বিশ্বের জানালা মওলিননং উমা ভট্টাচার্য বর্ষা ২০১৬

বিশ্বের জানাল আগের পর্বগুলো একত্রে

biswerjanala57 (2) (Medium)

পূর্ব খাসি পাহাড়ের কোলে ঈশ্বরের বাগান  গ্রাম ঘুরে এসে উমা ভট্টাচার্যের রিপোর্ট

অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার -‘ঈশ্বরের নিজের বাগান’ বলে খ্যাত  মওলিননং গ্রামটিকে দেখব এবারের জয়ঢাকের ‘বিশ্বের জানালা’ পথে। উত্তরপূর্ব ভারতে ‘সেভেন সিস্টারস স্টেটস’ বলে খ্যাত সাতটি রাজ্যের মধ্যে একটি মেঘালয় রাজ্য। এই রাজ্যের পূর্ব খাসি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম মওলিননং। একদিন জানলাম যে এই উপজাতি অধ্যুষিত ছোট্ট গ্রামটিই “এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম”-এর  মর্যাদা পেয়েছে ২০০৩ সালে।‘ডিসকভার ইণ্ডিয়া ম্যাগাজিন’এর সদস্যদের বিশেষ পর্যবেক্ষণের পর এই সম্মান পেয়েছিল গ্রামটি। “ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম”-এর মর্যাদা পেয়েছে তারপরে, ২০০৫ সালে। খবরের শিরোনামে উঠে আসার পরে গ্রামটি উঠে আসে পর্যটকদের ভ্রমণতালিকায়।

ইউরোপীয় অ্যাংলিকান চার্চের মিশনারিরাই ‘মওলিননং’ গ্রামে প্রথম শ্বেতাঙ্গ আগন্তুক। তাঁরা যিশুর বাণী প্রচারের জন্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মত উত্তর-পূর্ব ভারতের নানা রাজ্যেও ঘুরছিলেন। মেঘালয়ের নানা জায়গা ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসেছিলেন  ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে।

সভ্য ইউরোপীয়দের কাছে যারা ‘ওয়ার পিপল’ বলে পরিচিত ছিল তাদের এঁরা আপন করে নিলেন। এখানকার অধিবাসীদের সুখদুঃখের সাথী হয়ে তাঁরা এদের উন্নতির সহায়কও হলেন। গ্রামের মানুষদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন, শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। এখানে স্থাপন করেছিলেন একটি চার্চ, যেটি এখনও এখানকার একমাত্র ধর্মপ্রতিষ্ঠান।

একদিকে ধূসর পাহাড়ের শ্রেণীর গা থেকে শুরু করে চারিদিকে সবুজের সমারোহের মাঝখানটিতে অবস্থিত গ্রামটি। পরিচ্ছন্নতা এখানকার গ্রামবাসীদের ঐতিহ্য । ভারত বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় সীমানার ধার ঘেঁসে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত গ্রামটি শিলং থেকে  ৯০ কিলোমিটার দূরে। কমিউনিটি পরিচালিত এই গ্রামের বাসিন্দারা সরকারী সহায়তায় গ্রামটিকে একটি ‘ইকো ট্যুরিজম স্পট’ হিসাবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট।

‘পিনসারসালা’ বা ‘পিনসুরসালা কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট ব্লক’-এর অধীনে এই গ্রাম। কৃষি বাদে এই গ্রামের মানুষদের জীবিকা পর্যটন নির্ভর। প্রতিদিন প্রায় দু’শোর বেশি পর্যটক এই গ্রাম দেখতে আসেন। বিদেশী পর্যটকের সংখ্যাই বেশি। কেউ রাস্তায় আবর্জনা ফেললে তাঁকে বিনাদ্বিধায় সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে দেন গ্রামের যে কোনও মানুষ। তাঁদের গ্রামের পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার সুনাম রক্ষা করতে বাসিন্দারা বদ্ধপরিকর।    

biswerjanala57 (3) (Medium)

গ্রামের চারদিকে সবুজের সমারোহ। কালচে সবুজ, টিয়া সবুজ,পান্না  সবুজ,নানা  রকম সবুজ গাছপালায় সাজানো ছবির মত একটি গ্রাম। কালো পিচঢালা রাস্তার একপাশে গাড়ি পার্কিং করার জায়গা। রাস্তাঘাট ঝকঝকে। কোথাও পানের  পিক, থুথু, ছেঁড়া কাগজের টুকরো বা পলিথিনের আবর্জনার কোনও অস্তিত্ব নেই রাস্তায় বা গ্রামের ত্রিসীমানায়। রাস্তায়  কোনও আবর্জনা পড়লে, গাছের পাতা ঝরে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলে দেয় গ্রামের বাচ্চাবুড়ো যেকোন মানুষ। রাস্তার মাঝেমাঝেই  রয়েছে ময়লা ফেলবার পাত্র। সবই জৈব পদার্থে তৈরি। কাঠ বা বাঁশের তিনটি খুঁটির ওপর রাখা আছে বাঁশের  চাঁচাড়ি থেকে তৈরি তিনকোণা ডাস্টবিন। সেখানেই ফেলে দেয় রাস্তার আবর্জনা। এইসব ডাস্টবিন থেকে জৈব আবর্জনাগুলি  সংগ্রহ করে সেগুলি দিয়ে গ্রামবাসীরা জৈব সার তৈরি করে ব্যবহার করেন চাষের ক্ষেতে।   

ঢালু জমির পূর্বদিকে ক্রমশ উঁচু হয়ে চলা পাথুরে এলাকা জুড়ে গ্রামের বাড়িঘর। গ্রামে ঢোকার মুখেই একটি বাগান,বেড়া দিয়ে ঘেরা,তাতে আছে নানা জাতের গাছ। গোলকধাঁধাঁর মত রাস্তা চলে গেছে নানাদিকে।একটি রাস্তা ধরে চলতে থাকলে দুপাশেই দেখা যাবে বাড়িঘর। ঢালু রাস্তা ক্রমশ উঁচু হতে হতে  ঢুকে গেছে গ্রামের ভিতরে। নানাদিকে রাস্তা গেছে,আর দুইধারে বাড়িঘর। বাগান আছে প্রতি বাড়িতে। গ্রামের বাড়িঘর বাঁশ ও টিনের তৈরি। চেরা বাঁশের পাটাতনের ঘরের মেঝে, সেও বাসিন্দারা মুছে পরিস্কার করে রাখেন। প্রতিটি বাড়িতেই আছে বিরাট বিরাট পাথরের চ্যাপ্টা চাঁই। প্রায় প্রতিটি চাঁইতেই আছে তিনটি করে ছোট্ট গর্ত, কোনটিতে আবার  দুটো গর্ত। যে গর্তগুলি একটু বড়ো সেগুলিতে জল ধরা আছে। এখনও হয়ত এগুলি হাত ধোয়ার জলের জন্য এরা ব্যবহার  করে ।

biswerjanala57 (6) (Medium)

গর্তগুলি দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল আদিমকালে যে মানুষেরা এখানে বসবাস করত, হয়ত ঘসে ঘসে এই গর্তগুলি তৈরি করেছিল নিজেদের প্রয়োজনে।পরে শুনেছি এগুলি  আগ্নেয়গিরি থেকে উৎক্ষিপ্ত বিশাল বিশাল পাথরের চাঁই। হয়তো একের পর এক  বিস্ফোরিত আগ্নেয় পদার্থের আঘাতেই এই গর্তগুলি তৈরি। কিন্তু প্রতি চাঁইতে দুটি বা তিনটি প্রায় সমান আকারের গর্ত মনে প্রশ্ন রেখেই যায়, এগুলি মানুষের তৈরি বলে মনে হয়। 

গ্রামের ভিতরের দিকে জমি ক্রমশ উঁচু হয়ে গেছে। বিরাট বিরাট পাথরের নানা আকারের চাঁইয়ের সঙ্গে আছে এক বিরাট ‘ব্যালান্সিং রক’। একটি বিরাট পাথরের ওপর আর একটি বিরাট পাথর আশ্চর্যভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে, কোন অজানা কাল থেকে  কেউ জানে না। তবে এখন সেটির নীচে ঠেকা দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রামের মধ্যে কোনও গাড়ি চলে না।বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নির্বিঘ্নে রাস্তায় খেলা করছে।  

গ্রামের মাঝে একজায়গায় আর একটি নতুন স্কুলবাড়ি তৈরি হচ্ছে,জানালা দরজা  এখন তৈরি হয়নি। সেখানেই ক্লাস চলছে। শিক্ষিতের হার  একশো শতাংশ। অধিকাংশ গ্রামবাসীই ইংরেজিতে কথোপকথনে সক্ষম। পর্যটননির্ভর হয়ে বেঁচে  থাকতে হলে, আধভাঙা হিন্দি ছাড়াও ইংরেজি যে বিশেষভাবে জানা প্রয়োজন সেকথা গ্রামের মানুষ উপলব্ধি করেছেন।  কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নির্মল ভারত অভিযান’ প্রকল্পের সুযোগের, আর বরাদ্দ অর্থের পূর্ণ সদ্বব্যহার করেছেন কমিউনিটির সদস্য গ্রামের মানুষ। গ্রামের  প্রতি বাড়িতেই তৈরি করে নিয়েছেন  শৌচাগার। ছেলেমেয়েদের স্কুল থেকেই শেখানো হয় পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষার অঙ্গ হিসাবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার প্রজেক্ট করানো হয় ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে। বর্তমানে এই গ্রামে ৯৫টি  পরিবার মিলিয়ে  প্রায় ৫০০  জন মানুষের বাস। চারিদিকে ঘুরতে ঘুরতে উপলব্ধি করলাম যে এখানে শব্দদূষণও নেই। সবাই মৃদুভাষী। শুধু আছে পাখির কাকলি, বাতাসে গাছের পাতার দোলন  আর শুকনো  পাতা ঝরার শব্দ, পাহাড়ি ঝোরার শব্দ এইসব।

গ্রামের পশ্চিমদিকে একটু এগোলেই নীচের দিকে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য নজরে পড়বে। গ্রামের ভিতরে কিছু বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা আছে,(হোম স্টে)। তবে খাবারে দোকান গ্রামের বাইরে, গ্রামের পশ্চিমদিকে। সেখানে গাছপালাঘেরা খোলা পরিবেশে ছোটো ছোটো  চালাঘরের হোটেল। সারি সারি বেঞ্চ আর চেয়ার পাতা। পর্যটকেরা সেখানে  বসেছেন পংকতি ভোজনে। কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন খাবার জায়গা খালি হবার অপেক্ষায়। মেনু হল ডাল,ভাত,আলুভাজা,মাছ বা মাংস।

প্রত্যেকে খেয়ে উঠে বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় দোকানির ধরে রাখা জলপাত্র থেকে জল নিয়ে প্রয়োজন মত খরচ করছেন,হাত ধুতে হচ্ছে একটি নালিতে। জল বাইরে পড়ছে না।জায়গা অপরিষ্কার করবে না,জলের অপচয় কেউ করবে না, দোকানী সবিনয়ে সেকথা জানিয়ে দিয়েছেন গ্রাহকদের,কারণ সেখানে পানীয় জল আর পরিষ্কার জল অপ্রতুল। খাবার জায়গায় কিছু পড়ে গেলে সঙ্গেসঙ্গেই তুলে নিচ্ছেন কাজের মেয়েরা, মুছে নিচ্ছেন খাবার জায়গা,পরের বারে যারা খাবেন তাঁদের জন্য ব্যবস্থা করছেন।কাজে ফাঁকি নেই,আর হাঁকডাকও নেই।যন্ত্রের মত কাজ করে চলেছেন হোটেলের মহিলা কর্মীরা। 

প্রতি বাড়িতেই বৃষ্টির জল ধরে রাখার (রেন হার্ভেস্টিং)ব্যবস্থা আছে। পরিচ্ছন্নতার রক্ষার আদর্শের সঙ্গে এঁরা জলের সংরক্ষণ বিষয়েও   সচেতন। এখানকার ‘খুরি’ নদীর জলসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ক্রমোন্নতি হলে গ্রামে জল সরবরাহের  সুবিধা হবে। বিদ্যুতের ব্যাপারেও গ্রামের মানুষ স্বনির্ভর থাকার চেষ্টা করছেন।এঁরা প্রধানত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। প্রত্যেক বাড়িতেই আলাদা আলাদা সোলার প্যানেল বসানো আছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। সরকারী সংস্থা আর ডি এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহায়তা নিয়েই এই ব্যবস্থা হয়েছে।      

biswerjanala57 (1) (Medium)মেঘালয়ের খাসিদের  সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারে মেয়েরাই বেশি কাজ করে। মেয়েরা মিলেই চালায় দোকানপাট। হোটেলগুলির মেয়েদের পরিধানে মলিন পোশাক,কিন্তু হাসিমুখে খদ্দেরদের পরিবেশন করছেন,কেউ বা বাসন ধুয়ে ফেলছেন।প্লাস্টিক বা থার্মোকলের ব্যবহার বররন করে চীনেমাটির সাধারণ থালাবাটি ব্যবহার করছেন খাবারের দোকানিরা আর পানীয় বলতে বোতলের জল।

খালি বোতল,বা লজেন্সের কাগজ ফেলতে হবে ডাস্টবিনে।কেউ নিয়ম ভাঙেন না। টয়লেটও খুব পরিষ্কার,সেখানেও কর্মচারীরা পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখছেন।এত পরিষ্কার যে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। সেটা সম্ভব করেছেন এখানকার মানুষেরা।

গ্রামের কাছেই আছে প্রকৃতির আর এক আশ্চর্য বিস্ময় ‘প্রাকৃতিক রুট ব্রিজ’।প্রকৃতি দেবীর  কারিগরী দক্ষতার এক বলিষ্ঠ প্রমাণ। গ্রাম দেখে এবার সেইদিকে যেতে যেতে তুমি ভাববেই, এমন করে থাকতে পারলে কত না ভালো হত! এই গ্রামের কাছ থেকে সবারই শেখা দরকার সমবেত প্রচেষ্টায় মানুষ কী করতে পারে।

একনজরে কিছু তথ্য—

খাসি ভাষায় মওলিননং কথার আক্ষরিক অর্থ ‘এ ক্লাস্টার অফ স্টোনস্‌’- পাথরের জাঙ্গাল। খাসি ভাষায় ‘মও’ কথার অর্থ পাথর,আর  ‘লিননং’ কথার অর্থ আগ্নেয় পর্বত থেকে উৎক্ষিপ্ত গর্তওয়ালা পাথর  খণ্ড।  

পূর্ব খাসি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত। সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা প্রায় ৪৯০৬  ফুট।

গ্রামটি চলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। গ্রামের সব মানুষে সব বিষয়ে অংশ নিতে পারেন।

রাস্তায় কেউ ময়লা ফেললে, রাস্তা নোংরা করলে,বা অনুমতি না নিয়ে গাছ কাটলে আর্থিক দন্ডের ব্যবস্থা আছে।

স্কুলেই পরিবেশ সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে বিশেষ পাঠক্রমের ব্যবস্থা আছে। পরিবেশ সচেতনতার জন্য,পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর বিশেষ পাঠ্যবই আছে। গাছের যত্ন নেওয়া, গাছ লাগান শিক্ষার্থীদের প্রজেক্টের অঙ্গ।

এখানে  পতঙ্গভুক কলসপত্রী গাছও আছে। খাসি ভাষায় এরা এই গাছকে বলে ‘টিউ রাকোট’ মানে ‘ ডেমন ফ্লাওয়ার বা দৈত্য ফুল’,কেউ বা বলে ‘মেমাং কোসি’ মানে ‘বাস্কেট অফ ডেভিল- শয়তানের বাক্স’।

এখানে যে গোলাপ ফুল ফোটে সেগুলি এখানে এনেছিলেন অ্যাংগ্লিকান চার্চের ধর্মপ্রচারকরা, ওয়েলস্‌ থেকে।

পাহাড়ের ঢালে আছে বহু প্রাচীন গাছপালা। টিক্‌,শাল,পাইন,নানাজাতের  বাঁশ, বেত, নানাজাতের (আখ জাতীয়) সুস্বাদু সরস বৃক্ষ, রাবার গাছ, নানা ধরনের  গুল্ম, ঔষধি গাছ আর প্রায়  তিনশো ধরণের অর্কিড।

biswerjanala57 (5) (Medium)

আছে অসংখ্য  সুপারি গাছের বাগান। এছাড়া আছে রাস্তার ধারে ধারে  ‘ব্রুমগ্রাস’এর খেত। এগুলি থেকে ফুলঝাড়ু তৈরি হয়। সরু লম্বা গাছের ডগায় থাকে গাছের পরিপক্ক শীষগুলি-দেখতে লাগে অনেকটা ফুলের মত।

অক্টোবর থেকে এপ্রিল মওলিননং-এ বেড়ানোর উপযুক্ত সময়। বৃষ্টিবহুল জলবায়ু। সারা বছরই একটি শীতল আবহাওয়া বজায় থাকে। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল-তাপমাত্রা থাকে ১৫ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে।জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষাকাল। জুন মাসের গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১১৬২ মিলিমিটারের মত। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি শীতকাল-তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও নিচে চলে যায়।

খাদ্য আমাদের মতই ভাত, ডাল,মাছ, মুরগির মাংস, ফল,মধু।

ছেলেরা প্যান্টশার্ট পরলেও মেয়েরা ঘরে-বাইরে সর্বত্র জাতীয় পোশাকের ধারাটি বজায় রেখেছে। এই পোশাকটির নাম ‘জেইনসেম’। উর্ধ্বাঙ্গে একটি ব্লাউজ, অধোবাস একটি গাউন জাতীয় পোশাকের ওপর একটি লম্বা কাপড় জড়িয়ে নেয়। যেটির এক কোন বাঁদিকের কাঁধ থেকে নেমে ডানহাতের নীচ দিয়ে পিছনের  দিকে নিয়ে গিয়ে বাঁদিকের কাঁধের ওপর গিঁট দিয়ে বাধা থাকে।স্বচ্ছলতা অনুযায়ী সেই পোশাকের  কাপড়ের মানও ভালোমন্দ হয়ে থাকে।     

এখানকার অধিকাংশ মানুষই খ্রিস্টান।