বৈজ্ঞানিকের দপ্তর চন্দ্রযান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীত ২০১৯

বৈজ্ঞানিকের দপ্তর সব লেখা একত্রে

চন্দ্রযান-২ অভিযানে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। অনেক যত্নে তাকে গড়েছেন আরও অনেক বিজ্ঞানী  ও প্রযুক্তিবিদ বন্ধুকে নিয়ে। তার ল্যান্ডার ও রোভারের যে নাম আজ বিশ্ববাসীর মুখে মুখে সেই নাম রেখেছিল তাঁর টিম।  লেখকের অনুরোধে তাঁর নাম গোপন রাখা হল।
বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডঃ অনুরাধা দাসের সৌজন্যে ও সম্পাদনায় প্রাপ্ত।

ক্রিকেট বিশ্বকাপের শেষ বল, ভারতের সেরা সমাপক তার সমস্ত ধী ও শক্তি দিয়ে একটি ছয় মারার চেষ্টা করেছেন। সারা ভারত প্রবল আশঙ্কা নিয়ে একটি উড়ন্ত সাদা বিন্দুর পথ অনুসরণ করছে। বাউন্ডারির এপার না ওপার ? কল্পনায় অনুভব করুন এই উত্তেজনা।
প্রায় এক দশকের পরিকল্পনা, তিন বছরের প্রচেষ্টার পর ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি বিশাল দল জমায়েত হয়েছিলেন ব্যাঙ্গালোরে, ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুমে। অধীর আগ্রহে তাঁরাও অপেক্ষা করছিলেন একটি বিন্দুর গন্তব্যে পৌঁছনোর আশায়। একটি সবুজ বিন্দু, যার পরাবৃত্ত পথ শেষ হয়েছে সামনে রাখা জায়ান্ট স্ক্রিনের একটি কোনাতে । সেদিন ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রাত প্রায় দেড়টা।
চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের কিছু মাস আগে আমাদের কাছে একটি মেল্ আসে। চন্দ্রাযান ২ এর রোভার ও ল্যান্ডারের নামকরণ করতে হবে আমাদের। যাঁরা ইসরো সম্বন্ধে কৌতূহলী তাঁরা জানবেন যে মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন কিছু করে দেখানোর একটি ইচ্ছা নিয়ে আমাদের বেশিরভাগ উপগ্রহ প্রকল্প শুরু হয়। এই সময়ে, এই মহাকাশযানগুলিকে নিছকই কিছু প্রযুক্তিগত বিশেষণ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যেমন ‘মার্স অরবিটার মিশন’ অথবা ‘মুন ল্যান্ডার মিশন’ । ক্রমশ, এই যানগুলি গড়ে ওঠে, কোন কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এতে ওড়ানো হবে, তা কোথা থেকে আনা হবে, কে বানাবে, ইত্যাদি খুঁটিনাটি ঠিক করা হয়। সময়ের সাথে আমাদের একটি ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলির সঙ্গে। সারা রাত কাজ করে বাড়ি ফেরার সময়ে আমি একজনকে অনেকবার দেখেছি তার বন্ধু মহাকাশযানকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতে।

সাধারণ মানুষের কাছে এই সম্পর্কগুলির উষ্ণতা পৌঁছে দিতে, চাই একটি ডাকনাম। চন্দ্রযানের ডাকনাম খুঁজতে আমরা ততটাই উৎসাহী হয়ে পড়েছিলাম যতটা এক সদ্যজাতের নাম খুঁজতে উৎসাহী হন তার মা-মাসি। সংস্কৃত শব্দকোষ আর পুরাণের পাতা ঘেঁটে উঠে আসে বেশ কিছু নাম। কেউ বলে ‘চন্দ্র-বাহন’, তা শুনে কেউ চন্দ্রদেবের রথের নাম খুঁজতে লাগে। শেষ পর্যন্ত রোভারের নাম ঠিক করা হয় “প্রজ্ঞান” । আমাদের কাছে “বিক্রম” একটি প্রিয় নাম। ইসরোর মার্গদর্শক বিক্রম সারাভাইয়ের সম্মানার্থে ল্যান্ডারের নাম রাখা হয় “বিক্রম”।
৭ই সেপ্টেম্বর রাতের সেই সবুজ বিন্দুটি ছিল “বিক্রম”। সেদিন রাতে তার চাঁদে নামার কথা ছিল। আর “প্রজ্ঞান” অপেক্ষায় ছিল চাঁদের মাটিতে নিজের চাকার দাগ অমর করবার জন্য। চাঁদের মাটি থেকে ৪০০ মিটার উপরে বিক্রমের সাথে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। আমরা পারিনি।
ইসরোতে আমার কিছুদিনের কর্মজীবনে আমি একাধিক প্রাজ্ঞ বৈজ্ঞানিকের সান্নিধ্য পেয়েছি। মনে পড়ে, এমনি একজনের অবসর গ্রহণের সন্ধ্যায় তাঁর মেয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে ইসরো তাঁর মাতৃপ্রেমে ভাগ বসিয়েছে। এরকম মানুষদের হাত ধরে বড়ো হয়ে ওঠা ইসরো, হেরে যাওয়ার অনুভূতি সামলাতে বেশ অপটু। পরবর্তীকালে হয়তো চন্দ্রযান আমাদের কাছে একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে উঠবে ।
আমাদের প্রথম প্রশিক্ষণ পর্বে ইসরোর প্রায় সবকটি কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা শুরু করি ব্যাঙ্গালোরের “ইউ আর রাও স্পেস সেন্টার” থেকে। এটি কৃত্তিম উপগ্রহ তৈরি করার প্রধান কেন্দ্র। একটি উপগ্রহে যে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ওড়ানো হয়ে সেগুলি বানানো হয়ে আহমেদাবাদের “স্পেস এপ্লিকেশন সেন্টারে।” ব্যাঙ্গালোরে এই সরঞ্জামগুলি নিয়ে এসে প্রয়োজন অনুযায়ী মহাকাশযানে জোড়া হয়। তারপর সম্পূর্ণ মহাকাশযাটিকে শ্রীহরিকোটা নিয়ে যাওয়া হয় উৎক্ষেপণের জন্য। আমাদের রকেট বৈজ্ঞানিকেরা রকেট গড়ে ফেলেন। রকেট বৈজ্ঞানিকদের মূল ঘাঁটি কেরলের “বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার।” রকেটটিকে ছোট ছোট অংশে গড়া হয়ে এইখানে, এরপর এই অংশ গুলি নিয়ে আসা হয়ে শ্রীহরিকোটায় যেখানে অংশগুলি একটার উপর একটা বসিয়ে তৈরি হয়ে রকেট। ইসরোর সবকটি সেন্টারের মধ্যে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারটি সবচেয়ে মনোরম। একটি ছোট টিলার উপর অবস্থিত এই কেন্দ্রটির একদিকে আরব সাগর আর অন্য তিন দিকে এককুলাম হ্রদ।

যদি কোনোদিন থিরুভানানথাপুরাম বেড়াতে যান একটি গাড়ি ভাড়া করে ভেল্লির সমুদ্র সৈকতের দিকে রওনা দেবেন। পথে পড়বে এককুলাম সেতু, ডান দিকে লক্ষ্য করবেন এই সুন্দর বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার। যদি পারেন তো পথ চলতি মানুষের কাছে জেনে নেবেন সন্ত মেরি মাগডালেন চার্চের রাস্তা। এই চার্চ থুম্বা একুইটোরিয়াল লঞ্চ স্টেশনের প্রথম অফিস। এখানে বসেই আব্দুল কালাম তৈরি করেছিলেন ভারতের অন্যতম কিছু রকেটের নকশা। ১৯৬৩ সালে হোমি ভাবা আর তার বন্ধু বিক্রম সারাভাই ভারতের প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যে একটি জায়গা খুঁজছিলেন। ভেল্লিগ্রামের সন্ত মেরি মাগডালেন চার্চের পরিবেশ ও অবস্থান ভালো লাগে তাদের। চার্চের বিশপ সাদরে গ্রহণ করেন তাদের প্রস্তাব। ভিন্ন ধর্মের চার বিজ্ঞানপ্রেমী এভাবেই শুরু করেন ভারতের মহাকাশযজ্ঞ।
বাঙালির আজ, ভারতের আগামীকাল- মিথ্যে আস্ফালন ভাবছেন? চলে আসুন হুগলির কোন্নগরে। ১৯৬৩ সালে যদি মহাকাশে পাড়ি দিতে হয় তবে নিঃসন্দেহে মহাকাশ গবেষণা শুরু হওয়া উচিত তার বেশ কিছু বছর আগে । তাই-ই হয়েছিল কুড়ির দশকে এই কোন্নগরে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগের বন্ধুস্থানীয় জয়কৃষ্ণ মিত্রের ছেলে বিজ্ঞানী শিশির কুমার মিত্র ভারতে মহাকাশ গবেষণার সূত্রপাত করেন।

শিশির কুমার মিত্র (১৮৯০-১৯৬৩)। ভারতবর্ষের বেতারবিজ্ঞান অধ্যয়নের প্রাণপুরুষ। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে, ভুপৃষ্ঠ থেকে বহু উচ্চতায় থাকা আয়নমণ্ডলকে জানবার সাধনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন তিনি। আয়নমণ্ডলের একাধিক স্তরের অস্তিত্বের পরীক্ষামূলক প্রমাণ  রেখেছিল তাঁর গবেষণা। মহাকাশের দিকে ছুঁড়ে দেয়া রেডিও তরঙ্গের প্রতিধ্বনিকে বিশ্লেষণ করে সে কাজ তিনি সম্পন্ন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিও ফিজিক্স বিভাগ তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয়। আয়নমণ্ডল নিয়ে গবেষণাক্ষেত্রেই, ১৯৩২ সালে আধুনিক ভারত প্রথম কোনো সংগঠিত আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণায় অংশ নেয় তাঁর নেতৃত্বে। সে-বছর ভারত “সেকেন্ড ইনটারন্যাশনাল পোলার ইয়ার” নামের এই যৌথ গবেষণায় যোগ দেয়। ১৯৫০ সালে হরিণঘাটায় তিনি স্থাপন করেন এ দেশের প্রথম আয়নমণ্ডল অধ্যয়নের ফিল্ড স্টেশান।  –সম্পাদক

মহাকাশ প্রযুক্তিতে আজ আমরা অনেক দূর পৌঁছে গেছি। ১৯৭৫ এ সোভিএত রাশিয়ার সাহায্যে আমাদের প্রথম উপগ্রহ “আর্যভট্ট” তৈরি হয়। ১৯৮০ সালে আমরা প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষমতা সম্পন্ন রকেট “রোহিনী” কে পৌঁছে দিই কক্ষপথে। দুপুরে খাবার সময়ে কখনো যদি দেখা হয় সেই বৈজ্ঞানিকদের সাথে যারা রাশিয়াতে গেছিলেন গবেষণার কাজে, তাঁরা অনেক গল্প করেন সেদিনের রাশিয়ার। গল্প শুনে এটুকু বুঝতে পারি যে রাশিয়া যাওয়ার আগে রান্না শিখে রাখা ভালো।
১৯৬৩ থেকে আজ পর্যন্ত নানা প্রকারের, বেশ ক’টি উপগ্রহ তৈরি করেছে ইসরো। এর মধ্যে যেমন রয়েছে দূরভাষ ও টেলিভিশন সম্প্রচার সহজ করবার জন্যে “কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট”, তেমন রয়েছে মানচিত্র তৈরি, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি , ইত্যাদির সাহায্যের জন্যে “রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট”, আর রয়েছে ভারতের নিজ্বস্ব পজিশনিং সিস্টেম, “নাভিক” । নতুন নেশা অবশ্য চাঁদ, মঙ্গলগ্রহ, বুধগ্রহ আর সূর্যের দিকে পাড়ি দেয়া। ২০০৮ সালের চন্দ্রযান ১ আমাদের গ্রহান্তরে যাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা , এতে ছিল চাঁদের চারপাশে ঘোরার জন্যে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ আর চাঁদে নামার (আছাড় খেয়ে !) জন্যে ‘মুন ইমপ্যাক্ট প্রোব’ । উৎক্ষেপনের পর উপগ্রহকে পৃথিবীর চারপাশে একটি বৃত্তাকার কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়া মিশন কন্ট্রোলের প্রধান কাজ। পৃথিবীকেন্দ্রিক উপগ্রহ গুলির জন্যে কাজটি এখানেই শেষ, তাই অপেক্ষাকৃত ভাবে সহজ। চাঁদ বা মঙ্গলে যাওয়ার জন্যে প্রথমে এই পৃথিবীকেন্দ্রিক কক্ষপথটিকে ধীরে ধীরে বড় করা হয়। যখন উপগ্রহটির উপর পৃথিবীর টান ফিকে হয়ে আসে তখন মহাকাশযানে থাকা ‘থ্রাস্টার‘ ফায়ার করে উপগ্রহটিকে ঠেলে দেওয়া হয়ে দূর-গ্রহের পথে। উপগ্রহটি একটি অধিবৃত্ত অনুসরণ করে গন্তব্য গ্রহের কাছাকাছি পৌঁছে যায় প্রায় ২২ কিমি/সেক গতিতে । শেষ ধাপ ‘অরবিট ইনসারসন ‘, আবার ‘থ্রাস্টার ‘ ফায়ার করে উপগ্রহটির গতি কমিয়ে আনা হয় যাতে গন্তব্য গ্রহটি উপগ্রহটিকে নিজের মাধ্যাকর্ষণের নাগালে নিয়ে আসতে পারে। চন্দ্রযান ১ – এর অভিজ্ঞতা আমাদের মনে মঙ্গলগ্রহে পাড়ি দেয়ার সাহস জাগায়, নাসার থেকে কিছু সাহায্য নিয়ে আমরা ‘মঙ্গলযান’ সফল করি। আন্তঃগ্রহ পরিবহনে এর পরের ধাপ, অন্য গ্রহের মাটিতে অবতরণ বা ‘ সফ্ট ল্যান্ডিঙ‘, চন্দ্রযান ২ অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এইটা করে দেখানো। আগামী বছর আমরা আবার সেই চেষ্টা করতে চলেছি। তারপর ২০২৪ সালে জাপানের সাথে হাত মিলিয়ে চন্দ্রযান -৩। এই মুহূর্তে অবশ্য চাঁদের থেকে সূর্য বেশি কাছে মনে হচ্ছে আমাদের। ‘আদিত্য-এল ১’ উপগ্রহটিকে আমরা পৌঁছে দিতে চাই পৃথিবী আর সূর্যের মাঝামাঝি ‘ল্যাগ্রাঞ্জিয়ান পয়েন্ট ১ ’-এ, এই জায়গায় পৃথিবী এবং সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ প্রায় সমান, তাই উপগ্রহটিকে এই জায়গাতে স্থির রাখতে বেশি জ্বালানির দরকার হবে না । এখান থেকে মনের আনন্দে সূর্যের ছবি তুলবে আদিত্য। এরপর থাকছে মঙ্গলযান ২ আর শুক্রযান ১। ২০২২-এ আমরা মহাকাশে মানুষ পাঠানোর সম্পূর্ণ চেষ্টা করবো, এই চেষ্টার নাম দেওয়া হয়েছে গগনজান ১।
বলিউডের ‘খান’ দের মতো জনপ্রিয় আমাদের ‘যান’-এরা। দিনে দিনে এরা ইসরোর মুখ হয়ে উঠেছে। ইসরোকে রোজকার খবরে নিয়ে আসা, নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার কাজে এদের জুড়ি নেই। এদের ছায়াতে থেকেও প্রতিদিন আমাদের জীবন আরো সহজ করে চলেছে বেশ কিছু ছুপা রুস্তম। ‘রি-স্যাট ‘ , ‘কার্টও -স্যাট’, ‘ইনস্যাট’ ইত্যাদি উপগ্রহ গুলি আন্তঃগ্রহ মিশনের মতোই কঠিন এবং জাতির বিকাশের ক্ষেত্রে আরো কার্যকরী। এই ধরণের বেশ কিছু মিশন আমরা দেখতে পাবো সামনের বছরে।
এতসব উপগ্রহ মহাকাশে পৌঁছে দেয়ার জন্যে আমাদের চাই উন্নত থেকে উন্নততর রকেট। এক্ষেত্রে আমাদের পোড় খাওয়া রেসের ঘোড়া হলেন পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল ( সংক্ষেপে, পি এস এল ভি )। চন্দ্রাযান এবং একসাথে ১০৪ টি উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণের পালক আজ তার মুকুটে। বাণিজ্যিক ভাবে সফল হলেও বড় উপগ্রহগুলি উৎক্ষেপণের কাজে আসে না এই ‘পি এস এল ভি’। এই কাজের জন্যে ইসরোর কাছে আছে হাতি , যার নাম ‘জি এস এল ভি’ বা জিও সিন্ক্রনাস লঞ্চ ভেহিকল। ‘জি এস এল ভি মার্ক -২/৩’ ব্যবহার হয় ৪-৫ টন ওজনের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং আন্তঃগ্রহ মিশনগুলির জন্যে। কিছুদিনের মধ্যেই আমরা দেখতে পাবো নতুন তৈরি ‘এস এস এল ভি ‘ বা স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেলের প্রথম মহাকাশ যাত্রা। এটি তৈরি হয়েছে ছোট স্যাটেলাইট গুলিকে কম জ্বালানিতে মহাকাশ পৌঁছে দেওয়ার জন্যে। এছাড়া, গড়ে উঠছে আমাদের নিজস্ব স্পেস শাটল ‘ আর এল ভি ‘। সাধারণত একটি রকেট একবারই ব্যাবহার করা যায়। কিন্তু ‘আর এল ভি ‘ ব্যাবহার করা যাবে একাধিক বার। এটি মহাকাশে উপগ্রহ পৌঁছে দিয়ে আবার পৃথিবীর মাটিতে ফিরে আসার ক্ষমতা রাখবে।

অনেক পথ চলেছে ইসরো , আরো অনেক চলা বাকি। আপনাদের শুভেচ্ছা কামনা করি আমরা।

বৈজ্ঞানিকের দপ্তর সব লেখা একত্রে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s