বনের ডায়েরি-কিন্নৌরে ভরাল্‌ শিকার-অভিষেক ঘোষাল-বর্ষা ২০১৬

হেমিয়া গ্রামের ভরালের দল

ঘটনাটা ঘটল যখন আমি সব আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি।

হিমাচল প্রদেশের কিন্নৌর জেলায় হিমালয় ও ট্রান্স-হিমালয় পর্বতমালার বৃহৎ স্তন্যপায়ী জীবজন্তু নিয়ে তখন আমি গবেষণা করছি। কিন্নৌর দুটি জীবভৌগলিক জোন (হিমালয় ও ট্রান্স-হিমালয়) এবং তিনটি জীবভৌগলিক প্রদেশের (লাদাখ, উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম হিমালয়) মিলনস্থল। এই কারণে কিন্নৌরের উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগত অনন্য এবং আশ্চর্যজনক। তা সত্ত্বেও, হিমাচল প্রদেশ বনবিভাগ এবং নেচার কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের মধ্যে এই যৌথ উদ্যোগের পূর্বে কিন্নৌরে বন্যপ্রাণী সম্পদ নিয়ে বিশেষ গবেষণা হয়নি।

bonerbharal03 (Medium)

হাঙ্গো গ্রাম

শতদ্রু নদী পার্শ্ববর্তী তিব্বত (চীন) থেকে জান্‌স্কার পর্বতমালা কেটে শিপ্‌কি লা (লা মানে পাস) হয়ে ভারতের কিন্নৌর জেলায় প্রবেশ করে। কিন্নৌরে শতদ্রু নির্দয়ভাবে বইতে থাকে হিমালয় এবং ধৌলধার পর্বতমালা চিড়ে, সংকীর্ণ এবং ভয়ংকর গিরিসঙ্কটের মধ্যে দিয়ে। খাব্‌ গ্রামের কাছে শতদ্রু আরও শক্তি অর্জন করে সন্নিহিত স্পিতি উপত্যকা থেকে প্রবাহিত স্পিতি নদীর মিলনের ফলে। স্পিতি ও তার উপনদীগুলি মিলে কিন্নৌরের খাব্‌ এবং চাঙ্গো গ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চলে হাংরাং বা ইয়াংথাং উপত্যকা গড়ে তুলেছে। কিন্নৌরের উত্তর-পূর্ব কোণে এই সুবিশাল দুর্গম শীতল মরুভূমি অঞ্চলেই দুর্গমতম গ্রামগুলি অবস্থিত। আর তাদের মধ্যে প্রত্যন্ততম, ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় হাঙ্গো গ্রাম।

প্রায় দেড় মাস ধরে আমি তখন কিন্নৌরের সমস্ত প্রধান উপত্যকাগুলিতে বৃহৎ স্তন্যপায়ী জীবজন্তু অন্বেষণ করে চলেছি। শতদ্রু নদীর উপত্যকা, খাব্‌ আর শিপকী লার মধ্যেবর্তী অঞ্চল এবং হাংরাং উপত্যকার বাম তট সার্ভে করা হয়ে গেছে। অথচ আমি প্রাথমিকভাবে যে প্রাণীগুলির অন্বেষণ করছি, যেমন ভরাল্‌, আইবেক্স এবং তুষার চিতা, তাদের কোন হদিশ নেই। শুধু একটি উপত্যকা বাকি, হাঙ্গো লুংপা (ভোটি ভাষায় লুংপা বা লুংবা মানে নালা)।

হাংরাং উপত্যকার লিও গ্রাম থেকে, আমার সহকারী লোব্‌জাং আর আমি, একটি পিক্‌-আপ ভ্যানের পিছনে চেপে হাঙ্গো গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কোনমতে গাড়ি চলতে থাকল খাড়া, ধূলিমলিন, ঝুরঝুরে পাথরের পাহাড় কেটে নির্মিত ১৭ কিলোমিটার রাস্তা ধরে। চড়াই পথ, প্রথমে স্পিতি নদীর ডান তীর ধরে, তারপর হাঙ্গো লুংপার বাম তীর বরাবর। চড়াই চড়তে চড়তে পিছন ফিরে দেখলাম স্বচ্ছ ঝকঝকে নীল আকাশের প্রেক্ষাপটে, পাহাড়ের শুষ্ক পাথুরে ঢালে, ইয়াংথাং, মালিং এবং নাকো গ্রামগুলি মরুদ্যানসম বিস্তৃত। মরীচিকা নয়, সত্যিই। আর এই ঢালের ওপর, সব প্রতিবেশীদের উপরে, সগর্বে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে রিও পারগিয়াল এবং লিও পুরগিল শিখরজুটি।

শুষ্ক পাথুরে ঢালে, ইয়াংথাং, মালিং এবং নাকো গ্রামগুলি মরুদ্যানসম

শুষ্ক পাথুরে ঢালে, ইয়াংথাং, মালিং এবং নাকো গ্রামগুলি মরুদ্যানসম

হাঙ্গো পৌঁছে আমরা শের সিং এর খোঁজ করলাম, লোব্‌জাং এর এক দূরসম্পর্কের কাকা। এমনি দূরসম্পর্ক যে আমরা আগের রাত্রে চাঙ্গোয় থাকাকালিন লোব্‌জাং তার খুড়তুত বোনের কাছ থেকে এই কাকার কথা জানতে পারে। বলাই বাহুল্য যে লোব্‌জাং এবং শের সিং একে অপরকে চেনে না। তার ওপর আমাদের ধূলিধূসরিতঅবস্থা। তা সত্ত্বেও, শের সিং অনুগ্রহপূর্বক আমাদের তার পরিবারে স্বাগত জানাল।

নাকো গ্রাম। ক্লোজ আপ

নাকো গ্রাম। ক্লোজ আপ


শের সিং এর সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয় তার দোরগোড়ায়ে। আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে এক ঘরে বসে ধূমায়মান মাখন-চা পান করছি গল্প করতে করতে। এমন জায়গা এবং মানুষ এখনো আছে এ দেশে।
অবস্থা। তা সত্ত্বেও, শের সিং অনুগ্রহপূর্বক আমাদের তার পরিবারে স্বাগত জানাল।

রিও পারগিয়াল

রিও পারগিয়াল


পরের দিন সকালে, ওই এলাকার জীবজন্তু সম্পর্কে আমি গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করতে লাগলাম। বিশেষ করে কয়েকজন মেষপালকের সঙ্গে কথা বললাম, কারণ তারা বেশিরভাগ সময় বন্য পরিবেশে কাটায় গ্রামের গৃহপালিত ছাগল – ভেড়া নিয়ে। এইসব আলোচনায় ভিত্তি করে দুপুরের মধ্যে শের সিং এবং আমি একটি জায়গা স্থির করলাম সেই সন্ধ্যায় যাওয়ার জন্য, যদি ভাগ্যক্রমে ভরাল্‌ বা নাবো (ভরাল্‌ এর স্থানীয় নাম) দেখা যায়। জায়গাটি গ্রাম থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে রিজলাইন এর ওপর একটি ডোগ্‌ড়ি, গৃহপালিত পশুর জন্য গ্রীষ্মের আস্তানা, নাম থাংটাংসার। সেখানে সম্প্রতি ভরাল্‌ দেখা গেছে।
দোতলার উষ্ণ ঘরে চায়ে চুমুক দিতে দিতে ছোট জানালা দিয়ে দেখলাম মায়াবী গোধূলি নেমে আসছে হিমশীতল বায়ু-ধূসরিত হাংরাং উপত্যকার উপর। আশপাশের পাহাড়ের ছায়া একে একে সমস্ত বরফে ঢাকা চূড়াগুলিকে গ্রাস করল সূর্যালোকের অন্তিম রশ্মি উধাও হওয়ার সাথে সাথে। কিন্তু উত্তর-পূর্ব দিকচক্রবাল জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিও পারগিয়াল শিখরটি জ্বলতে থাকল আরো কয়েক মুহূর্ত, যেন দিন শেষের অবশিষ্ট বীর্য আঁকড়ে ধরে। 

আমরা সন্ধে ছটা নাগাদ রওনা হলাম। তখনো দিনের আলো বেশ উজ্জ্বল। শের সিং এর কনিষ্ঠ পুত্র, মাত্র সাত বছর বয়স, আমাদের নেতৃত্ব দিল, কিংবা বলা যায় আমাদের রীতিমত দৌড় করাতে লাগল।

গ্রাম থেকে বেরিয়ে একটি ছোট নালার ডান তীর বরাবর খাড়া ঢাল ধরে চড়াই চড়ছিলাম। মাঝে মাঝে চোখে বাইনোকুলার লাগিয়ে চারিদিকের পাহাড় তন্ন তন্ন করে স্ক্যান করছি। ভরাল্‌ এর টিকিও দেখা যাচ্ছেনা। হাঁপাতে হাঁপাতে চলেছি তো চলেইছি। হঠাৎ দেখলাম আমাদের ডানদিকের একটি রিজলাইন এর কাছে ধুলোর মেঘ জমে উঠেছে। ঢাল বেয়ে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসছে পাথর এবং নুড়ি। আমরা হতবাক। হচ্ছে টা কি!

পরক্ষণেই, ধুলোর পর্দা বিচ্ছিন্ন করে, ঠিক এক গুচ্ছ তীরের মত আবির্ভূত হল একদল ভরাল্‌। কয়েক মুহূর্তে তারা নালা পার করে আমাদের দিকের ঢাল বেয়ে প্রায় ৫০০ মিটার উঠে থমকে দাঁড়াল। কিছু বোঝার আগেই, কথা নেই বার্তা নেই, ভরাল্‌ এর দলটি ফস্‌ করে অদৃশ্য হয়ে গেল রিজলাইনের আড়ালে। এই নাটকীয় পরিস্থিতির আকস্মিকতায় আমরা তখন নিস্পন্দ দর্শক।

আমাদের দিকে এই ঢালটি খুবই খাড়া। রিজলাইন এর ওপর দ্রুত পৌঁছনো সম্ভব নয়। না পৌঁছতে পারলে ভরাল্‌ ভালো করে দেখাও যাবেনা। সুতরাং কোনমতে হাঁচোড়পাঁচোড় করে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি আমরা ডোগ্‌ড়িটায় পৌঁছলাম। পৌঁছেই চোখে বাইনোকুলার লাগালাম। দলটায় ন’টি ভরাল্‌। তিনটি প্রাপ্তবয়স্ক মাদী, দুটি উপ-প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও চারটি সদ্যোজাত। তারা একটি বড়ো পাথরের গা থেকে লবণ চেটে চেটে খাচ্ছে। গ্রামের মেষপালক লবণ ছড়িয়ে রাখে ছাগল – ভেড়াদের খাওয়ানোর জন্য। বন্য তৃণভোজী প্রাণীরাও প্রাকৃতিক লবণের সাথে সাথে সুযোগ পেলেই এই কৃত্রিম লবণ খেতে আসে।

অবিলম্বে আমি পিঠের ব্যাকপ্যাক থেকে আমার একমাত্র অস্ত্র বার করলাম। লোব্‌জাং এবং শের সিকে অনুরোধ করলাম যেন তারা আমাকে অনুসরণ না করে। ভূখণ্ড পরিদর্শন এবং বায়ুর দিক বিচার করে আমি রিজের অপর দিকে নেমে যেতে লাগলাম। ভরাল্‌ এর নজর বাঁচানোর জন্যই এভাবে রিজের নীচের দিক দিয়ে ঘুরে যাওয়া।

প্রায় পনের মিনিট একই দিকে চলার পর আন্দাজ করলাম যে শেষবার যেখানে ভরাল্‌ এর দলটিকে দেখেছি আমি এখন নিশ্চয় তাদের ঠিক নিচে। তারপর আন্দাজ অনুসরণ করে ঢাল বেয়ে চড়তে থাকলাম দলটির দিকে যথা সম্ভব নিঃশব্দে প্রায় দশ মিনিট ধরে। এবার নিশ্চয় ওদের দেখা যাবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে। বিপুল আশা নিয়ে অতি সন্তর্পণে একটি বড় পাথরের আড়াল থেকে উঁকি মারলাম। নাহ্‌, দেখতে পেলাম না। আরো চড়তে হবে।

আমার সম্ভাব্য টার্গেটের প্রতি তেরছাভাবে এগতে থাকলাম। যখন মনে হল যথেষ্ট কাছাকাছি এসে যাওয়ার কথা এবং এবার অবশ্যই চোখের সামনে তাদের দেখতে পাব, একটি মোটামুটি বড় পাথরের আড়ালে গিয়ে পৌঁছলাম হামাগুড়ি দিয়ে। আবার খুব সাবধানে উঁকি দিলাম। এইবার আন্দাজ অব্যর্থ । আমার থেকে কুড়ি মিটার দূরে, লবণ চাটছে আর শান্তভাবে ঘাস খাচ্ছে ভরাল্‌গুলি। আকাশে তখন জড়ো হয়েছে গাঢ় ধূসর মেঘ।

উত্তেজনাপূর্ণ এই ৫০০ মিটার আরোহণে আমার কপাল ঘর্মাক্ত, এবং ব্যাপকভাবে হাঁপাচ্ছিলাম। আমি শান্ত হয়ে কিছুক্ষণ বসলাম এবং আবার বাতাসের গতিবিধি বুঝে নিলাম। বাতাস তখনো আমার পক্ষে। অর্থাৎ ভরাল্‌ এর দলের দিক থেকে আমার দিকে বইছে। তারা ঘুণাক্ষরেও আমার শরীরের গন্ধ ধরতে পারবে না। মিনিট দুয়েক বিশ্রামের পর আমি ভরাল্‌ দলটির আরো কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার বাম দিকে, আমার আর ভরালগুলির ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় কিছু পাথর স্তূপীকৃত হয়ে রয়েছে। কাঁটা-আগাছা এবং পাথুরে পৃষ্ঠের উপর হামাগুড়ি দিয়ে কোনমতে একটি পাথরের চাঁই এর আড়ালে লুকোলাম। এখন, আমি আমার লক্ষ্য থেকে মাত্র ১৫ মিটার দুরত্বে।

কয়েক মুহূর্ত জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে ভাবলাম এইবার কাজটা সেরেই ফেলি। আমার অস্ত্রও প্রস্তুত, এক সেকেন্ডে অনেকবার গজরাবার জন্য। কয়েক ইঞ্চি উঠে অতি সন্তর্পণে উঁকি মারলাম। আমি ভাগ্যবান, বা যথেষ্ট সতর্ক, বা উভয়ই। ভরালগুলি এখনও ঠিক সেখানেই। সদ্যোজাতগুলি তাদের মায়েদের পায়ে পায়ে তিড়িংবিড়িং করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনো লবণ চাটছে, কখনো বা ঘাস খাচ্ছে।

কিন্তু, একটা সমস্যা দেখা দিল। একটি পূর্ণবয়স্ক মাদী আমাকে দেখে ফেলেছে। সে আর আমি দুজনেই নিস্পন্দ। ভাল হত যদি নিঃশ্বাস – প্রশ্বাস ও বন্ধ করে দিতে পারতাম। বাতাসের চোটে আমার জ্যাকেটের হুড ফড়ফড় শব্দ করছিল। একবার যদি কোন কারনে ভরালগুলি সেটাকে বিপদ হিসেবে গণ্য করে, তাহলেই পরমুহূর্তে প্রাণের দায়ে ছুট লাগাবে।

প্রায় দুই মিনিট ধরে মন দিয়ে পরিদর্শন করার পর প্রাপ্তবয়স্ক মাদীটি নিশ্চিন্ত হল যে ভয়ের কোন কারণ নেই এবং আবার তৃণচারণে মনোযোগ দিল। ওই দুই মিনিট সময়ে আমার ডান হাতে ভারী অস্ত্র, বাম হাতটি হাওয়ায় ভাসছে এবং গোটা শরীরটা একটি বিশ্রী ভঙ্গিমায় নিথর করে রেখেছিলাম। আমার উভয় বাহুই ইতিমধ্যে অসাড়। যাই হোক না কেন আমি এই কঠিন এবং দীর্ঘ উপার্জিত সুযোগ কিছুতেই হারাব না।

খুব ধীরে ধীরে আমার বাঁ হাত দিয়ে অস্ত্রের নিচের অংশটা ধরলাম। অস্ত্র এতটুকু না নড়িয়ে নিশানা লাগালাম। ভরালগুলি অবিশ্বাস্য রকমের কাছে, যেন আমাকে শিকার করার পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে। চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নিলাম। পরিশেষে, ঠিক যখন আমি একেবারে প্রস্তুত, কিছু একটা তাদের গোচারণ তন্দ্রা ভেঙে দিল এবং সঙ্গেসঙ্গে তারা বিদ্যুতবেগে ছুট লাগাল।

bonerbharal06 (Medium)

ওদিকে রিজলাইনের প্রেক্ষাপটে গোধূলির আকাশে ঘন ধূসর-নীল মেঘ ঘনীভূত হয়ে উঠেছে, বইছে হিমশীতল বাতাস। আর এদিকে আমার চোখের সামনে চড়াই ঊষর ঢালে বজ্রপাতসম ভরালের দৌড়। আমি মরিয়া হয়ে অস্ত্র চালিয়ে দিলাম। একবার, দুবার, তিনবার। পরবর্তী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভরালের দলটি আমার থেকে

প্রায় ১০০ মিটার উঁচুতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো সোজা আমার দিকে তাকিয়ে। ‘কেমন দিলাম?’ – ভাবখানা যেন এমনি।

আমি আমার অস্ত্র অবিলম্বে পরীক্ষা করে দেখলাম। আমার ক্যামেরায়ে দৌড়রত ভরালের চমৎকার কয়েকটি ছবি এসেছে।

দ্রুত পাহাড়টা থেকে নেমে এলাম ডোগ্‌ড়ির দিকে। আমার মনে অনন্ত শান্তি। ডোগ্‌ড়ি পৌঁছে মহানন্দে শের সিং আর লোব্‌জাং কে ভরাল্‌ শিকারের গল্প বললাম অবিরাম জল পান করতে করতে।

হাঙ্গো ফেরার পথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি নামলো। আর তার সঙ্গে প্রবল বেগে হাওয়া। সন্ধ্যার অন্ধকারও ঘনিয়ে এসেছে। বৃষ্টির মধ্যে দূরে দেখা গেল হাঙ্গো মনাস্টারির ক্ষীণ কয়েকটি আলোর বিন্দু। শের সিং এর বাড়ির দোতলার উষ্ণ ঘর আর গরম গরম মাখন-চা তখন যেন আমাদের ডাকছে—

এই লেখাটির–

লেখক একজন ডক্টরাল স্কলার, ওয়াইল্ডলাইফ ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া, নেচার কনজারভেশন ফাউন্ডেশন। শীর্ষচিত্রঃ দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য (সিন্ধুনদীর তীরে হেমিয়া গ্রাম থেকে তোলা) বাকি সমস্ত ছবিঃ লেখক