বিশ্বের জানালা

ত্রিপুরা

উমা ভট্টাচার্য

bhugoltripuramap (Medium)বিশ্বের জানালা পথে এবারে দেখব আমার ভারতের একটি আঞ্চলিক রাজ্য ত্রিপুরাকে। ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট্ট,সুন্দর ছবির মত রাজ্য ত্রিপুরা। স্বাধীনতার আগে,অনেক অনেক আগে থেকেই ত্রিপুরার এলাকা ছিল এখনকার বাংলাদেশের অনেকখানি অংশ নিয়ে। তখন কোন রাষ্ট্র ছিলনা। রাজ্যের এলাকা নির্ভর ছিল সেখানকার রাজশক্তির বাহুবলের ওপর। যে রাজা যখন যতটা দখল করতেন তখন সেইসব অন্য রাজ্যের এলাকা তার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত। সেই সময় থেকেই বিশাল অঞ্চল জুড়ে ছিল ত্রিপুরার অবস্থান।  

    ত্রিপুরার নাম নিয়ে অনেক মিথ আছে। সংস্কৃতে ত্রিপুরার অর্থ তিনটি নগরের সমষ্টি। অনেকে বলেন ত্রিপুরার আদি নাম ছিল ‘ডাহন’ দেশ। কেউ বলেন ত্রিপুরার অধিষ্ঠাত্রী দেবী ত্রিপুরাসুন্দরীই এই নগরের সৃষ্টি করেন। ত্রিপুরি ‘ককবরক’ভাষীদের মতে নামটি হল টুইপ্রা বা তিপরা নগরী। ককবরক ভাষায় ‘টুই’ মানে জল,আর ‘প্রা’ মানে কাছে। কথার অর্থ ‘সমুদ্রের সন্নিকটে’ অবস্থিত দেশ। এখানে যারা বাস করত তারা তিপরা জাতির মানুষ,যারা পরে ত্রিপুরি বলে পরিচিত হয়। নিজেদের বাসভূমির এই নাম তারা দিয়েছিল বোধ হয় এই কারণে-

অতীতে ত্রিপুরার সীমানা এখনকার বাংলাদেশের দক্ষিণ দিকের সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল,তাই সমুদ্রের সন্নিকটের দেশ –তিপরা নাম হয়েছিল। দূর অতীতে ত্রিপুরার উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের রাজাদের রাজ্যসীমা গারো পাহাড় থেকে আরাকান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।   

ত্রিপুরার ইতিহাস ধরা আছে ‘রাজমালা’ নামক বইয়ে। ঐতিহাসিকেরা বলেন ত্রিপুরার রাজবংশ শান জাতি থেকে সৃষ্টি। ত্রিপুরার আদি বাসিন্দা ত্রিপুরীরা আসলে তিব্বতি-ব্রহ্ম আদিবাসী ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ। চীনের ‘ফা’ জনজাতির মানুষ। এরা ইয়াংসিকিয়াং আর পীত নদীর উপরের দিকের,অর্থাৎ বর্তমান চীনদেশের পশ্চিম   অঞ্চল থেকে আসাম উপত্যকায় ঢোকে,তারপর ক্রমশ আরও দক্ষিণ দিকে বসতি বিস্তার করে। এরা রাঙামাটিতে,(বর্তমান নাম উদয়পুর)রাজধানী স্থাপন করেছিল। এরা ছিল  প্রকৃতিপূজক,বনজীবী,যাযাবর আদিবাসী মানুষ।

এই গোষ্ঠীর মধ্যে ১৯টি আদিবাসী উপগোষ্ঠী আছে।যারা সকলেই এখনো ত্রিপুরার বাসিন্দা।কোচ,মেচ,গারো,রিয়াং,লুসাই,মগ,চাকমা,হালম,কুকি প্রভৃতি উপজাতি উপগোষ্ঠী এখানে বাস করে। আদিবাসীদের মত এরাও পশুপালক,যাযাবর,আর বনজীবি ছিল আদিতে।তাই হয়তো মহাভারতে ত্রিপুরাকে বলা হয়েছে ‘কিরাতভূমি’। পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরিদের একটি প্রভাবশালী ও শক্তিশালী পরিবার ‘দেববর্মণ’ রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠা করেন। এঁরাই প্রায় দু’হাজার বছর ধরে এখানে রাজত্ব করেন।পরে এই রাজারা ‘মানিক্য বংশ’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন। রাজমালায় লিখিত নথিতে এই বংশের ১৭৯ থেকে ১৮৪ জন রাজার  নাম পাওয়া যায়। তাতেই প্রমাণ হয় এই দেশ কত পুরোন।  

    ত্রিপুরার রাজাদের ‘মাণিক্য’ উপাধি দিয়েছিলেন মুগিসউদ্দিন তুগ্রিল খাঁ। তিনি বাংলার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রাজ্যগুলিকে কর দিতে বাধ্য করেছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে ত্রিপুরার সিংহাসনে ছিলেন রাজা ‘দান-কুরুফার’ ছোটো ছেলে ‘রত্ন-ফা’। কিন্তু তাঁর অন্য ভাইরা তাঁকে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেয়। তিনি গৌড়ে চলে আসেন,ও তুগ্রিল খাঁ-র আশ্রয়ে চার বছর বাস করেন। তিনি তুগ্রিল খাঁকে ১০০ হাতি ও প্রচুর মাণিক্য নজরানা দিয়েছিলেন। সেসবের মধ্যে খুব বড়ো আর উজ্জ্বল একটি ‘মাণিক’ ছিল। সেটি পেয়ে খাঁ সাহেব এত খুশি হয়েছিলেন যে ‘রত্ন-ফা’কে ১২৭৯ সালে ‘মাণিক্য’ উপাধি দিয়েছিলেন। তারপর রত্ন-ফা আবার রাজ্য ফিরে পাওয়ার পর থেকে এই বংশের রাজারা ‘মাণিক্য’ উপাধি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

bhugol02 (Medium)

    পাহাড়,বনানী ঘেরা সুন্দর উপত্যকাময় ত্রিপুরার প্রকৃতির কোলে ধীরে গড়ে ওঠা দেশটির সৌন্দর্য আর উৎকর্ষ উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছিল এখানকার মিশ্র ঐতিহ্যের মানবসম্পদ আর তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্ংমিশ্রণে। প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসাবে আছে দেশটিতে বিভিন্ন দর্শনীয় প্রত্নস্থল। সেগুলি ছড়ানো আছে,আধুনিক ত্রিপুরার চারটি জেলার সবকটিতেই। দক্ষিণ ত্রিপুরায় আছে দেওতামুড়া পাহাড় আর পিলাকের প্রাচীন বৌদ্ধস্থাপত্যের প্রত্ননিদর্শনস্থল,এখানেই উদয়পুরে আছে রাজপরিবারের আরাধ্যা দেবী ত্রিপুরেশ্বরীর মন্দির,প্রাচীন রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ, সিপাহজলার অভয়ারণ্য। পশ্চিম ত্রিপুরায় আছে সোনামুড়া পাহাড়ের দর্শনীয় স্থান,মধ্যে আছে ধলাই জেলা। আগরতলায় আছে রাজাদের পরবর্তীকালের রাজপ্রাসাদ-উজ্জয়ন্ত প্যালেস। এই প্যালেসের এক অংশে আছে রাজ্য মিউজিয়াম, কাছেই আছে প্রাচীন আরাধ্য দেবতা শ্রীকৃষ্ণের মন্দির। সেখানে দীর্ঘ সন্ধ্যারতির সময় এখনো রাজপরিবারের কেউ না কেউ বড় করতাল বাজিয়ে যান,সঙ্গে থাকে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রিক ঢাক। সেই পুরাতন ঐতিহ্যকে এখনো এঁরা ধরে রেখেছেন।   

bhugol06 (Medium)ত্রিপুরার সবচেয়ে অবাক করা দর্শনীয় স্থান আছে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ‘উনকোটি’ পাহাড়ে। সেখানকার পাহাড়ের দেওয়ালের গায়ে খোদাই করা আছে বিশাল কালভৈরবের মুখ,আছে শান্ত শিবের মূর্তি,আছে বিক্ষিপ্ত জটাজাল ছড়ানো বিশালচক্ষু রুদ্র ভৈরবের মুখ। আছে শিবের সহচরী দেবীদের বাহনসহ মূর্তি। আছে গনেশ প্যানেলে চার হাতওয়ালা বিনায়ক গণেশের মূর্তি,ছয় হাতওয়ালা গণেশের মূর্তি,আছে আট হাতওয়ালা গণেশ মূর্তি,তার পাশেই চতুর্ভুজ নারায়ণের মূর্তি। আছে কামদেবের মূর্তি,আছে দেবদাসী মূর্তি,আছে পাথর কেটে তৈরী মহাদেবের বাহন ষাঁড়ের মূর্তি,পিঠ তার নানা ভাস্কর্যে সাজানো। আছে ধর্মঠাকুরের প্রতিরূপ কচ্ছপের মূর্তি। এরও পিঠে নানা মঙ্গলচিহ্ন খোদিত। সবই কঠিন পাথরের গায়ে খোদাই করে তৈরি। আর সব মূর্তির পোশাক,গহনা,মুকুট,কোমরবন্ধনী,সব কিছুতেই আদিবাসী ঐতিহ্যের ছাপ। কত কী যে আছে এখানে ছড়ানো তা নিজের চোখে না দেখে এলে বলে বোঝানো যাবে না। এইসব মূর্তিতে ব্যবহৃত সব মোটিফ,চিহ্ন,ত্রিকোণ,চতুষ্কোণ চিহ্ন,লম্বালম্বি-আড়াআড়ি স্ট্রাইপ, গহনার ডিজাইন,সবই এই অঞ্চলের শুধু নয় সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের জনজাতির পোশাকে,গহনায় ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। আরণ্যক পরিবেশে পাহাড়ের গায়ের এই ভাস্কর্য এক গা-ছমছমে অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি করে। তীব্র আকর্ষণে ধরে রাখতে চায় স্তব্ধ অতীতকে।  

সংক্ষেপে কিছু তথ্য-

 ভারতের পুর্বাঞ্চলে চারদিক স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা বর্তমান ত্রিপুরার চারদিক ঘিরে আছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সীমা। আন্তর্জাতিক সীমার ৮৩৯ কিলোমিটার বাংলাদেশের সীমা,৫৩ কিলোমিটার জাতীয় সীমা আসামের ও ১০৯ কিলোমিটার জাতীয় সীমা মিজোরামের সঙ্গে।

রাজ্যটির ভূমিতলে রয়েছে আড়াআড়িভাবে পরস্পরের সমান্তরালে বিস্তৃত ৫টি পাহাড়ের সারি। বড়োমুড়া,আঠারোমুড়া,লংথারাই,শাখান,জাম্পুই এই ৫টি দীর্ঘ পাহাড়ের শুরু উত্তর-পশ্চিমে, বাংলাদেশের সিলেট(শ্রীহট্ট) অঞ্চল থেকে। পাহাড়গুলি পশ্চিম থেকে পুর্বে ক্রমশ উঁচু হতে হতে গিয়ে মিলেছে দক্ষিণ-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় শ্রেণীতে। দুই সমান্তরাল পাহাড়ের মাঝে মাঝে অবস্থিত উপত্যকায়,পাহাড়ের ঢালে আছে জনবসতি। রাজধানী আগরতলা পশ্চিম ত্রিপুরার এক পাহাড়ি উপত্যকার মাঝের সমতল ভূমিতে অবস্থিত।

bhugol03 (Medium)ভারতের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য,আর উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় জনবহুল রাজ্য ত্রিপুরার আয়তন ১০.৪৯২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১২ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩৬৫৮ মিলিয়ান। জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ আদিবাসী, শিডিউলড ট্রাইব। আদি অধিবাসীদের সংখ্যা ক্রমে কমে এসেছে,আর জনস্ফীতি ঘটেছে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের ফলে বাংলাদেশের শরণার্থীদের আগমনে। ১৯টি জনজাতি,কিছু মণিপুরী আর বাংলাদেশীদের নিয়েই এখনকার ত্রিপুরার মিশ্র জনসমাজ। শিক্ষিত মানুষের হার খুবই ভালো। পুরুষদের মধ্যে ৮৭.৮% ও মহিলাদের মধ্যে ৮৩.২% শিক্ষিত। ত্রিপুরার স্থানীয় ভাষা ত্রিপুরী,ককবরক,ও বাংলা। স্কুল কলেজও অনেক।   

চিরদিনের স্বাধীন ত্রিপুরা,মুঘল শক্তিও যাকে অধীন করতে পারেনি,সেই ত্রিপুরা ইংরেজ আমলে হয়েছিল করদ রাজ্য। স্বাধীনতার পর ১৯৫৬ সালে হয়েছিল ভারতের কেন্দ্রশাসিত রাজ্য,১৯৬৩ সালে নির্বাচিত সরকার পেয়েছিল। ভারতের একটি পূর্ণ রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিল ৩৫ বছর পরে ১৯৭২ সালের ২১ শে জানুয়ারিতে।

অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। রাজ্যের ৬৪% মানুষ কৃষিতে নিযুক্ত। বাঙালিদের মতই এখানকার খাদ্যাভ্যাস। অন্যান্য ফসলের মধ্যে আছে আনারস,কমলা,কাজুবাদাম,  কাঁঠাল,নারকেল,চা আর রবার। দীর্ঘ রাস্তার দুপাশে অন্য গাছগাছালির মতই আছে  রবার গাছের বাগান। গাছের গায়ে দাগ কেটে তার নীচে নারকেলের আধখানা মালা বেঁধে রাখে রস জমবার জন্য। বিকেলে  সেগুলিতে জড়ো হওয়া আঠা সংগ্রহ করে।  

bhugol06 (2) (Medium)

ঘরোয়া পদ্ধতিতেই অনেক মানুষ ছোট ছোট রবারের চাদর তৈরি করে, রাস্তার ধারে দড়ি বা বাঁশ টাঙিয়ে সেগুলি রোদে দেয়,শুকোলে সেগুলি কারখানায় পাঠায়। বাঁশের কাজের জন্যও ত্রিপুরা প্রসিদ্ধ,এই শিল্প থেকেও প্রচুর মানুষের জীবিকার সংস্থান হয়।   

এখানে আছে প্রায় ৯০ রকমের স্তন্যপায়ী স্থলচর প্রাণী। যাদের মধ্যে আছে  হাতি,ভালুক,গাউর,চিতা,বার্কিংডিয়ার,সম্বর,সজারু,ক্লাউডেড লেপার্ড, বনবিড়াল, বাঁদর, হনুমান। ভারতে যে ১৫ রকম প্রাইমেট(বাঁদর,হনুমান প্রভৃতি) প্রজাতি দেখা যায় তার মধ্যে ৭টিই আছে ত্রিপুরার বনাঞ্চলে। উদ্ভিদের মধ্যে শাল,বাঁশ,বেত,রবার আর তৃণভূমি প্রধান। গাছপালায় চারদিক সবুজে সবুজ। পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট। গ্রামাঞ্চলে লালমাটির উঁচু জমিতে মানুষ টিনের  ঘর তৈরি করে। মাটি কেটে ঢালু রাস্তা করে নেয় বাড়িতে পৌঁছুতে। শহরাঞ্চলে সবই পাকা বাড়িঘর।  

ত্রিপুরার সংস্কৃতির এক বিশেষ অঙ্গ নাচ। ভিন্ন ভিন্ন উপজাতির নিজস্ব নৃত্যধারা বজায়  আছে এখানে,যা বিভিন্ন পার্বণের সময় প্রদর্শিত হয়। নিজ নিজ ঐতিহ্যের পোশাক,গহনায় সজ্জিত হয়ে এরা নাচ করে। বাংলার মত উনকোটিতেও চৈত্রসংক্রান্তিতে অনেক লোকসমাগম হয় শিবের পূজার জন্য। বাঙালিদের অনুষ্ঠানের মধ্যে ধামাইল, কীর্তন,মনসামঙ্গলের সমবেত গানও মিশে গেছে ত্রিপুরার সংস্কৃতিতে। ‘গড়িয়া’দেবতার পূজা উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় উপজাতীয় ‘গড়িয়া নৃত্য’। বাংলা নববর্ষে যেমন গণেশ পূজা করে হালখাতা হয় তেমনি একই সময়ে ত্রিপুরায় হয় ‘গড়িয়া’ পূজা। সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় বসন্ত উৎসব,বাংলা নববর্ষ,বিহু উৎসব,দুর্গাপূজা,রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী,সুকান্তজয়ন্তী, শচীনদেববর্মণ জয়ন্তী,রথযাত্রা। সবই সরকারী সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। সবমিলিয়ে এক ঝলমলে রাজ্য আমাদের ত্রিপুরা। সবকিছু মিলিয়ে ত্রিপুরা যেন বিভিন্ন স্তরীয় সংস্কৃতির এক মোজাইক চিত্র।