বৈজ্ঞানিকের দপ্তর ভারতের বৈজ্ঞানিক-অরবিন্দ ভাটনাগর সংহিতা শীত ২০১৬

  ভারতের বৈজ্ঞানিক সব পর্ব একত্রে

bigganbharoterboiganikভারতীয় বৈজ্ঞানিকদের জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাস সুপ্রাচীন। সেই ধারা আজও অব্যাহত রেখেছেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে অন্যতম জ্যোতির্বিজ্ঞানী অরবিন্দ ভাটনাগর।

বিজ্ঞানী ভাটনাগরের উদ্যোগেই উদয়পুরের সৌর পর্যবেক্ষণাগারটি তৈরি হয়েছিল। তৈরি হয়েছে অসংখ্য তারামণ্ডল। ভারতীয়দের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার উৎসাহ নতুন করে তৈরি করেছেন অধ্যাপক ভাটনাগর। তাঁর উদ্যোগেই ভারতে জনপ্রিয়তা পায় মহাকাশ পর্যবেক্ষণের চর্চা।

১৯৯৫ সালের ২৪শে অক্টোবর যে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল সেই সময়ে পৃথিবীর উপরে পড়া সূর্যের ছায়া থেকে সূর্যের ব্যাস নির্ভুল ভাবে নির্ণয়ের চেষ্টা করেছিলেন ভারতের বৈজ্ঞানিকরা। সেই প্রচেষ্টার পুরোধা ছিলেন বিজ্ঞানী অরবিন্দ ভাটনাগর। তিনটি আলাদা মিগ-২৫ বিমান তিন হাজার কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে আশি হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে অনেক সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করেছিল সূর্যের ছায়া। আরও দুটো মিগ-২৫ বিমান সূর্যের ছটা অঞ্চলের বহির্ভাগের কিছু ছবি সংগ্রহ করেছিল। অবশ্যই এই বিমানগুলিতে ছিলেন বৈজ্ঞানিকরা আর কিছু অতি শক্তিশালী ক্যামেরা। অন্ধকার আর পরিষ্কার আকাশের সেই ছবি থেকে জানা সম্ভব হয়েছে সুর্যের ছটা অঞ্চল সম্বন্ধে অনেক অজানা কথা।

১৯৩৬ সালের ১৯শে নভেম্বর রাজস্থাণের বেওয়ারে জন্ম অধ্যাপক অরবিন্দ ভাটনাগরের। পদার্থবিদ্যায় স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৫৮ সালে তিনি যোগ দেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্য পর্যবেক্ষণাগারে। সেটি নৈনিতালে অবস্থিত। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এখানেই কাজ করেছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী অরবিন্দ ভাটনাগর। তারপর তিনি পদার্থবিদ্যাতেই ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬৪ সালে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এই সময়ে তিনি কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন কোডাইকানালের পর্যবেক্ষণাগার। তাঁর গবেষণার উপদেষ্টা ছিলেন অধ্যাপক এম.কে. ভাইনু বাপ্পু।

১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সাল অবধি তিনি কাজ করেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণে। প্রথমে লস এঞ্জেলসের মাউন্ট উইলসন পর্যবেক্ষণাগারে ও পরে স্যান দিয়েগোর কাছাকাছি পালোমার পর্যবেক্ষণাগারে। প্রথমটি স্থাপিত হয়েছিল ওয়াশিংটনের কার্নেগি ইন্সটিটিউসনের পৃষ্ঠপোষকতায়। অধ্যাপক ভাটনাগর কার্নেগি ফেলোশিপ পেয়েই সেখানে গিয়েছিলেন।  পালোমার পর্যবেক্ষণাগারটি ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির তত্ত্বাবধানে চলে। সেই সূত্রে পাসাডেনার ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির বিগ বিয়ার লেকস্থিত পর্যবেক্ষণাগারে স্থায়ী জ্যোতির্বিজ্ঞানীর পদে কাজ করেন অধ্যাপক ভাটনাগর ১৯৭২ সাল অবধি।

তারপর দেশে ফিরে আসেন। তাঁর নজরে পড়ে যে ভারতের সর্বোচ্চ সূর্যোকরোজ্জ্বল রাজ্য হল রাজস্থান। যেমন ইউনাইটেড স্টেটসে ক্যালিফোর্নিয়া। এছাড়াও তিনি পর্যবেক্ষণ করলেন  কীভাবে জলাশয়ের জলের প্রভাবে সূর্যরশ্মির তাপে গরম হয়ে যাওয়া হাওয়ার পরিচলন নিয়ন্ত্রিত হয় রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলে। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উদয়পুরের ফতেহ্‌সাগর লেক-এ গড়ে তুললেন সৌর পর্যবেক্ষণাগার, আহমেদাবাদের বেদশালার পৃষ্ঠপোষকতায়। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৮১ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের মহাকাশ দপ্তর ফতেহ্‌সাগর হ্রদের পর্যবেক্ষণাগারটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপরই সংস্থাটির দ্রুত উন্নয়ন ঘটে। উচ্চ- রেজলিউশনের পর্যবেক্ষণের কারণে অর্থাৎ অধিক তথ্যবহুল পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার কারণে এই পর্যবেক্ষণাগার আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।

পরে রাজস্থানের হ্রদ্গুলির সংরক্ষণের জন্যেও অধ্যাপক ভাটনাগর বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।

২০০৬ সালের ১৮ই মে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 বৈজ্ঞানিকের দপ্তর সব লেখা একত্রে

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s