বৈজ্ঞানিকের দপ্তর বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি- শরৎ ২০২০

বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি

অনুলিখন: সৌভিক চক্রবর্তী

ধারাটা চিরকালই ছিল, কিন্তু  বাংলায় কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসির পূর্ণ জোয়ার চলেছে এখন। সাড়ে চার বছর আগে, ২০১৬র জানুয়ারি মাসে সে জোয়ার তার শুরুর দিকে ছিল।  আগ্রহ, কন্টেন্টের জোগান, নতুন কলমদের উত্থানের যে গতি এখন দেখা যাছে এই এলাকাটায় তা তখন সবে প্রয়োজনীয় ভরবেগ অর্জন করছিল। প্রায় অর্ধদশক (একুশ শতকের টাইম স্কেলে তা প্রায় এক প্রজন্ম দীর্ঘ বলা যায়) আগে সেই মুহূর্তগুলোতে কী ভাবছিলেন বাংলাভাষার কল্পবিজ্ঞানের লিখিয়েরা? কীভাবে দেখছিলেন তাঁরা বিষয়টাকে? সেইটিকে ফের একবার ঘুরে দেখবার জন্য পুরোনো সেই আলোচনাটার লিখিত রূপ এখানে সাজিয়ে দেয়া হল। 

৩১শে জানুয়ারি, ২০১৬ রবিবার,

‘কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা ২০১৬’-র পঞ্চম দিন মিলন মেলা প্রাঙ্গণের প্রেস কর্নারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কলকাতা চিরসবুজ সাহিত্য সভা ২০১৬’ (‘Kolkata Evergreen Literature Meet 2016’), যেখানে আলাপ-আলোচনায় কিশোর সাহিত্যের নানাদিকের পাশাপাশি উঠে এসেছিল আধুনিক সময়ের বিচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক এক বিষয়: ‘বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি’।

শ্রী বিবেক কুণ্ডু ও শ্রী সমুদ্র বসুর প্রচেষ্টায় আয়োজিত সেই অভিনব সেমিনারে প্যানেল সদস্য রূপে উপস্থিত ছিলেন বাংলা কল্পবিজ্ঞান এবং ফ্যান্টাসি সাহিত্য জগতের একঝাঁক উজ্জ্বল নক্ষত্র শ্রী অনীশ দেব, শ্রী অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী, শ্রী সৈকত মুখোপাধ্যায়, শ্রী দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য এবং শ্রী জয়দীপ চক্রবর্তী। এছাড়াও ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত মাসিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা ‘কিশোর ভারতী’র কর্মাধ্যক্ষা (বর্তমানে সহ সম্পাদক) শ্রীমতী চুমকি চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন তরুণ প্রজন্মের প্রশংসিত লেখক শ্রী বিবেক কুণ্ডু।

সুচিন্তিত মতামত, সুদক্ষ বিশ্লেষণ এবং অভিজ্ঞ মননে ঋদ্ধ সেই সভায় শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। পরবর্তীকালে যখন সম্পূর্ণ আলোচনা অনুলিখনের দায়িত্ব আমার ওপর এসে বর্তায়, আমি তা সাগ্রহে গ্রহণ করি। ফ্যান্টাসি ও কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক সেদিনের মনোগ্রাহী আলোচনা জয়ঢাকের পাঠকদের সামনে তুলে ধরলাম।

বিবেক কুণ্ডু

এখানে উপস্থিত সবাইকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হল ‘বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি’। কয়েকজন প্যানেল মেম্বারকে হয়তো আমি ইংরিজিতেও প্রশ্ন করতে পারি, কারণ আমাদের যে ভিডিও শ্যুট হচ্ছে সেখানে অবাঙালি দর্শকদের কথাও ভাবা হয়েছে। যেহেতু অনীশদা এখনও আমাদের মধ্যে এসে পৌঁছননি, আমি ফ্যান্টাসি দিয়েই আলোচনা শুরু করছি।

মূলত যেটাকে আমরা স্পেকুলেটিভ ফিকশন বলি–যার মধ্যে ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন, সুপার ন্যাচারাল, ম্যাজিক রিয়েলিটি, অল্টারনেটিভ হিস্ট্রি সবকিছুই পড়ে–তার নিরিখে দেখলে বলতে পারি যে বাংলায় সায়েন্স ফিকশন আমরা বেশ কিছুটা পেলেও ফ্যান্টাসি মোটেও সেইমতো পাইনি। রূপকথা অবশ্যই ফ্যান্টাসির একটা অংশ, কিন্তু তার বাইরেও ফ্যান্টাসির একটা বড়ো জগত আছে। অনেকটা সময় পিছিয়ে গেলে আমরা পাই ত্রৈলোক্যবাবুর ‘কঙ্কাবতী’, যেটা ছিল সত্যিকারের একটা ফ্যান্টাসি উপন্যাস। পরবর্তীকালে কিছু ফ্যান্টাসি আমরা পেয়েছি অবন ঠাকুর, সত্যজিৎ রায় বা লীলা মজুমদারের লেখাতেও। কিন্তু সামগ্রিকভাবে একটা জঁর হিসেবে বাংলায় ফ্যান্টাসির চর্চা যথেষ্ট কম হয়েছে। সৈকতদাকে আমি সরাসরি প্রশ্ন করতে চাই, বাংলাতে ফ্যান্টাসি এত কম লেখা হচ্ছে কেন এবং এর ভবিষ্যৎ কোথায়, আপনার কী মনে হয়?

সৈকত মুখোপাধ্যায়

উত্তরটা সরাসরিই দিই। বাংলায় ফ্যান্টাসি কম লেখা হচ্ছে কারণ ফ্যান্টাসি লেখা কঠিন। একজন লেখক, লেখক হিসেবে তৈরি হন পড়তে-পড়তেই। আমাদের বাংলায় আমরা বড়ো হই ভূতের গল্প পড়তে পড়তে, রূপকথা পড়তে পড়তে, এমনকি সামাজিক গল্পও পড়ি। কিন্তু ফ্যান্টাসি আমরা পড়ি কখন? ফলে লেখকের মাথায় যে প্লট তৈরির কারখানাটা থাকে, সেটা ছোটবেলা থেকেই অপুষ্ট রয়ে যায়। সত্যি কথা বলতে কী, ফ্যান্টাসি আর ম্যাজিক রিয়ালিটি অনেকটা কাছাকাছি, আর তাই হয়তো ফ্যান্টাসি লেখা এতটা কঠিন। একটা উদাহরণ দিই।

একটা গল্প, যেখানে দেখানো হচ্ছে একজন প্রেমিক আর একজন প্রেমিকা শহরের কোথাও নিরিবিলিতে বসে প্রেম করার জায়গা পায় না। তারা যদি কোনও রেস্তোরাঁর পর্দা ঢাকা কেবিনে বসে, একমিনিট অন্তর রেস্তোরাঁর ওয়েটাররা এসে সেই কেবিনের পর্দা দুলিয়ে দিয়ে চলে যায়। তারা যদি রেলের ওভার-ব্রিজে বসে, তাহলে দু’মিনিট অন্তর একজন মুচি বা লজেন্সওয়ালা এসে তাদের বিরক্ত করে। এই করতে করতে তারা শহরের একটা অন্ধ-আশ্রমে গিয়ে পৌঁছল। সেখানে গিয়ে তারা দেখল জায়গাটা চমৎকার, আর অন্ধেরা তো কিছু দেখতেও পায় না। তারা তখন সেই অন্ধ-আশ্রমের বাগানে বসে প্রেম করতে শুরু করল। এর পরেই ম্যাজিক রিয়ালিটির জগতে চলে এল পুরো ব্যাপারটা। দেখা গেল এক প্রবল বৃষ্টির দিনে সেই প্রেমিক-প্রেমিকার ওখানে এক জাতক ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। অন্ধেরা সবাই তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাচ্ছে, কিন্তু ওদের যে সদ্যোজাত সন্তান, তার চোখে দৃষ্টি নেই। গল্পটার নাম ছিল ‘অন্ধ জাতক’।

ওই একই লেখক বেশ কয়েক বছর বাদে একটা সায়েন্স ফ্যান্টাসি গল্প লিখলেন। সেখানে তিনি দেখালেন যে অন্য গ্রহ থেকে ইনভেডাররা পৃথিবীতে এসেছে পৃথিবীকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে। সেই ভিনগ্রহী জীবদের মধ্যে এক বিশেষ ক্ষমতা আছে, তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো চেহারা বদল করতে পারে। সে এক ভয়ংকর ব্যাপার। তাদের আটকানো যাবে কী করে? ঐ ভিনগ্রহীরা যেখানে নেমেছিল, তার কাছাকাছি একজন অন্ধ সাধু থাকত। সাধুটা মারা গেল বা বলা ভালো, তাকে খুন করা হল। তারপর দেখা গেল রাস্তা দিয়ে পাঁচজন অন্ধ লোক হেঁটে যাচ্ছে। তখন কিন্তু পৃথিবীর যারা অধিবাসী তারা সেই পাঁচজন অন্ধকে গিয়ে ধরে ফেলল যে এরাই হচ্ছে এলিয়েনস, এরাই হচ্ছে সেই গ্রহান্তরের জীব। তারা পৃথিবীতে এসে পৃথিবীর লোককে নকল করেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের সামনে প্রথমেই যে লোকটা পড়েছে সে অন্ধ। তাই তারা নিজেদের রূপ বদল করেছে সেই অন্ধ লোকটার আদলেই। কিন্তু তারা তো জানে না যে অন্ধেরা হোঁচট খেতে খেতে বা লাঠি নিয়ে হাঁটে; সাদা দু’চোখের মণি নিয়েও তারা স্মার্টলি হেঁটে গেছে। আর সেটা দেখেই পৃথিবীর লোকেরা তাদের ধরে ফেলেছে।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দিলাম যে ফ্যান্টাসি আর ম্যাজিক রিয়ালিজম কতটা কাছাকাছি। কিন্তু সেই লেখক যে এরকম গল্প খুব বেশি লিখে উঠতে পারেননি, এটাও তাঁর নিজের উপলব্ধি থেকেই বলা।

দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

এখানে কয়েকটা কথা বলতে চাই, হঠাৎ মনে এল। সৈকত যে ফ্যান্টাসির উদাহরণ দিল, ঠিক সেই পটভূমিতেই একটা গল্প। প্রেমিক প্রেমিকা একসঙ্গে থাকার সময় বেশি পাচ্ছে না, জায়গাও পাচ্ছে না। অতএব জানালার ধারে দাঁড়িয়ে প্রেমিক বাতাসে একটা পা বাড়িয়ে বলল, ‘এইভাবে বাতাসে উড়তে হয়।’ সে বাতাসে এগিয়ে গেল। প্রেমিকার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল, ‘এসো।’ এইভাবে ভাসতে ভাসতে তারা চলে গেল একটা মেঘের মাথায়। তারা যখন সেখানে বসে প্রেম করছে, তাদের পাশ দিয়ে একটা বোয়িং বিমান উড়ে গেল। তফাতটা এখানেই, জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে। এই যে ‘অন্ধ জাতক’ গল্পে ফ্যান্টাসি লিখতে গিয়েও আমি যুক্তির শিকড়টাকে মাটির গভীরে ঢুকিয়ে আঁকড়ে বসে আছি, মাটি ছেড়ে উড়তে পারছি না, আর ও কত স্বচ্ছন্দে আকাশে উড়ে গেল যুক্তিকে ছেড়ে, এটা বোধহয় জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ঐতিহ্যর সঙ্গে সম্পর্কিত। ভালো বা মন্দের প্রশ্ন এটা নয়, এটা জাত… আলাদা আলাদা ঢং।

বিবেক কুণ্ডু

এবার আমরা কিশোর সাহিত্যে ফ্যান্টাসির কথায় আসি। জানতে চাইব, সেখানে ছবিটা কীরকম মনে হচ্ছে? এখানে কিন্তু আমরা কোন ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’ দেখতে পাচ্ছি না, ‘নার্নিয়া’ দেখতে পাচ্ছি না, ‘হবিটস’ দেখতে পাচ্ছি না…

সৈকত মুখোপাধ্যায়

যদি বেআইনি না হয় তবে বলি, সঞ্চালক নিজেই তো বেশ ভালো লিখছেন বুমবুমের গল্প। ‘বুমবুম’ ইজ আ ভেরি গুড ফ্যান্টাসি। বিশেষ করে ‘বুমবুম আর জলরাক্ষস’। দেখুন এটা নিজেদের মধ্যেকার ব্যাপার, অত ফর্মালিটি রেখে লাভ নেই। আমি তো পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম। ‘কল্পনার হিস্টিরিয়া’ বলেছিলাম ওটাকে। এত ওয়াইল্ড ইম্যাজিনেশন বিবেক ওখানে রেখেছে, চিন্তাই করা যায় না! আবারও বলছি, গতবছরের পুরো শারদীয়া কিশোরসাহিত্যে ওরকম ফ্যান্টাসি আমি খুব বেশি পাইনি। আমি ঠিক জানি না, হয়তো ফ্যান্টাসি সম্বন্ধে প্রথমে যেটা বললাম সেটাই ঠিক। পড়তে-পড়তেই তো লেখার কলটা তৈরি হয় লেখকের মাথায়। রোয়াল্ড ডাল-এর লেখাগুলো যদি ছোটবেলা থেকে কোনোভাবে আমাদের বাচ্চাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া যেত—একটা শহরে একটা রাক্ষস ঢুকে পড়েছে। শহরটা একদম আমাদের শহরের মতোই। তাতে ট্রাম আছে, বাস আছে, দোতলা বাড়ি আছে, সব আছে… এবং একটা বাচ্চা ছেলে জানালা থেকে দেখছে যে সেই রাক্ষসটা দৌড়চ্ছে রাস্তা দিয়ে। এইসব জঁর-এর লেখাগুলো যদি অনুবাদের মধ্য দিয়ে আজকে আমাদের বাচ্চাদের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তাহলে কুড়ি বছর বাদে সেই বাচ্চারা নিশ্চয়ই ফ্যান্টাসি লিখবে। তুলে দেওয়া হোক না।

দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

ভাবো সৈকত… নিল গেইম্যান? ঘরের পেছনের পুকুরে ডুব দিয়ে একজন অতীতে চলে যাচ্ছে! কেন আমি আমার স্বপ্নকে এভাবে ছড়াতে পারব না? আমাকে কে আটকায়? আটকায় আমার মূল্যবোধ বা যেটাকে মূল্যবোধ হিসেবে আমাকে শেখানো হয়েছে। আমাকে শেখানো হয়েছে সর্বদা যুক্তির জাল ধরে রাখতে হবে, কখনোই অযৌক্তিকে যেতে পারব না। এটাই প্রথম শিক্ষা। কিন্তু সেটাকে ছাড়িয়ে গিয়ে রিয়ালিজমকে ঐ জায়গায় নিয়ে যাওয়া—একটা রিয়ালিজম আমি তৈরি করছি, তার ডেফিনিশন, তার প্যারাডাইম আমি বানাচ্ছি–এই জায়গাটা কেন এত কম হয়ে যাচ্ছে? হয়তো একজন দু’জন আসছেন, পারছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সেই সাহসটা কোথায় আমাদের ফ্যান্টাসিতে, বাংলা ভাষার ফ্যান্টাসিতে? এটারই খোঁজ করছি।

বিবেক কুণ্ডু

সৈকতদা ও দেবজ্যোতিদাকে ধন্যবাদ। হ্যাঁ, নিল গেইম্যান সত্যিই চমৎকার লেখেন এবং আমার মতে ওঁর ‘দ্য ওশন অ্যাট দ্য এন্ড অফ দ্য লেন’ আধুনিক সময়ের অন্যতম সেরা ফ্যান্টাসি উপন্যাস। কিংবা ‘কোরালিন’ বা ‘দ্য গ্রেভইয়ার্ড বুক’।

অনীশদা ইতিমধ্যে আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছেন। আমি অনীশদাকে অনুরোধ করছি মঞ্চে আসতে। এবার আমি সায়েন্স ফিকশনে চলে যাব। যদি ভারতীয় কল্পবিজ্ঞানের ধারাটা খুব স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আর বাংলা কল্পবিজ্ঞান ভারতীয় সাহিত্যের মধ্যেই পড়ে, তাহলে আমরা দেখতে পাই যে বাংলা এবং মারাঠি ভাষাতে কল্পবিজ্ঞানের চর্চা অপেক্ষাকৃতভাবে বেশি হয়েছে। ভারতীয় কল্পবিজ্ঞানের এই যে বিস্তার, এটা কি পুরোপুরি পাশ্চাত্য অনুপ্রাণিত, নাকি তার মধ্যে অন্য কোনও অনুষঙ্গ বা এলিমেন্ট ঢুকে রয়েছে? সাহিত্যে সামাজিক এলিমেন্টস খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস; সামাজিক রিচুয়ালস, আমাদের আচার-ব্যবহার–এই ব্যাপারগুলো প্রায়ই গল্পের মধ্যে ঢুকে পড়ে, বিশেষ করে ভারতীয় কিছু ইউনিক উপাদান। এটা নিয়েই আমি অনীশদাকে প্রশ্ন করব, ভারতীয় তথা বাংলা কল্পবিজ্ঞান ঠিক কীভাবে ডেভেলপ করেছে বলে আপনার মনে হয়?

অনীশ দেব

সামাজিক উপাদান ব্যবহার করে কল্পবিজ্ঞান—আমি জানি না ক’টা লেখা হয়েছে বাংলা ভাষায়। আপনারা জানলে আমাকে জ্ঞানী করতে পারেন। আমি ছোটবেলা থেকেই এটা শখে পড়েছি। পড়তে পড়তে একসময় লিখতে শুরু করেছি, সেটা অন্য ব্যাপার। কিন্তু আমাদের সমাজ প্রতিফলিত হচ্ছে এমন বিষয় নিয়ে কল্পবিজ্ঞানের চেষ্টা, আমি জানি না আমার পড়ার বাইরে দু-চারজন হয়তো লিখেছেন কোনও কোনও সময়ে, কিন্তু মূলত কল্পবিজ্ঞানকে অ্যাপ্রোচটাই করা হয়েছিল একটা বিনোদন ভেবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের কল্পবিজ্ঞানে প্রথম আইকন ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। সবসময়ই দেখবেন একটা আন্দোলনের জন্য একজন আইকনকে দরকার হয়—একটা লিডারশিপ, যাকে দেখে অন্যেরা অনুপ্রাণিত হয়ে সেই ধারায় লিখতে চেষ্টা করবে। ভাবনা অবশ্যই তার মধ্যে আসতে হবে, ভাষা তাকে জানতে হবে, সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু ‘আমি কল্পবিজ্ঞান লিখব’ এই যে মনোভাব, এটা তৈরির জন্য আমাদের কিছু ইন্সপিরেশন দরকার এবং ইতিহাস বলছে সেটা সবসময় আমাদের যোগান দেন আইকনরা। প্রেমেনদার পর অদ্রীশদা কিছুটা সময় তাঁর পত্রিকার মাধ্যমে চেষ্টা করেছেন, তারপরে সত্যজিৎ রায় ‘প্রোফেসর শঙ্কু’ লিখে জনপ্রিয় হওয়ার পর সেটা মূলত ‘ফ্যান্টাসি নির্ভর কল্পবিজ্ঞান’ হলেও অনেকে সেইরকম ফরম্যাটে সে ধরনের গল্প লেখার চেষ্টা করেছেন। এখন আমাদের এখানে কল্পবিজ্ঞানের যা অবস্থা তাতে ‘সোশ্যাল কনটেক্সট’ আছে কি না বা অন্য আর কিছু আছে কি না সেসব গুণমান না খুঁজে আমি প্রথম খুঁজতে চাইব যে কল্পবিজ্ঞান বা কল্পবিজ্ঞান জাতীয় গল্প লেখার জন্য লেখকরা ইন্সপায়ার্ড হচ্ছেন কি না, সম্পাদকরা সেগুলো ছাপছেন কি না, প্রকাশকরা সাহস করে বই প্রকাশ করতে চাইছেন কি না।

একদিন সময় এমন আসবে যখন এগুলো ছাপা হবে, তাদের মধ্যে থেকে আমরা বেছে নেব কোনগুলো খাঁটি সায়েন্স ফিকশন, কোনগুলো ফ্যান্টাসি, আর কোনগুলো ফ্যান্টাসিও নয় আবার সায়েন্স ফিকশনও নয়। পাঁচজন লোকের মধ্যে ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড বাছাটা কি খুব ভালো কথা? এখন তো সেই অবস্থা বাংলা কল্পবিজ্ঞানের। শারদীয় সংখ্যায় কল্পবিজ্ঞান ক’টা বেরিয়েছে আপনি লিস্ট করে দেখুন, তখনই জানতে পারবেন অবস্থাটা ঠিক কী! আর আমরা দাঁড়িয়ে আছি এই ২০১৬ সালে! ফলে আমার মনে হয় সামাজিক ইনগ্রিডিয়েন্টস ব্যবহার করে, সেই ইনফ্লেক্সন সমেত সায়েন্স ফিকশন লেখার দিকে খুব বেশি লেখক এখনও মনোযোগ দেননি।

বিবেক কুণ্ডু

ধন্যবাদ অনীশদা। আমি এবার অভিজ্ঞানদাকে সরাসরি একটা প্রশ্ন করছি। অনীশদা আমাদের বললেন অনেক ধরনের সায়েন্স ফিকশনের কথা, যেমন প্রেমেন্দ্র মিত্রর সায়েন্স ফিকশন বা সত্যজিৎ রায়ের সায়েন্স ফিকশন। তোমাকে আমি জিজ্ঞেস করব যে বাংলা সায়েন্স ফিকশন এবং সামগ্রিক সায়েন্স ফিকশনে ঠিক কোন ধরনের ধারাগুলো তুমি দেখতে পাও? সফট সায়েন্স ফিকশন, হার্ড সায়েন্স ফিকশন, সায়েন্স ফ্যান্টাসি এবং অন্যান্য এবং বাংলা কল্পবিজ্ঞানে তাদের প্রতিফলন ঠিক কেমনভাবে আসছে—এগুলো নিয়ে যদি ছোট্ট করে আমাদের কিছু বলো।

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

ইংলিশ সায়েন্স ফিকশনের সঙ্গে বাংলা সায়েন্স ফিকশনের সরাসরি তুলনায় আমি যাব না, কারণ ইংলিশ সায়েন্স ফিকশনের একটা নির্দিষ্ট পাঠক গোষ্ঠী আছে যারা শুধু ওটাই পড়ে। তাদের যে বিজ্ঞান ভাবনা বা ওই বিষয়ে তাদের যে আগ্রহ, সেটা আমরা বাংলা সাহিত্যে পাব না। আমরা দেখি বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞান লিখছেন তাঁরাই এবং তাঁরাই জনপ্রিয় হয়েছেন, যাঁরা মেইন স্ট্রিম লেখক। যেকোনও শাখাতেই লিখুন না কেন, তাঁরা একইরকম পপুলার। আমার মনে হয়, তাঁরা যখন কল্পবিজ্ঞান লিখতে চাইছেন তখন ‘আমি কল্পবিজ্ঞান লিখছি’ এই এক্সট্রা চ্যালেঞ্জটা তাঁরা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করছেন। তার ফলে একটা নির্দিষ্ট শাখার কল্পবিজ্ঞান আমরা বেশি করে দেখতে পাচ্ছি বাংলায়। সত্যজিৎ রায়ের বেশিরভাগ কল্পবিজ্ঞান আমার মতে ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফ্যান্টাসি। হয়তো তার মধ্যে কিছু কিছু বিজ্ঞানের উপাদান আছে, কিন্তু বিচার করে দেখলে আমরা দেখব সেসব নির্ভুল বিজ্ঞান নয়। সেগুলো কিন্তু উনি ইচ্ছাকৃতভাবেই রেখেছেন। এমন নয় যে উনি জানতেন না ব্যাপারটা। উনি সেগুলোর প্রয়োগ করেছেন এটা জেনেই যে তা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

আমার মনে হয় হার্ড সায়েন্স ফিকশনের জায়গা বাংলায় এখনও অতটা তৈরি হয়নি। ‘সংকেত রহস্য’ লেখার পরেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে একটু ভুল করে ফেলেছি। সেই সময়টা আরও একটু দিতে হবে, আমাকে আর একটু সময় নিতে হবে অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে দিয়ে, যাতে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ আরও বড়ো একটা অংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আর ফ্যান্টাসি প্রসঙ্গে বলব, অনেকে তো দেখি আজকাল হ্যারি পটারকেও বলছে সায়েন্স ফ্যান্টাসি। আমি জানি না সেটাকে সায়েন্স ফ্যান্টাসি বলা যায় কি না। এটা বিতর্কের বিষয়।

বিবেক কুণ্ডু

শীর্ষেন্দুবাবুর লেখাগুলো কি সায়েন্স ফ্যান্টাসি, যেমন ‘অদ্ভুতুড়ে’ সিরিজ বা অন্যান্য?

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

হ্যাঁ, সায়েন্স ফ্যান্টাসি। তবে ‘বনি’ ছাড়া। আমি অবশ্য ওঁর সব লেখা পড়িনি। অন্য আরও কিছু লেখা থাকতে পারে যা হয়তো সায়েন্স ফ্যান্টাসি নয়, কিন্তু মূলত ওঁর বেশিরভাগ লেখাই সায়েন্স ফ্যান্টাসি। অনীশদার অনেক লেখাতে বিজ্ঞানের অনেক বেশি প্রয়োগ দেখেছি। তবে আমার মনে হয় অ্যাডাল্ট সায়েন্স ফিকশন বাংলায় এখনও খুব বেশি লেখা হয়নি, সেখানেও একটা বড়ো ফাঁকা জায়গা পড়ে আছে।

বিবেক কুণ্ডু

I would like to ask one more question to Abhijnan da. Can we say that Bengali Science Fiction is very much inspired and influenced by Western Science Fiction? Or does it have its own roots and way of growth?

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীঃ

I think it is up to the author and up to the choice that he makes. Certain authors have certainly made that choice, they would probably be more influenced by foreign writers but there are certain other writers who try to be more original in their writing style.

এখানে অডিয়েন্স যেহেতু মূলত বাঙালি তাই আমার মনে হয় প্রশ্নের বাকি উত্তরটা বাংলাতেই দেওয়া ভালো। বেশ কিছু ক্ষেত্রে হয়তো বিদেশি কল্পবিজ্ঞানের প্রভাব আছে, কিন্তু আমার মনে হয় তার বাইরেও অনেক মৌলিক লেখা রয়েছে। অনেক লেখাই আমি পড়েছি বাংলায় যা পড়ে আমার কোনোভাবেই মনে হয়নি যে সেগুলো বিদেশি কল্পবিজ্ঞানের দ্বারা প্রভাবিত। এখানে যাঁরা বসে আছেন তাঁদের তো বটেই, এর বাইরেও অনেক লেখক, যেমন প্রেমেন্দ্র মিত্র বা সত্যজিৎ রায়, তাঁদের লেখাও অনেকটাই প্রভাবমুক্ত। তবে হ্যাঁ, আমার মনে হয়, যেটা অনীশদাও বলেছেন, যে প্রেমেন্দ্র মিত্র যে প্রভাবটা তৈরি করেছেন বাংলা কল্পবিজ্ঞানে, সেটা এখনও অবধি রয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে সরে এসে যে অন্য ধরনের সায়েন্স ফিকশনগুলো নিয়ে কাজ তেমন হয়নি। যেমন বলা যায়, আজ পর্যন্ত ক’টা মেডিক্যাল সায়েন্স ফিকশন লেখা হয়েছে? এছাড়া অন্যান্য যে টপিকগুলো আছে সেগুলো নিয়েও নাড়াচাড়ার দরকার আছে। সেই জায়গাতে আমার মনে হয় এখনও আমরা খুব বেশি লিখিনি। যদি কখনও কেউ লিখতে শুরু করে তার ওপরে একটা প্রভাব কিন্তু চলে আসতেই পারে।

বিবেক কুণ্ডু

অভিজ্ঞানদাকে ধন্যবাদ। জয়দীপদা, তুমি তো অনেকদিন ধরে কল্পবিজ্ঞান লিখছ। আনন্দমেলা ও অন্যান্য অনেক পত্রিকাতে তোমার কল্পবিজ্ঞানের গল্প নিয়মিত প্রকাশিতও হয়েছে। তোমার কাছে আমার প্রশ্ন হল, কল্পবিজ্ঞান লেখার সময় তুমি মূলত কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দাও? এছাড়া কল্পবিজ্ঞানের তো অনেক রকমফের রয়েছে, তাই ঠিক কী ধরনের কল্পবিজ্ঞান তুমি লিখতে ভালোবাসো সেটাও যদি আমাদের একটু বলো তাহলে খুব ভালো হয়।

জয়দীপ চক্রবর্তী

কল্পবিজ্ঞানকে আমি মূলত দু’ভাবে দেখি। এক হল যেখানে সায়েন্স বেশি ফিকশন কম, আরেকটা হল যেখানে ফিকশন বেশি সায়েন্স কম। আমার লেখাগুলো মূলত দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়বে। আমি যেহেতু নিজে বিজ্ঞানের ছাত্র নই, তাই বিজ্ঞানের জটিলতা নিয়ে অযথা চর্চা করতে চাই না আমার লেখাগুলোর মধ্যে। আজকাল অধিকাংশ লেখকদের ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে তাঁদের লেখায় সায়েন্টিফিক ইনফর্মেশন বা রিসার্চ অনেক বেশি থাকলেও কল্পনার পরিমাণ যথেষ্ট কম। আমি কিন্তু কল্পনাকেই প্রাধান্য দিতে চাই বেশি এবং সে কারণে আমার অনেকগুলো লেখা যেমন সায়েন্স ফিকশন, অনেকগুলো আবার সায়েন্স ফ্যান্টাসিও বটে। আমি মনে করি আজকে যারা ছোটো তাদের যদি কল্পনার জগতের একটা এক্সপোজার দেওয়া যায়, তারাও তো আসলে কল্পচারী হয়ে ওঠে লেখাটা পড়তে পড়তে, তাহলে তাদের মনগুলোও কল্পনাপ্রবণ তৈরি হয়।

আমি প্রায়ই ইনভেডারস বা এলিয়েনস জাতীয় বিভিন্ন এলিমেন্টস আমার লেখাতে ব্যবহার করেছি, কিন্তু আমি সবসময় এটাই দেখাতে চেয়েছি যে শুভ বোধের জয় হয়। মানুষকেই শেষপর্যন্ত আমি জিতিয়ে দিই, কারণ আমি চাই না মানুষ নিজের মনুষ্যত্ব ছেড়ে অন্য কিছুতে বিশ্বাস করুক। একই মানুষের মধ্যে ডাঃ জেকিলও আছে, আবার মিঃ হাইডও আছে। আমি ডাঃ জেকিলকেই সর্বদা জয়ী দেখতে চাই। আমার সায়েন্স ফিকশন লেখার পেছনে মূলত এই প্রেরণা কাজ করে।

বিবেক কুণ্ডু

ধন্যবাদ, জয়দীপদা। আমাদের সময় একেবারে কমে এসেছে। আমি চুমকিদিকে আজকের শেষ প্রশ্ন করব,  ‘কিশোর ভারতী’ পত্রিকা কিশোর সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞানের প্রসারের জন্য এখন কী ভাবছে?

চুমকি চট্টোপাধ্যায়

‘কিশোর ভারতী’ পত্রিকা নিশ্চয়ই ভাবছে। আমরা প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি বিভিন্ন মানুষের পৃষ্ঠপোষকতায়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী। অভিজ্ঞান বরাবরই বছরে একটি বা দুটি প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের বলেন; তিনি সেগুলো স্পনসরও করেন। সেখানে আমরা কল্পবিজ্ঞানের লেখা পাই না যে তা নয়, যথেষ্ট সংখ্যকই পাই, কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় যেটা সেটা হল খুব বেশি পড়াশোনা করে লেখা গল্প তেমন পাওয়া যায় না। কল্পবিজ্ঞান লিখতে গেলে তো সায়েন্সের একটা মিনিমাম বেস থাকা দরকার। সেই ভিত্তিটা কিন্তু খুব জোরদার থাকে না, যার জন্য লেখাগুলোর মধ্যে যে সায়েন্স ফিকশন অ্যাপিল থাকা উচিত সেটা আমরা পাই না।

ইতিমধ্যেই একটা সায়েন্স ফিকশনের প্রতিযোগিতা হয়ে গেছে। আমরা প্রায় পৌনে চারশো লেখা পেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বাছতে আমাদের কালঘাম ছুটে গেছে। কখনও দেখছি শুরুটা ভালো, শেষটা ভালো না, গল্পটা দাঁড়াচ্ছে না। কখনও আবার শেষটা হয়েছে, কিন্তু পুরো ব্যাপারটা দানা বাঁধেনি। তাই আমার মনে হয় সায়েন্স ফিকশন লিখতে গেলে একটুখানি বেশি পড়াশোনা করতে হবে, আরও অনেক সায়েন্স ফিকশন পড়তে হবে। যাঁরা এখনও লিখছেন বা যারা আগে লিখে গেছেন, তাদের সবার লেখা। আমরা তো চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছি। আপনারা যাঁরা মনে করেন সায়েন্স ফিকশন লিখতে পারেন তাঁরা দয়া করে লিখবেন, লিখে আমাদের পাঠাবেন। আমরা সবসময় আছি সেগুলোকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য।

বিবেক কুণ্ডু

ধন্যবাদ, চুমকিদি। আমাদের হাতে আজ আর একদম সময় নেই। তাই সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান আমরা এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন।

জয়ঢাকের বৈজ্ঞানিকের দপ্তর

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s