বৈজ্ঞানিকের দপ্তর ভারতের বৈজ্ঞানিক-অশোক দাস সংহিতা বসন্ত ২০১৭

ভারতের বৈজ্ঞানিক সব পর্ব একত্রে

bigganbiggani-mediumআধুনিক কালে ভারতবর্ষের যে সব বৈজ্ঞানিক দেশের সীমা পেরিয়ে বিদেশেও সমূহ স্বীকৃতি পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে পদার্থবিদ অশোক দাস অন্যতম। বৈজ্ঞানিক অশোক দাসের চর্চার ক্ষেত্র তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা। এই বিষয়ে তাঁর গবেষণা নানান মহাদেশে প্রসিদ্ধ।

উড়িষ্যার পুরী জেলায় তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৫৩ সালের ২৩শে জানুয়ারি। তবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা তিনি করেছিলেন দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে, পদার্থবিদ্যা নিয়ে এবং স্নাতক সাম্মানিক ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রিও তিনি পেয়েছিলেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই যথাক্রমে ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালে।

পরবর্তী পর্যায়ে স্নাতোকোত্তর গবেষণা করার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। সুপারসিমেট্রি ও সুপারগ্র্যাভিটি বিষয় দুটির ওপর গবেষণা করেছিলেন তিনি স্নাতোকোত্তর গবেষণা করার সময়ে, স্টোনিব্রুক নামে এক জায়গায় নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির যে ক্যাম্পাস ছিল সেইখানে। তাত্ত্বিক গবেষণার এই ক্ষেত্রগুলিতে মূলত বস্তুর কণা ধর্ম আর তার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়। সুপারসিমেট্রি আবার বোসন আর ফার্মিয়ন কণা দুটির ঘূর্ণন বিষয়ে আলোকপাত করে। এই কণা দুটি জোড়া হিসেবে বিবেচনা করলে এদের মধ্যে বোসন-এর ঘূর্ণন পূর্ণ সংখ্যায় গোণা যায় এবং অপর কণা ফার্মিয়নের ঘূর্ণন পূর্ণসংখ্যার অর্ধেক দাঁড়ায়। এছাড়াও কণাগুলির ভরের জন্য মৌলের প্রাথমিক কণা ইলেকট্রনের ভরের তারতম্য ঘটে। ১৯৭৭ সালে বৈজ্ঞানিক অশোক দাস ডক্টরেট ডিগ্রি পান ঘূর্ণনের ৩/২ ক্ষেত্র এবং সুপারগ্র্যাভিটি তত্ত্বের জন্য।

এরপরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহাবিদ্যালয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী গবেষকের কাজ করেন। যেমন নিউ ইয়র্কের সিটি কলেজে, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. অশোক দাস যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮২ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ১৯৯৩ সালে তিনি অধ্যাপনা শুরু করেন। এখনও এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তিনি অধ্যাপনা এবং গবেষণার সাথে যুক্ত। এছাড়াও তিনি ভারতবর্ষের সাহা ইন্‌স্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের অতিরক্ত অধ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলেন।

বৈজ্ঞানিক দাস নানান সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। যেমন ১৯৮৩-৮৯ সালের মধ্যে তিনি ছিলেন শক্তি দপ্তরের বিশিষ্ট অর্ধতন অনুসন্ধানকারী। ১৯৯১ সালে এডওয়ার্ড পেক কার্টিস পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে প্রথমবার ফুলব্রাইট ফেলোশিপ পেয়েছিলেন। পরে একই সম্মান পান ২০০৬ সালেও। এর মধ্যে ২০০৪ সালে অর্জন করেন রকফেলার ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড। ২০০৬ সালেই উইলিয়াম এইচ রাইকার পুস্কারও পেয়েছিলেন রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরকাড়া স্নাতোকোত্তর শিক্ষক হিসেবে। ফুলব্রাইট ফেলোশিপ তাঁকে পৌঁছে দেয় ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জুন মাস অবধি ফাইনাইট টেম্পেরেচার ফিল্ড থিওরি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। এছাড়াও তাঁকে আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির সভ্য করা হয়েছে।

শতাধিক গবেষণা পত্রের রচয়িতা ড. অশোক দাস। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র এখন সমাকলন গণিতের দ্বারা প্রভাবিত। এই বিষয়ে গবেষণা পত্র ছাড়াও তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীদের পড়ার উপযোগী একাধিক বইও লিখেছেন।

জয়ঢাকের বৈজ্ঞানিকের দপ্তর

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s