বই পড়া পুরোনো বই-চুক আর গেক-পিয়ালী ব্যানার্জি

bookpurono02 (Medium)  বইটা খুব বিখ্যাত আর এটা নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। হওয়ারই কথা। যে বই অন্তত ৬০টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে,সে তো দুর্দান্ত হবেই। “সোভিয়েত শিশুসাহিত্যের অন্যতম রত্ন” এ কথাই মুখবন্ধে লেখা। এ বইটা পড়তেই হবে,তাতে ভাল মন আরো ভালো হয়ে যাবে। বইটির নাম: চুক আর গেক। লেখকঃ আর্কাদি গাইদার(১৯০৪-১৯৪১) প্রকাশনা আমাদের চির-প্রিয় “রাদুগা” অনুবাদ :শংকর রায়(প্রগতি
প্রকাশন১৯৮০)

সমালোচনা নয়। ফিরে পড়া। সম্পাদনায় সেই চিরপরিচিত ননী ভৌমিক। পাতাভরা সাদাকালো ছবি যেন ঠিক ফটোগ্রাফিক এফেক্ট দেয়। পাতাগুলো আইভরি রঙের, মসৃণ,হাত বুলিয়েই মনে হয় যেন,এ তো আমারই। আমি দেখেছি,বই পড়তে গেলে পাতার মান বেশ একটা প্রভাব ফেলে। মলাটের ওপর তুষার bookpurono01 (Medium)পড়ছে ‘তাইগা’য় আর দুই দস্যি খুদে তার ভেতর লাফালাফি করছে। এরা যে কী ডাকাতে ছেলে তা আর বলার নয়। ভূবিজ্ঞানী বাবা থাকেন সুদূর তাইগায়। এরা মায়ের সঙ্গে মস্কোয়। গল্প এক লাইন করে এগোয় আর ফুটে ওঠে ছবির পর ছবি।

মা যখন ঘরে নেই তখন বেশ মিলেমিশে থাকতে চায় এরা কিন্তু কে জানে কেন যুদ্ধ বেধে যায় হামেশাই।

মা বল্ল, বলে ফেল দেখি বাপুরা,আমি না থাকায় কী নিয়ে খুনোখুনি হচ্ছিল?’

চুক বল্ল,’খুনোখুনি হয়নি’ গেক ও বল্ল,’না হয়নি। প্রথমে শুধু ভেবেছিলাম,মারামারি করব,তারপর ভেবেচিন্তে আর করিনি। মা বল্ল, বাহ,এমনি ভাবনাচিন্তা আমি খুব ভালবাসি

bookpurono03 (Medium)এটুকু পড়লেই কী ভাল হয়ে যায় মন! এই ধুন্ধুমার যুদ্ধের ফেরে দরকারি টেলিগ্রাম গেল হারিয়ে,আর গল্প উঠল ঘনিয়ে,তাইগায় বাবার কাছে যেতে হবে,চল গোছাই…

শিশুদের জন্যে লেখায় কেমন বড়ো হওয়ার হাতেখড়ি! এভাবেই হয়ত লেখকরা অমর হয়ে যান।

শেষমেশ গোছগাছ হয়ে গেল। মোটঘাট বাঁধা হল। সদর দরজায় ঝোলান হল ডবল তালা,চোর যাতে না আসতে পারে। ভাঁড়ারের আলমারি থেকে রুটি,আটা,ময়দার গুঁড়ো,খুদকুঁডো ঝেড়ে ফেলা হল,যাতে ইঁদুরের দৌরাত্ম না হয়।

ঘুমোতে গিয়ে অমঙ্গলের কথা ভাবলে কী যে হয়,তাও এখানে আছে।

 গেকের স্বপ্ন কী আশ্চর্য ভয়ংকর এক দানো অসহ্য ফেলছে থুতু, অনর্গল থুতু তো নয়,ফুটন্ত জল

থেকেথেকেই হাসি পাবে,নিজেদের ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে যাবে। তাহলে এই কথাটাই আসল যে,দুনিয়ার সব খুদেদের একই হাবভাব,একই রকমসকম। অনেক রহস্য,অ্যাডভেঞ্চরের পর,গল্পের শেষটায় আনন্দ আর মিল।

অজস্র ভালো ভালো বইয়ের জয়ঢাক রিভিউ এইখানে