বন্ধুপুষি বিস্কুটখোর আর বড়বাবু প্রবাহনীল দাস

বিস্কুটখোর আর বড়বাবু

প্রবাহনীল দাস। ষষ্ঠ শ্রেণি। একমি একাডেমি। কালনা

সবার পুষ্যি আছে অথচ আমার নেই — চারমাস আগেও আমি তাই ভাবতাম৷ খুব ইচ্ছে হত কোনো পোষ্য রাখার৷ কিন্তু পোষ্য শুধু থাকলেই তো হয় না, তাকে সময়ও দিতে হবে৷ অথচ হাতে সময় নেই, তাই আর পোষ্য নেওয়া হয় না৷

একদিন সকালে উঠে গাছে জল দিতে গিয়ে দেখি, একটা বেড়াল রোদে বসে আছে৷ দেখে মনে হল ক্ষুধার্ত৷ বাড়িতে না ছিল মাছ, না ছিল দুধ৷ বাধ্য হয়ে হাতে একটা বিস্কুট নিয়ে ওর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম৷ মা বলল,

‘বেড়াল কি বিস্কুট খাবে?”

কিন্তু বিস্কুট ভেঙে দিতেই বিড়াল সানন্দে খেতে লাগল৷ আমরা তাজ্জব৷ সেই থেকে রোজই আসে ও পছন্দের ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুটই খায় — না মাছ, না মাংস, না দুধ৷

পরদিন সকালে দেখি খবরের কাগজ দিয়ে যায়নি৷ আমি ও মা মামাবাড়ি গেলাম৷ তিন ঘন্টার মধ্যেই ফিরে এলাম৷ এসে দেখি বারান্দায় দিয়ে যাওয়া খবরের কাগজের ওপর আয়েস করে মার্জার ঘুমোচ্ছেন৷ সেই থেকে সে রোজ রাত্রে এসে বারান্দায় ঘুমোয় আর সকালে উঠে বিস্কুট খেয়ে আবার চলে যায়৷ কিন্তু মজার ব্যাপার হল হুলোটাকে আজও মাছ বা দুধ খাওয়াতে পারিনি৷

আমার মামাবাড়ি আর আমার বাড়ি মাত্র দশ মিনিটের হাঁটা পথ৷ আমি স্কুল থেকে মামাবাড়িতেই ফিরি৷ পরে মা নিজের স্কুল থেকে এলে আমি বাড়ি ফিরি৷ রোজ মামাবাড়িতে আমার সঙ্গে দেখা হয় আর এক মার্জারের৷ তার সাদা শরীরের নাকের নীচে একটি কালো ছোপ, অনেকটা মানুষের গোঁফের মতো৷ দিদাই আর দিদাই তাই ওর নাম রেখেছে ‘হেড অফিসের বড়বাবু৷’

তা, নাম তার বড়বাবু ঠিকই কিন্তু আসলে সে একটা মেনি বিড়াল৷ রোজ যখন আমরা খেতে বসি তখন সে নেমে আসে পাশের বাড়ির পুরোনো চালের ওপর থেকে কুয়ো পেরিয়ে৷ তারপর শুরু হয় ‘মিঁউ’ ‘মিঁউ’ ডাক৷ যতক্ষণ না তাকে মাছের কাঁটা দেওয়া হয় ততক্ষণ সেই ডাক চলতে থাকে৷ তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হল কারো পায়ে বা টেবিল চেয়ারের গায়ে গা ঘষা৷ বিশেষ করে আমাকে দেখলে তো কথাই নেই৷ তার সব চেয়ে প্রিয় কথা বলার সঙ্গী হল দাদাই৷ আর ইংরেজি পড়তে সে ভালবাসে খুব। কেননা যখনই আমি ছুটির দিন মামাবাড়ির উঠোনে শতরঞ্জি পেতে ইংরাজি পড়তে বসি তখনই সে শতরঞ্জিতে উঠে বসে৷ যখন কোনো পাতা উল্টাই তখন সে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখে, আমি তাড়াতাড়ি পাতা উল্টে দিলে সে লেজ দিয়ে তাতে বাধা দেয়৷

এই দুজন সেই অর্থে আমার পুষ্যি না হলেও আমার অনুগত, কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের৷ 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s