বিচিত্র দুনিয়া বল্গাহরিণের খোঁজে অরিন্দম দেবনাথ শীত ২০১৭

অরিন্দম দেবনাথ – সব লেখা একত্রে

চরম আবহাওয়ায় দিন গুজরান করা বল্গাহরিণ চারণদারদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে ২০১৩ সালে ল্যান্ডরোভার ও রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি প্রদত্ত স্কলারশিপপ্রাপ্ত লন্ডনের একটি তিন সদস্যের অভিযাত্রী দল ফেলিসিটি এস্টনের  (Felicity Aston) নেতৃত্বে ভৌগোলিক সমীক্ষা করেন। চরম আবহাওয়ায় চলার উপযোগী ল্যান্ডরোভার ডিফেন্ডার গাড়িতে চেপে ‘রোড অফ বোনস’ ধরে এ অভিযান চলেছিল রাশিয়ার সাইবেরিয়ার সাখা প্রদেশে। লেক বৈকাল (Baikal) থেকে এই অভিযানের যাত্রাপথ ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলের সহর মাগদান (Magdan) পর্যন্ত  প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার লম্বা।

তাইগা (taiga) নামে পরিচিত ঘন জঙ্গলে আবৃত এই অঞ্চলে আনুমানিক দেড় লক্ষেরও বেশি বল্গাহরিণ চারণদারদের তত্ত্বাবধানে চরে বেড়ায়। আধুনিক সভ্যতা নামক প্রায় কোনও কিছু এখনও খুব একটা কলুষিত করেনি সাইবেরিয়াকে। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে গাড়ি চালিয়েও বরফের রাজ্যে একটিও বল্গাহরিণ বা তার চারণদারদের দেখা পায়নি দলটি। অভিযাত্রী দলটির দোভাষী সালভা জানিয়েছিল অভীষ্ট লক্ষ্যে সহজে পৌঁছানো যাবে না। কারণ হাইওয়ে দিয়ে চলতে থাকা ট্রাক ড্রাইভাররা হরিণ দেখলেই গুলি চালিয়ে মেরে ফেলে মাংসের জন্যে। তাই হাইওয়ে থেকে অনেক দূরে বরফের মাঝের জঙ্গলে থাকে  হরিণ ও তার রাখালরা। এদের খুঁজে বের করাটা দুরূহ।

এই অঞ্চলের সেরকম কোনও ম্যাপ নেই। ম্যাপের প্রয়োজনও পড়ে না কারও। কারণ, ওই একটি মাত্র রাস্তা ‘রোড অফ বোনসের’ ধারেই সব গ্রাম ও শহর।

সাইবেরিয়ার মাত্র কয়েকটি উপজাতির মানুষই হরিণ চরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। এদের মধ্যে উল্লেখ্য হল, ইভানি (Evani), দোলগান (Dolgan), ইভাঙ্কি (Evenki) এবং উকাঘির (Yukaghir)।

বল্গাহরিণের দলের খোঁজ করতে করতে ২০১৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি অভিযাত্রীরা পৌঁছলেন ‘রোড অফ বোনস’ ওরফে কলিমা হাইওয়ের ( Kolyma Highway) থেকে একশো কিলোমিটার দূরের এক গ্রাম, রাশিয়ার সাইবেরিয়ার সাখা (Sakha) রিপাব্লিকের ওমিয়াকন্সকি (Oymyakonsky) জেলার ওমিয়াকনে (Oymyakon)। এই গ্রামটি ‘পোল অফ কোল্ড’ নামে খ্যাত।

আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে, ১৯২০ সালে শীতকালে এই গ্রামের তাপমাত্রা নেমে গেছিল -৭১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এখনও পর্যন্ত নর্দার্ন হেমিস্ফিয়ারে মানুষের বসতি আছে এরকম একটি স্থানের এটাই নথিভুক্ত সবচাইতে কম তাপমাত্রা।

পৃথিবীর সবচাইতে শীতলতম প্রাচীন বসতি ওমিয়াকনে পেনের কালি জমে যাওয়া, ব্যাটারি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, মোবাইল ফোন কাজ না করা, জানালার কাঁচ মুখের চামড়ায় আটকে যাওয়া  হল দৈনন্দিন ঘটনা। সবচাইতে কষ্টকর হল শীতকালে মৃতদেহ কবরজাত করা। পাঁচশো বাসিন্দার এই গ্রামের লোকজন  শীতকালে কখনও গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে না। একবার বন্ধ হয়ে গেলে ইঞ্জিন পুনরায় চালু করা প্রায় অসম্ভব।

সমুদ্রতল থেকে সাতশো পঞ্চাশ মিটার উচ্চতার এই গ্রামটি তিন হাজার মিটারেরও বেশি উঁচু সব বরফ পাহাড়ে ঘেরা। ওমিয়াকনের সাইবেরিয়ান আদিম ধাঁচের কাঠের ঘরবাড়ি নিখুঁতভাবে প্রবল শীতের মোকাবিলা করার উপযোগী করে তৈরি। মূলত বল্গাহরিণ (rein deer) আর ঘোড়ার মাংস খেয়ে বেঁচে থাকা গ্রামের পাঁচশো বাসিন্দা অপুষ্টি কী জানে না। সমস্যাটা হয় পানীয় জল জোগাড় করতে। নদী থেকে চাক চাক করে বরফ কেটে বল্গাহরিণ টানা কাঠের স্লেজে চাপিয়ে বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখে গ্রামের বাসিন্দারা। তারপর সেই বরফ আগুনে গলিয়ে জোগাড় হয় পানীয় জল। গ্রামের কোনও বাড়ির ভেতরে বাথরুম নেই। প্রত্যেক বাড়িতে সামান্য আচ্ছাদন দেওয়া একটা করে বাথরুম থাকে বাগানের এক কোণায়। কারণ, প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জল ও সবকিছু নিমেষে বরফ হয়ে যাওয়ায় কোনওরকম নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

এই গ্রামে একটা কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ঠিকই। কিন্তু মাঝে মাঝে কয়লার জোগান কোনও কারণে বিঘ্নিত হলে বয়লার বন্ধ হয়ে গ্রামের বাড়িঘর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে যায় সাময়িকভাবে। নিশ্চল হয়ে যায় ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা। ঘরের ভেতর গরম রাখতে তখন কয়লা আর কাঠই ভরসা গ্রামবাসীর। এই নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই ওমিয়াকনবাসির। এরা তো সেই পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়ে এসেছে কী করে শীতের মোকাবিলা করতে হয়।

ওমিয়াকনে শীতকালে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ষাট ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরা ফেরা করে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা উঠে যায় আবার ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। ইন্দিগ্রিকা (Indigirka) নদীর তীরে এইরকম বেদম ঠাণ্ডার জায়গায় এই গ্রামটি গড়ে ওঠার কারণ হল একটি উষ্ণ প্রস্রবণ। ওমিয়াকন শব্দটার অর্থ হল ‘না জমা জল’ – নন ফ্রিজিং ওয়াটার। এই অঞ্চলে মূলত সাইবেরিয়ার বল্গাহরিণ চারণদাররাই চলাফেরা করে। আর হরিণদের জল খাওয়ানোর জন্যে সব হরিণ চারণদাররাই তাদের হরিণের পাল নিয়ে আসত এই উষ্ণ প্রস্রবণে। এছাড়া হরিণ শিকারি ও বরফ-নদীতে মাছ ধরিয়ের দলও ভিড় জমায় এখানে। ১৯২০ সালে তদানীন্তন সোভিয়েত সরকার শিল্পায়ন ও আধুনিক শিক্ষার ছোঁয়া না পাওয়া এই ভবঘুরেদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ওমিয়াকনে একটা পুরোদস্তুর গ্রাম বানিয়ে দিল। কাছাকাছি শহর ইয়াকুস্ক প্রায় সাতশো কিলোমিটার দূরে। দু’দিনের মোটর-পথ। সারা গ্রামে একটাই মাত্র দোকান। যাবতীয় জিনিস মেলে এই দোকানে।

এই গ্রামের কেউ শীতকালে মারা গেলে তাঁর কবর খোঁড়ার জন্যে প্রথমে ইস্পাত কঠিন বরফের ওপর কাঠ জ্বালানো হয়। তারপর বরফ একটু গললে একটা ছোটো গর্ত খুঁড়ে একটা ধাতব পাত্রে জলন্ত কয়লা ঢেলে বসিয়ে দেওয়া হয় ওই গর্তে। কয়লার উত্তাপে ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করে। খানিক পর পর ওই গলা জল তুলে ফেলা হয় আর আরও কয়লা জ্বালানো হতে থাকে ওই গর্তের ভেতরে। মোটামুটি দিনতিনেক লাগে মৃতদেহ কফিনজাত করে কবর দেবার উপযোগী একটা গর্ত করতে!

অভিযাত্রীরা যখন ওমিয়াকনে পৌঁছলেন তখন ওখানকার তাপমাত্রা ছিল -৫৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গাড়ির ভেতরের গরম থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যে শুকনো ঠাণ্ডায় অভিযাত্রীদের গলা শুকিয়ে যেতে লাগল। বিশেষ ধরনের মেরু অঞ্চলের পোশাকের ওপর চামড়ায় তৈরি স্থানীয় জুতো ও হাত মোজা পরেও অভিযাত্রীদের হাত-পা ঠাণ্ডায় নিঃসাড় হয়ে যেতে থাকল। অভিযাত্রীরা ক্রমাগত হাত-পায়ের আঙুল নাড়াতে লাগলেন রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে। এই ঠাণ্ডায় ধাতু ভঙ্গুর হয়ে যায়। জ্বালানি তেল জমে মোমের মতো শক্ত হয়ে যায়। রাবার শুকনো মাটির মতো ভেঙে যায়। অভিযাত্রীরা  ওমিয়াকনে পৌঁছেও খোঁজ পেলেন না বল্গাহরিণ চরিয়েদের।

এখানে শীতকালে মাত্র ঘণ্টা তিনেক দিনের হালকা আলো থাকে আর বাকি সময় রাত। গ্রীষ্মে আবার ঠিক উল্টোটা হয়।

রাতটা ওমিয়াকনে কাটিয়ে আবার যাত্রা শুরু করলেন অভিযাত্রীরা। চলেছেন পুবের অভিমুখে। ‘রোড অফ বোনস’ ধরে চলতে চলতে আচমকা অভিযাত্রী দলের দোভাষী সিলভা চিৎকার করে উঠল, “থাম।”

গাড়ি রাস্তার ধারে দাঁড়াতে সিলভা বলল, “আমি বরফের ওপর কিছু হরিণের খুরের দাগ দেখতে পেয়েছি।”

অভিযাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে বরফের ওপর খুব হালকা স্লেজ ও হরিণের পায়ের ছাপ দেখতে পেলেন। ভাগ্যের ওপর ভরসা করে অভিযাত্রীরা রাস্তা ছেড়ে বরফের ওপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে এগোতে লাগলেন। কিন্তু বরফের ওপর সেই ছাপ এতই অস্পষ্ট যে অভিযাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে কঠিন ঠাণ্ডায় বরফের ওপর দিয়ে হেঁটে সেই ছাপ খুঁজে খুঁজে এগোতে লাগলেন। পেছন পেছন বরফে চলার উপযুক্ত গাড়ি আসতে লাগল। অভিযাত্রীরা ঘণ্টা খানেকেরও  বেশি সময় ধরে হাঁটতে হাঁটতে উপত্যকার মাঝামাঝি বরফে ঢাকা গাছের জঙ্গলে পৌঁছে গিয়েও কিছু দেখতে পেলেন না। এর আগেও একবার খানিক উড়ো খবর পেয়ে অনেক বরফ রাস্তা পেরিয়ে বল্গাহরিণের দলের দেখা পাননি অভিযাত্রীরা। হতাশ হয়ে অভিযাত্রীরা যখন আবার মূল রাস্তায় ফেরত আসবেন আসবেন করছেন, তখন আলো-আঁধারিতে নজরে এল অনেক দূরে উপত্যকার প্রায় শেষে গাছপালার মাথা ছাড়িয়ে হালকা কাঠ পোড়া ধোঁয়ার রেখা উঠছে।

অভিযাত্রীরা ধোঁয়া লক্ষ করে এগিয়ে দেখতে পেলেন গাছের ফাঁকে একটা পিরামিড আকৃতির তাঁবু খাটানো। দু’জন লোক তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। চামড়ার দড়িতে বাঁধা ভয়ংকর হয়ে ওঠা দুটো কুকুর, বাঁধন ছিঁড়ে ছুটে আসতে চাইছে। কুকুরের চিৎকারে খান খান হয়ে উঠছে বরফের নিস্তব্ধতা।

তাঁবুর বাসিন্দারা বাইরের লোকের উপস্থিতি কীভাবে নেবে ভাবতে ভাবতে কুকুরের হিংস্রতা উপেক্ষা করে তাঁবুর কাছাকাছি পৌঁছতে অভিযাত্রীদের সমস্ত সংশয়কে কাটিয়ে তাঁবুর দরজা খুলে ধরে হাসিমুখে ভেতরে যাবার ইশারা করল লোক দু’জন। তাঁবুর ভেতর একটা জ্বলন্ত কাঠের উনুনের পাশে এক মহিলা বসে কড়াইতে মাংস রান্না করছিলেন। একটা চর্বির প্রদীপ জ্বলছিল তাঁবুর ভেতরে। অভিযাত্রীরা ভেতরে ঢুকতে মহিলা নিজের পরিচয় দিলেন ‘মারথা’ বলে। বসতে বললেন পুরু খড়ের ওপর বিছানো একটা বল্গাহরিণের চামড়ার ওপর।

অভিযাত্রীরা ভাবলেন যে তাঁরা ভুল সময়ে এসেছেন। এটা নিশ্চয়ই হরিণ চারণদারদের রাতের খাবার সময়। ভুল ভাঙল অচিরেই যখন দোভাষী সিলভা জানাল যে তাদের খাবার তৈরি। এখন খেতে শুরু করলেই হয়। বহুদূর থেকে গাড়ির আলো দেখতে পেয়েই মারথা খাবার বানানো শুরু করে দিয়েছিল। ইভানি উপজাতির মানুষরা ভয়ংকর আবহাওয়ার দেশে খাবার দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানায়।

মারথা ছাড়া এই তাঁবুর আর দুই বাসিন্দা হল মারথার স্বামী নিকোলাই ও আরেক হরিণ চারণদার সারগি।

জ্বলন্ত উনুনের তাপে চামড়া থেকে তৈরি তাঁবুর ভেতরটা সবসময় খুব গরম থাকে। এই আগুন কখনও নেভানো হয় না। নিভলেই বিপত্তি। ছুঁচলো তাঁবুর ওপরে একটা ছোট গর্ত থাকে ধোঁয়া বেরনোর জন্য।

কড়াই থেকে মগে করে গরম মিষ্টি চা পান করতে করতে অভিযাত্রীরা শুনছিলেন নিকোলাইদের কথা। এই রুক্ষ অতি ভয়ংকর শীতের রাজ্যে শয়ে শয়ে হরিণের পাল চরিয়ে বেড়ানো হরিণদের একটারও মালিক নন এঁরা। সমস্ত পশুর পালের ওপর অধিকার একমাত্র রাষ্ট্রের। হরিণ প্রতিপালন করার জন্য হরিণপিছু একটা নির্দিষ্ট অর্থ পান এঁরা। কোনও কারণে পালে হরিণের সংখ্যা কমে গেলে অনেক অর্থ জরিমানা দিতে হয়। আবার পালে নতুন শাবক জন্মালে বেশি অর্থ জোটে। যেহেতু বল্গাহরিণ দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়, তাই দলছুট হয়ে হরিণের সংখ্যা কমে যাবার কোনও সম্ভবনা নেই। হরিণ মেরে ফেলে নেকড়ের দল। এগারোটা নেকড়ের দল এই অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই প্রতিদিন গিয়ে গিয়ে হরিণের পালকে দেখে আসতে হয়। এই নেকড়েগুলো এত ধূর্ত যে এদের চোখে দেখতে পাবে না। কুকুর আর মানুষের আনাগোনা টের পেলে দূরে পালিয়ে যায় এরা। শুধুমাত্র বরফের ওপর এদের পায়ের ছাপ আর আধখাওয়া হরিণের দেহ এদের উপস্থিতি জানান দেয়। গেল বছর অনেকগুলো হরিণ মেরে ফেলেছিল নেকড়ের দল। আক্ষেপ করছিল নিকোলাই।

পরদিন নিকোলাই অভিযাত্রীদের তাইগাতে নিয়ে গেল হরিণের দল দেখাতে। অভিযাত্রীরা গিয়ে বরফে আবৃত ধূসর গাছপালার মাঝে খুরের আওয়াজ আর কিছু চলাফেরার আবছা আভাস ছাড়া কিছু দেখতে পেলেন না। অজানা মানুষের পায়ের আওয়াজ পেতে জন্তুগুলো আরও দূরে সরে যেতে লাগল। ম্যাজিক শুরু হল নিকোলাই মুখ দিয়ে একটা অদ্ভুত শব্দ করতে থাকার পর। হরিণের দল আর সরে না গিয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বরফ খুঁড়ে ঘাস আর গাছের পাতা খেতে লাগল।

অভিযাত্রীরা দেখলেন, শক্তিশালী পেশিবহুল বেশ কয়েকটা হরিণের গলায় চামড়ার ফিতে দিয়ে একটা ছোটো ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র বসানো। জি.পি.এস ট্র্যাকার, জানাল নিকোলাই। একটা স্যাটেলাইট টেলিফোনও তাঁবুতে আছে। বল্গাহরিণ চরিয়েরা আধুনিক সভ্যতা থেকে শুধু অতি প্রয়োজনীয় অংশটুকু নিয়েছে। আর বাকিটা রেখে দিয়েছে সেই আদিকালে।

দুপুরবেলা সারগি এক হরিণে টানা হাতে তৈরি কাঠের স্লেজে চেপে চলল কয়েক কিলোমিটার দূরে চারণরত মূল হরিণের পালের দেখভাল করতে। হরিণে টানা স্লেজের গতি খুব কম। অভিযাত্রী দলের নেত্রী ছ’ফুট লম্বা ফেলিসিটি এস্টন সারগিকে বলল, “যখন তোমরা স্যাটেলাইট ফোন, জি.পি.এস ট্র্যাকার ব্যবহার করছ, তখন  একটা স্নো-বাইক নিচ্ছ না  কেন? এতে তো খুব তাড়াতাড়ি যাতায়াত করতে পারবে!”

সারগি হেসে উত্তর দিয়েছিল, “বরফে স্নো-বাইকের ইঞ্জিন সবসময় চালু রাখা কঠিন। কিন্তু বল্গাহরিণ সবসময় সচল।”

বিচিত্র দুনিয়া–সব এপিসোড একসঙ্গে

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s