ভূতের আড্ডা-দেশবিদেশের ভূত

বেঘোভূত আর মাইলিং

সংহিতা

bhutjoy5501 (Medium)দুনিয়াটা ঘুরতে ঘুরতে তার উত্তরভাগটুকুকে আবার হাজির করেছে অন্ধকারতর দিনগুলোতে। সেপ্টেম্বরের ২৩শে জলবিষুব গেছে, মানে প্রতিবছর যে দিনে পৃথিবীতে দিন আর রাত্রি সমান সমান মাপের হয় আর তারপর উত্তর গোলার্ধে দিন ছোটো হতে থাকে ক্রমশ। এই সময়টাই আবার ফসল তোলার সময়ও বটে। বিশেষতঃ যেসব দেশে ঘোর শীতে জমি বরফে ঢেকে যায় সেসব দেশে অক্টোবরের ৩১ তারিখ হলো ফসল তোলার সময়সীমা। ঐদিনটা আবার ভূতেদের মনে করার দিনও বটে। একেক দেশে তাদের নাম একেক রকম। তবে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে চাষের বিরতি আর রাত লম্বা হয়ে যাওয়াটা উদযাপণ করা হয় ভূতেদের কথা ভেবেই।

জল জঙ্গলের দেশ সুন্দরবনে ভূতের উপদ্রবের একটা আবার বেঘোভূত। বেঘোভূত হলো মানুষের হাতে মারা পড়া বাঘের ভূত। বনের ভেতর মধু আর জ্বালানির খোঁজে যায় মানুষ। বেঘোভূত তাদের ভয় দেখায়। তারপর পথ ভুলিয়ে দেয়। শেষে হাজির করে ক্ষুধার্ত জ্যান্ত বাঘের মুখে। তাতে মানুষটা মারা পড়ে বাঘের পেটে গেলে নাকি বেঘোভূতের প্রতিহিংসা চরিতার্থ হয়। তবে স্টিমার বোটে চেপে ঘুরতে যাওয়া মানুষদের বেঘোভূতে ধরেছে বলে এখনও শোনা যায় নি।

bhutjoy5502 (Medium)স্ক্যান্ডিনেভিয়ার উপকথায় শোনা যায় মাইলিং-দের কথা। এদেরকে কোনো কোনো জায়গায় উটবুর্ড বলে। আর ফিনল্যান্ডে এদের নাম ইহ্‌তিরিএক্কো। নামটা এমন তিরিক্ষি হলেও এদের দশা বেশ করুণ। শোনা যায় যে ধর্মদিক্ষা পাওয়ার আগেই যেসব শিশু মারা যায়, তারা মাইলিং হয়ে যায়। তারা এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে থাকে যতক্ষণ না তাদের ধর্মের নিয়মমাফিক গোর দেওয়া হয় ততক্ষণ। বলার প্রয়োজন নেই, এই যথাবিধি কবরে যাওয়ার জন্য এরা ঝঞ্ঝাট পাকাতেও পারে। যেমন শোনা যায় যে রাতে একলা পথচারী পেলে এরা তাদের পিঠে চড়ে বসে। তারপর চেষ্টা করে পথচারীকে কোনো ভাবে গোরস্থানে নিয়ে যেতে। মানে পথচারীর পিঠে চেপে গোরস্থানে পৌঁছোতে। সেখানে পবিত্র ভূমিতে যথাবিধি কবরে ঠাঁই পেলে, মাইলিং মুক্তি পায় । আর উপদ্রব করে না। যাদের পিঠে এরা চেপেছে, তাদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে মাইলিং শিশুর ভূত হলেও এরা বিশাল হয়, আর বাহক যত গোরস্থানের কাছে পৌঁছোয় ততো এদের ভার বাড়তে থাকে। তার কারণ এই যে মাইলিং-এর ভারে তার বাহক মানুষটাবা মানুষগুলো যেন নরম মাটিতে ডুবে যায়। বাহক মাটিতে ডুবে গেলে তবেই না মাইলিং মাটির ভেতরে ঠাঁই পাবে! কেউ গোরস্থান অবধি পৌঁছতে না পারলে, রাগের চোটে মাইলিং তাকে নাকি রাস্তাতেই মেরে ফেলে। এই জন্যই এদের কীর্তিকলাপকে উপদ্রব ভাবা হয়। গোরস্থাণে পৌঁছে এদের ইচ্ছেপূরণ করলেও মৃত্যু. না করতে পারলেও মৃত্যু… বোঝো কান্ড! কিন্তু প্রশ্ন হলো যে এভাবে ভার বাড়ার কথাটা তাহলে জানা গেলো কীকরে? ……