা ছাড়লেই গড়িয়ে নেয় বিছানায় খনিক, তারপর ধরা পড়ার আগেই দেওয়াল বেয়ে কড়িকাঠে। আর মাঝরাতে যখন সাইক্লোন

 আসে তখন জানা যায় “ঝড় যেন একটা কী জানোয়ার গর্জন করে ফিরছে বন্ধ বাড়ির  চারদিকে। দরজাগুলো ও ধাক্কা দিয়ে কেবলই পথ চাচ্ছে ঘরে ঢোকার।”

এরপর “উত্তরের ঘর” এর জানলা দিয়ে ছোট্ট অবিন দেখছে…মানুষ, মুরগী, হাঁস, গাড়িঘোড়া, সহিস, কোচম্যান, ছিরু মেথর, নন্দ ফরাশ, গোবিন্দ খোঁড়া, বুড়ো জমাদার, ভিস্তি, মুটে, উড়ে বেহারা, গোমস্তা, মুহুরী, চৌকিদার, ডাক, পেয়াদা –সবাইকে নিয়ে মস্ত এক যাত্রা চলছে। এইখানটা আমার মনে হয়েছে যে এইসব নাম গুলো জানতে ছোটরা বাবা মা বা দাদু দিদা কে জ্বালাতন করবেই।

একটা মজার ব্যাপার পড়ে আমি বারবার অবাক হই। যখন লেখক লেখেন “আমরা যেমন ছবির জন্যে নানা  কাজে নানারকম সরু ,মোটা, ভোঁতা চেটালো তুলি রাখি,আমাদের ছিরে মেথরও কাছে রাখতো রকম-বেরকম ঝাঁটা।”

পরবর্তী পর্ব ‘এ আমল সে আমল।’ এর মজাই হল ছোটকর্তার কান্ডকারখানা। সহিস যখন ঘোড়ার গা ডলাই মলাই করছে তখন তিনি শুনছেন

“গাধুস নে গাধুস নে চটপট

হঠাৎ খাটখোট চাবকান পটাৎ পটাৎ

গাধুস গাধুস খাটিস খুটিস চটপট

এইরম সব মজার মজার ব্যাপার নিয়ে ‘আপন কথা’না পড়লেই নয়।