বনের ডায়েরি-পাখি দেখা-৫ দোয়েল কোকিল ময়না অলোক গাঙ্গুলী শরৎ ২০১৯

আগের পর্ব ধনেশ, মাছরাঙা, মুনিয়া, কাজল পাখি

পাখি দেখা – ৫

অলোক গাঙ্গুলী

এই তিন পাখি—দোয়েল, কোকিল এবং ময়নাকে এবারের পঞ্চম পাখি দেখা পর্বে বেছে নিলাম কিছু তথ্য প্রদান করার উদ্দেশ্যে। অন্যান্য কিছু পাখি, যেমন কাক, পায়রা, ঘুঘু, ফিঙে জাতীয় পাখিদের মতন এরাও আমাদের মধ্যে বসবাস করে থাকে। তাই আমরা এইসব পাখিদেরকে সামাজিক প্রাণী হিসাবে ব্যাখ্যা দিয়ে থাকি। পার্থক্য কেবল এই তিন পাখিদের সুরেলা কন্ঠস্বর। আরও মিষ্টি ডাকের পাখি আছে আমাদের আশেপাশে, তবে তাদের নিয়ে পরে আলোচনা করা যাবে। এখন দোয়েল, কোকিল ও ময়নাকে নিয়ে আমরা একটু বিশদ আলোচনা করি।
অনেকেই মনে করতে পারে যে ময়না, সে তো জঙ্গলে থাকে, তাকে আমরা বাড়ির কাছে কোথায় পাব? আমরা অনেকেই যে পাখিকে জোড়ায় দেখে কপালে আর বুকে হাত ঠেকাই, অর্থাৎ তারা জোড়ায় থাকলে আমরা মনে করি যে আজ আমাদের দিনটা শুভ যাবে, সেই পাখিই হল গিয়ে ময়না পরিবারের সদস্য শালিক। ইংরেজিতে প্রচলন আছে যে এক হলে দুঃখ, দুইয়ে আনন্দ, তিনে পত্র ও চারে খেলনা (One for sorrow, two for joy, three for letter, four for toy)। এই দেখে এবং শিখে বড়ো হয়েছি। আজ জেনেছি এও একধরনের কুসংস্কার। শালিক দেখলেও অথবা না দেখলেও দিনটা যেমন যাওয়ার তেমনই যাবে। আমাদের সঙ্গে জীবনের পথ চলার এই শালিক পাখিও ময়না, স্টারলিং (Myna or Starling) পরিবারের অংশ। আরও একধরনের শালিক আমাদের এলাকাতেই দেখা যায়, তাকে আমরা গো-শালিক বলে থাকি। তবে আগের বর্ণনা দেওয়া শালিক হল সবথেকে পরিচিত শালিক।
এরপর আমরা পেয়ে থাকি এক ছোটো মিষ্টি পাখিকে। চড়াই পাখির থেকে একটু বড়ো, সাদা ও কালো রঙের আর লেজটাকে সমানে নড়াতে থাকে। এদের বলা হয় দোয়েল (Oriental Magpie Robin)। আর কোয়েল অথবা কোকিলের কোনও বর্ণনার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। ওর সুরেলা ডাকের সকলেই অন্ধ ভক্ত। বহু গান লেখা হয়েছে কোয়েলকে নিয়ে। যখনই গাছের ফাঁকফোকর থেকে ডাক দেয়, আমরা চেষ্টা করি ওকে খুঁজে বার করার। তবে স্ত্রী কোকিলের ডাক কিন্তু মোটেই সুরেলা নয়।
এবারের পর্বে এই তিন সুপরিচিত পাখিকে নিয়েই কিছু কথা লেখা যাক।
প্রথম পর্বে আমি লিখেছিলাম যে এই ২০১৮ সালকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকা এবং অন্যকিছু সংস্থা মিলে, যেমন ন্যাশনাল অডুবন সমিতি, আন্তর্জাতিক পক্ষী অস্তিত্ব ও কর্নেল ল্যাব অফ অর্নিথোলোজি (National Audubon Society, BirdLife International and the Cornell Lab of Ornithology) আন্তর্জাতিক পাখি-বর্ষ হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই পাখিদের আচার আচরণ সম্বন্ধে আরও বিশদ বিবরণ জানতে এই বছরের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকা অথবা ওদের ওয়েবসাইট http://www.ngm.com-এ লগ ইন করে পড়া যাবে পত্রিকাগুলি। প্রত্যেক সংখ্যায় বিভিন্ন প্রকারের ও দেশের পাখিদের নিয়ে থাকে বিশেষ আলোচনা।
এবারে ফিরে আসি পঞ্চম পর্বে। আমার পছন্দের পাখি হল দোয়েল। সুতরাং একে দিয়েই এবারের পর্ব আরম্ভ করা যাক। দোয়েল পাখি রবিন (Robin) পরিবারের একটি প্রজাতি মাত্র। এই প্রজাতির মধ্যে আছে সোনালি ঝোপ-শ্যামা (Golden Bush Robin), সাদা লেজ ঝোপ-শ্যামা (White tailed Robin) এবং নীল কপাল ঝোপ-শ্যামা (Blue fronted Robin)। কিন্তু বাংলায় কেবলমাত্র দোয়েল বলা হয় Oriental Magpie Robin-কে। প্রায় সব জায়গায় দোয়েল দেখতে পাওয়া যায়। পুরুষ দোয়েলের উপরিভাগ চকচকে নীলাভ-কালো। ডানা স্পষ্ট সাদা লম্বা দাগসহ কালচে বাদামি রঙের। লেজ কালো, তবে প্রান্ত-অংশ সাদা। স্ত্রী দোয়েলের দেহের কালো অংশগুলি বাদামি এবং ময়লা বালির মতো দেখায়। গাছের প্রাকৃতিক খোঁড়লে কিংবা ঝোপঝাড়ে এরা বাসা বাঁধে। সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় ঝোপঝাড়যুক্ত বন, বাগান, গ্রাম তথা লোকালয়ে এদের দেখতে পাওয়া যায়। মিষ্টি মোলায়েম শিস দেয়। লেজের ডগা নাচায়। স্থিরভাবে বসা অবস্থায় দোয়েলের লেজ মোরগের লেজের মতো দেখায়। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ দোয়েল খুব ভোরে এবং পড়ন্ত দুপুরে সুরেলা গলায় অত্যন্ত জোরে গান গায়। অন্য পাখির ডাকও এরা নকল করতে পারে। দোয়েল প্রধানত পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ খায়। এপ্রিল থেকে জুলাই মাস এদের প্রজনন ঋতু। স্ত্রী দোয়েল ৩—৫টি ডিম দেয়। সাধারণভাবে ডিমগুলি ফ্যাকাশে মনে হয়। তবে দোয়েলের ডিমের রং লালচে-বাদামি আভা ও ছোপযুক্ত নীলাভ-সবুজ হয়ে থাকে। স্ত্রী দোয়েল ডিমে তা দেয়। দোয়েল ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
আমাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রায়ই মেয়েদের নাম পাখিদের নামে রাখা হয়। আর তারা যদি যমজ হয় তাহলে নাম দোয়েল-কোয়েল হওয়া কিছু অস্বাভাবিক নয়। আর তাদের গলায় যদি সুর থাকে তবে তাদের নাম পরিপূর্ণতা পায়। পুরুষ দোয়েল প্রজননকালে খুব ভোররাত থেকে মিষ্টি সুরে শিস দিতে থাকে তার স্ত্রী সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য। আর সেই সুর ভোররাতে ঘুম ভাঙিয়েই ছাড়বে। তবে সেই ঘুম ভাঙানো সুর কখনওই বিরক্ত করে না। বরং থেমে গেলে মনে হয় যে ইস, আরও কিছুক্ষণ ওর ওই সুরেলা ডাক শোনাতে পারত না! আমার তো প্রায়ই এই সময় দোয়েলের ডাকে ঘুম ভেঙে যায়। একবার আমি রাত আড়াইটের সময় আমার মোবাইল ফোনে পনেরো মিনিট ধরে দোয়েলের শিস রেকর্ড করেছিলাম। এখনও তা আমার কাছে ধরা রয়েছে। আবার যেহেতু দোয়েল মাঝেমধ্যে অন্য পাখিদের ডাকও নকল করে তাই বিভিন্ন সময় সেই শিসের সুরও বদলায়। অবাক করা খেয়াল প্রকৃতির এই মধুর সৃষ্টির। আর একবার দোয়েল পাখিদের ডাক চিনে নিলে এদের চিহ্নিত করা খুব সহজ হয়ে যায়। এবার থেকে দোয়েলের শিস যেন কোনোপ্রকারে ফসকে না যায়।
আমার দ্বিতীয় পছন্দের পাখি অবশ্যই কোকিল। ঠিক দোয়েলের মতন এরাও বসন্তকালে ভোররাত থেকে ডাকতে থাকে। এই সময় ওদেরও প্রজননকাল, তাই স্ত্রী কোয়েলকে আকৃষ্ট করার জন্য রাত থেকেই সুরেলা কণ্ঠে ডাকতে থাকে সাথীকে। এখানে বলে রাখি, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে কোকিলের নামের আগে এশিয় (Asian) শব্দ উপপদ হিসাবে ব্যবহার করা হয় কারণ, এই পাখি সমুদয় কেবলমাত্র এই উপমহাদেশেই উপলব্ধ। পাখিটি ভারত, বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এদের সংখ্যা স্থির রয়েছে, আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়নি। সে কারণে আই.ইউ.সি.এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। এরা বাসা পরজীবী, অর্থাৎ পরের বাসায় ডিম পেড়ে চলে যায়, তাই এদের আরেক নাম পরভৃত। বাংলা ভাষায় কোকিল নিয়ে বেশ কিছু বাগধারা চালু আছে, যেমন কোকিলকন্ঠী মানে হল মধুর গানের গলা বিশিষ্ট, আবার বসন্তের কোকিল মানে হল সুসময়ের বন্ধু। প্রচলিত আছে যে কোকিল কাকের বাসায় ডিম পেড়ে চলে যায় যা একবারে সত্যি। আমার নিজের চোখে দেখা এক কাক গাছের ডালে বসে তার বাচ্চা কোকিলকে খাইয়ে দিচ্ছে। এরকম একটা বিরল মুহূর্ত আমি আমার মনের ক্যামেরায় বন্দি করে রেখেছি। আজ সুযোগ পেয়ে সকলকে জানালাম আমার অভিজ্ঞতার কথা।
এই পর্বের শেষ পাখি ময়না। এককথায় শালিক বলি, কারণ এই নামে সকলেই চেনে। ইংরেজি নাম কমন ময়না (Common Myna)। মূলত খয়েরি রঙের পাখি—মাথা, গলা ও বুক কালো। এরা আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সবজায়গাতেই দেখতে পাওয়া যায়। কোকিল, পাপিয়া (Common Hawk Cuckoo) এই শালিক পাখিদের বাসায় ডিম পেড়ে থাকে। আরও একরকম শালিক হল গিয়ে গাঙ-শালিক।

এরাও প্রায় সারা রাজ্য জুড়েই দেখা যায়। ডাক শালিকের মতোই, তবে একটু নরম স্বরে। মূলত ফিকে শ্লেট-ধূসর রঙের পাখি। মাথা, ডানা চকচকে কালো ও চোখের পেছনে পালকহীন ত্বক উজ্জ্বল কমলা। কালচে ডানার ধারে আর লেজের ডগায় ঘিয়ে-রঙা ছাপ বেশ পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ে। ঠোঁট, পা, কমলা ঘেঁষা হলুদ রঙের। এরা পাহাড়ি অঞ্চল বাদে প্রায় গোটা রাজ্য জুড়েই দেখা যায়।
ঝুঁট শালিক অথবা বুনো শালিক (Jungle Myna) মূলত শ্লেট-ধূসর রঙের পাখি, ঠোঁটের গোড়ায় ছোটো ঝুঁটি সমেত মাথা একেবারে চকচকে কালো। গলা থেকে বুকের দিকে ক্রমশ হালকা হয়ে যায়। এরাও পাহাড়ি অঞ্চল বাদে প্রায় গোটা রাজ্য জুড়েই দেখা যায়। এদের বিচরণক্ষেত্র মূলত চাষজমি, জলা জায়গা, ছোটো বাগান। জোড়ায় কিংবা দলেও ঘুরতে দেখা যায়। এদের চেহারা, হাবভাব সাধারণ শালিক অথবা গাঙ শালিকের মতন। কিন্তু এরা মানুষকে এড়িয়ে চলে। এছাড়া আছে বড়ো ঝুঁট শালিক (Great Myna)। এরা অনেকটা ঝুঁট শালিকের মতোই দেখতে, কিন্তু এদের স্থায়ী আবাসস্থল উত্তরবঙ্গের গরুমারা, জলপাইগুড়ি টাউন, আলিপুরদুয়ার এলাকার মধ্যে পড়ে। হাবেভাবে পুরোপুরি ঝুঁট শালিকের মতন।
আরও একধরনের ময়না আমরা আমাদের বাড়ির কাছেই দেখতে পেয়ে থাকি। এদের স্বভাব একটু মন দিয়ে লক্ষ করলে বেশ অদ্ভুত লাগে আমার। বেশ ঝগড়াটে মনে হয়। জোড়ায় পাশাপাশি বসে থাকলে খুব সুন্দর লাগে। মনে হয় মাথা নাড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথোপকথন চালাচ্ছে। একবারে সাদা-কালো রঙের পাখি। মাথা, গলা, বুকের ওপরভাগ কুচকুচে কালো। গলা জুড়ে বড়সড় চওড়া সাদা ছাপ। চোখ ঘিরে পালকহীন ত্বক উজ্জ্বল কমলা। ওপরে ডানা, পিঠ, লেজেও কালো, শুধুমাত্র কোমরের কাছে ধবধবে সাদা। পাহাড়ি অঞ্চল বাদে প্রায় গোটা রাজ্য জুড়েই দেখা যায়। বেশিরভাগ দলবদ্ধভাবে দেখা যায়, আর রাতে ঝাঁক বেঁধে বড়ো গাছে আশ্রয় নেয়। মাঝেমধ্যে বেশ মিষ্টি সুরেও ডাকে।
গোলাপি শালিক (Rosy Starling) দেখার সৌভাগ্য আমার এখনও পর্যন্ত হয়নি। এর ব্যাপারে যতটুকু জানি তা হল বই পড়ে। এরা পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা, সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে পরিযায়ী হয়ে আসে। ছবিতে দেখে বলা যায় এদের ঝুঁটি সমেত মাথা, গলা, ডানা আর লেজ চকচকে কালো, ঠোঁট সমেত বাদ বাকি ফিকে গোলাপি। এরা একা, জোড়ায় নয়তো ছোটো দলেও দেখা যায়। মাটিতে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি শিমুল, পলাশের মতন ফুল ধরা গাছগাছালি বেশ পছন্দ করে।
তেলে শালিক (Common Starling) প্রথম আমারে নজরে আসে কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে। ওখানকার বোটানিকাল গার্ডেনে দেখি মাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কালোর ওপরে সবজেটে বেগুনি চকচকে আভা, সঙ্গে সারা দেহে অসংখ্য ঘিয়ে সাদা ফুটকিতে ভরা। ঠোঁট পুরোপুরি কালচে। রোদ ঝলমলে পরিবেশে অপূর্ব দেখায়। আমার সৌভাগ্য যে আমার দর্শনের দিনটাও বেশ রোদ ঝলমলে ছিল। বোঝাই যায় যে এরা পাহাড়ি পাখি এবং পরিযায়ী। দলে থাকলে কিচিরমিচির করে, না হলে একা থাকলে খুব মিষ্টি সুরেও ডাকে।
ময়না প্রজাতির শেষ পাখি শঙ্খ শালিক (Brahminy Starling)। এর অপর নাম বামনি ময়না। ইংরেজিতে Brahminy Myna বা Brahminy Starling। বৈজ্ঞানিক নাম Sturnia pagodarum। এটি Sturnia গণের একটি প্রজাতি। আকার শালিকের মতো। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে এই প্রজাতির (Sturnia pagodarum) নামকরণ করেছিলেন Gmelin। এর অপর নাম Temenuchus pagodarum।

এরা গায়ক পাখি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এরা মূলত ভারত উপমহাদেশের পাখি। বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং নেপালে এদের প্রচুর দেখা যায়। এছাড়া শীতকালে শ্রীলঙ্কাতে এদের দেখা যায়। আর গ্রীষ্মকালে হিমালয় পর্বতমালার পশ্চিম এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলে দেখা যায়। এরা মূলত শুষ্ক বনভূমিতে বসবাস করে। এছাড়া এর মনু্ষ্য বসতি এলাকায় বাসগৃহ, মন্দির বা এই জাতীয় অট্টালিকার আনাচে-কানাচে থাকে। এরা পাঁচ-ছয়টি একত্রে দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে। এর মাথা কালো নরম পালকে আবৃত থাকে। দেখতে অনেকটা টুপির মতো মনে হয়। পুরুষ পাখির মাথার উপরের এই টুপি স্ত্রীর পাখির চেয়ে সুস্পষ্ট দেখায়। পুরুষ পাখির গলার নিচে লম্বা ঝুঁটি দেখা যায়। এদের শরীরের রঙ বিস্কুটের মতো। এদের ঠোঁট হলদে এবং ঠোঁটের গোড়া দিক নীলচে। চোখের মণি ঘোলাটে এবং চোখের প্রান্তভাগ জুড়ে নীলচে বলয় আছে। পায়ের রঙ হলদে। এদের লেজের পালকের রঙ সাদা। ডানার প্রান্তীয় অংশে কালো পালক আছে। এরা মূলত সর্বভুক। এরা গাছের ফল এবং কীটপতঙ্গ আহার করে। তবে এদের প্রিয় খাদ্য বটগাছের ফল। এদের প্রজননকাল মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস। প্রজননকালে উভয় পাখি বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরির ক্ষেত্রে এরা শুকনো খড়কুটো, পালক, ন্যাকড়া জাতীয় উপকরণ ব্যবহার করে। স্ত্রী পাখি এক সাথে ৩—৪টি ডিম পাড়ে। ১২ থেকে ১৪ দিন ডিমে তা দেওয়ার পর ডিম থেকে শাবক বেরিয়ে আসে। আমি প্রথম এর দেখা পাই দিল্লি শহরে। তারপর ঝাড়খণ্ড রাজ্যের টাটানগর শহরে। অত্যন্ত চমৎকার দেখতে এই পাখির দর্শন আমার কাছে প্রায় ঈশ্বর প্রাপ্তির সমান। এমনিতেই আমি মনে করি ঈশ্বর এইসব জীবজন্তুদের মধ্যে বসবাস করেন। এদের ঠিক মতন যত্ন নিতে পারলেই ঈশ্বরের সাধনা করা হয়। তার জন্য আর মন্দিরে গিয়ে পুজো না দিলেও চলে।
অর্থাৎ, এই পর্বটি পড়ার পর বাড়ির আশেপাশে পশুপাখিদের আর অবহেলা করা চলবে না। এমনিতেও ২০১৮ সালকে পাখি-বর্ষ হিসাবে ঘোষণা করা হলেও পাখিদের তেমন কোনও উপকার হয়েছে বলে জানা যায়নি। বরং শোনা গেছে, অনেক জায়গার থেকে পাখিদের আবাসস্থল উধাও হয়ে গেছে। বেশ কিছু পাখি লুপ্ত হয়ে গেছে, আর অনেক পাখি বিপন্ন। তাই বাড়ির আনাচে-কানাচে দেখতে পাওয়া পাখিরাও কিন্তু আর অবহেলার পাত্র নয়। গ্রীষ্মকালে ময়না, দোয়েল, কোয়েলের ডাকে পরিবেশ পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক সেটাই আমরা চাই।

আলোকচিত্রঃ লেখক

বনের ডায়েরি সব লেখা একত্রে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s