বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-টেকনো টুকটাক পথের শেষ কোথায়-কিশোর ঘোষাল

biggan08সরুগলি থেকে রাজপথ, পথের রকমসকম যাই হোক না কেন, যে কোন পথ আমাদের কোন না কোন লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। আর এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্যেই মানব সভ্যতার শুরু থেকেই পথেরও শুরু। আমাদের জীবনে পথ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, কোন রকম বিপদে পড়লেও আমরা পথের সন্ধান করি, সে পথ বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার উপায়।  মানুষের সভ্যতায় লক্ষ্য যত বেড়েছে, পথের দৈর্ঘ্য ততই বেড়েছে এবং আজও বেড়ে চলেছে। মানুষের এই অবিরাম পথচলাও এক আশ্চর্য বিজ্ঞান।

পাহাড়ের গুহা ছেড়ে, সমতলে জঙ্গল কেটে মানুষ যখন চাষবাস শিখে ফেলল, তখন থেকেই গড়ে উঠতে লাগল গ্রাম। গ্রাম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে জরুরি হয়ে উঠল পথ। নির্দিষ্ট একটি সীমার মধ্যে দিয়ে গ্রামের সব লোকের যাওয়া আসার রেখা ধরে শুরু হল পথচলা। এই পথ ধরে কাজের মানুষেরা গ্রাম থেকে মাঠে যেত চাষবাস করতে। ফসল পেকে গেলে, মাঠ থেকে এই পথ ধরেই ফসল কেটে গ্রামে আনত। রাখালেরা সকালবেলা এই পথ ধরেই গ্রামের গরু, মোষ, ছাগল, ভেড়া মাঠে চরাতে নিয়ে যেত, আবার দিনান্তে এই পথ ধরেই তারা ফিরে আসত তাদের নিজের ঘরে। এই সদর পথের সঙ্গে জুড়ে থাকত এক একটা পাড়া, এক একটা বাড়ি। ঘরের লোকের মাঠ থেকে ফিরতে দেরি হলে, সেদিনও পথের দিকে তাকিয়ে, চিন্তা ব্যাকুল মেয়েরা ঘরের দরজায় বসে থাকত।  

প্রথম দিন থেকেই এই পথের মালিক গ্রামের জনসাধারণ, কোন একজন মানুষ নয়। শুরু থেকে পথের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি ছিল। পাশের জমি জিরেত থেকে পথ একটু উঁচু হলে ভালো হয়। জলাজমি, খানাখন্দ এড়িয়ে; চাষের জমি, লোকের বাড়ির সীমানা এড়িয়ে, পথ এগিয়ে চলবে বিনা বাধায়। যতটা সম্ভব সমতল এবং সহজ হবে পথচলা। আজকাল পথঘাটের অনেক উন্নতি হলেও পথের এই মূল বৈশিষ্ট্যগুলি কিন্তু একই আছে।

প্রথম দিকের পথগুলি, স্বাভাবিকভাবেই মাটির ছিল। আজও দূরের গ্রামে গেলে যে মেঠো পথ দেখত পাও, একদম সেরকমই। বছরের অন্যান্য সময় মোটামুটি ঠিকঠাক থাকলেও, বর্ষার চার/পাঁচ মাস তার অবস্থা নিদারুণ হয়ে উঠত। বর্ষার পর আবার মাটি ফেলে, বালি ফেলে অথবা ভাঙা ইটের টুকরো ফেলে সেই পথকে আবার পোক্ত বানাতে হত প্রত্যেক বছর। প্রথম দিকে এই মাটির পথ পায়ে চলার মতো সরু ছিল। কিন্তু চাকা আবিষ্কারের পর যখন থেকে গরু, মোষ বা ঘোড়ায় টানা গাড়ি চালু হল, পথ নিয়ে চিন্তাভাবনাও শুরু হয়ে গেল সর্বত্র।

গাড়ির গতি অনেকটাই নির্ভর করে পথের অবস্থার উপর। একটা গাড়ি, কোথাও দুটো গাড়ি চলার মতো চওড়া হয়ে উঠতে লাগল পথ। পথ যত শক্তপোক্ত আর সমতল হবে, গাড়ির গতি ততই দ্রুত হবে, মালপত্র বইতে সুবিধে হবে। সুবিধে হবে যাওয়া আসার। অতএব, আশেপাশের জমি থেকে রাস্তা আরো উঁচু হয়ে উঠল, বর্ষার জল যাতে কম ক্ষতি করতে পারে। পোড়া ইটের টুকরো ফেলে, পাথরের কিংবা লোহার দুরমুশ দিয়ে ভালো করে পিটিয়ে মুরাম মেশানো মাটি দিয়ে সে পথ পাকা হয়ে উঠত। আজও লক্ষ্য করে দেখবে, যে গ্রামে রাঙা মাটির পথ আছে, সে পথের অবস্থা, কাদামাটি দিয়ে বানানো অন্যান্য পথের থেকে অনেক ভালো অবস্থায় থাকে।

biggantechno01 (Small)হরপ্পা-মহেঞ্জোদরো সভ্যতার নাম নিশ্চয়ই শুনেছ। পৃথিবীতে সবচেয়ে পুরোনো রাস্তার খোঁজ পাওয়া গেছে, প্রাচীন এই শহরগুলিতে। যিশুখ্রিষ্টের জন্মের প্রায় চার থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে এই শহরগুলির জমজমাট অস্তিত্ব ছিল। সিন্ধু নদ, ঘাঘরা-হাকরা ও সরস্বতী নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই শহরগুলি পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সীমানা থেকে আমাদের দেশের গুজরাট, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল। এখনো পর্যন্ত এই অঞ্চলে সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক ১০৫২টি শহরের হদিশ পাওয়া গেছে। শহরের ভিতরে এবং এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়া আসার জন্যে কত পথ বানাতে হয়েছিল বুঝতেই পারছো। এই পথগুলি ব্যবসা বাণিজ্যের জন্যে বহুল ব্যবহৃত হত। ব্যবসা বাণিজ্য মানেই গরু-মোষ-গাধায় টানা গাড়িতে বোঝাই জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া আসা।

গুজরাটের আমেদাবাদ শহর থেকে ৮৫ কিমি দূরে সেইসময়কার একটি বন্দর শহরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার নাম লোথাল। এই বন্দর শহর থেকে সমুদ্রপথে সুদূর মিশর, মেসোপটেমিয়ার মতো শহরের সঙ্গে নিত্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।  বিভিন্ন শহর থেকে তামা, ব্রোঞ্জ, সিসা, টিনের জিনিসপত্র, এই বন্দর শহরের বিশাল গুদামঘরে এসে জমা হতো। লোথালের কাছাকাছি গ্রামে তৈরি হত চিনামাটি ও পোড়ামাটির পাত্র, সোনা, শাঁখ, দামি পাথর বসানো গয়না, হাতির দাঁতের জিনিসপত্র। লোথাল থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন শহরে এই সব জিনিসপত্র রওনা হতো সমুদ্রপথে। পথের পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত না হলে, এত সুন্দর বাণিজ্য পরিচালনা সম্ভব হতো না।

পাকা রাস্তা যেভাবেই বানানো হোক না কেন, বর্ষার প্রকোপে কিংবা ভারি জিনিষপত্র বওয়া গরুর গাড়ির চাকার চাপে প্রায়ই ভেঙে যেত কিংবা বসে গিয়ে অসমান হয়ে যেত। আরো উন্নততর পথের ভাবনা থেকে এসে গেল পাথরে বাঁধানো (paved) পথ। শহরের ভিতরে যেখানে বাণিজ্যিক ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি, সেইসব এলাকায় পথ বানিয়ে তোলা হত পাথরের ছোট বড়ো ব্লক (block) বসিয়ে অথবা পাতলা স্ল্যাব (slab) বসিয়ে। এই পাথর ছেঁটে খুব মসৃণ করা হতো না, বরং একটু খসখসে (rough) রাখা হত, কারণ তাতে গাড়ির চাকা পিছলে যাবার সম্ভাবনা কমে যেত। শহরের, মধ্যে বিশেষ করে, রাজারাজড়ারা যে সব অঞ্চলে থাকতেন, সেই সব রাজপথ ও অন্যান্য পথ, এই সেদিন পর্যন্ত, এরকমই পাথর বাঁধানো হত। আমাদের রামায়ণ মহাভারতের যুগেও প্রধান শহরের রাজপথগুলি এই ভাবেই বানানো হতো। এইসব রাজপথেই রাজারা রানিদের সঙ্গে নিয়ে ছুটে চলতেন ঘোড়ায় টানা দু চাকা কিংবা চারচাকার রথে।  মোটামুটি একই সময়ে ইউরোপের গ্রিস ও রোমেও এই রকম পাথরে বাঁধানো পথের নিদর্শন অনেক পাওয়া গেছে। 

biggantechno02 (Small)

আগেই বলেছি চাকা এবং গাড়ির উন্নতির সঙ্গে পথের উন্নতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অতএব ঘোড়ার গাড়ির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত পথের ভাবনাও চলতেই লাগল। যে পথ সহজে খারাপ হবে না। বৃষ্টিতে চট করে নষ্ট হবে না। অথচ গাড়ি চলবে মসৃণ গতিতে। 

স্কটল্যাণ্ডের এক পথপ্রযুক্তিবিদ জন লাউডন ম্যাকাডামকে আধুনিক পথের জনক বলা হয়। রাস্তার চওড়া অনুযায়ী, বেশ কিছুটা মাটি কেটে ফেলে সরিয়ে ফেলে, তার মধ্যে বিছিয়ে দিলেন একটু বড় আকারের (৭৫ মিমি) ভাঙা পাথরের বোল্ডার। তার ওপরে বিছিয়ে দিলেন ছোট আকারের (২০মিমি) পাথরকুচি। তারপর বড়ো পাথরের মধ্যে রয়ে যাওয়া ফাঁকগুলো ভরাট করে দিলেন আরো ছোট পাথর কুচি, পাথরের গুঁড়ো, বালি অথবা ভালো মাটি দিয়ে। ম্যাকাডাম সাহেব পথের মাঝখানটা সমতল না রেখে, মাঝখানটা একটু উঁচু করে দুধারে ঢালু করে দিলেন, যাতে বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ে যায় রাস্তার দুধারে। ১৮২০ সালে আমেরিকায় এবং ১৮৩০ সাল নাগাদ ইউরোপের সবদেশেই ম্যাকাডাম সায়েবের এই পদ্ধতিতে নতুন পথ বানানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল।

তাঁর নাম অনুসারে এই পদ্ধতির পথকে ম্যাকাডাম পথ (Macadam road) বলা হয়।  

biggantechno03 (Small)এই পথ ঘোড়ায় টানা গাড়ির পক্ষে খুব উপযুক্ত হলেও, অনেকগুলো অসুবিধেও ছিল। যেমন এই পথে ভীষণ ধুলো হত। তাছাড়া অল্পস্বল্প বৃষ্টিতে বড়ো ক্ষতি না হলেও একটানা ভারী বৃষ্টিতে এই রাস্তাও খারাপ হয়ে যেত। এরপর ১৮৮৬ সালে যখন প্রথম মোটরগাড়ি পথে নেমে পড়ল, তখন পথের আরো উন্নতি জরুরি হয়ে পড়ল। আর সেই ভাবনা থেকেই এসে গেল পিচের পথ (pitch road)। ম্যাকাডাম পদ্ধতিতেই পথ বানিয়ে তার ওপরে বিছিয়ে দেওয়া হল বালি ও পিচের ঘন আস্তরণ। বৃষ্টির জল পিচের তেমন ক্ষতি করতে পারে না, অতএব পিচের এই স্তর পাথরের মধ্যে জল ঢোকা আটকে দিল। আর পাথরের স্তরটাকে চেপে ধরে থাকার জন্যে পাথরের কুচি সরে গিয়ে পথ বসে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে গেল।

মাটির গভীর থেকে যে তেল ওঠানো হয়, তাকে বলে অপরিশোধিত (crude) পেট্রোলিয়াম। পেট্রোলিয়াম পরিশোধনের জটিল প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায় থেকে উৎপন্ন হয় পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, রান্নারগ্যাস, ইঞ্জিনের তেল, অ্যাসফল্ট, টার ইত্যাদি। এই টার আর অ্যাসফল্ট থেকেই পিচ পাওয়া যায়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে গেল বহুগুণ। প্রায় গোটা ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, রাশিয়া সর্বত্র উড়োজাহাজ, যুদ্ধের ট্যাংক, কামান, সৈন্যদের বড়ো বড়ো ট্রাক, ভ্যান চলতে লাগল হাজারে হাজারে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল সাধারণ মোটরগাড়ির ব্যবহার।

অতএব, দেশে দেশে পেট্রোলিয়ামের পরিশোধন বাড়াতে হল বহুগুণ, যাতে গাড়ি চালানোর জন্যে যথেষ্ট জ্বালানি তেল পাওয়া যায় এবং তার ফলে উৎপন্ন হতে লাগল প্রচুর অ্যাসফল্ট আর টার। এদিকে নানান যানবাহনের অত্যন্ত চাপ বাড়ার জন্যে পিচ-পথের থেকেও শক্তপোক্ত আর মসৃণ বড়ো বড়ো সড়ক পথ বানানোর ভাবনা চিন্তা শুরু হয়ে গেল। ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্যে অন্যদিকে আবিষ্কার হতে লাগল, পথনির্মাণ শিল্পের জন্যে নানান ধরনের যন্ত্রপাতি। মাটি কাটার জন্যে এক্সক্যাভেটার (excavator), মাটি কিংবা পাথর বিছিয়ে পোক্ত করার জন্যে রোড রোলার (road roller), পথের ওপর পিচ বা অ্যাসফল্টের আস্তর বিছানোর জন্যে পেভার (paver) ইত্যাদি নানান রকম। যার ফলে, দারুণ পোক্ত বড়ো বড়ো পথের কাজ চটপট সেরে ফেলা অনেক সহজ হয়ে গেল। 

biggantechno04 (Small)

এইসময়, পথের সংজ্ঞাও বদলে ফেলতে হল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের যোগাযোগের জন্যে যে সড়ক পথ, তার নাম হল হাইওয়ে। মাঝখানে তৈরি করে দেওয়া হল বিভাজক (divider)। বিভাজকের একদিকে গাড়ি যাবে, অন্যদিক দিয়ে গাড়ি আসবে। এইবার এক এক দিকে কতগুলি করে গাড়ি পাশাপাশি যেতে পারবে সেই হিসেবে, পথের নাম হতে লাগল, চার লেন, ছয় লেন বা তার চেয়েও বেশি। চার লেন মানে, রাস্তার বিভাজনের দুপাশে দুটো করে গাড়ি যেতে কিংবা আসতে পারবে। এইভাবে ছয় লেন মানে দুদিকে তিনটি করে লেন। এক লেন-পথ সাধারণতঃ ৩.৭৫ মি চওড়া হয়, আর একাধিক লেনের সড়কপথের প্রত্যেকটি লেন কমপক্ষে ৩.৫ মি হতেই হবে। 

হাইওয়ের থেকেও দ্রুত বাধাহীন চলার জন্যে এখন তৈরি হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ে। এই এক্সপ্রেসওয়ের অনেকগুলি বৈশিষ্ট্য এবং শর্ত আছে। যেমন, এই সড়কপথের দুইধার বরাবর বেড়া থাকতে হবে, যাতে কোন লোকজন কিংবা প্রাণী কোনভাবেই চলার পথে না আসতে পারে। অন্য কোন ছোট রাস্তার সঙ্গেও এই রাস্তার সরাসরি কোন যোগাযোগ কিংবা মোড় রাখা চলবে না। এক্সপ্রেসওয়েতে কোন ধীর গতির গাড়ি, যেমন সাইকেল, রিক্‌শ, ভ্যান, স্কুটার, বাইক ঢুকতে দেওয়া হয় না। এক কথায়, এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির চলা শুরু হলে, কোন কারণেই গাড়ির গতি কমাতে হবে না বা কোন বাধার জন্যে দাঁড়াতে হবে না।

ভারতের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে মুম্বাই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে। ছয় লেনের এই সড়কপথে মুম্বাই থেকে পুণের ৯৩ কিমি দূরত্ব দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। আগে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত পাঁচ ঘন্টা বা তারও বেশি। ২০০২ সালে এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়ে আজ ভারতের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কপথ হিসেবে খুবই সফল হয়েছে। আমেদাবাদ-বরোদা এক্সপ্রেসওয়েটি ৯৫ কিমি দীর্ঘ। ভারতের প্রথম চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছিল ২০০৪ সালে আমেদাবাদ থেকে বরোদার মধ্যে, এই সড়কপথের দূরত্ব ৯৫ কিমি।

ভারতে এছাড়াও অনেক এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলির অধিকাংশই এক্সপ্রেসওয়ের প্রধান শর্ত ও বৈশিষ্ট্যগুলি পুরোপুরি না মেনে তৈরি। সেই কারণে নিরাপত্তা কম এবং প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

গুরুত্ব অনুযায়ী এক্সপ্রেসওয়ে বা হাইওয়ে অনেক সময় কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে খরচ অত্যন্ত বেশি হলেও, অনেকবেশি ভার, তীব্রগতি, বর্ষা কিংবা তীব্র রোদ সহ্য করার ক্ষমতাও অনেক বেশি। ম্যাকাডাম পদ্ধতিতেই এই সড়ক পথের ভিত তৈরি করে, খুব উচ্চশক্তির ঢালাই করে দেওয়া হয়। তারপর ঢালাইয়ের উপর বিছিয়ে দেওয়া হয় বিশেষ ধরনের অ্যাসফল্ট বা টার। এই অ্যাসফল্টের স্তরের স্থিতিস্থাপকতা বড়ো বড়ো ভারবাহী গাড়ির চাকার প্রচণ্ড চাপ থেকে ঢালাইয়ের স্ল্যাবকে অনেকটাই রক্ষা করে। মুম্বাই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের অনেকটাই কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে তৈরি।

এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়ের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের নাম রাজ্য উচ্চপথ (State highway)। এই সড়ক পথ গুরুত্ব অনুযায়ী বিভাজক দিয়ে দু লেনের বানানো হয় কিংবা বিভাজক না দিয়ে দুটি গাড়ি যাবার মতো চওড়া করা হয়। এই ধরনের সড়কপথে গাড়ির গতি বেশ কমে যায়। সামনের গাড়িকে চট করে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো জায়গা থাকেনা। তাছাড়াও স্থানীয় ছোট গাড়ি, অটো, রিকশ, ভ্যানের জন্যেও পথ চলায় বিঘ্ন ঘটে। 

রাজ্য উচ্চপথের চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হল জেলা উচ্চপথ(district highway) এই সড়ক পথ ৪ থেকে ৪.৫ মি চওড়া হয়। উল্টো দিক থেকে বড়ো গাড়ি এলে গতি কমিয়ে রাস্তার ধারে সরে যেতে হয়, কিংবা দাঁড়িয়েই পড়তে হয়।

এর চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ পথ হল গ্রামের পথ (Rural Road)। ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও পিচবাঁধানো পাকা রাস্তা তৈরি করে দেবার প্রকল্প নিয়ে, ২০০০ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার “প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা”(PMGSY) প্রকল্প শুরু করেছিলেন । চোদ্দ বছর পরেও সে পথ নির্মাণের গতি খুবই ধীর এবং অধিকাংশ পথই আবার, মেরামতির অভাবে নষ্ট হবার পথে।

তোমাদের মধ্যে অনেকেই মুম্বাই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের অত্যাধুনিক রাস্তা পার হয়ে, সেই দশহাজার বছরের পুরোনো প্রযুক্তির রাঙামাটির পথ ধরেই হয়তো আজও ঘরে ফেরো। পথের শেষ কোথায়, বলতে পারো?

1 Response to বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-টেকনো টুকটাক পথের শেষ কোথায়-কিশোর ঘোষাল

  1. পিংব্যাকঃ জয়ঢাক(নতুন) বর্ষা ২০১৫-সম্পূর্ণ সূচিপত্র | এসো পড়ি। মজা করি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s