বনের ডায়েরি

পূর্ব হিমালয় বায়োডায়ভার্সিটি হট স্পটে অরুণাচল প্রদেশের বন->সংহিতা

bonanchollogo (Small)

পূর্ব হিমালয়ের বায়োডায়ভার্সিটি হটস্পটের সাধারণ চরিত্রের থেকে তার চরিত্র বেশ আলাদা তার পূর্বাংশে। এই পূর্বাংশ মূলত অরুণাচল প্রদেশের মধ্যেকার বন নিয়ে তৈরি। পুরো পূর্ব হিমালয় বায়্ডায়ভার্সিটি হট স্পটের এই অংশেই মানুষের বাস সবচেয়ে কম। ফলে এখানে বন আর তার বৈচিত্র্যও পূর্ব হিমালয় বায়্ডায়ভার্সিটি হট স্পটের অন্য এলাকার তুলনায় বেশি।

অরুণাচল প্রদেশের পুরো এলাকার ৯১.০৭% জমিতেই বনভূমি। তার মধ্যে মধ্যম ঘনত্বের বনই সবথেকে বেশি, গভীর ঘনত্বের বন ক্রমশ কমে যাচ্ছে ঝুম চাষের জন্য।

বনবিদ চ্যাম্পিয়ন ও শেঠের বর্ণনানুসারে ষোল রকমের বন আছে এই রাজ্যে। এই সব বনকে দশটা গোষ্ঠীতে ফেলা যায়। কারণ এখানে গাছেদের রকম-ফের অনেক। জীব বিজ্ঞানের ভাষায় বললে বলা যায় যে এই রাজ্যের বন উদ্ভিদ প্রজাতির বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ। এই সব গাছেদের মধ্যে পনের শ গাছ সপুষ্পক প্রজাতির। তাছাড়া আছে প্রিমুলাস, ভ্যান্ডা, লেডিস স্লিপার এবং আরও নানা ধরণের অর্কিড।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

লেডিজ স্লিপার

নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার বৈচিত্র্যে এখানে দেখা যায় সায়াথিয়া নামে ট্রি-ফার্ন, পঞ্চাশ প্রজাতির রডোডেনড্রন, ম্যাগনো- লিয়া এবং অন্যান্য    স-পুষ্পক উদ্ভিদ।    উদ্ভিদ প্রজাতির সৃষ্টি    প্রক্রিয়ার গবেষণা থেকে জানা গেছে যে পৃথিবীতে কলা গাছের উৎপত্তি ও বিস্তার হয়েছিল এই এলাকা থেকেই।

অরুণাচল প্রদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে মোট দুটি জাতীয় উদ্যান আছে। দুটির এলাকার বিস্তার মোট ২৩০ বর্গ কিলোমিটার। তাছাড়া এগারটা অভয়ারণ্যও আছে যাদের মিলিত বিস্তার ৭৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। আছে বাঘ সংরক্ষণের বিশিষ্ট দুটি বন। তার মধ্যে একটা হল বিখ্যাত নামধাপা  টাইগার রিজার্ভ। নামধাপা অবস্থিত চ্যাংল্যাং জেলাতে। অন্যটি স্বল্প পরিচিত পাখুই। তবে অরুণাচল প্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলো পশ্চিম সিয়াং আর আপার সিয়াং জেলার ডিবং উপত্যকা। এখানে ৫১১২ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে  রয়েছে ডিহং-ডিবং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।

এই এলাকার সবচেয়ে চমকপ্রদ আর গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হলো টাকিন বা মিশমি টাকিন। টাকিম আসলে হরিণ জাতীয় প্রাণী যা কেবলমাত্র এই অঞ্চলেই পাওয়া যায়।। ২৫০০ থেকে ৪০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে এদের বাস। এই এলাকাতে বাস করে ৪৫ প্রজাতির মথ আর প্রজাপতি, ছ রকমের বিষাক্ত সাপ আর নানান নির্বিষ সাপ।

এই এলাকায় সবমিলিয়ে ১৯৫টা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তাদের মধ্যে স্ক্যাটার্স মোনাল এবং ব্লিদস্‌ ট্র্যাগোপ্যান শুধুমাত্র পূর্ব হিমালয়ের একটা এলাকাতেই সীমাবদ্ধ, পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না এদের। আবার সারা পৃথিবীতেই নিতান্ত অল্প সংখ্যায় যে পেল ক্যাপড পিজিয়ন পাওয়া যায় তার কিছু এই অঞ্চলেও পাওয়া যায়। এই এলাকায় চোখে পড়ার মতো অন্যান্য পাখির প্রজাতি হলো টেমিন্‌কস্‌ ট্র্যাগোপ্যান, নেপাল কুটিয়া, পেল ব্লু ফ্লাই ক্যাচার, নানা ধরণের ছাতারে আর পিপিট। এই এলাকার সব থেকে নিচু বনে বাস করে বাঘ। তবে চিতার বাস নিরক্ষীয় থেকে ট্রিলাইন আবহাওয়ায়, ক্লাউডেড লেপার্ডের বাস আর্দ্র বনে মাঝারি উচ্চতা থেকে স্নোলাইন আবহাওয়ার মধ্যে, স্নো লেপার্ডের বাস ট্রিলাইনের ওপরে তুন্দ্রা ঘাসের এলাকায় যেখানে ব্লু শিপ থাকে। এই অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে রেড পান্ডা পাওয়া যায় ভারতের সীমা পেরিয়ে চিনেও। এই এলাকার অনেক উচ্চতার বনে থাকে মাস্‌ক ডিয়ার। তাছাড়াও এই রাজ্যের বনে থাকে ব্ল্যাক বিয়ার ও অন্য নানা প্রজাতির ভালুক, ভোঁদর, শিয়াল। আর পাওয়া যায় অসমীয়া বাঁদর, কাঠবেড়ালি, ভামও।

 আগে এপিসোডগুলো এই লিংকে পাবে