বৈজ্ঞানিকের দপ্তর ক্লোরোফিল চোর সৌম্যকান্তি জানা শীত ২০১৭

সৌম্যকান্তি জানা

পূর্ণিমার চাঁদের জ্যোৎস্নালোকিত রাত। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এক সন্ন্যাসী হেঁটে চলেছেন। হঠাৎ রাস্তার ওপর পায়ে কিছু একটা জিনিস লেগে তিনি হোঁচট খেলেন। নীচু হয়ে দেখেন একটা মাথার খুলি। এই নিবিড় জঙ্গলের মধ্যে নরমুন্ড এলো কোথা থেকে? এখানে কী তাহলে একসময় জঙ্গল ছিল না? না কি কেউ খুন করে এই জঙ্গলে দেহ পুঁতে দিয়েছিল? কিন্তু তা কেন হবে? এখন তো খুন-খারাবি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, কারণ মানুষের খাওয়ার চিন্তাটাই নেই। বাঁচতে গেলে চাই শক্তি। আর শক্তি আসে খাবার থেকে। এখন তো খাবার নিয়ে কাউকে কিছু ভাবতেই হয় না! আর তাই মানুষে-মানুষে লড়াই ব্যাপারটা নেই বললেই চলে! তাহলে? সন্ন্যাসী বড়ো চিন্তায় পড়লেন। আচ্ছা, মাথার খুলির মালিককে নতুন জীবন দিলে কেমন হয়? সন্ন্যাসী মৃত মানুষকে পুণর্জীবন দেওয়ার বিদ্যা জানেন। কিন্তু গুরুর নির্দেশে সে-বিদ্যা কখনও প্রয়োগ করেননি। সন্ন্যাসীর সেই বিদ্যা ওই খুলির ওপর প্রয়োগ করার প্রবল ইচ্ছা হল। তিনি খুলিটার সামনে বসে মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করলেন! ধীরে ধীরে সেই খুলির ভেতর থেকে বেরতে শুরু করল ধোঁয়ার কুন্ডলী। আর আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ থেকে যেমন বেরিয়ে আসত দৈত্য ঠিক তেমনই খুলি থেকে বেরিয়ে এল আস একটা মানুষ! তার গা খালি। পরণে একটা গামছা।

নবজন্ম পেয়ে লোকটা তো অবাক! সে বলে, “আমি জঙ্গলে এলুম কী করে? আমি তো মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলুম রাস্তা দিয়ে। পথে ডাকাতেরা আমার সব লুঠ করে নিল। তারপর আমার মাথায় কী একটা সজোরে এসে পড়ল। আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলুম।”

সন্ন্যাসী বুঝলেন লোকটি বহু যুগ আগের কথা বলছে। তখন চোর-ডাকাত ছিল। এখন ওসবের উপদ্রব নেই। কিন্তু সন্ন্যাসী কী করে তাকে বোঝাবে যে সে তার পুণর্জন্ম দিয়েছে? লোকটি সন্ন্যাসীকে জাপটে ধরে বলে উঠল, “তুমিই ডাকাত। আমার সব লুঠ করে নিয়েছো। সব এক্ষুনি ফেরৎ দাও। আমি মেয়ের বাড়ি যাব!”

সন্ন্যাসী পড়লেন মহা ফ্যাসাদে। অনেক বোঝালেন। কিন্তু লোকটি মানতে নারাজ যে তার পুণর্জন্ম হয়েছে। তার ধারণা সন্ন্যাসী মিথ্যে বলছে। নাচার সন্ন্যাসী বাধ্য হয়েই বললেন, “ঠিক আছে। তুমি চলো আমার সাথে। আমি তোমার যা যা লুঠ হয়ে গেছে সব ফিরিয়ে দেব, আর তোমার মেয়ের বাড়িতেও তোমাকে পৌঁছে দেব।”

সন্ন্যাসীর সাথে লোকটি হাঁটতে লাগল। জঙ্গল পার হয়ে তারা এসে পড়ল গ্রামে। বাড়ি ঘর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এ কী! সবই তো পাকা বাড়ি! একটাও মাটির বাড়ি নেই! চারিদিকে প্রচুর গাছ-গাছালিতে ঘেরা। পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত দিগ্বিদিক। কোথায় গেল ধানের ক্ষেত? একটাও সবজি বাগান নেই! হঠাৎ লোকটির নজরে আদুড় গায়ে কিছু ছেলে রাস্তায় খেলছে। একী! ওদের সবার গায়ের রঙ সবুজ কেন? সবুজ আবির মেখেছে? এতক্ষণ সে সন্ন্যাসীর মুখ ভালো করে লক্ষ্য করেনি। সন্ন্যাসীর মুখ-হাত-পা সবই তো সবুজ! কিন্তু মানুষের সবুজ রঙ তো কখনও হয় বলে সে জানে না! ফর্সা, কালো, শ্যামলা হয় জানে। কিন্তু সবুজ! গ্রাম ছাড়িয়ে ক্রমশঃ তারা পৌঁছে গেল একটা বাজারে। এ কী! বাজারের সব পুরুষ ও মহিলার রঙ সবুজ! আরও অবাক কান্ড! বাজারে একটাও খাবারের দোকান নেই! অথচ তার খিদেতে পেটে আগুন জ্বলছে। সে সন্ন্যাসীকে বলল, “আমাকে এক্ষুনি একটা খাবারের দোকানে নিয়ে চল, আমি খাবো।”

সন্ন্যাসী হাসলেন, “তা কোথায় পাবে? খাবার তো মানুষ নিজেরাই তৈরি করে নেয় তার দেহে। শুধু একটু রোদ পেলেই হল। দেখছো না, সব লোক সকাল হতেই রোদে ঘোরাঘুরি করছে। আমাদের চামড়ায় আছে ক্লোরোফিল নামে একটা কণা, যার সাহায্যে আমরা আমাদের খাবার নিজেরাই তৈরি করে নিই।” লোকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। সন্ন্যাসী বলে কী! এও কী সম্ভব! সন্ন্যাসী নিশ্চয়ই তাকে ভেলকি দেখাচ্ছে! ক্ষেপে গিয়ে লোকটি সন্ন্যাসীর গলা টিপে ধরল, “এক্ষুনি আমাকে খাবার দে, নইলে তোকে আজ আমি মেরেই ফেলবো। মিথ্যুক!”

ঘুমটা ভেঙে গেল তুতানের। নিজের বাম হাতটা কীভাবে গলার উপর এসে পড়েছে। ওঃ এতক্ষণ তাহলে সে স্বপ্ন দেখছিল। স্বপ্নে তুতান নিজে হয়ে গিয়েছিল সন্ন্যাসী। কিন্তু সবুজ-রঙা মানুষ ব্যাপারটা কী? তুতান কিছুক্ষণ চোখ কচলে স্বপ্নটা আবার ভাবার চেষ্টা করল। সবুজ মানুষ। তারা উদ্ভিদের মতো আলোর উপস্থিতিতে খাবার তৈরি করতে পারে। আর তাই চাষবাস বন্ধ। বাজারে খাবারের দোকানও নেই। আচ্ছা, এমন আজব স্বপ্ন সে দেখল কেন? ওঃ হো, তুতানের মনে পড়ল কয়েকদিন আগেই তার স্কুলে জীবনবিজ্ঞানের স্যার একটা অদ্ভুত সামুদ্রিক প্রাণীর কথা বলেছিলেন যে নাকি সত্যি উদ্ভিদের মতো নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে নিতে পারে। তার রঙ সবুজ ও তার দেহে ক্লোরোফিল উপস্থিত। বিজ্ঞানীরা কিছুদিন হল শামুকজাতীয় ওই প্রাণীটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পূর্ব উপকূলের অগভীর জলে আবিষ্কার করেছেন। স্যার ক্লাসে ওই শামুক নিয়ে অনেক গল্প করেছিলেন। বাড়ি ফিতে তুতান সেই সব কথা বার বার ভাবছিল ও  বিস্মিত হচ্ছিল।  আর তাই তুতান এমন সবুজ মানুষের স্বপ্ন দেখেছে।

তুতানের স্কুলের স্যার ওই অদ্ভুত শামুক নিয়ে ক্লাসে কী বলেছিলেন এবার একটু জেনে নেওয়া যাক। এই শামুকটির রঙ এক্কেবারে সবুজ। দেহ ইঞ্চিখানেকের মতো লম্বা হবে। এর গমন অঙ্গের নাম প্যারাপোডিয়া। প্যারাপোডিয়াকে দেহের দুপাশে প্রসারিত করে একটু একটু করে নাড়াতে নাড়াতে জলের মধ্যে দিয়ে সে যখন যায় তখন দেখে মনে হয় যেন একটা সবুজ পাতা জলের মধ্যে দিয়ে ভেসে চলেছে। পাতায় যেমন শিরা-উপশিরা থাকে, ঠিক তেমনই এর প্যারাপোডিয়াতেও শিরা-উপশিরা থাকে। শামুকটির কোনও খোলক নেই। খোলকহীন শামুককে ইংরেজিতে বলে স্লাগ (Slug) । এই স্লাগের বিজ্ঞানসম্মত নাম এলিসিয়া ক্লোরোটিকা (Elysia chlorotica)। ক্লোরোফিলের উপস্থিতির জন্যই এর প্রজাতিগত নাম দেওয়া হয়েছে ক্লোরোটিকা । শামুকটি কেবল এক প্রকার সামুদ্রিক উদ্ভিদকেই খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। সেই উদ্ভিদ হল এক প্রকার শ্যাওলা। নাম ভাউকেরিয়া লিটোরিয়া (Vaucheria litorea)। ভাউকেরিয়া হল সবুজ শ্যাওলা এবং সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতিতে খাদ্য তৈরি করতে পারে।

এলিসিয়া জন্মের সময় আদৌ সবুজ রঙের হয় না। তখন তার রঙ থাকে বাদামি, আর তার উপর লাল রঙের ফুটকি। জন্মের পর এলিসিয়া খেতে শুরু করে ভাউকেরিয়া। যে কোনও সবুজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষকারী কোশে থাকে একপ্রকার অঙ্গাণু যার নাম ক্লোরোপ্লাস্ট। এই ক্লোরোপ্লাস্ট হল সালোকসংশ্লেষের আসল যন্ত্র। ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে থাকে ক্লোরোফিল নামক সবুজ কণা। এই কণাগুলোর কাজ হল সূর্যালোকের আলোকশক্তিকে সংগ্রহ করা। ওই শক্তি পরে উৎপাদিত খাদ্যের মধ্যে আটকা পড়ে। পুরো কর্মকান্ড ঘটে ওই ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে। ভাউকেরিয়ার কোশে তাই ক্লোরোপ্লাস্ট আছে। কিন্তু কোনও বহুকোশী প্রাণীর দেহকোশে যেমন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না, তেমনই জন্মের পর এলিসিয়ার দেহকোশেও ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না। কিন্তু যেই না শিশু এলিসিয়া ভাউকেরিয়া খাওয়া শুরু করে অমনি তার দেহের রঙ সবুজ হয়ে যেতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেন, পরিণত এলিসিয়ার দেহকোশে ক্লোরোপ্লাস্ট উপস্থিত। সুতরাং আর কোনও সন্দেহ থাকে না যে ভাউকেরিয়ার ক্লোরোফিলসহ ক্লোরোপ্লাস্ট এলিসিয়ার কোশে গিয়ে ঢুকেছে। একে ক্লোরোফিল চুরি ছাড়া আর কীই বা বলা যায়!

কিন্তু কীভাবে একটা উদ্ভিদের একটা কোশ অঙ্গাণু এক্কেবারে অক্ষত অবস্থায় খাদক প্রাণীর কোশে গিয়ে ঢুকে যায়, আর সেখানে গিয়ে সে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে থাকে? এ পর্যন্ত বলতে বা শুনতে ব্যাপারটা যতটা সহজ বলে মনে হচ্ছে তা কিন্তু আদৌ নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি জানতে বিজ্ঞানীদের বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, আর সত্য উদ্ভাবনের পর বিস্ময়াবিষ্ট হতে হয়েছে। এলিসিয়ার পরিপাকনালির একটা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য এর জন্য দায়ী। আমরা যেমন খাবার খেলে সেই খাবার আমাদের পরিপাকনালিতে গিয়ে বিভিন্ন উৎসেচকের ক্রিয়ায় ভেঙে গিয়ে সরল উপাদানে পরিণত হয় এবং শেষে সেই সরল উপাদান অন্ত্রের আবরণী কোশ দ্বারা শোষিত হয়ে রক্তে গিয়ে মেশে, এলিসিয়ার ক্ষেত্রে তেমনটা পুরোপুরি ঘটে না। ওদের অন্ত্রে ভাউকেরিয়ার ক্লোরোপ্লাস্ট পরিপাক হয় না। আর অন্ত্রের আবরণীতে এমন একপ্রকার কোশ আছে যারা ওই ক্লোরোপ্লাস্টকে সরাসরি অক্ষত অবস্থায় গিলে নেয়। এলিসিয়ার অন্ত্র প্রচুর শাখাযুক্ত হয়। ওইসব শাখা অন্ত্র থেকে প্যারাপোডিয়াতে বিস্তৃত হয়। ফলে ক্লোরোপ্লাস্ট প্যারাপোডিয়ার কোশেও প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। তখন এলিসিয়ার রঙ হয়ে ওঠে সবুজ। আর তখন সে সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতিতে খাবার তৈরি করতে শুরু করে দেয়।

তবে বিজ্ঞানীরা এটুকু জেনে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তার কারণ দুটো। প্রথমতঃ, পরীক্ষায় দেখা গেল কোনও ভাউকেরিয়া না খেয়েও এলিসিয়া দিব্যি ন’মাস পর্যন্ত বহাল তবিয়তে থাকতে পারে। আর এই সময় সে রীতিমত ক্লোরোফিল সংশ্লেষ করে সালোকসংশ্লেষ চালায়। এটা কী করে সম্ভব? আর দ্বিতীয়তঃ, ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে একটা ছোটো চক্রাকার ডি এন এ থাকে। ওই ডি এন এ-তে কিছু জিনও থাকে। জীবদেহের যে কোনও ক্রিয়া জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় একথা সবাই জানি। সালোকসংশ্লেষের ক্ষেত্রেও সে-কথা প্রযোজ্য। ভাউকেরিয়ার ক্ষেত্রে সালোকসংশ্লেষের জন্য দায়ী জিনগুলির বেশ কিছু জিন অবস্থান করে কোশের নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকা ডি এন এ-তে। তাহলে এলিসিয়ার কোশে ভাউকেরিয়ার কেবল ক্লোরোপ্লাস্ট এসে প্রবেশ করলে সালোকসংশ্লেষ কীভাবে সম্ভব?  এই দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এবার এলিসিয়া আর ভাউকেরিয়ার ডি এন এ-তে অবস্থিত জিনের বিশ্লেষণ করা শুরু করলেন। আর উত্তর পেয়েও গেলেন। অবাক কান্ড! ভাউকেরিয়ার কোশে সালোকসংশ্লেষের জন্য দায়ী কিছু জিন যা তার নিউক্লিয়াসের ডি এন এ-তে রয়েছে সেগুলো এলিসিয়ার কোশের নিউক্লিয়াসের ডি এন এ-তেও উপস্থিত! তার মানে শুধু ক্লোরোপ্লাস্ট নয়, ভাউকেরিয়ার নিউক্লিয়াসের ডি এন এ-তে অবস্থিত কিছু জিনকেও এলিসিয়া কোনও এক সময়ে নিজের প্রয়োজনে নিজের ডি এন এ-র মধ্যে অঙ্গীভূত করে নিতে সক্ষম হয়েছে! এমন তাজ্জব ঘটনা ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন না হলেও বহুকোশী উদ্ভিদ ও প্রাণীদের ক্ষেত্রে একেবারেই নজিরবিহীন। এমন জিন স্থানান্তরকে পরিভাষায় বলা হয় অনুভূমিক জিন স্থানান্তর বা হরাইজোন্টাল জিন ট্রান্সফার (HGT)।

ব্যাকটেরিয়ারা পরষ্পরের মধ্যে এমন জিন স্থানান্তর (HGT) করতে পারে বলেই একটা ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন অন্য ব্যাকটেরিয়াতে স্থানান্তরিত হতে পারে। কিন্তু তা বলে একটা বহুকোশী উদ্ভিদ ও একটা বহুকোশী প্রাণীতে এমন জিন স্থানান্তরের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। নিউক্লিয়াসের জিন যেহেতু পিতামাতার দেহ থেকে সন্তান পেয়ে থাকে, তাই শিশু এলিসিয়া বংশানুক্রমিকভাবে ওই জিনগুলি পেয়ে যায়। অপেক্ষা থাকে শুধু ক্লোরোপ্লাস্ট আসার জন্য। এলেই শুরু হয়ে যায় সালোকসংশ্লেষ। তৈরি হতে থাকে খাদ্য গ্লুকোজ। সে গ্লুকোজ কোশের মধ্যে অঙ্গীভূত হয়ে এলিসিয়াকে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়।

তুতান তো বটেই, ক্লাসের সবাই স্যারের মুখে এসব অবাক করা কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত গিলে নিয়েছিল। বন্ধুরা ছুটির পর এ নিয়ে আলোচনাও করছিল, “ইস, আমাদের ত্বকে যদি ক্লোরোফিল থাকত কী ভালোই না হত!” সৌম্যদীপ মজা করে বলেছিল, “আমাকে আর তাহলে খাওয়ার জন্য মায়ের কাছে প্রতিদিন বকুনি শুনতে হত না।” অর্ক বলে উঠেছিল, “অনাহার, অপুষ্টি, দারিদ্র্য কথাগুলো আর থাকতো না, দুর্ভিক্ষ হত না, মানুষকে পেটের কথা চিন্তা করতে হত না। কী ভালো হত এমন হলে!” তুতান বলেছিল, “ কে বলতে পারে, এমন ঘটনা একদিন হবে না! কয়েক লক্ষ বা কোটি বছর পরে প্রাণীজগতের সব প্রাণী হয়তো এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করবে। হয়তো মানুষও!” সবাই মাথা নাড়িয়ে তুতানের কথায় সায় দিয়েছিল।

এমন  বিস্ময়কর ঘটনা শুনতে গল্প বলে মনে হলেও এখন বাস্তব। প্রকৃতির রঙ্গালয় ছাড়া এমন বিস্ময়কর ঘটনা আর কোথায় ঘটবে! প্রকৃতি যেমন নিয়মের শৃঙ্খলে বাঁধা, তেমনই নিয়মের ব্যতিক্রমও ঘটায় সেই প্রকৃতিই। বিজ্ঞানীরা শুধু তা খুঁজে বেড়ান।

বিঃদ্রঃ – নিবন্ধটির শুরুতে দেওয়া কাহিনিটিতে লু সুন-এর লেখা ‘মৃতজনে প্রাণ’ (রূপান্তর- অমল রায়) নাটকের ছায়া অনুসরণ করেছি।

জয়ঢাকের বৈজ্ঞানিকের দপ্তর 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s