বৈজ্ঞানিকের দপ্তর টেকনো টুকটাক কিশোর ঘোষাল শরৎ ২০১৭

কিশোর ঘোষাল-এর সব লেখাপত্র (এ লেখার আগের পর্বগুলো ওখানে পাবেন)                   

বিশ্বে কাগজের নোট বা টাকা প্রথম ব্যবহার করেছিলেন, চিন দেশের তাং বংশের (৬১৮- -৯০৭) রাজারা। সেটা ছিল মোটামুটি খ্রিষ্টিয় ৭ম শতাব্দি। ওই সময় স্থানীয় বণিকরা রাজার কোষাগারে তামার মুদ্রা জমা রেখে, প্রাপ্তি স্বীকার করা (Receipt) দলিল, কাগজের নোট হিসেবে ব্যবহার করতেন। বড়ো বড়ো ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে তামার মুদ্রার প্রচুর ওজন ও নিরাপত্তার জন্যে এই ব্যবস্থা তাঁরা চালু করেছিলেন।   

এই কাগুজে টাকা ব্যবহারের আগে চিনে তামার মুদ্রার প্রচলন ছিল। এই মুদ্রাগুলি আকার হত গোল, আর মাঝখানে আয়তাকার ছিদ্র থাকত। ওই আয়তাকার ছিদ্রের মধ্যে দড়ি বা সুতলি বেঁধে অনেকগুলি মুদ্রা একসঙ্গে নেওয়া চলত। ছোটখাটো বণিক বা সাধারণ মানুষের জন্যে এই ব্যবস্থা ভালই ছিল। কিন্তু যাঁরা বড়ো ব্যবসায়ী কিংবা খুব ধনী, যাঁদের অনেক বেশি টাকার লেনদেন, তাঁদের পক্ষে সুতোয় বাঁধা এই মুদ্রা যেমন ভারি হত, তেমনি গুণতে সময় লাগত, তার ওপর পথে ঘাটে বয়ে বেড়ানোও নিরাপদ ছিল না। এই সমস্যা মেটানোর জন্য, সকলের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য কোন গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে, তাঁদের মুদ্রা জমা রাখতেন এবং ওই ব্যক্তির থেকে এক টুকরো কাগজে প্রাপ্তিস্বীকার লিখিয়ে, সই করিয়ে নিতেন। এরপর কোন বড়ো লেনদেনে, যাঁর থেকে তিনি কোন কিছু কিনতেন, বিক্রেতাকে ওই প্রাপ্তিলিপিটা দিয়ে দিলেই চলত। বিক্রেতা ওই প্রাপ্তিলিপিটা নিয়ে ওই গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে জমা দিলে, তিনি ঐ মুদ্রা দিয়ে দিতেন।

কিন্তু এই পদ্ধতিতেও পরবর্তী সময়ে কিছু সমস্যা দেখা দিল। ধরা যাক, আমি এক লাখ তামার মুদ্রা জমা দিয়ে একটি প্রাপ্তিলিপি সংগ্রহ করলাম। এবার আমি হয়তো একটি জমি কিনব ঠিক করলাম, যার দাম ধরা যাক পঁচিশ হাজার মুদ্রা। সেক্ষেত্রে এক লাখ মুদ্রার প্রাপ্তিলিপিটি জমির মালিককে দেওয়া সম্ভব হবে না। এই সমস্যা মেটাতে ধীরে ধীরে চালু হল প্রতিজ্ঞালিপি (promissory notes)। মোটামুটি ৯৬০ খ্রীষ্টাব্দে সোং রাজবংশের রাজত্বকালে এই প্রথা মোটামুটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই সময়ে মুদ্রা নিয়ে প্রতিজ্ঞালিপি দেওয়ার সময়, তাঁরা প্রয়োজন মতো ছোট ছোট প্রতিজ্ঞালিপি দেওয়া শুরু করলেন। অর্থাৎ এক লাখ তামার মুদ্রা জমা রাখলে, তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী, দশ হাজারের দশটা, কিংবা পাঁচহাজারের কুড়িটা প্রতিজ্ঞালিপি সই করে দিতেন। এই লিপি বা নোটগুলিকে তাঁরা বলতেন, জিয়াওজি (jiaozi)। তবে এই জিয়াওজি কাগজের নোটের হিসাব, মুদ্রার ওপরেই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল।               

এই ব্যবস্থা যত জনপ্রিয় হতে লাগল, রাজসরকার এই ব্যবস্থার অর্থনৈতিক সুবিধেগুলি বুঝতে শুরু করলেন।  প্রতিজ্ঞালিপি দেওয়ার ব্যাপারটা, বিশ্বাসযোগ্য কিছু ব্যক্তিবিশেষের হাতে আর না রেখে, সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজেরাই নিয়ে নিলেন। এবার রাজসরকারের তরফে মুদ্রা জমা রেখে, ছাপানো জমা-শংসাপত্র (certificates of deposit) দেওয়া শুরু করলেন। দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকের কোন এক বছরে, রাজকোষে ২৬০ লক্ষ মুদ্রা জমা রেখে, সমপরিমাণ জমা-শংসাপত্র দেওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে! ১১২০ সালে, কাঠের ছাঁচ (Wooden Block)

বানিয়ে বিপুল পরিমাণ কাগজের  জমা-শংসাপত্র  ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই জমা-শংসাপত্র ছাপানোর জন্য বিপুল পরিমাণ কাগজ তৈরির কারখানা এবং সরকারি ছাপাখানা চিনের বিভিন্ন শহরে গড়ে উঠতে লাগল। প্রাচীন রেকর্ড থেকে জানা গেছে, ১১৭৫ সালে শুধুমাত্র হ্যাংজাও শহরের জমা-শংসাপত্র ছাপানোর কারখানায় একহাজার জনেরও বেশি শ্রমিক প্রত্যেকদিন কাজ করত!

প্রথমদিকে সোং বংশের রাজারা রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা আলাদা আঞ্চলিক জমা-শংসাপত্র ছাপতেন। তারপর মোটামুটি ১২৬৫ থেকে ১২৭৪ সালের মধ্যে কোন এক সময়, তাঁরা সমস্ত রাজ্য জুড়ে নানান মূল্যমানের একই কাগজের নোট (paper currency) চালু করেছিলেন। এই নোটগুলির মেয়াদ সাধারণতঃ তিন বছরের জন্য সীমিত থাকত।  এই সময়ের নোট ছাপতেও সে সময় অন্ততঃ ছ রঙের কালি ব্যবহার করা হত এবং নোট জাল করা আটকাতে, নোটের কাগজ তৈরির সময় মাঝে মাঝে বিশেষ ধরনের তন্তুও (fibre) ব্যাবহার হত।

চিনের ইউয়ান রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কুবলাই খান, তাঁর রাজত্বকালে যে কাগজের নোট চালু করেছিলেন, তার নাম ছিল চাও (chao)। প্রথমদিকে এই নোটগুলিও সোং রাজাদের নোটের মতোই নির্দিষ্ট কয়েক বছরের মেয়াদে ছাড়া হত। কিন্তু পরের দিকে নোট ছাপা আর নিয়ন্ত্রণের অসুবিধের জন্যে মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়েছিল। মার্কোপোলোর মতো ভেনিসের বণিকেরা সম্রাট কুবলাই খানের রাজত্বের সময় চিনে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন। তাঁরা রাজসভায় কুবলাই খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং চিন ভ্রমণের সময় কাগজের নোটের সুবিধে এবং এই নোটের সমস্ত বিশেষত্ব দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছিলেন। সমস্ত নোটের মূল্যমানের দায়িত্ব ছিল একমাত্র রাজসরকারের, এই ব্যাপারটাতে তিনি সব থেকে বেশি আশ্চর্য হয়েছিলেন। ১২৬৯ সালে নিজের দেশে ফিরে গিয়ে তিনি তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত নিয়ে একটি বই লেখেন। ১৩০০ সালে প্রকাশিত সেই বই পড়ে ইওরোপের মানুষ প্রথম কাগজের টাকা বা নোটের কথা জানতে পারে। মার্কো পোলোর সেই বইটির নাম Book of the Marvels of the World, also known as The Travels of Marco Polo, (c.1300)।   

ভেনেসিয় পর্যটক মার্কো পোলোর বই থেকে ইওরোপের মানুষ কাগজের নোটের কথা জানতে পারলেও, ইওরোপের প্রথম কাগজের নোটের হদিস মেলে সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি। ১৬৬৬ সাল থেকে ইওরোপে প্রথম কাগজের নোট প্রকাশ করেছিলেন স্টকহোম ব্যাংকো। এই সময়ে সোনার দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির কারণে, ঘন ঘন সোনার মূল্যায়ন করতে হত। ব্যক্তিগত লোকের হাতে থাকা সোনার বার বার মূল্যায়ন করানো যেমন বিপজ্জনক তেমনি প্রচুর ধাতু বয়ে নিয়ে যাওয়া আসাও কষ্টকর হয়ে উঠত। এই সমস্যা মেটাতে লণ্ডনের স্বর্ণকারব্যাংকাররা (goldsmith banker) সোনা জমা রেখে, প্রাপ্তি রশিদ (receipt) দেওয়া শুরু করলেন। এই প্রাপ্তি রশিদটিকেই বলা যায় কাগজের নোট। এই রশিদে লিখিত অর্থের পরিমাণ প্রদানের দায়িত্ব থাকতো ব্যাংকারের, ওই ব্যাংকে জমা রাখা সোনা বা অন্য ধাতু – বিশেষ কোন ব্যক্তির নয়, বরং অনেক ব্যক্তির। এই সময় ব্যাংকাররা ঋণ হিসাবে, তাঁদের কাছে জমা থাকা সোনা বা রূপোর মূল্যের থেকেও বেশি মানের ব্যাংক-নোট ছাড়তে শুরু করলেন। কারণ খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা অনুমান করেছিলেন, তাঁদের প্রকাশ করা সমস্ত ব্যাংক নোট একই দিনে, এক সঙ্গে জমা পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই অনুমান এবং ভাবনা থেকে গড়ে উঠল ব্যংকিং পদ্ধতি (banking system)।

কিন্তু এত সহজে এই পদ্ধতি সফল হতে পারল না। অনুমানের ওপর নির্ভর করে, অত্যধিক ব্যাংক নোট ছাপানো এবং ধাতু মুদ্রার মূল্যমানের নিরন্তর ওঠাপড়ায় বেশ কিছু দেশের অনেক ব্যাংক এই সময় দেউলিয়াও হয়ে গেল।

সুইডেনের এই স্টকহোম ব্যাংকো, যাকে ব্যাংক অফ সুইডেনের পূর্বসূরি বলা যায়। ১৬৬১ সাল থেকে সুইডেনের এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি রূপো জমা রেখে, তার পরিবর্তে তামার মুদ্রা ইস্যু করত। কিন্তু সে সময় তামার দাম কমতে থাকায়, রূপোর মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তামার মুদ্রার আকার ও ওজন বাড়াতে বাধ্য হল। তামার মুদ্রার ওজন এবং আকার বাড়তে থাকায়, বণিকেরা রূপোর পরিবর্তে ব্যাংক থেকে প্রাপ্তি রশিদ নিতে শুরু করল। তারপর ধীরে ধীরে প্রাপ্তি রশিদের থেকে ১৬৬৬ সালে আরো সুবিধেজনক ব্যাংক নোট ইস্যু হওয়াতে বণিকেরা তাতেই অভ্যস্ত উঠতে লাগল। জমজমাট হয়ে উঠতে লাগল ব্যাংকিং পদ্ধতি। নানান মূল্যের কাগজের নোটের জনপ্রিয়তা যত বাড়তে লাগল, স্টকহোম ব্যাংকো, নোটও ছাপাতে লাগল প্রচুর। শেষ অব্দি বেহিসেবি নোট ছাপিয়ে স্টকহোম ব্যাংকো দেউলিয়াই হয়ে গেছিল।

ব্যাংকিং পদ্ধতিতে জমা থাকা সোনা বা রূপোর মূল্যের থেকেও বেশি নোট ছাপিয়ে বাজারে ছেড়েছিল স্টকহোম ব্যাংকো। এই বেশি নোট ছাপানের ব্যাপারেও খুব জটিল অনুপাতের একটা হিসাব থাকে, সেটা না মানলে বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ধরা যাক, আমাদের কাছে ১০ লাখ মূল্যের সোনা বা রূপা জমা করা আছে। আমি বাজারে ৫০০ জনের মধ্যে মোট ২০ লাখ মূল্যের ব্যাংক নোট ছাড়লাম। তার মানে প্রত্যেকের কাছে গড়ে ৪০০০ টাকার ব্যাংক নোট রইল। এবার কোন কারণে, এদের মধ্যে ২৫০ জন একসঙ্গে ব্যাংক নোট ফেরত দিয়ে, যদি জমা করা সোনা ফেরত চায়, তাহলে বাকিদের কী হবে? ব্যাংক কোথায় পাবে? এমন ঘটলে ব্যাংকই দেউলিয়া হয়ে যাবে না?

কিন্তু এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও, ধাতু মুদ্রার থেকে কাগজের নোট কিংবা ব্যাংক নোটের ব্যবহার যে অনেক সুবিধাজনক ও নিরাপদ, সে বিষয়ে সকল দেশের সকল বণিক সমাজ এবং রাজসরকারের কোন সন্দেহ ছিল না। অতএব ব্যাংক নোট নিয়ে চিন্তাভাবনা আর নানান পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে, এর সীমিত ব্যবহারও চলতে লাগল। 

১৮৪৪ সালে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডকে এক বিশেষ আইন (Bank Charter Act of 1844). অনুযায়ী ব্যাংক নোট ইস্যুর ব্যাপারে পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছিল। ইংল্যান্ডে অন্যান্য অনেক ব্যাংক থাকলেও, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড ছাড়া অন্য কোন ব্যাংককে, ব্যাংক নোট ইস্যু করার অধিকার দেওয়া হল না। এই আইনে ব্যাংকে জমা থাকা সোনা বা রূপোর ভান্ডার অনুযায়ী নোট ছাপানো এবং তার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা একমাত্র ব্যাংক অফ ইংল্যাণ্ডেরই রইল। এই ব্যাংকের হাত ধরেই আধুনিক ব্যাংক নোট এবং সফল ব্যাংকিং পদ্ধতির একটা স্থায়ি ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকাঠামো গড়ে উঠতে লাগল।

আজকের দিনে যে নোট সারা বিশ্বে ব্যবহার হয়, সেগুলিতে সরকারের পক্ষে দেশের সর্বপ্রধান কোষাগার বা ব্যাংকের মুখ্য আধিকারিক নির্দিষ্ট মূল্যের প্রতিজ্ঞা লিপি (promissory note) লিখে সই করে দেন। আমাদের দেশের যে কোন নোটে দুই ভাষায় এই প্রতিজ্ঞা সূচী লেখা থাকে। হিন্দিতে আর ইংরিজিতে। সেখানে রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সই করে লিখে দেন, “আমি এই নোটের ব্যবহারকারীকে দশ টাকা মূল্য দিতে বাধ্য রইলাম”। ভিন্ন ভিন্ন নোটের ক্ষেত্রে এই মূল্যমান দশ, কুড়ি, পঞ্চাশ, একশ, পাঁচশ, একহাজার বা দুহাজার হতে পারে।

সব দেশে, সব কালেই কিছু অসাধু লোক থাকেই, যারা দুর্নীতির কারবার করে। তারা কাগজের জাল নোট ছাপিয়ে বাজারে ছাড়তে শুরু করল। এই জাল নোট সাধারণ লোকের পক্ষে চট করে ধরা মুশকিল। আর সেই সুযোগে দুর্নীতিগ্রস্ত লোকেরা আসল অনেক নোটের সঙ্গে কয়েকটা জাল নোট হাটেবাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে চালু করে দেয়। এই দুর্নীতিগ্রস্ত লোকেদের সঙ্গে অনেক সময় প্রতিবেশী শত্রু দেশের গুপ্তচরেরাও জড়িয়ে থাকে। তাতে দুপক্ষেরই প্রচুর লাভ হয়। দেশের ভেতরে নকল নোট ছাপার অনেক বিপদ আছে, ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি হয়। কিন্তু পাশের দেশে নিরাপদে নকল নোট ছাপিয়ে, গুপ্তচরের হাতে প্রতিবেশী দেশে যদি নকল নোট চালিয়ে দেওয়া যায়, তার থেকে সহজ উপায় আর কী হতে পারে? দুর্নীতিগ্রস্ত লোকেরা সস্তায় ছাপানো নকল নোটের পুরো আসল দাম পেয়ে তাড়াতাড়ি বড়োলোক হয়ে যায়। আর নকল নোটের বহুল প্রচলনে সেই প্রতিবেশী দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া যায়।

এই নকল নোট আটকানোর জন্য অনেক সতর্কতা নেওয়া হয়। বিশেষ ধরনের কাগজ, বিশেষ ধরনের কালি, অনেক রকমের চিহ্ন, সংকেত, রূপোর পাত, বিশেষ ধরনের নম্বর, ছাপানোর সাল এরকম কত কী যে ব্যবহার করা হয়! আমাদের দেশের নিয়ামক অর্থ সংস্থান – রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া দুহাজার টাকার যে নোট সম্প্রতি প্রচলন করলেন, তার নমুনাতে দেখ মোট সতেরটি বিশেষত্বর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সঙ্গের ভিডিওটাতে সে খবর দেয়া রয়েছেঃ

এত সতর্কতা সত্ত্বেও কী নোট নকল হবে না? হতে পারে, বিদেশ থেকে যদি নকল নোটের সরবরাহ হতে থাকে তাকে ঠেকাবে কে? ঠেকাতে পারি আমরাই। নিজেরা একটু বেশি সচেতন হয়ে, অন্যকে সচেতন করে, আমরা আসল আর নকলের পার্থক্যটা ধরতে পারলে, অসাধু লোকেরা অনেকটাই জব্দ হয়ে যাবে।

যখন বোঝা যায়, দেশে প্রচুর নকল নোট চলছে এবং দেশের কোণে কোণে ছড়িয়ে থাকা এই নকল নোট ধরা প্রায় অসম্ভব, তখনই পুরোনো নোট বাতিল করে নতুন নোট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ পুরোনো বাতিল নোটের সঙ্গে সঙ্গে নকল নোটও রঙিন কাগজের টুকরো হয়ে গিয়ে, তার মূল্য হারায়। অসাধু দেশ এবং লোকেদের নতুন নোট পেয়ে তার নকল ছাপাতে এবং বাজারে বহুল পরিমাণে নিয়ে আসতে অনেকটাই সময় লাগে, তাতে দেশের অর্থনীতি কয়েকবছরের জন্যে হলেও একটু হাঁফ ফেলার সময় পায়।

এখন এই পুরোন নোট কী ভাবে বাতিল করা হবে, কোন সময় বাতিল করা হবে, তাতে সাধারণ মানুষের কতটা হয়রানি হবে, সেটা অবশ্যই তর্ক এবং বিতর্কসাপেক্ষ। তবে কয়েক বছর অন্তর পুরোন নোট বাতিল করে নতুন নোট চালু করা, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্যে যে জরুরি পদক্ষেপ, তাতে কোন সন্দেহ নেই ।

টেকনো টুকটাক আগের সব পর্ব                                      জয়ঢাকের বৈজ্ঞানিকের দপ্তর

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s