বৈজ্ঞানিকের দপ্তর প্রতিবেশী গাছ-গাঁদা অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় শীত ২০১৭

আরো অনেক প্রতিবেশি গাছের খবর

গাঁদা একটি সুগন্ধযুক্ত বাহারি ফুল যা গৃহসজ্জায়, পূজার কাজে এবং ভেষজ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। গাঁদা ফুল বিভিন্ন বর্ণের হয়। তবে সাধারণত উজ্জ্বল হলুদ এবং কমলা রংয়ের ফুলের চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বন ও গৃহসজ্জায় এই ফুলের অধিক ব্যবহার হচ্ছে।

গাঁদা গাছের আদি বাসস্থান উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা। কয়েকটি প্রজাতির গাছ বর্তমানে সারা বিশ্ব জুড়ে চাষ হচ্ছে। গাঁদা গাছ সাধারণত ৩ – ৪ ফুট লম্বা হয়। পাতার রং গাঢ় সবুজ। ফুলের ব্যাস দেড় থেকে তিন ইঞ্চি। রং মূলত স্বর্ণালী, কমলা, হলুদ। এছাড়া সাদা, মেরুন ইত্যাদি রংয়ের ফুল দেখা যায়।

এদেশে প্রধানত দুই ধরণের গাঁদা ফুল গাছ দেখতে পাওয়া যায়ঃ

১) ফরাসী গাঁদা

এই গাছ ক্ষুদ্রাকৃতি; ফুলের রং কমলা-হলুদ। পাপড়ির গোঁড়ায় কালো ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরণের গাঁদা গাছকে রক্তগাঁদাও বলে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গাছের জাতের নাম যথাক্রমে হারমনি, মেরিয়েটা, লিজিওন অফ অনার, ইত্যাদি।

২) আফ্রিকান গাঁদা

এই জাতের গাঁদা গাছ বেশ বড় হয়। ফুলের রং উজ্জ্বল হলুদ। এই গাছের বিজ্ঞান সম্মত নাম Tagetes erecta । এই প্রজাতির গাছকে মেক্সিকান গাঁদা বা অ্যাজটেক গাঁদা বলে। যদিও এই গাছের আদি বাসস্থান আমেরিকা কিন্তু এই গাছ আফ্রিকান গাঁদা নামে পরিচিত। কয়েকটি জাতের নাম যথাক্রমে ম্যান ইন দি মুন, গিনি গোল্ড, ইনকা, ইয়ালো সুপ্রিম, ইত্যাদি।

 গাঁদা ফুলের ব্যবহার

১) মশা সহ ছোটো ছোটো পোকা তাড়ানোর জন্য (রিপেলেন্ট হিসাবে) ব্যবহার করা হয়।

২) রোদে পোড়া ত্বকে গাঁদা ফুলের রস লাগালে কিছুক্ষণের মধ্যে জ্বালা ভাব কেটে যায়।

৩) গাঁদা ফুল অ্যান্টিসেপটিক।

৪) কেটে গেলে কিম্বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে ত্বকের উপর গাঁদা ফুল বা পাতার রস লাগালে রক্ত পোড়া বন্ধ হয় এবং ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি সেরে যায়।

৫) গাঁদা ফুলের পাপড়ি শুকিয়ে জাফরানের বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬) এই ফুলের নির্যাস মাউথ ওয়াস হিসাবে ব্যবহার করে যায়।

৭) গাঁদা ফুলের চা ভেষজ হিসাবে ব্যবহার যোগ্য।

আফ্রিকান গাঁদা কয়েকটি ব্যবহার নীচে লেখা হল –

  • এই ফুলের নির্যাস জলের সঙ্গে মিশিয়ে মৃতদেহ ধোয়ার রীতি রয়েছে হন্ডুরাসে।
  • উত্তর আমেরিকার আদি বাসিন্দারা এই ফুলের নির্যাস দিয়ে স্নান করে এবং ফুলের পাপড়ি থেকে প্রাপ্ত হলুদ বর্ণের তরল রং হিসাবে ব্যবহার করে।
  • কয়েকটি চাষযোগ্য গাছকে ক্ষতিকারক ক্রিমির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জমিতে গাঁদা গাছ লাগানো হয়।
  • বর্ণ ও গন্ধের জন্য লেটুস সালাডে এই ফুলের পাপড়ি মেশান হয়।
  • গাঁদা ফুলের তেল সুগন্ধির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়।
  • গাঁদা গাছের এসেন্সিয়াল অয়েলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
  • এই ফুল থেকে প্রাপ্ত লিউটিন খাবারের রং (হলুদ বা কমলা) হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

জয়ঢাকের বৈজ্ঞানিকের দপ্তর

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s