বড়ো গল্প ফুল ও পরীর গল্প উদয়ারুণ রায় শরৎ ২০১৬

golpofulopori01 (Medium)উদয়ারুণ রায়

———————————————————————————————————-

গল্পেরও গল্প

মেলা বা সার্কাস আমার কমবেশি সকলেই দেখেছি ছোটবেলায় বাবামা জেঠাকাকার হাত ধরে একটু বড়ো হলে একা একা বা বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে  আর আমার মতো প্রৌঢ় হলে নাতিনাতনীর আঙুল ধরে আমরা মেলায় গেছি নাগরদোলনা বা  বিভিন্ন মজাদার খেলা দেখছি বা চড়েছি নানান খাবারদাবার খেয়েছি মনে খুব আনন্দ হয়েছে তারপর বাড়ি ফিরে এসেছি কিন্তু আমরা  এই মেলাওয়ালাদের সুখদুঃখের খবর কি কখনও রেখেছি? কারা এই মেলায় থাকে, তাদের বাড়ি কোথায়? মেলাওয়ালাদের জীবনযাত্রা কীরকম এর খেয়াল কি আমরা করেছি? মনে হয় না একসময় টানা পাঁচ বছর আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এই মেলাওয়ালাদের সঙ্গে সঙ্গে মাঠ থেকে মাঠ, শহর থেকে শহর, গ্রাম থেকে গ্রাম, এমনকি  রাজ্য থেকে ভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়ানোর আমি খুব কাছ থেকে এদের জীবনযাত্রা, সুখদুঃখ, শিক্ষাসংস্কৃতি প্রত্যক্ষ করেছি মেলার মজা সাধারণত উপভোগ করে থাকে শিশু, কিশোরকিশোরী আর  এক কদম এগিয়ে যুবক যুবতীরা আমি চাই আমার এই প্রত্যক্ষ দর্শন থেকে আমার গল্প পড়ে তারা জানুক অসহায়, নিরন্ন, যাযাবর, কিছু মানুষের জীবনযাত্রার কথা গল্প গল্প নয়, অনেকাংশে সত্য ঘটনা আমি মনে করি আমার গল্পের বাচ্চা মেয়ে মংলি বা তার ওস্তাদ ফুল কোনো অংশে বাংলার স্পোর্টস হিরো সৌরভ গাঙ্গুলীর থেকে কম নয় তাদের জীবনের সঙ্গে লড়াই ভয়ঙ্করের সঙ্গে আলিঙ্গন লর্ডসের মাঠে সৌরভের জামা ওড়ানোর মতোই বীরগাথা

———————————————————————————————————-

          মরণকুঁয়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটু ঘাবড়েই গেল মংলি। পাহাড়ের মেয়ে সে। জন্ম থেকে পাহাড় দেখছে। তাই উচ্চতা তাকে অবাক করে না। ভয়ও দেখায় না। উলটে উঁচু উঁচু পাহাড়গুলোই ওর বন্ধু। ওর কল্পনার উড়াণ। তবুও পাঁচ- ছয় ফুট তফাতে মাথা ছাড়িয়ে আকাশে উঠে যাওয়া খাড়া কাঠের পাটাতনগুলো দেখে কেমন গা ছম ছম করে উঠল মংলির।

          ও নেপালি। বাড়ি দার্জিলিং জেলায়। ওর বাবা শিলিগুড়ি শহরে রিকশা চালায়। মা বড়োলোক বাড়িতে বাসন মাজে। রান্নার ফাইফরমাশ খাটে। ওদের বাড়ি তিস্তা নদীর ধারে একটা ঝুপড়ি বস্তিতে। বাড়ির সামনে দিয়ে একটু নেমে গেলেই প্রথমে বালি, পাথর তারপর জল। নদীর বয়ে যাওয়া জল। বাড়িতে থাকলে মংলি নদীতে গিয়ে স্নান করে। নদীতে ডুবজল নেই। উবু হয়ে বসলে কোমর পর্যন্ত ডোবে। তারপর বাটি বা মগ দিয়ে স্নান করতে হয়। কী ঠান্ডা জল! মংলির শীত শীত করে ওই জলে। বর্ষায় নদীতে জল ভরে যায়। তখন ডুবজল। সে সময় মংলির মা ওকে নদীতে নামতে দেয় না। তিস্তা নদীর মাঝখানে গেলে দূরে মেঘের মতো আবছা পাহাড় দেখা যায়। মংলিকে পাহাড় খুব টানে।

          বছর তিন হল মংলিরা শিলিগুড়ি এসেছে। মংলির বয়স এখন দশ। ওদের বস্তির সামনে একটা স্কুল আছে। প্রাইমারি স্কুল। সেই স্কুলে ক্লাস ফোর এ পড়ত সে। স্কুলে মাত্রে দুটো  দিদিমণি। আর দুজন রান্নার মাসি। স্কুল থেকে রোজ দুপুরে খেতে দিত। ভাত, ডাল, সোয়াবিনের তরকারি মাঝে মাঝে খিচুড়ি। সপ্তাহে একদিন ডিম। খাবার লোভে মংলি একদিন ও স্কুল কামাই করত না। তার পড়াশোনাতে মন নেই। ক্লাসে পড়া পারত না। দিদিমণিরা বকত। তবু মংলি স্কুলে যেত। স্কুলে টিফিনের সময় গরম গরম খাবার খাওয়াটা দারুণ। পেট ভরে খেত মংলি।

          তিন বছর আগে মংলিরা ওদের গ্রামে থাকত। ওখানে চারদিকে পাহাড়। মাথার উপর ঝকঝকে নীল আকাশ। পাহাড়ি ঝোড়া। ঝোড়ার জল তিস্তার থেকেও ঠান্ডা। গ্রামে দাদু- ঠাকুমা ছিল। ছিল কাকা- কাকিমা। পাহাড়ে ঢাল বেয়ে ওরা ওর বন্ধুরা দল বেঁধে নীচে নেমে যেত আবার দৌড়ে ওপরে উঠত। পাথর গাছপালার আড়ালে লুকোচুরি খেলত। রাতে  যেদিন চাঁদ উঠত আকাশে সেদিন পাহাড়ের গা বেয়ে রুপোলি ঝর্ণার স্রোত বয়ে যেত। গোল চাঁদের  সেই মিষ্টি আলো অবাক হয়ে দেখত মংলি। চারদিকের পাহাড়গুলোকে তখন কী সুন্দরই না লাগত তার!

          কিন্তু বাবার যে কী খেয়াল চাপল!  রোজগারের জন্য ওদের নিয়ে চলে এল শহরে। শহরে একটুও ভালো লাগে না মংলির। সে শহর ছেড়ে পালাতে চায়। তার ভালো লাগে পাহাড়, মাটি, গাছ, ফুল, প্রজাপতি, ফড়িং, নানান রঙের পাখি। ঝোড়ার জলের শব্দ, ঠান্ডা জলের ছিটে, নীল আকাশ আর গোল চাঁদের ফুটফুটে রুপোলি আলো।

          তাই মা বলার পড়েই এক কথায় রাজি হয়ে গেল মংলি। তার মা যে বড়োলোক বাবুদের বাড়িতে কাজ করে সেই বাবুদের মেলার ব্যাবসা। মেলাতে নাগরদোলনা আছে। আছে নানান রকম চরকি দোলনা, টয়ট্রেন। আর আছে মরণ কুঁয়া। হিন্দিতে যাকে বলে “মওত্‌ কা কুঁয়া”। ওই মরণ কুঁয়ার জন্য একটা বাচ্চা মেয়ে লাগবে। তাই মংলিকে তার মায়ের কাছ থেকে চেয়েছেন সেই বাবু। বলেছেন, “যদি আমাকে দিস তবে ওকে আমি মানুষ করে দেব। ওর কোনো দিন ভাতের অভাব হবে না। এমন খেলা ওকে শিখিয়ে দেব আমি। একদিন দেখবি ওই তোদের সংসার টানবে।”

          মংলির মা তার বাবুর কথা বাড়িতে ফিরে মংলি আর ওর বাবাকে বলেছে। বাবা কিছু বলবার আগেই মংলি বলেছে, “আমি তোর বাবুর সঙ্গে যাব।”

          আসলে মংলির ওই শহরে ঝুপড়িতে থাকতে একটুও ভালো লাগে না। ওর চাই পাহাড়। খোলা আকাশ। আর মেলাতে তো কত আনন্দ। কত নাচগানা। কত মানুষ। কত আলোর ঝকমক। আজ এখানে মেলা বসে তো কাল ওখানে। বেশ মজা। খুব মজা। খেলাও শেখা যাবে। বড়োলোক বাবু নিশ্চই পেট ভরে খেতে দেবে। মংলির মন মুহূর্তে ওদের ঝুপড়ি ছেড়ে উড়ে যায় মেলার মহলে।

          মংলির বাবা ওর মাকে বলে, “মংলি মেলায় গেলে কত টাকা দিবে তোর বাবু?”

                   মংলির মা একগাল হেসে বলে, “মংলির খাওয়া পড়া ছাড়া চার হাজার টাকা দিবে প্রতি মাসে। তুই অত রোজগার করতে পারিস না রিকশা চালিয়ে।”

          বাবা- মা’র কথা মংলি শুনতে পায় কিন্তু ওর কানে সে সব কথা ঢোকে না। ওর মন তখন মেলার মাঝখানে। শিলিগুড়িতে সে একবার মেলায় গিয়েছে। মার সঙ্গে। উরিবাব্বা! কত উঁচু নাগরদোলনা! কু ঝিক্‌ ঝিক্‌ টয়ট্রেন। চরকি দোলনা। তাতে কাঠের হাতি, ঘোড়া, বাঘ সিংহ ঝুলছে আর বনবন করে ঘুরছে। এছাড়া আর একটা আছে ব্রেকডান্স। চেয়ারে বসে উলটো পালটা ঘুরপাক। ওটায় খুব ভয়। মাথা ঘুরে যাবার ভয়। মংলি ওটা কোনোদিন চড়বে না। যদিও সে শুধু দেখেছেই। একটাতেও চড়েনি সে। ওদের তো চড়বার মতো পয়সা নেই! মার কাছেও নেই।

          মা ওকে মেলাতে একটা বুড়ির চুল কিনে দিয়েছিল দু টাকা দিয়ে। একটা কাঠির মধ্যে মিষ্টি লাল চুলের মতন জড়ানো। খেতে খুব মজা। মংলি ভাবে ও যদি মেলায় চলে যায় তবে তো সে মেলার লোক হয়ে যাবে। তখন যত খুশি নাগরদোলনা চড়তে পারবে। যত খুশি চড়কি দোলনা চড়তে পারবে। ব্রেকডান্স সে চড়বে না। ওটা খুব বাজে । ট্রেন চড়বে সে। কু ঝিক্‌ ঝিক্‌ ট্রেন। নৌকা চড়বে সে। নৌকাটা বেশ ভালো হুশ্‌ করে সামনের দিকে ওঠে  আবার ভুস করে নেমে পিছনের দিকে উঠে যায়। একটু ভয় করলেও দোলনা চড়ার মতো মজা আছে নৌকা চড়ায়। সে  মাকে বলে, “অ্যাই মা, আমি যাব তোর বাবুর সঙ্গে। আমি খেলা শিখব, নাগরদোলনা চড়ব। তোর বাবু বলেছে না আমি বড়ো হয়ে তোদের দেখব?  বহুত টাকা কামাব? তুই তোর বাবুকে বলে দে আমি যাব ওর সঙ্গে।”

          মংলির মার চোখ ছলছল করে ওঠে। মংলি ওদের একমাত্র সন্তান। ওকে ছেড়ে দিতে মন চায় না। কিন্তু এই ঝুপড়িতে থেকে ওর কিচ্ছু হবে না সেটা বোঝে তার মা। বাবুর সঙ্গে মেলায় গেলে দু-বেলা পেট ভরে খেতে পাবে। খেলা শিখে ওস্তাদ বনবে। প্রচুর টাকা কামাবে। বাড়ি বানাবে। ঝুপড়িতে আর থাকতে হবে না। মংলির মার চোখেও স্বপ্ন ভেসে ওঠে। সে চোখের জল মুছে বলে, “বাবুরে কইব তোরে নিয়া যেতে। তোর ভবিষ্যৎ হবে। তুই বড়ো হবি। আমাদের দুঃখ কষ্ট ঘোচাবি।”

**********

          মরণ কুঁয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে মংলির একটু ভয়ই লাগছিল। পাতালে যেন দাঁড়িয়ে আছে সে। চারদিকে লম্বালম্বা কাঠের পাটাতনের প্রাচীর ক্রমশ চওড়া হয়ে উপর দিকে উঠে গেছে। নীচে ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে ওর বাবার মত লম্বা,  গাঁট্টা-গোঁট্টা পেটানো চেহারার একটা কালো মানুষ। মাথায় কোঁকড়ানো চুল।

          কালো লোকটার নাম ফুল। আর তার পাশে মায়ের বড়োলোক বাবু শিবু ঘোষ। ফর্সা  ছোটোখাটো চেহারা। চকচকে জামাপ্যান্ট। মাথায় কিছু কাঁচাপাকা চুল। ডানহাতের আঙুলগুলোয় তিনচারটে সোনার আংটি। গলায় মোটা সোনার চেন। বাঁ হাতে সোনালি রঙের ঘড়ি। পায়ের জুতোটা এত চকচকে যে তা দিয়ে মুখ দেখা যায়।

          শিবু ঘোষ মংলিকে বলল, “কীরে মংলি দেখলি তো সব কিছু। এই কুঁয়ায় একদিন তোকে বাইক চালাতে হবে। এই ফুল দাদা এখন চালায়। নীচ থেকে বাইক চালিয়ে কুঁয়ার গা দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে উপর দিকে ওঠে এই ফুল দাদা। হাত ছেড়েও বাইক চালায় ও। তোকেও ওর কাছে ট্রেনিং নিয়ে ফুলের মতো ওস্তাদ হতে হবে। পারবি তো?”

          শিবু ঘোষ যখন কথা বলছিল ফুল নামে লোকটা মাথা নীচু করে মিচকি মিচকি হাসছিল। মংলি বুঝতে পারছিল না সে কী বলবে। ও তো মোটর বাইক চালাতেই জানে না। মংলি বড়োলোক বাবুর কথার উত্তর না দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।

          শিবু ঘোষ আবার বলল, “ফুল এই বাচ্চা মেয়েটাকে তোর চ্যালা বানিয়ে নে। তুই ওর গুরু। ওকে কুঁয়ায় বাইক চালানো শেখাবি। আমি জানিনা কীভাবে শেখাবি। আমি চাই ছ’মাস পরে ও তোর সঙ্গে কুঁয়ায় বাইক চালাবে আর এক বছরের মধ্যে একা একা মরণ কুঁয়ায় খেলা দেখাবে তোর শো-এর আগে। এ অঞ্চলে “মওত্‌ কা কুঁয়া” যতগুলো আছে তার মধ্যে মেয়ে রাইডার কারুর নেই। তুই ওকে মেয়ে রাইডার বানা। আমি সকলকে তাক লাগিয়ে দেব। টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেব। তোর মাইনেও বাড়িয়ে দেব।”

          টানা কথা বলে থামল শিবু ঘোষ।

          ফুল মাথা নেড়ে বলল, “জি হুজুর।” মংলি তখনও অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছে ‘মরণ কুঁয়া।’

          ফুলের তাঁবুতে ফুল আর ওর বউ পদ্মা থাকে। সেই তাঁবুতেই মংলির থাকার ব্যবস্থা হল। ওদের চৌকির একটু দূরে বাঁশ আর কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি হল ওর শোবার চৌকি। এতদিন সে কখনও মাকে ছাড়া একা শোয়নি। এখন ওকে একা একটা খাটে শুতে হল। মার জন্য ওর কষ্ট হল খুব। দু-তিন দিন রাতে একা শুয়ে খুব কাঁদল সে। খুব কাঁদল। কিন্তু ওই পদ্মাবৌদি ছাড়া কেউ ওর কষ্ট বুঝল না। জানতেই পারল না কেউ।

          একদিন ও কাঁদছে দেখে পদ্মাবৌদি ওর চৌকিতে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,  “কাঁদিস না বোন। আমাদের গরিবদের জন্য এ দুনিয়া বড়ো কঠিন। এখানে চোখের জলের দাম কেউ দেবে না। আমরা এখানে মানুষকে মজা দিতে এসেছি। আমাদের খেলা দেখে মানুষ মজা পায়। হাততালি দেয় আর তারপর চলে যায় যে যার বাড়িতে। আমাদের দুঃখ বোঝার কেউ নেইরে বেটি।”

          পদ্মাবৌদির কথা কিছু বুঝতে পারে না মংলি। সে শুধু মা হারাবার দুঃখে কেঁদেই চলে। কাঁদতে কাঁদতে এক সময় চোখের জল ফুরিয়ে যায়। সে মিশতে থাকে মেলার  মানুষদের সঙ্গে। বাবলু বলে একটা ছেলের সঙ্গে ওর ভাব হয়। ছেলেটা ওর থেকে একটু বড়ো। আসামের বড়পেটা বাড়ি। ও বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। বাবলুরও ঘরে থাকতে ভালো লাগত না। বাইরের জগৎটা দেখবার খুব ইচ্ছে ছিল। বাড়ি থেকে পালিয়ে এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে মেলায় এসে পড়ছে। এখন সে মালিকের তাঁবু পাহারা দেয়। মালিকদের ফাইফরমাশ খাটে আর মালিকদের স্পেশাল যা রান্না হয় সেই রান্নাটা সে করে।

          বাবলুর সঙ্গে ভাব হওয়াতে মংলি মাঝে মাঝে মালিকদের স্পেশাল রান্না থেকে ভাগ পায়। বাবলু এনে দেয়। ভালো মাছ, মাংস। বাবলুর থেকে পাওয়া খাবার মংলি একা খায় না। ওর গুরু ফুলদাদা আর পদ্মাবৌদির সঙ্গে ভাগ করে খায়। ফুলদাদাও নিজের তাঁবুতে স্পেশাল রান্না করায় পদ্মাবৌদিকে দিয়ে। পায়রার মাংস অথবা শুয়োরের মাংস। দেশি ব্যাঙের ছাতাও পদ্মাবৌদি খুব ভালো রান্না করে। আলু দিয়ে দেশি ব্যাঙের ছাতা খেতে মাংসের মতো লাগে। মংলি সেদিন এক থালা ভাত খায়। বাবলু  যখন ওকে মালিকের রাউটির স্পেশাল রান্না চুপি চুপি খাইয়ে যায়, মংলি তার বদলে পদ্মাবৌদি স্পেশাল যা রান্না করে সেই রান্নার থেকে চেয়ে বাবলুকে দেয়। অনেক সময় নিজে সে রান্না না খেয়েও বাবলুকে দিয়ে দেয়। বাবলুকে ওর নিজের দাদার মতো মনে হয়।

          মংলী ধীরে ধীরে আরও মেলার অন্যদের সঙ্গে মিশতে থাকে। ছোটো ছোটো অনেকগুলো তাঁবু পড়ে মেলাতে। তাঁবুকে মেলার লোকেরা বলে রাউটি। একটা মালিকের রাউটি। আর একটা ম্যানেজারের রাউটি। এছাড়াও প্রত্যেকটা শো এর দুটো করে রাউটি পড়ে। যে রাউটিগুলোতে কর্মচারীরা থাকে। একটা রান্নার রাউটি হয়। সেখানে থাকে মেলার ঠাকুররা। যারা মেলার সকলের জন্য রান্না করে। ডাল, ভাত আর একটা তরকারি রান্না হয় সকলের জন্য দুইবেলা। মাঝে মাঝে ডিম বা মাছ। মাসে একদিন মাংস। মাছ, মাংস বা ডিম যেদিন হয় সে দিন খাবার পরিবেশন করার সময় ম্যানেজার নিজে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। নইলে ঠাকুরদের সঙ্গে খাবার নিয়ে মেলার স্টাফেরা ঝামেলা করে। ম্যানেজার দাঁড়িয়ে থাকলে সেটা হয় না।

          ম্যানেজারের খুব ডাকাবুকো চেহারা। গলার আওয়াজ ও খুব বাঁজখাই। মালিকপক্ষ ছাড়া সবাই ওকে খুব ভয়-ভক্তি করে। মেনে চলে। উলটো-পালটা চললে ম্যানেজার স্টাফদের পেটায়ও মাঝে মাঝে। মংলি ম্যানেজারবাবুকে বেশ ভয় পায়। ওর সামনে যায় না সে। তবে ক্যাশিয়ারদাদাটা খুব ভালো। ওর সঙ্গে মংলির খুব খাতির। মংলিকে সে লজেন্স কিনে দেয়। বাবলুকেও কিনে দেয়। ক্যাশিয়ারদাদাকে আবার ম্যানেজারবাবু খুব খাতির করে। সমঝেও চলে। সে হল মালিকের মামাতো ভাই। এক কথায় মালিক। ম্যানেজার বিশু ক্যাশিয়ারদাদার কাছে টাইট।

*******

          মংলি মেলায় আসার দু তিন দিন পর থেকে ওর ট্রেনিং শুরু হল। ফাঁকা মাঠে মোটরবাইক চালানো শেখা। সে কোনোদিন সাইকেলই চড়ে নি। তাকে নিয়ে শুরু হল ট্রেনিং। বাইকের সামনে মংলি আর পেছনে ওর ওস্তাদ ফুল। হ্যান্ডেলটা দুজনে ধরা। ফাঁকা মাঠে গোল চক্কর কেটে ঘোরা। দিনচারেকের মধ্যে ব্যালান্স এসে গেলে মংলির। এখন হ্যান্ডেল একা মংলির হাতে আর গিয়ার আর ব্রেক ফুল-এর পায়ে। এর কিছুদিন পর সবকিছুই মংলির কাছে। শুধু মোটর  বাইকের পেছনে বসে থাকে ওর ওস্তাদ ফুল। মংলি চালাতে চালাতে কোনো ভুল করলে সামলে দেয় সে। তবে পুরোটাই ফাঁকা মাঠে গোল চক্কর কেটে।

          এর মধ্যেই একদিন মংলি এমন ভুল করল যে শেষ সময় ফুলও সামলাতে পারল না বাইকটাকে। দুজনেই হুড়মুড়িয়ে পড়ল মোটরবাইকশুদ্ধু মাটিতে। মংলির হাঁটু কেটে রক্ত পড়তে লাগল। বাঁ পা ফুলে ঢোল। মাথাতে ও চোট লাগল। ওর মাস্টার ফুল নিজেকে অনেকটা বাঁচিয়ে নিলেও শেষ রক্ষা হলনা। কনুইয়ে চোট পেল সে। বাঁ হাতে।

          খুব বড়ো অ্যাকসিডেন্টের থেকে রক্ষা পেল দুজনে। ব্যাথায় যন্ত্রণায় কাঁদতে থাকল মংলি। পদ্মাবৌদি ওকে ওষুধ লাগিয়ে দিল। ব্যাথার ওষুধ কিনে দিল ক্যাশিয়ারদাদা। সেই রাতে মংলির খুব জ্বর এল। জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে ওর মা-বাবার কথা খুব মনে পড়ল। চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। কিন্তু বিছানায় সে একা। কেউ পাশে নেই গায়ে হাত বুলিয়ে দেবার। মংলির মনে হল পাশের খাটে শুয়ে থাকা পদ্মাবৌদির কথা-

“গরিবদের জন্য এ দুনিয়া বড়ো কঠিন। এখানে চোখের জলের দাম কেউ দেবে না।”

          কথাটা মনে পড়তেই শক্ত হয়ে গেল মংলি। চোখের জল মুছে নিল সে। বাঁপায়ের গোড়ালিটা ফুলে ঢোল। নাড়াতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ওর মনে একটা যেদ চেপে বসছে। মংলি ধীরে ধীরে নিজের চৌকির উপর উঠে বসল। তারপর চৌকি থেকে নেমে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে রাউটির বাইরে এসে দাঁড়াল। মুখ তুলে তাকাল আকাশের দিকে। চাঁদের আলোয় নিস্তব্ধ মেলা প্রাঙ্গনে তখন রুপোলি বন্যা। মংলি খুশি হয়ে উঠতে লাগল। সে ক্রমশ ব্যাথা ভুলে মায়াবী চাঁদটার দিকে চেয়ে রইল।

**********

          প্রথম যে দিন মংলি  ‘মওত্‌ কা কুঁয়া’তে খেলা দেখাল তখন সে মটর বাইক চালাতে পারে একাএকাই। কিন্তু মাঠে চালানো আর কুঁয়ায় চালানো কি এক কথা! তাই তার গুরু ফুল তাকে বাইকের পেছনে নিয়ে কুঁয়ার মধ্যে ঘুরল। ফুলের পেছনে বসে ছিল মংলি। বাইক চালাবার সময় বার বার ফুল বলে দিয়েছিল তাকে যেন পেছন থেকে মংলি চেপে না ধরে। কারণ ফুলের বডি ব্যালান্সের উপরই বাইকটা কুঁয়ার দেওয়ালে পাক খেতে থাকবে।

          ফুল বলেছিল, “শোন মংলি তুই একদম ঘাবড়াবি না। মনে সাহস আন। বাইক যেমন যেমন হেলবে তুই তোর বডিটাকে তেমন তেমন হেলাবি। আমার শরীটাকে ফলো করবি। দেখবি এতে সাপ- ব্যাঙে কিছু নেই।”

          মংলি কোনো কথা বলতে পারেনি। শুধু মাথা নেড়েছিল। কিন্তু তিন-চার পাক কুঁয়ার মধ্যে পাক মেরে নামবার পর মংলির মনে হল খেলাটা খুব কঠিন নয়। শুধু একটু সাহসের প্রয়োজন। মনে সাহস থাকলে মানুষ সব করতে পারে। কথাটা একদিন ফুল ওকে বলেছিল। বলেছিল, “আমিও একদিন তোর মতো প্রথম বাইক শিখেছিলাম। আমার ওস্তাদ ছিল রহমত নামে এক মুসলমান রাইডার। দারুন রাইডার ছিল। রানিং বাইকে উঠে দাঁড়াত হ্যান্ডেল ছেড়ে। এখন আমি যেমন দাঁড়াই। রানিং-এ কুঁয়ার মধ্যে দু পা বাইকের একদিকে করে ঘুরত। ওটাও আমি করি দেখিস তো। রানিং এ হ্যান্ডেল ছেড়ে বুক দিয়ে টিউবলাইট ভাঙা তো মামুলি ব্যাপার।

          মংলি হাঁ হয়ে বলল, “তুমি এসব শিখলে কীভাবে?”

          ফুল হেসে মংলির গাল দুটো টিপে দিয়ে বলল, “তুই শিখবি যেভাবে! শুধু এক বুক সাহস রাখবি মনে। তবেই পারবি। আমরা গরিব। আমাদের পয়সা নেই। আমাদের সাহসই হল পয়সা। সাহস থাকলে পয়সা কামাবি বহুত। দেখ না আমাকে! প্রত্যেক শো-এর বিশ পারসেন্ট আমাকে দিতে হয় ঘোষদাকে।”

          মংলি তো তেমন লেখাপড়া শেখেনি। শতকরার অঙ্ক সে জানে না। সে বলল, “আচ্ছা ফুলভাই বিশ পারসেন্ট মানে কত টাকা গো?”

          ফুল মজা করে আবার ওর গালা টিপে দিল। বলল, “ও সব তোর এখন ভাবতে হবে না। আগে মন দিয়ে খেলাটা শেখ। মনে সাহস আন। দেখবি টাকা তোর পেছনে ছুটে ছুটে আসবে।”

          এসব বলে ফুলদাদা রাউটি ছেড়ে চলে যায়। রাউটির বাইরে বসে পদ্মাবৌদি শুঁটকি মাছ রান্না করছে। পেঁয়াজ রসুনের একটা ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে আসছে। মংলি রাউটির বাইরে আসে। এখন দুপুরবেলা। মেলা বন্ধ। বিকেল চারটে থেকে মেলা চালু হবে। মাইক বাজতে শুরু করবে। মেলার দোকানগুলো খুলে যাবে। দোকানগুলোর মধ্যে নানারকমের দোকান আছে। চুড়ি- গয়নার দোকান আছে। ছোটোদের খেলনার দোকান আছে অনেকগুলো। বাসনের দোকান আছে চারটে। কাঠের জিনিসের দোকান আছে। আর আছে নানান লটারির দোকান। সব দোকান খুলে যাবে চারটেতে মাইকে গান বাজার সঙ্গে সঙ্গে। বিরাট উঁচু নাগরদোলনা ফাঁকা ঘুরতে ঘুরতে শুরু করবে। চড়কি দোলনাটার হাতি, ঘোড়া, বাঘ সিংহগুলো নিজের মনে ঘুরতে থাকবে। ডিসকো ডান্সের তাঁবুতে মাইক বাজতে শুরু হবে। ব্রেকডান্সের  চেয়ারগুলো খালি একবার ডানদিকে, একবার বাঁদিকে ঘুরবে। এক একে মানুষজন আসতে শুরু করবে মেলায়। দোকানগুলোতে ভিড় লাগবে। নাগরদোলনার চেয়ারগুলো ভরে যাবে। বাঘসিংহের পিঠে ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েরা উঠে বসবে। ডিসকো ডান্সের তাঁবুতে নাচ শুরু হবে। ব্রেকডান্সের  চেয়ারে বসে সবাই আচমকা ডানদিকে, বাঁদিকে এলোপাথারি ঘুরতে ঘুরতে ভয়ে আর আনন্দে হাউমাউ করে চেঁচাবে। মংলি ফুলদাদার বাইকের পেছনে বসে,  ‘মওত্‌ কা কুঁয়া’র দেয়ালে ঘুরতে থাকবে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে।

golpofulopori02 (Medium)          এগুলো তো হবে বিকেল চারটার পর। এখন মেলা একদম নিশ্চুপ। মংলি গিয়ে চড়কি নাগরদোলনার বাঘের পিঠে চেপে বসল। চড়কি দোলনাটা ঘুরছে না। সে স্থির হয়ে ঝুলে থাকা ফাইবারের বাঘের পিঠে চড়ে ভাবতে লাগল- ভয় পেলে চলবে না তার। ফুলদাদার মতো তাকেও সব শিখতে হবে বাইকের খেলা। তাকে অনেক টাকা রোজগার করতে হবে। বাবা মা-র দুঃখ ঘোচাতে হবে। ওরা তখন আর ঝুপড়িতে থাকবে না। দেশে একটা বড়ো বাড়ি বানাবে। ভালো ভালো খাবার খাবে। চুড়ি কিনবে। টিপ কিনবে। মাকেও কিনে দেবে। বাবাকে একটা নিজের রিকশা কিনে দেবে। বাবাকে তখন আর অন্যের রিকশা টানতে হবে না। বাবার রিকশা করে ও আর মা বেড়াতে বেরুবে। খুব মজা হবে। সে একটা সুন্দর মোটরবাইকও কিনবে। তার পিছনে বসিয়ে সে তার বাবা- মা কে নিয়ে এখানে ওখানে যাবে। খুব মজা হবে।

          কিন্তু সব মজার আগে ওকে সাহসী হতে হবে। ফুল দাদা বলেছে গরিবের সাহসই হল পয়সা। যে গরিবের সাহস নেই সে চিরকাল গরিবই থাকবে। কোনোদিন সে বড়োলোক হবে না। সুতরাং আগে তাকে সাহসী হতে হবে। বাইকের খেলা শিখতে হবে।

*********

          সাহস করে সব শিখল মংলি। একবছরের কম সময়ে সে ফুল-এর কাছ থেকে কুঁয়াতে বাইক চালানো শিখে নিয়েছে। আরো দু-একবার অ্যাক্সিডেন্ট হয়নি তা নয়। তবে প্রথমবারের পর হাতে পায়ে চোট পাওয়াটাকে সে তেমন আর গুরুত্ব দেয় না। ওর প্রিয় এক কাকু আছে এই মেলায়। ও তাকে ইমিটেশন কাকু বলে ডাকে। কাকুর একটা ইমিটেশন গয়নার দোকান আছে। তাকে বাবার মতো মনে হয় তার।

          খুব ভালোবাসে ইমিটেশন কাকু মংলিকে। একদম নিজের মেয়ের মতো। ইমিটেশন কাকুর দোকানের বিপুলদাদাও খুব ভালোবাসে মংলিকে। বিপুলদাদা আর ইমিটেশন কাকু আলাদা রান্না করে খায়। ভালো কিছু রান্না হলে বিপুলদাদা ওকে ডেকে খাওয়ায়। বলে, ওর বাড়িতে মংলির বয়সি একটা বোন আছে। নাম সন্ধ্যা। সন্ধ্যার মাথায় অনেক চুল।  চোখ দুটো কালো আর বড়ো বড়ো। মংলিকে দেখে বিপুলদাদার সন্ধ্যার কথা মনে পড়ে।

          মংলির কিন্তু বড়ো বড়ো চুল নেই। চোখও বড়ো বড়ো নয়। তবু কেন ওকে দেখে বিপুল দাদা ওর ছোটবোনের কথা মনে পড়ে মংলি বুঝতে পারে না। তবে সে এটুকু বোঝে বাড়ি ঘর ছেড়ে আসা বিপুলদাদা ওকে দেখেই বোনের দুঃখ ভুলে থাকে। তার বাড়ি নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। ইমিটেশনকাকুর বাড়িও একই জায়গায়। ওরা দুজনেই বর্ষাকালে তিন-চার মাসের জন্য দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়। বর্ষাকালে মেলা চলে না। মেলা বসেই থাকে। মালিক শিবু ঘোষ বলেছে সে সময় মংলিও বাড়ি যেতে পারবে ছুটিতে। বাড়ি যাওয়ার নাম শুনে মংলির মনটা নেচে ওঠে। কতদিন সে বাবা-মাকে দেখেনি! প্রায় এক বছর। গত বর্ষার পরপরেই সে এসেছিল এই মেলায়। এখন গরমকাল। সামনে বর্ষা আসছে।

          ওদের মেলা লেগেছে এখন ত্রিপুরার কৈলাশহরে। এর আগে মেলা চলছিল ধর্মনগরে। ধর্মনগর থেকে কৈলাশহর আসতে মাঝখানে ঊনোকুটি পাহাড় পড়ে। মংলি শুনেছে উনোকুটি পাহাড়ে একটা কম কোটি দেবতার মূর্তি আছে। তাই ওই পাহাড়টার নাম উনোকুটি। এই গল্পটা ওকে বলেছে বাবলু। বাবলু তিন বছর আছে এই মেলার সঙ্গে। গতবছরও সে ধর্মনগর, কৈলাশহরে মেলা করেছে। সে একদিন ক্যাশিয়ার দাদার সঙ্গে গতবছর উনোকুটি পাহাড় দেখে এসেছিল। কত দেবতার মূর্তি গুণে শেষ করা যায় না। মংলি হাঁ করে শুনেছে বাবলুর গল্প।

          ধর্মনগরের আগে ওরা আসামের  কাছাড় জেলায় ছিল। হাইলাকান্দির রবীন্দ্রমেলা, করিমগঞ্জের নেতাজি মেলা ও শিলচরের গান্ধীমেলা খুব বড়ো। প্রচুর মানুষ আসে ওই সব মেলায়। দেখে  হাঁ হয়ে গেছে মংলি। কতো মানুষ বাপ রে! প্রায় দু-মাস ধরে চলে ওই তিনটে মেলা পরপর। মংলি ওই মেলাগুলোতে ফুলদাদার বাইকের পেছনের সিটে উঠে দাঁড়িয়েছে হাত দুটো পাখির মতো দুদিকে মেলে দিয়ে। দর্শকরা হাততালি দিয়েছে প্রতি    শো-এ। মাইনে বাদে ছুট টাকাও পেয়েছে সে অনেক। সবটাকা ও জমিয়ে রেখেছে ক্যাশিয়ারদাদার কাছে। বর্ষাকালে বাড়ি যাওয়ার সময় সে নিয়ে যাবে। মা-র হাতে দেবে টাকাগুলো। মা-হাসবে। ওকে আদর করবে।

          ত্রিপুরায় ঢোকার আগে ওরা মনিপুরের বর্ডারে আসামে জিরিঘাট বলে একটা গ্রামে মেলা করেছে। জিরিঘাট গ্রামটা খুব সুন্দর। চারদিকে পাহাড়। মধ্যিখানে সরু নদী। নাম জিরিনদী। জিরি নদীর একপাশে জিরিঘাট অন্যপাশে মনিপুরের জিরিবাম। নদীর উপর দিয়ে দুটো মোটা মোটা লোহার তারে ঝোলানো ব্রিজ। তার ওপর দিয়ে গাড়ি বা লরি গেলে ব্রিজটা কাঁপতে থাকে। মংলি নিজে বাইক চালিয়ে ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে জিরিবাম বাজারে গেছে।  জিরিবাম থেকেই শুরু হয়েছে মনিপুরের পাহাড়। ক্যাশিয়ারদাদা মংলিকে বলেছে মনিপুরের রাজধানী ইম্ফল ছাড়ালেই আর একটা অন্য দেশ আছে। তার নাম বার্মা। এখন তাকে বলে মায়ানমার।

          ক্যাশিয়ার দাদারা বছর সাতেক আগে ভারতবর্ষের বর্ডার ছাড়িয়ে বার্মায় মেলা করে এসেছে। সে মেলায় নাকি খুব ভিড় হয়েছিল। শিবু ঘোষ অনেক টাকা কামিয়েছিল। মংলির ওই পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে ইম্ফল পেরিয়ে বার্মায় যেতে ইচ্ছে করে। মনে হয় দূরে পাহাড়ের আড়ালে কী যেন এক রহস্য লুকিয়ে আছে যা তার দেখা হয়নি।

          জিরিঘাটে একদিন ভয়ানক কালবৈশাখী উঠল। মেলা সে’দিন সবে শুরু  হয়েছে। “মওত্‌ কা কুঁয়ায়” মাত্র একটা শো হয়েছে। এখন মংলি কুঁয়াতে একাই বাইক চালায়। প্রথম ও চালায়। তিন চারপাক চালিয়ে ও নেমে যায়। তবে কুঁয়ার নীচের দিকে। ফুল ওকে বেশি ওপরে উঠতে বারণ করেছে। ওর শেষ হলে ফুল কুঁয়ার ভিতর বাইক নিয়ে নানান খেলা দেখায়। সে এক্সপার্ট বাইক রাইডার।

          প্রথম শো এরপর দ্বিতীয় শো শুরু হবে। একজন দুজন করে দর্শক ঢুকছে “মওত্‌ কা কুঁয়ায়। গোটা বিশ-পঁচিশ দর্শক হলে দ্বিতীয় শো শুরু হবে। হঠাৎ জিরিবাম পাহাড়ের মাথা থেকে একটা বিশাল কালো মেঘ দানবের মতো তেড়ে এলো ওদের মাঠের দিকে। সঙ্গে ভয়ঙ্কর হাওয়া আর শোঁ শোঁ আওয়াজ। মংলি টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছিল। একটু দূরে ফুল দাঁড়িয়ে ম্যানেজারবাবুর সঙ্গে কথা বলছে। হাওয়ার আওয়াজ শুনেই ফুল চিৎকার করে বলল, “ মংলি ভাগ। আপনা রাউটিতে যা বৌদির কাছে।”

          কথাটা শুনেই দৌড় লাগিয়ে ছিল মংলি। কিন্তু নিজের রাউটির কাছে পৌঁছানোর আগেই ও দেখল ওদের তাঁবুটা দুই পাক খেয়ে ছিটকে গেল একদিকে। যে বাঁশদুটোর উপর খাড়া ছিল তাঁবুটা সে বাঁশ দুটোও উড়ে গেল তাঁবুর কাপড়ের সঙ্গে। হঠাৎ ওর মাথার উপর দিয়ে সাঁই সাঁই করে উড়ে গিয়ে নাগরদোলনার গায়ে আছড়ে  পড়ল ডিস্কোডান্সের স্টেজের ছাদটা।

          মংলি ভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল পদ্মাবৌদির বুকে। ফুলের বউ পদ্মাও তখন বিভ্রান্ত। ওদের তাঁবু উড়ে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে ওরা দুজন ফুলদের চৌকির তলায় ঢুকে গেল। সেখানে পদ্মাবৌদির কোলে বসে প্রাণপণ আঁকড়ে ধরেছিল তাকে মংলি। এরপর শুরু হল বড়ো বড়ো ফোঁটায় বৃষ্টি। চলল একঘন্টা।

          বৃষ্টি যখন থামল তখন সব কিছু লণ্ডভণ্ড। কোন এক দানবের দৌরাত্মে যেন হঠাৎ নরকে পরিণত হয়েছে সাজানোগোছানো মেলাটা। পুরো তিনদিন লাগল আবার মেলা চালু হতে। দু-রাত ওরা কেউ রাতে ঘুমোতে পারল না। সারারাত মেলার সব লোক জেগে রইল। ওই বৃষ্টি ঝড়ে ইমিটেশন কাকু দিনরাত পরিশ্রম করে সারিয়ে তুলল নিজেদের দোকান।

          মংলি ফুলদাদাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “আচ্ছা ফুলদাদা এমনটা কেন হয়?” ফুল হেসে বলেছিল, “সবই নসিব মংলি নসিব। সবই আমাদের ভাগ্য। কপাল খুব খারাপ না হলে কেউ মেলাওয়ালা হয়?

          ফুলদাদার গলাটা করুণ শোনায়। মংলির মন খারাপ হয়ে যায়। পদ্মাবৌদি ও ফুলদাদা  দুজনে মিলে আবার ঝড়ে উড়ে যাওয়া রাউটিটাকে তৈরি করেছে। এখন রোদে শুকোচ্ছে  লেপ তোশক। মংলি খালি চৌকিতে ঘুমোচ্ছে একটা চাদর পেতে। ওর পদ্মাবৌদিদের মতো লেপ তোশক নেই। একটা কাঁথা ও একটা বালিশ আছে। সেদুটো এখনও শুকোয়নি। ঝড়ের পর প্রথম দুদিন তো মাথার উপর তাঁবুটাও ছিলনা। এখন সেটা হয়েছে কিন্তু বিছানা ভেজা। রাতে খালি বিছানায় চাদর পেতে শুয়ে থাকে মংলি। এই অবস্থাটা শুধু যে মংলিদের তা নয়। মেলার মাঠে যারাই থাকে তাদের সকলের।

*********

          এখন কৈলাশহরে মেলা লেগেছে। শহরের একদম শেষপ্রান্তে একটা খোলা মাঠে। মাঠের শেষে বিশাল ধানজমি। তারপর বাংলাদেশ। এখানে বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে কোনো তারকাঁটার বেড়া নেই। মংলি কোনোদিন বাংলাদেশের ওদিকটায় যায়নি। শুনেছে ওদিকে সিমেন্টের ছোটো ছোটো খুঁটি পোতা আছে। তার এপারটা ভারত আর ওপারটা বাংলাদেশ। কৈলাশহরটা খুব সুন্দর, ছোট্ট। বড়ো বড়ো পুকুর আছে অনেকগুলো। একটা পুরানো এয়ারপোর্ট আছে। আগে এখানে প্লেন নামত । প্লেন উড়তো। মংলি আকাশে বাদে কোনোদিন প্লেন ওঠা নামা দেখেনি। ওর প্লেন নামা ওঠা দেখতে খুব ইচ্ছা করে। অফিস রাঊটিতে একটা ছোটো কালার টিভি আছে। সেই টিভিতে অবশ্য প্লেন ওঠা নামা দেখেছে। কিন্তু টিভিতে দেখা আর নিজের চোখে দেখা কি এক জিনিস? মংলি ওর কুঁয়ায় চালানোর বাইকটা নিয়ে সারা কৈলাশহর চক্কর মেরে এসেছে। কুঁয়ায় চলানো বাইকে সাইলেন্সার থাকে না। ওর ভটভট আওয়াজটাই “মওত্‌ কা কুঁয়ার” আকর্ষণ। সেই বাইক নিয়ে চারদিক খান খান করে মংলি কৈলাশহর চক্কর কেটেছে। একটা অত ছোট মেয়েকে ওই বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছে আবার ওদের আনন্দমেলার একটা প্রচারও হয়েছে। কৈলাশহরে যে আনন্দমেলা এসে গেছে তার সচল বিজ্ঞাপন মংলির বাইক অভিযান।

          আজই প্রথমদিন মংলি ফুল এর সঙ্গে একসঙ্গে বাইক চালাবে কুঁয়ার মধ্যে। অর্থাৎ একসঙ্গে দুটো মোটর বাইক ঘুরবে কুঁয়াতে। একটা চালাবে ফুল একটা চালাবে মংলি। প্র্যাকটিস হয়ে গেছে দুজনের। কোনো অসুবিধে হয়নি। সব ঠিক ঠাক। ফুল মংলিকে বলেছে, “তুই তোর মতো চালিয়ে যাবি আমি পরে সময় বুঝে এন্ট্রি নেব। শুধু মনে সাহস রাখবি আর নজর রাখবি তোর বাইক যেন আমার বাইকে সামনে না আসে। তুই নীচে থাকলে আমি  উপরে থাকব তুই উপরে থাকলে আমি নীচে থাকব। ইন্টারক্রসিং আমি করব। সিটের উপর উঠে হাত ছেড়ে বাইক চালাব আমি। তুই শুধু নিজের বাইকটা মন দিয়ে চালিয়ে যাবি। চালাতে চালাতে আমার খেলা দেখবি না।”

          সব শুনে মাথা নেড়েছে মংলি। মেলার মালিক শিবু ঘোষ বলেছে, মংলি যদি আজ সাকসেসফুল হয় তবে ওর মাইনে পাঁচশো টাকা বাড়িয়ে দেব এমাস থেকে আর ছুট যা পাবে এতদিন ফুল পেত আশি ভাগ আর মংলি পেত কুড়িভাগ। এখন থেকে সেটা হয়ে যাবে সত্তর তিরিশ।

          মংলি ভাবে আজ ওর ঠিকঠাক  খেলা দেখাতেই হবে। ওর সার্কাসের মানে আরো টাকা। এবার বর্ষায় বাড়ি গিয়ে সে মার হাতে অনেক টাকা দিতে পারবে। বাবলু ওকে পনেরো টাকার একটা চকলেট দিয়ে গেছে। ইংরাজিতে বলেছে – “বেস্ট অফ লাক।”

          ইমিটেশন কাকু ওর একটা রোলগোল্ডের বড়ো গলার চেন দিয়েছে বিনা পয়সায়। বলেছে, “আজ এটা পড়ে তুই খেলা দেখাবি।”

          বিপুলদাদা বলেছে, “দেখিস সাবধান। খুব মন দিয়ে বাইক চালাবি। চালাতে চালাতে একদম ফুলের খেলা দেখবি না। একটু অন্যমনস্ক হলেই কিন্তু সর্বনাশ।” ক্যাশিয়ার দাদা ওর কপালে একটা চুমু খেয়ে হাতে পঞ্চাশটাকা দিয়েছে। ক্যাশিয়ার দাদার দেখাদেখি ম্যানেজার কাকুও দিয়েছে পঞ্চাশটাকা। খেলা দেখানোর আগেই ওর একশ টাকা ইনকাম হয়ে গেছে।

          পদ্মাবৌদি ওর জন্য সামনে্র কালীবাড়িতে গিয়ে পুজো দিয়ে এসেছে। ওর মাথায় পুজোর ফুল ছুঁইয়েছে। হাতে প্রসাদ  দিয়েছে। আজকে খেলা দেখাবার জন্য মালিক শিবু ঘোষ মংলির নতুন সাটিনের পোশাক বানিয়ে দিয়েছে। লোয়ারটা লাল লেগিংস আর উপরে লাল শর্ট ফ্রক কুচি দেওয়া। পায়ে লাল কেডস্‌। সব নতুন। সব দিয়েছে মালিক শিবু ঘোষ।

          আজ রবিবার। বাবলু সারাদিন একটা অটোরিকশায় মাইক লাগিয়ে সারা কৈলাশহরে “মওত্‌ কা কুঁয়া”র প্রচার করেছে। আজই প্রথম “মওত্‌ কা কুঁয়াতে” একসঙ্গে বাইক চালাবে দুজন। একজন ছেলে একজন মেয়ে। ভয়ঙ্কর খেলা। ডেঞ্জারাস প্লে। দেখতে ভুলবেন না। এইসব বলে সারা শহরে প্চার করে এসেছে বাবলু। আশা করা যাচ্ছে মেলায় ভিড় হবে খুব। বিশেষ করে “মওত্‌ কা কুঁয়ার” টিকিটের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে দশটাকা। আগে ছিল কুড়ি টাকা আজ থেকে তিরিশ।

          ফার্স্ট শো। হাউস ফুল। কুঁয়ার উপড়ে প্রায় শ’খানেক দর্শক। খেলা শুরু হবে এইবার। পনেরো মিনিটের শো। কুঁয়ার নীচে দুটো বাইক। ফুল আর মংলি দাঁড়িয়ে। শো শুরু হবে এবার। মংলি এগিয়ে এসে প্রণাম করল ফুলকে। ওকে আজ লাল ড্রেসে পরির মতো লাগছে। ফুল পড়েছে কালো জিন্স এর সঙ্গে স্কিন টাইট কালো ফুল হাতা শার্ট। মাথায় কালো টুপি। ফুল মাথায় হেলমেট পরে না। ওটাই ওর মস্তানি। মংলিকে হেলমেট পড়তে হয়। ওর ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচ করে লাল হেলমেট পড়েছে ও। মংলি প্রণাম করবার পর  ফুল ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় একটা চুমু খেল। পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল, “চল বেটি আজ আজ তু কামাল কর দে।”

          ফুলের কথাটা বিদ্যুতের মতো কাজ করল মংলির মধ্যে। সে বাইকে উঠে হেলমেট পড়ল। স্টার্ট দিল বাইকে।

          মংলি ঘুরছে কুঁয়ার দেওয়ালে ভট ভট বিকট শব্দ তুলে। এক পাক, দুই পাক বাইকের হ্যান্ডেল ছেড়ে দিল মংলি। বাইক ঘুরছে। হাত দুটোকে মেলে দিল মংলি পরীর ডানার মতন। বাইক ঘুরছে মরণকুপের দেয়ালে। দর্শকরা হাততালি দিয়ে উঠল। এবার কুঁয়ার দেওয়ালে এন্ট্রি নেবে ফুল। বাইকে উঠে পড়েছে সে। একসিলারেটর ঘুরিয়ে ভট্‌ ভট্‌ আওয়াজ করছে। সিগনাল দিচ্ছে মংলিকে। মংলি যেন কুঁয়ার দেওয়ালে একটু উপর দিকে উঠে যায়। মংলি খেয়াল করল সেটা। পরীর ডানা দুটো নামিয়ে আনল হ্যান্ডেলে। একটু ওপরে উঠে গেল সে।

golpofulopori03 (Medium)

             ফুল এন্ট্রি নিল। এবার কথা মতো মংলি নীচের দিকে নেমে আসবে ফুল উপরে উঠে যাবে। তারপর দুজনে দু’একবার ক্রস করবে। অর্থাৎ কখনো ফুল কুঁয়ার উপর দিকে ঘুরবে মংলি নীচের দিকে আবার কখনো মংলি  উপর দিকে ঘুরবে ফুল নীচের দিকে। দু-একবার এরকম করার পর মংলি নেমে যাবে নীচের দিকে ফুল কুঁয়ার উপর দিকে বাইক চালাতে চালাতে নানান খেলা দেখাবে। কখনো বাইকের হ্যান্ডেল ছেড়ে দিয়ে। কখনো বা রানিং বাইকের সিটের উপর দাঁড়িয়ে দু-হাত ছেড়ে। আবার কখনো বা ফিউজ টিউবলাইট বাইক চালাতে চালাতে বুক দিয়ে ভেঙে। সে সময় মংলি শুধু কুঁয়ার নীচের দিকে ঘুরতেই থাকবে বাইক নিয়ে।

          দু-তিনবার ক্রস করে যাওয়ার পর ফুল খেলা দেখাতে শুরু করল। প্রথম সে হাত ছেড়ে ঘুরতে শুরু করল। বাইক চলছে। ফুলের হাত দুটো মাথার পেছনে। নীচে মংলি ঘুরছে বাইক নিয়ে। হঠাৎ দর্শকরা জোড়ে হাততালি  দিয়ে উঠল, হাততালির আওয়াজে ফুল খেয়াল করল মংলির কান্ডটা। সে চিৎকার করে মংলিকে বলল, “সাবধান মংলি।”

          কথাটা মংলির তার ভট ভট আওয়াজ আর হেলমেটের আচ্ছাদন ভেদ করে কানে গেল কিনা বোঝা গেল না। ফুল এবার রানিং বাইকের সিটের উপর উঠে দাঁড়াল। কুঁয়ার নীচের দিকে মংলি বাইকের হ্যান্ডেল ছেড়ে দুহাত ডানার মতো মেলে দিয়ে ঘুরছে আর ফুল কুঁয়ার উপর দিকে বাইকের সিটের উপর দাঁড়িয়ে ঘুরছে। অসম্ভব শো। মৃত্যু হাতের মুঠোয় নিয়ে খেলা দেখাচ্ছে দু-জন। দর্শকদের হাততালি ঢেউ এর মতো আছড়ে পড়ছে ওদের উপর। কুঁয়ার আকাশে পাখির মতো উড়ছে দর্শকদের ছুঁড়ে দেওয়া দশটাকা কুড়ি টাকার নোট।

          হঠাৎ সবাই খেয়াল করল মংলিও রানিং বাইকের উপর উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে প্রথমবার। সে পারল না। আবার বসে  পড়ল বাইকের সিটে। দ্বিতীয় বার আবার ট্রাই করল মংলি। এবার সে পেরেছে। উঠে দাঁড়িয়েছে মোটর বাইকের  সিটের উপর। বাইক ঘুরছে মৃত্যুকুপের দেওয়ালে। উপরে একইভাবে ঘুরছে ফুল। ওর গুরু। মংলির ট্রেনার। দর্শকদের হাততালিতে ফেটে পড়ছে “মওত্‌ কা কুঁয়ার” তাঁবু। টাকা উড়ছে কুঁয়ার আকাশে। মংলি বাইকের উপর দাঁড়িয়ে হাত ছেড়ে মৃত্যুকে জড়িয়ে ধরে ঘুরতে ঘুরতে ভাবছে এবার ওর বাবা -মার দুঃখটা ঘুচবে হয়ত।

ছবিঃ মৌসুমী

জয়ঢাকের গল্পঘর

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s