ভূতের আড্ডা-ভূতের বাড়ি-সুলোচনার ‘চাল’-ইন্দ্রশেখর-বর্ষা ২০১৬

bhuteraddabhuterbari01 (Medium)

সেটা ছিল অমাবস্যার রাত। রাত্রে শুতে যাবার আগে সুলোচনা চলল কুয়ো থেকে জল আনতে। “চাল” এর উঠোনে বিরাট ইঁদারা। পুরোনোকালের জিনিস। তখন তার অত পাড়টাড় বাঁধিয়ে উঁচু করবার চল ছিল না। কুয়োটা মাটির মধ্যে একটা বিরাট গর্তের মতন হাঁ করে থাকে। জল অনেক নীচে।

গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে তার মধ্যে দড়িলাগানো বালতি নামিয়ে দিল সুলোচনা। তারপর জলভরা বালতি টেনে টেনে তুলতে লাগল। বয়েস তার পঞ্চাশের কাছাকাছি। হাঁফ ধরে যায় অতবড়ো জলভরা বালতিকে ঐ গভীর কুয়োর ভেতর থেকে তুলে আনতে।

সেই করতে গয়ে পায়ে বুঝি একটু বেশিই চাপ দিয়ে ফেলেছিল সে। হঠাৎ কুয়োর ধারের মাটি ধ্বসে গেল। টাল সামলাতে না পেরে সেই গভীর কুয়োর মধ্যে গিয়ে আছড়ে পড়ল সুলোচনা।

চাল-এর ঘরে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মানুষ টের পেলনা কী আকুল আর্তনাদ করে , বাঁচবার জন্য ছটফট করতে করতে মাটির অনেক নীচে সেই গভীর কুয়োর জলে মরে পড়ে আছে তাদের এক প্রতিবেশী।

গরিব মানুষের বস্তিকে মুম্বাইতে চাল বলে। সুলোচনা যে চালে থাকত তার নাম হল ডিসুজা চাল। মুম্বাই গেলে তার মাহিম এলাকায় গিয়ে কানোসা প্রাইমারি ইশকুলের খোঁজ কোরো। তার কাছেই প্যারাডাইস নামে সিনেমাহলটার পেছনে ডি সুজা চাল। সেখানে রামশকিত বিল্ডিঙের উঠোনে রয়েছে সেই অভিশপ্ত কুয়ো।

মুশকিল হল তার পরের অমাবস্যায়। শেষ রাত্রের দিকে সবাই টের পেল কুয়োটার ধারে একজন বয়স্ক মহিলার গলা। ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বাঁচবার জন্য আকুল আর্তনাদ করে চলেছে সে। পরণে সাদা শাড়ি।

bhuteraddabhuterbari02 (Medium)তারপর থেকে প্রত্যেক অমাবস্যার রাত্রে তো বটেই অন্যান্য রাতেও অনেকসময়েই সেই কুয়োর ধারে দেখা যায় সুলোচনাকে। কারো কোণ ক্ষতি করে না, শুধু ঘুরে ঘুরে বুকফাটা কান্না কাঁদে সে। এইভাবে সে মরতে চায়নি। চাল-এর মানুষজন সতর্ক থাকেন। রাত্রে সে কুয়োর ধারকাছে কেউ যান না। চালের মালিক রিচার্ড তার উদ্দেশ্যে কুয়োতলায় রেখে যান ফুল। কিন্তু তাও মাঝে মাঝে চাল এ নতুন থাকতে আসা লোকজন তাকে দকেহে ফেলেন। কেঁদে কেঁদে বেড়ানো এক একলা ভূত। এই নবাগতদের মধ্যে অনেকে আবার দেখেছে কুয়োর কাছাকাছি একটা গাছের ছায়ায় কেউ যেন পাহারা দেয় দাঁড়িয়ে। বেশি সাহসীরা মাথা ঠান্ডা করে খেয়াল করতে শুনেছে গাছের ছায়ার ভেতর থেকে চুড়ির আওয়াজ। সুলোচনা না অন্য কোন ভূত সে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়। কার ঘাড়ে দুটো মাথা আছে যে ভূতের মুখ দেখতে যায়?