বন্ধুকুকুর চিকু সবিতা বিশ্বাস

চিকু

সবিতা বিশ্বাস

কিসমিস আর পেস্তার আপন মাসির ছেলে চিকু। নাম শুনে মনে হচ্ছে বোধহয় খুব চিৎকার চেঁচামেচি করে। আরে না,না,চিকু মোটেই সেরকম নয়। একেবারে লক্ষ্মী সোনা। সারাদিন একটা লাল বল নিয়ে খেলছে তো খেলছেই। কাউকে কিচ্ছু বলবেনা। শুধু খিদে পেলে ওর মাথা গরম হয়ে যায়। তখন তিতলির ঠাম্মির আঁচল ধরে টানবে। ঠাম্মি সেই সময় স্নান সেরে গোপালের পায়ে ফুল চন্দন দিচ্ছে। চিকুর আর তর সয়না। ঠাকুরঘরে ঢুকে পড়বে। আরে বাবা,পুজো শেষ হলেই ঠাম্মি দুধভাত মেখে দেবে। কে শোনে কার কথা! ঠাম্মির ঘাড়ে উঠে ডাকাডাকি করবে।

কী ভাবছ? দুধভাত খায়,মানে চিকু বেড়াল? মোটেই না,অনুমান পুরো ভুল। চিকু হল সবার আদরের কুকুর। ঠিক এদেশি নয় আবার পুরোপুরি বিদেশিও নয়। সে যাই হোক,সবাই ভালোবাসে চিকুকে। দিয়া,টুনাই,ভোম্বল,মুনিয়া সব্বাই। শুধু অর্ণব বাদ। দস্যি ছেলে একটা। চিকুও পছন্দ করেনা ওকে। করবে কেন? যখনই অর্ণব ঝুমুর মাসি মানে ওর মায়ের সঙ্গে তিতলিদের বাড়ি আসবে,একটা লাঠি দিয়ে চিকুকে জ্বালাতন করবে। তিতলি সেদিন রেগে গিয়ে অর্ণবকে বলেছে,তুই আসবি না আমাদের বাড়ি। মাগো! সেই নিয়ে কত কাণ্ড! তিতলিকে সবাই বকাবকি করল। আমি ওকে আদর করে দিয়েছি। চিকুও। চিকু ওর লাল জিভ দিয়ে তিতলির নাক চেটে দিয়েছিল। হি হি হি তখন যদি তিতলির হাসি দেখতে!

তিতলি স্কুলে যাবে। তিতলির মা স্কুটি বের করে ফেলেছে। ঠাম্মি ব্যাগে বই,খাতা,পেন্সিল,রাবার সব গুছিয়ে তুলছে। কিন্তু রাবার? সেটা কোথায়? নেই তো নেই। ব্যাগে নেই,টেবিলে নেই,কোথাও নেই। তিতলি স্কুলে ফেলে এসেছে,উঁহু সেকথা বলা যাবে না। কেননা কাল রাতেই নারকেল গাছের ছবি ভালো হচ্ছিল না বলে রাবার ঘষে ঘষে তুলেছে। সেটা করতে গিয়ে মায়ের কাছে বকাও খেয়েছে। খাতার পাতা ছিঁড়ে গেছে যে। তাহলে? রাবার কি ভ্যানিশ হয়ে গেল?

তিতলির গুবলু গুবলু গাল বেয়ে জলের ধারা নামছে। পাওয়া গেছে,পাওয়া গেছে,আরতি মাসি হাঁফাতে হাঁফাতে রাবার নিয়ে এলো। চিকুর কাজ। দাদুর ঘরের বারান্দায় রাবার নিয়ে খেলছিল। বাঁ পায়ের থাবা দিয়ে ডান পায়ের থাবায় তুলে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে গোল হয়ে ঘুরে। বাপরে! এত কিছু থাকতে তিতলির রাবার নিয়ে বাহাদুরি দেখাতে হবে? আমারও খুব রাগ হয়েছিল।  এমন আহ্লাদি চিকুটা,আমি তিতলিদের বাড়ি গিয়ে বসলেই আমার গা ঘেঁষে বসে কত কথাই যে বলে! তখন আদর না করে থাকা যায়? গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে বাবু আনন্দে গড়াগড়ি খাবে। 

আমাদের আর তিতলিদের বাড়ি একেবারে সামনা সামনি। তাই আমাদের ভাবও খুব। চিকুর গল্প শুনে নিশ্চয় দেখতে ইচ্ছে করছে। বেশ,তিতলি আর চিকুর একটা ছবি তোমাদের জন্য পাঠাচ্ছি। চিকুকে দেখে তোমাদেরও আদর করতে ইচ্ছে করবে। চিকুটা সত্যিই খুব মিষ্টি,একেবারে ধবধবে ফর্সা। শুধু কানদুটো কুচকুচে কালো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s