বৈজ্ঞানিকের দপ্তর -ভারতের বৈজ্ঞানিক- অশোক সেন- সংহিতা

 

biggani56 (Medium)যে ভারতীয় বৈজ্ঞানিককে পদার্থবিদ অমল কুমার রায়চৌধুরির সুযোগ্য উত্তরসূরী বলে মনে করা যায় তিনিই পদার্থবিজ্ঞানী ড.অশোক সেন। পদার্থবিদ্যাতে তাত্ত্বিক গবেষণার জন্য এই ভারতীয় বিজ্ঞানীর পরিচিতি দেশের সীমা পেরিয়ে বিদেশে পৌঁছেছে। স্ট্রিং থিয়োরি দিয়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টির ব্যাখ্যায় তাঁর  গবেষণাগুলি যুগান্তকারী বলে বিবেচিত।

পদার্থবিদ ড. অশোক সেনের জন্ম কলকাতায়, ১৯৫৬ সালের ১৫ই জুলাই। তাঁর বাবা শ্রী অনিল কুমার সেন অধ্যাপনা করতেন স্কটিশ চার্চ কলেজে। বিষয় ছিল পদার্থবিদ্যা। মায়ের নাম শ্রীমতী গৌরি সেন।

তাঁর পড়াশোনা শুরু শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ে। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুলেও পড়েছিলেন তিনি । তারপর তিনি পদার্থবিদ্যার পাঠ নিতে শুরু করেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। ড. সেন যখন প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যা পড়তে শুরু করেন, তখন সেখানে পদার্থবিদদের অনুপ্রেরণা ছিলেন ড. অমল কুমার রায়চৌধুরি। অমল কুমারের গবেষণায়, অধ্যাপনায় ড. সেন প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা শেষ করে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে ড. সেন গিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, কানপুরে। সেখানে তিনি স্নাতোকোত্তর পড়াশোনা করেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পর ডক্টোরাল গবেষণার জন্য তিনি ছিলেন স্টোনিব্রুকের স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্কে।

পদার্থবিদ্যার অনেক মৌলিক ধারণার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড. সেন তাঁর বিভিন্ন গবেষণাপত্রে। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন উপপাদ্যে চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্রের ধারণা ও তাদের আদান-প্রদান নিয়ে গাণিতিক বিশ্লেষণ চলে। এই আদান-প্রদানের কারণ বিভিন্ন মৌলিক কণার চলাচল। এই চলাচলের ফলে পদার্থের আভ্যন্তরীন শক্তির তারতম্য ঘটে এবং বিভিন্ন পরিচিত প্রতিসাম্য ভেঙে যায়। এই অস্থিতির ধারণা মহাবিশ্বের নানান ভৌত ঘটনাকে বুঝতে সাহায্য করেছে। এই অস্থিতির ধারণাটি তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় সেন কনজেকচার নামে খ্যাত।

নয়ের দশকের শেষে ড. সেন যখন এই ধারণা দেন তারপরেই ১৯৯৮ সালে বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিন্সের মনোয়নে তিনি ফেলো অব রয়্যাল সোসাইটি নির্বাচিত হন। নতুন সহস্রাব্দে ড. সেনের ধারণাটি পদার্থিবিজ্ঞানের চর্চায় বেশ সাড়া জাগায়। স্ট্রিং থিয়োরির নানান পরীক্ষায় ড. সেনের ধারণাটি প্রমাণিতও হয়েছে। আজও ড. সেন মহাবিশ্বের ভৌত ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজে অস্ত্বিতের অজানা সত্য উন্মোচন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ভারতের বৈজ্ঞানিক-আগের সবকটা পর্ব একসঙ্গে এই লিংকে

Advertisements