বৈজ্ঞানিকের দপ্তর লিখিব পড়িব শেষপর্ব কিশোর ঘোষাল শীত ২০১৮

কিশোর ঘোষাল   এর সমস্ত লেখা একত্রে

কিশোর ঘোষাল

(শেষ পর্ব)

১০

ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তী কালে বৃটিশ পার্লামেন্টের শাসনাধীন ভারতবর্ষে বিদেশী সাহিত্যের ছোঁয়া এসে বাংলা সাহিত্য এবং লিপিকে অকস্মাৎ জাগিয়ে তুলল, যেন জাদুকাঠির ছোঁয়ায়। পুঁথির সীমানা ছাড়িয়ে বাংলা লিপি ঢুকে পড়ল ছাপাখানার রাজ্যে। কলকাতা শহরকে রাজধানী করে, ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির রাজ্যবিস্তারের শুরুতে বিদেশী শাসকদের অন্যতম বাধা ছিল ভাষা। শাসকের পক্ষে স্থানীয় ভাষা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল না হলে প্রজাদের শাসন এবং শোষণ দুরূহ বুঝে, কোম্পানি নতুন ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য বাংলাভাষা শিক্ষার বই ছাপালেন ১৭৭৮ সালে। হুগলি থেকে ছাপা হওয়া সেই বইয়ের নাম, “A Grammar of the Bengali Language”। বইটি মূলত ইংরিজিতে লেখা হলেও, বাংলা হরফের অনেক নমুনা এবং উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হয়েছিল, সেই কারণে এই বইটিকে বাংলা লিপির প্রথম মুদ্রণ প্রকাশ বলা যায়। এই বইটির লেখক ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালেহেড (Nathaniel Brassy Halhead) এবং মুদ্রণের কৃতিত্ব স্যার চার্লস উইল্কিন্সের (Sir Charles Wilkins)।

অবশ্য এর অনেক আগেই, ১৫৫৬ সালে পর্তুগীজ খ্রিষ্ট ধর্মপ্রচারকরা, ভারতবর্ষে প্রথম ছাপাখানা বসিয়েছিলেন গোয়াতে। বাংলার পর্তুগীজ ধর্মপ্রচারকরা সুদূর লিসবন থেকে অনেকগুলি বাংলা বই ছাপিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলি সবই রোমান হরফে লেখা। সেই সব বইয়ের নমুনা এখন আর পাওয়া যায় না। বাংলাভাষার মুদ্রিত প্রথম যে বইয়ের নমুনা পাওয়া যায়, সেটি প্যারিস থেকে ১৬৮২ সালে প্রকাশিত ফরাসী ধর্মপ্রচারকদের বই। এই বইগুলির অধিকাংশই কাঠ কিংবা তামার পাতের উপর ব্লক বানিয়ে ছাপানো। বাংলা অক্ষরের আলাদা আলাদা টাইপ খোদাই করে বাংলা লিপিকে মুদ্রণ যন্ত্রের প্রকৃত উপযোগী করে তুললেন, স্যার চার্লস উইল্কিন্স। মুদ্রণের ক্রমবিকাশ এই লেখার বিষয় নয়, কিন্তু তাও মুদ্রণের উল্লেখ করলাম, কারণ এই প্রথম বাংলা লিপি সার্বজনীন ও স্থায়ী একটা রূপ পেল। তাই বাংলা লিপির (একথা পৃথিবীর সমস্ত লিপির পক্ষেই সমানভাবে প্রযোজ্য) ক্ষেত্রে মুদ্রণের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যাপারাটা আরেকটু স্পষ্ট করে বলি।

আগেকার দিনে গ্রন্থকার যা কিছু রচনা করতেন, সেই গ্রন্থ জনপ্রিয় হলে, রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায়, সেই গ্রন্থের অনেক প্রতিলিপি বানানো হত। সে প্রতিলিপি করতেন এক বা একাধিক লিপিকার। এক এক যুগে, এই লিপিকারদের লিখন পদ্ধতি ছিল ভিন্ন এবং লিপিকারদের সকলেরই লেখার স্টাইল বা ভঙ্গীও ছিল আলাদা। যেমন আজও একই ছাপার অক্ষর থেকে অনুকরণ করেও, তোমার এবং আমার হাতের লেখা এক নয়। আমাদের প্রত্যেকের লেখা আলাদা – এমনকি কারো কারো হাতের লেখা দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে, আবার কোন কোন হাতের লেখা দেখে আমরা বলে উঠি, “বাঃ কী সুন্দর লেখা!” এইরকম সেকালেও গ্রন্থের প্রত্যেক প্রতিলিপি পাঠকের কাছে সমান পাঠযোগ্য হতে পারত না। উপরন্তু লিপিকারদের প্রতিলিপি করা গ্রন্থের সংখ্যা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় ছিল অতি নগণ্য। যথেষ্ট আগ্রহী এবং সম্পন্ন পাঠক ছাড়া সেই গ্রন্থ সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য ছিল, সে কথা বলাই বাহুল্য।

মুদ্রিত গ্রন্থ বা বই প্রকাশের ব্যয়, সেই তুলনায় যথেষ্ট কম। কাজেই শিক্ষা গ্রহণের পক্ষে মুদ্রিত বই এবং গ্রন্থকারের লেখা মুদ্রিত বই অনেক সহজলভ্য হয়ে উঠল, সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে এল। অতএব শিক্ষাগ্রহণ এবং গ্রন্থপাঠের রেওয়াজ বেড়ে উঠতে লাগল দ্রুত!

আরও একটা বিষয়ে মুদ্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হল, গ্রন্থ রচনার পদ্ধতি। আমাদের দেশের প্রাচীন সমস্ত গ্রন্থ, সে সাহিত্য হোক কিংবা ধর্মশাস্ত্র, বিজ্ঞান কিংবা দর্শন – সংস্কৃত হোক কিংবা বাংলা – সকল গ্রন্থই রচিত হয়েছে কোন না কোন ছন্দের বাঁধনে। তার কারণ শ্রুতিমধুরতা এবং একমাত্র উদ্দেশ্য মনে রাখার সুবিধা। পুঁথি বা গ্রন্থ যেহেতু সহজলভ্য নয়, অতএব সহজে মুখস্থ করার উপায় ছন্দের বন্ধন। সেক্ষেত্রে বুঝতেই পারছো, কোন বিষয়ে শুধুমাত্র পণ্ডিত হলেই, কারো পক্ষে গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব নাও হতে পারে! কারণ তাঁর নিজের বিষয়ের সঙ্গে, তাঁকে বুঝতে হবে ছন্দেরও নিয়ম! ছন্দের নিয়ম এবং তাল মেনে তাঁকে শব্দচয়ন করতে হবে! ছন্দের বিধান অনুসারে শব্দচয়ন করতে গিয়ে, তিনি যদি ছন্দবিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ না হন, তাঁর আসল বক্তব্যই আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে যাবে। আর পরবর্তী কালে সেই অস্পষ্ট বক্তব্যের ব্যাখ্যা এবং টীকা করবেন অন্য কোন পণ্ডিত! কে জানে, তিনি কী বলতে চেয়েছিলেন, সে কথা সেই পণ্ডিতেরাও সম্যক বুঝেছেন কিনা! আজকের পরিস্থিতির তুলনায়, সে সময়ের কাজটা খুব দুরূহ মনে হচ্ছে না?

যে কোন গ্রন্থের এই ছন্দবদ্ধ রচনাশৈলী থেকে মুক্তির সন্ধান দিল, ছাপাখানা এবং ছাপার অক্ষরে লেখা বই। পদ্যে হোক কিংবা গদ্যে মনের কথা কিংবা মতামত লিখে ছাপিয়ে ফেলতে আর কোন অসুবিধে রইল না। ছাপাখানার প্রসার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসে গেল অনেক দৈনিক সংবাদপত্র, নানান পত্র-পত্রিকা। লেখার জগতেও শুরু হয়ে গেল নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ইওরোপীয় সাহিত্যের অনুসরণে এবং অনুকরণে সাহিত্যের সকল শাখাতেই বাংলার চর্চা দ্রুত বাড়তে লাগল। পদ্য, কবিতা, কাব্য, নাটক, গদ্য, উপন্যাস, রম্য রচনা, প্রবন্ধ, পাঠ্য বিষয় সমূহ এবং অনুবাদ সাহিত্যও। প্রথম যুগে রামরাম বসু থেকে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রমুখের লেখনী ধরে বাংলা ভাষা পল্লবিত হতে লাগল নানান শাখায়। এর পরবর্তী কালে এসে গেলেন বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যাঁর সরস এবং মৌলিক লেখনীতে বাংলা ভাষা সকল বঙ্গভাষীদের মধ্যেই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠল। তাঁর লেখা একের পর এক উপন্যাস, রম্যরচনা, ধর্মতত্ত্ব সেকালে শিক্ষিত বাঙালীর ঘরে ঘরে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। তাঁর আগে ইংরিজি এবং পাশ্চাত্য ভাষায় উচ্চশিক্ষিত বঙ্গসমাজে এমন একটা ধারণা প্রচলিত ছিল যে, বাংলা ভাষা নিম্নরুচির ভাষা এ ভাষায় উচ্চস্তরের সাহিত্য রচনা সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলা ভাষাতেও যে মহৎ সাহিত্য রচনা সম্ভব, সেই ধারণা এবং বিশ্বাস সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র।

বঙ্কিমচন্দ্রের পরবর্তী যুগে, বাংলা সাহিত্যের সবথেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সাহিত্যের সকল শাখা তাঁর আশ্চর্য প্রতিভার ছোঁয়া পেয়ে বাংলাভাষা পৌঁছে গেল অন্য উচ্চতায়। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, ছড়া, কিশোরসাহিত্য সব শাখাতেই তাঁর আশ্চর্য অবদানে, বাংলাভাষা অতি দ্রুত সমৃদ্ধ হয়ে উঠল। সত্যি কথা বলতে, বাংলা ভাষা পেয়ে গেল অত্যন্ত আধুনিক কিন্তু অনবদ্য এক শৈলী। যার পশ্চাৎপটে রইল প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যের বর্ণময় ঐতিহ্য এবং অঙ্গে আধুনিক পাশ্চাত্য সাহিত্যের বাস্তব ঋজুতা। রবীন্দ্রনাথের রচনা বাঙালীর মধ্যে আর সীমিত রইল না, ভারতের আঞ্চলিক একটি ভাষা থেকে সে ভাষা হয়ে উঠল বিশ্বজনীন – বিশ্বের দরবার থেকে সাহিত্যের সর্বোচ্চ নোবেল পুরষ্কার এনে দিলেন রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে! “চর্যাপদ” দিয়ে যে ভাষায় সাহিত্যের পথ চলা শুরু হয়েছিল, সে পথচলার চরম উত্তরণ হল “গীতাঞ্জলি”তে। সার্থক হল বাংলা ভাষা, গর্বিত হলাম আমরা – যারা বাংলাভাষী।

১১

১৯৪৭ এ ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাভাষার ওপর নেমে এল চরম আঘাত। দেশভাগ হল, বিভক্ত হয়ে গেল বাংলাভাষী মানুষেরাও। বাংলাভাষী মানুষের বৃহত্তর অংশ ধর্মের নামে হয়ে গেলেন অন্য রাষ্ট্র। বঙ্গভাষীদের এক অংশ আগের মতোই ভারতবর্ষের অঙ্গরাজ্য হিসেবে থেকে গেল, আর অন্য অংশ হয়ে গেল, নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের অংশ – পূর্ব পাকিস্তান।  নতুন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে পূর্বপাকিস্তানের বঙ্গভাষীদের বনিবনা হল না কিছুতেই! কিছু দিনের মধ্যেই বোঝা গেল – ভাষা, আচরণ, প্রকৃতি, ঐতিহ্য, বিশ্বাস যদি ভিন্ন হয়, শুধু ধর্ম দিয়ে তাকে জুড়ে ফেলা যায় না। পূর্বপকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দু, ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রনায়কদের এই ঘোষণা শুনে, ক্ষুব্ধ হতে লাগল বাংলাভাষী। সেই ক্ষোভ বিদ্রোহ এবং আন্দোলনের রূপ নিল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি! সুদীর্ঘ আন্দোলন, রক্তপাত ও লড়াইয়ের পর ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার সংবিধানের সংশোধন করে, বাংলাভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিল। জয় হল বাংলাভাষার, ভাষার প্রতি বিশ্বাসে অবিচল রইল বঙ্গভাষী!

বহু বছর পরে ১৯৯৯ সালে, মাতৃভাষার জন্যে দেশের মানুষের এই আন্দোলনের স্বীকৃতি দিল ইউনেস্কো, ২১শে ফেব্রুয়ারিকে তারা ঘোষণা করল “বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে। সেই থেকে ওই দিনটি বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবেই সর্বত্র পালিত হয়।  এও বাংলাভাষার জয়, কিন্তু এই জয় অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জয়, মাতৃভাষার জন্যে আন্তরিক ভালবাসার জয়!

কিন্তু ভাষা আন্দোলনের সাফল্যের জন্য যে অত্যাচার ও রক্তক্ষরণ বঙ্গভাষীদের সহ্য করতে হয়েছিল, তাতে মূল পাকিস্তানের রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবার সম্ভাবনা রইল না। চূড়ান্ত অবিশ্বাস, নিরন্তর বঞ্চনা, শাসনের নামে অসহ্য অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে তারা মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিল। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সৈন্যদের গণহত্যা, বঙ্গভাষী মানুষদের ঠেলে দিল বৃহত্তর সংগ্রামের দিকে, সে সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, আগ্রাসী রাষ্ট্রের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার লড়াই। চরম অত্যাচার, অপমান এবং তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে সেই সময় এল, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর! নিজস্ব একটা দেশ পেল বঙ্গভাষী মানুষেরা, স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র, যার নাম বাংলাদেশ।

এখন বাংলা আর শুধুমাত্র ভাষা নয়, একটা আবেগ, একটা সত্ত্বা, সংগ্রামের আশ্চর্য হাতিয়ার! আরেকবার সার্থক হল বাংলা ভাষা, আরও একবার গর্বিত হলাম আমরা – যারা বাংলা ভাষী।

১২

লিখলাম বটে, কিন্তু আমরা যারা এপারের বঙ্গভাষী তারা কী এই ভাষাকে অতটাই ভালবাসি আর? খুব সত্যি কথাটা হল – বাসি না। 

বিশ্বের ৬৯০০টি প্রচলিত ভাষার মধ্যে বঙ্গভাষী-জনসংখ্যার বিচারে বাংলার স্থান সপ্তম। অথচ পাঠকের অভাবে এই কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে চলেছে প্রচুর সুস্থ সুন্দর পত্রিকা, দুর্বল হয়ে পড়ছে পুস্তকের প্রকাশণ সংস্থাগুলি। আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভাষার প্রতি ভালোবাসায় আমাদের কোন ঘাটতি হয়তো নেই। কিন্তু দৈনন্দিন ব্যবহারিক প্রয়োগে বাংলা ভাষার দুর্দশা, ভ্রান্তি, অবহেলা সর্বদা চোখে পড়ে। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে মহান সাহিত্যিকদের রচনা, পাঠ্যবইয়ের বাধ্যতামূলক সিলেবাসের বাইরে, বহু বঙ্গভাষী উল্টেও দেখেন না। পরবর্তী প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা “বাংলাটা আমার তেমন আসে না”, বলতে গর্ব অনুভব করেন! সোসাল মিডিয়ার এই বিস্ফোরণের যুগে, তাঁরা বাংলা লেখেন, ইংরিজি হরফে। যদিও বাংলালিপির অনেক software বিনামূল্যে অত্যন্ত সহজলভ্য – সে কম্পিউটারের জন্যেই হোক কিংবা স্মার্টফোন। এই সফটওয়্যার গুলির মধ্যে, আমার ধারণা, সব থেকে সহজ ও সাবলীল ওমিক্রন ল্যাবের “অভ্র কি বোর্ড” – যার সৃষ্টিকর্তা বাংলাদেশের ডাঃ মেহেদি হাসান খান! বাংলাভাষাকে অত্যাধুনিক টেকনোলজিতে উন্নীত করার জন্যে তাঁর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই!

কিন্তু বহুযুগ ধরে অনেক উত্থান-পতনের ঐতিহ্য নিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের এই মাতৃভাষা আমরা কী ধীরে ধীরে ভুলে যাবো? কথা বলবো হিন্দি ও ইংরিজি মিশ্রিত আধো বাংলায়? লেখার জন্যে বাংলা লিপি ভুলে, ব্যবহার করবো রোমান হরফ, আর আমাদের আবেগের ভাষা হবে, কিছু ইমোজি বা ইমোটিকন? কে জানে – সে কথা ভবিষ্যৎ বলবে, আর বলবে তোমরা যারা এই লেখাটি পড়ছ।   

 

বৈজ্ঞানিকের দপ্তর সব লেখা একত্রে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s