বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-লক্ষ করি পক্ষীকে

বছরভোর বসন্তবৌরি

মনস্বিনী ঘোষাল

bigganpokkhiছোটোবেলায় গরমকালে, স্কুলছুটির নির্জন দুপুরে ‘কুব্‌-কুব্‌-কুব্‌’ করে অবিরাম একটা শব্দ শুনতে পেতাম। মাকে জিজ্ঞেস করতে জেনেছিলাম যে ওটা একরকম পাখির ডাক। কিন্তু, কী পাখি, কেমন দেখতে – এসব ব্যাপারে তখন কৌতূহল হয়নি।

তারপর, একটু বড়ো হয়ে, যখন থেকে পাখি নিয়ে কৌতূহল বাড়তে লাগল এবং বার্ড-ওয়াচিং ব্যাপারটা খুব উপভোগ করতে লাগলাম, তখন সেই চেনা ডাকের অচেনা পাখিটিকে খুঁজে দেখার চেষ্টা শুরু করলাম। কিন্তু গাছের পাতার আড়ালে, কোন ভেতরের ডালে বসে পাখিটি অনবরত ডেকে যেত, কিছুতেই দেখতে পেতাম না। এক দিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠেই, সেই একই ডাক শুনে ছুট্টে গেলাম বারান্দায়। দেখলাম সামনের বটগাছের ডালে বসে, আমার সঙ্গে পরিচয় করবে বলেই যেন, এই পাখিটি ডেকে চলেছে ।

চড়াই-এর থেকে সামান্য বড়, গায়ের রঙ গাছের পাতার মতই সবুজ, কিন্তু গলা আর মাথায় উজ্জ্বল লাল ও হলুদ রঙের ছোপ। এরা শীতকালে চুপচাপ থাকে। যত গরম বাড়ে, এদের গলার আওয়াজও তত বাড়ে। সাধারণত এরা একলা থাকতে ভালোবাসে।  

এখন ভোরবেলায় বারান্দায় দাঁড়ালে প্রায় রোজই দেখতে পাই এই পাখিটিকে – যার ইংরিজি নাম “Coppersmith Barbet” । সামনের বটগাছটি থেকে মুখে করে ফল নিয়ে আসে, তারপর সামনের তারে বসে, আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ব্রেকফাস্ট করে, আর যেন বলে ‘গুড মর্নিং’।

ছবিঃ লেখক