ভ্রমণ ইয়াঙ্কিদের দেশে দ্বিতীয় বার: সাউথ বাই সাউথ ওয়েস্ট যশোধরা রায়চৌধুরী শরৎ ২০১৮

যশোধরা রায়চৌধুরীর সমস্ত লেখা একসঙ্গে

যশোধরা রায়চৌধুরী

চিরু আর তার মা কলকাতা থেকে যাবে ইয়াঙ্কিদের দেশে। অনেক দিনের ইচ্ছা, অনেক দিনের স্বপ্ন, ভাবনা, পরিকল্পনা।

ইয়াঙ্কিদের দেশ বললে প্রথমেই মনে আসে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির কথা। মনে আসে ম্যানহাটান, টুইন টাওয়ার , যা ভেঙে শেষ হয়ে গিয়েছিল, তার কথা। অথবা একদা যে বাড়িকে উচ্চতম বাড়ি বলা হত, সেই এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর কথা। কিং কং এর সিনেমায় কিং কংকে যে বাড়ির মাথায় চড়ে লাফালাফি বা নাচানাচি করতে দেখা যায়। কারণ সেযুগে সেটাই ছিল সবচেয়ে উঁচু বাড়ি ।

কিন্তু না, চিরু আর তার মা ওইসব অঞ্চলে প্রথমেই যাবে না। পরে হয়ত যাবে, কারণ আমেরিকা যাব আর নিউ ইয়র্কের মত রানি শহরে যাব না তা কি হয়? তবু, আপাতত লক্ষ্য হচ্ছে অন্য। লক্ষ্য হচ্ছে আমেরিকার ম্যাপের মাঝামাঝি দিকটা। বা পেটের দিকটা। যাকে বলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম বরাবর। আমরা নামব গিয়ে ডালাস শহরে । টেক্সার রাজ্যের বড় শহর। তারপর যাব ছোট্ট শহর স্যান এঞ্জেলোতে। এটা একটা নেভির বেস। এখানে আছে অ্যাঞ্জেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিও। এই শহরেই থাকে চিরুর মাসি। চিরুর মেসো আবার থাকেন পশ্চিম পানে আর এক শহরে। সে শহরের নাম ফিনিক্স। রাজ্যের নাম অ্যারিজোনা। অ্যারিজোনা? শুনলেই একের পর এক মরুভূমির ছবি মাথায় ভাসে, অথবা গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ছবি!!!

যাইহোক, আমাদের যাত্রার প্রথম থামা ডালাসে। এসেছি ত আবুধাবি হয়ে। আবুধাবিতেই দীর্ঘ এক প্রক্রিয়া হয়ে গিয়েছে। ইমিগ্রেশনের। প্লেনে ওঠার আগেই আমাদের আঙুলের ছাপ আর চোখের মণির ছবি উঠে গিয়েছে আমেরিকার অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন দপ্তরের ডেটাবেসে। আর চিন্তা নেই।

ডালাসে নেমে তাই আর অপেক্ষা করতে হল না। চিরুর মাসি হোটেল বুক করে রেখেছিলেন, সে রাত ডালাসেই কাটবে, কারণ পরের দিন যেতে হবে স্যান অ্যাঞ্জেলোতে। সন্ধ্যায় কোন ফ্লাইট নেই।

আবুধাবি থেকে ডালাস, দীর্ঘ চোদ্দ ঘন্টার প্লেন জার্নির পর আমরা চরম ক্লান্ত। ডালাসের ভাল হোটেলের বিছানায় শোবা মাত্র ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল পরদিন ভোরে। সঙ্গে এক পেট চোঁ চোঁ খিদে। প্লেনের খাবার শেষ খেয়েছিলাম আগের দুপুরে। তারপর সন্ধ্যায় আর ডিনার খাবার মত শরীরে শক্তি ছিল না।

ভোর বেলা হোটেল থেকে বেরিয়ে ডালাস এয়ারপোর্টে স্যান এঞ্জেলোর প্লেন ধরার আগে ইতালিয় ছোট কাফে ধরনের দোকানে বসে চর্ব্যচোষ্য খেল চিরু আর তার মা। চিরুর আমেরিকান ব্রেকফাস্ট খাওয়ার সাধ পূর্ণ হল এক থালা ভর্তি টোস্ট ডিমের স্ক্র্যামবল, গোটা গোটা খোসাশুদ্ধ সেদ্ধ করা আলু মাখন দিয়ে ভেজে নুন মরিচ ছড়ানো পোটাটো ইন জ্যাকেটস, আর বেশ খানিক সসেজ ও ভাজা বেকন দিইয়ে । চিরুর মা সাত্ত্বিক খাবার বাছলেন। এক প্লেট ফল। আনারস আঙুর বেরি স্ট্রবেরি তরমুজ ইত্যাদি। সঙ্গে কড়া কফি। বিশাল মগে করে।

স্যান এঞ্জেলো পৌঁছতেই চিরুর মাসি ও মার্কিনি মেসো এয়ার পোর্ট থেকে তাদের তুলে নিয়ে বাড়ি গেলেন। বাড়িতে দুপুরে আবার চর্ব্য চোষ্য। বাড়ির খাবারের আলাদা স্বাদ। বিকেলে মেসোর বাগানে বসানো বারবিকিউ যন্ত্রে কাঠকয়লার আগুনে ঝলসানো চিকেনের ফালি, বারবিকিউ সস দিয়ে। সঙ্গে আলু সেদ্ধটাকে ক্রিম চিজ আর বেকনভাজা দিয়ে মাখা পোটেটো স্যালাড, আদতে জার্মান খাবার। বেগনি রঙা বাঁধাকপির স্যালাড। আর পাউরুটি ও ভাত।

একটা দিন আরাম করেই বিশাল লম্বা সফরের জন্য তৈরি হয়ে নিতে হবে। পরিকল্পনা এইরকম।

স্যান  এঞ্জেলো থেকে প্রথমে একটা স্টেট হাইওয়ে ধরে পড়তে হবে ইন্টার স্টেটে। তারপর টানা পশ্চিম দিকে ড্রাইভ করে যেতে হবে। প্রথম থামা সান্টা ফে। যেখানে দু রাত থাকবে তারা। গাড়িটা নিজেদের নয়। ভাড়া করা।

ভাড়াগাড়িটি নিতে গিয়ে হঠাৎ প্রথম বাধা এল। ভাড়ার দোকানের দোকানি ভদ্রলোক, সরু চোখ, সোনালি ফ্রেম চশমা, সোনালি চুল, সাদা চামড়া, একেবারে গল্প বই থেকে উঠে আসা সাবধানী ব্যবসায়ী। তিনি চোখটা আরো সরু করে প্রায় আলপিনের ডগার মত ছুঁচলো করে বলে উঠলেন, গাড়ি ত নেই। আদ্ধেক গাড়ি খারাপ আর নয়ত কেউ না কেউ নিয়ে গেছে। একটা খুব ছোট্ট গাড়ি আছে, চলবে?

চিরুর মাসি আকাশ থেকে পড়লেন। আমেরিকায় কথা দিয়ে কথা না রাখার চল নেই। আগেই গাড়ি বুক করা হয়েছিল। এখন এসব বললে ভদ্রলোক বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে পড়বেন ।

একটু জোর দিয়ে বলা আর থানা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। সবাই মিলে ভিড় করে, কাউন্টারের আসেপাশে। তাতেই ফল ফলল। গোবেচারা ভাব করে হাত উলটে শেষ মেশ গাড়ির চাবি দিলেন… একটা গাড়ি এইমাত্র ফেরত এসেছে, এই বলে। এই পুরো ব্যাপারটা করতে করতে বেলা গড়িয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই একটা মত বাজে।

চলতে হবে সাত ঘন্টা। গাড়ি চালিয়ে। মাসি মেসো কেউ একা চালাবে না। পালা বদলে বদলে নিয়ে চালাবে। প্রথম কাজ হল ঘন্টাখানেকের ড্রাইভে স্টেট হাই ওয়ে দিয়ে চলে ইন্টারস্টেটে পড়া। তারপরই যে তিনটে স্টেট দিয়ে আমরা যাব, সেই তিনটেরই বিশাল বিশাল কাগজ ভাঁজ করে ছোট বানানো ম্যাপ কেনা। মানে স্টেটের ম্যাপ… যাতে রাস্তা থেকে শুরু করে প্রতিটি ছোটবড় ল্যান্ডমার্ক দেখান থাকবে।  প্রথম স্টেট টেক্সাস, তারপর নিউমেক্সিকো ও শেষে আরিজোনা। টানা প্রায় আটশো থেকে হাজার মাইলের ধাক্কা।

কিন্তু প্রথমেই স্টেট হাইওয়ের ৭০ মাইল স্পিড লিমিট ক্রস করে আশিতে চালানোর জন্য পুলিশের গাড়ি মাসির পিছু নিল। তারপর রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে বেশ কিছু জিজ্ঞাসাবাদ। চিরু আর তার মায়ের ত বুক ধুকুর পুকুর। একেবারে সিনেমার মত প্যাঁ প্যাঁ বাশি আর লাল নীল আলো জ্বেলে সাদা জিপ তাড়া করেছে, মাথায় কাউবয়দের মত ঢেউ খেলানো টুপি পরা মাজা তামার মত রং এর এক যুবক পুলিশ অফিসার জেরা করছে মাসিদের। চিরু আর তার মা হাতের কাছে পাসপোর্ট নিয়ে শুধু বসে আছে। যদি আইডেন্টিটি চেক হয়।

মেসো সুন্দর করে পরিচয় করিয়ে দিল ওদের। বাকিটা মাসি সামলাল। ফাইন হতেই পারত প্রায় একশো ডলারের মত, কিন্তু শুধু ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দিলেন পুলিস অফিসার। কারণ? মাসিকে চিনতে পেরেছেন তিনি। এক সময়ে অ্যাঞ্জেলো স্টেট ইউনিভার্সিটির কোর্স করেছিলেন, আর মাসি তাঁদের কম্পিউটার সিকিওরিটি পড়িয়েছিলেন।

যাক বাবা, বাঁচা গেল। রক্ষে অল্পের ওপর দিয়ে। এবার আর স্পিড লিমিট না দেখার প্রশ্নই নেই। আর পথ ভুল করার সম্ভাবনাটাও কেটে গেল ওই লম্বা লম্বা ম্যাপগুলো কিনে। ভাঁজ খুলে খুলে সেগুলোকে দেখাটা প্রায় গ্রিক পড়ার মতই লাগে, অন্তত চিরুর মায়ের ত বটেই। মেসো আর মাসি দিব্যি অভ্যস্ত।

আমরা শুরু করলাম টেক্সাস থেকে। টেক্সাস হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি “সাউথ” রাজ্য। বিখ্যাত শহর হিউস্টন, যেখানে নাসার বিশাল আপিস আছে আর আছে প্রচুর তৈল শোধনাগার ইত্যাদি। আমরা বেঁকে গেছি পশ্চিমের দিকে এবং আমাদের পরের রাজ্য হবে নিউ মেক্সিকো, অর্থাৎ সাউথ ওয়েস্টের এক রাজ্য।

আমাদের পরিকল্পনা হল,  নিউ মেক্সিকোর সান্টা ফে তে দু’রাত কাটিয়ে, ঐতিহাসিক রুট সিক্সটি সিক্স হয়ে, গ্রান্ড কানিয়ন দেখতে ফ্ল্যাগস্টাফ নামক ছোট্ট শহরে আবার এক রাত কাটিয়ে তারপর সারাদিন গ্রান্ড কানিয়ন ঘুরে আবার পাঁচ ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে ,  আরিজোনার ফিনিক্সে  পৌঁছে থামা। কারণ সেখানে মেশোর বাড়ি আছে । গোটা পথ ১০৫৪ মাইল মত। ফেরার পথে আবার ফিনিক্স থেকে টানা পনেরো ঘন্টা চলে, একটু ভিন্ন রুটে, লাস ক্রুসেস, নিউ মেক্সিকোর শহর পেরিয়ে, এল পাসো নামক আপাতত যেটা মেক্সিকো বর্ডার আর অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের খপাত খপাত করে ধরে জেলে পোরার জন্য কুখ্যাত হয়েছে সেই শহর পেরিয়ে ফেরত আসা  টেক্সাসে স্যান এঞ্জেলো। রাজ্য ওই তিনটেই থাকছে আর পথে রয়েছে অজস্র পাহাড়, মরুভূমিসম ল্যান্ডস্কেপ… অথবা চাষের জমি… আর দারুণ সব আকাশের দৃশ্য। অপূর্ব সব এলাকা যেখানে রেড ইন্ডিয়ানদের ৬৬ টি উপজাতির বাস… তাদের শিল্পকর্মের মিউজিয়াম। তাদের খাবার… মেক্সিকোর খাবার আর টেক্সাসের খাবার মিলে মিশে গড়ে ওঠা টেক্স মেক্স নামক রান্নার ঘরানা… ইত্যাদি ইত্যাদি।

গাড়িতে করে এই যাত্রাটা চিরু ও তার মায়ের জীবনে একেবারেই আলাদা। চিরুর মা ছোটবেলায় রবি ঠাকুরের কবিতা পড়েছে, পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি…। সত্যি করে তার মানেটা কী যে! এতদিনে যেন বুঝলাম।

সামনে খোলা পথ। অনন্ত যেন। আর মসৃণ  লং ড্রাইভ বলতে যা বোঝায়। যাত্রাপথের আনন্দগান গলায় আপনি এসে যাবে।

তারপরেও যদি একঘেঁয়ে লাগে? গাড়িতেই হাতে হাতে খেয়ে ফেল সঙ্গে নেওয়া নানা মুখরোচক খাদ্য। ফল অথবা স্যান্ডুইচ থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু।  অথবা গাড়ির সিস্টেমে গান শোন। আর , প্রতি দু’তিন ঘন্টা অন্তর গ্যাস স্টেশনে থাম, মাঝারি থেকে খুব পরিষ্কার রেস্ট রুমে জলবিয়োগ, কয়েক গ্যালন গ্যাস ভরানো গাড়ির ট্যাঙ্কিতে, সুপারমার্কেটের মিনি ভার্শান গ্যাস স্টেশনের সুখাদ্য ও কোকাকোলা দিয়ে জলযোগ..

দু তিন ঘন্টা ড্রাইভিং, আবার থামা.. এইরকম চলল। ক্রমশ অভ্যেস হয়ে আসে গতি। দায়িত্বহীন ক্ষমতা নয়, বেশ কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হয়। রাজ্য থেকে রাজ্যে বদলে যাওয়া স্পিড লিমিটের নিরিখে গাড়ির স্পিড ঠিক রাখা, ম্যাপ দেখা, ড্রাইভারের পাশের সঙ্গী হয়ে বসে ঘুমিয়ে না পড়া, চোখ কান খোলা রাখা তৎপরতা, এসব ত জরুরি বিষয় নিশ্চয়ই। চিরু আর তার মা ত  শুধু ব্যাকসিটের প্যাসেঞ্জার। উপভোগটুকুই আমাদের সঞ্চয়ে রয়ে গেল।

হাইওয়ে বিষয়টাই, এক সত্যিকারের পরমাশ্চর্য যেন এই ক্ষেত্রে।

সত্যি আমেরিকায় যদি চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া কিছু থেকে থাকে তো তা এই অসংখ্য সুন্দর সুন্দর রাস্তা দিয়ে গোটা আমেরিকাটাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলাটাই। উন্নতি। প্রগতি। বিজ্ঞান। নানা শব্দে এই প্রথম বিশ্বের দেশটার কীর্তিকলাপ ত বর্ণনা করা হয়। সবকিছুর মূর্ত প্রতীক যেন এই লম্বা লম্বা হাইওয়েগুলো। এত ঝকঝকে ইস্পাতের ফলার মত তাদের চেহারা, তাদের গঠনে নানা দেশ থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ারদের অবিরত মাথা ঘামানোর প্রমাণ।বড়  বড় ইন্টারস্টেট হাইওয়ে একটার পর একটা তৈরি হয়েছে ১৯০০ র আশপাশ থেকে শুরু করে।

এই লম্বা সোজা সোজা রাস্তাগুলো ধরে অনেকদূর চলে যাওয়া, লং ড্রাইভ। এর একটা নেশা আছে। আর আছে পেঁচানো, গোল করে বানানো একজিটগুলো, যেগুলো যে কোন জনপদের কাছাকাছি আছে, প্রয়োজনে হাইওয়ে ছেড়ে জনপদের দিকে যাবার জন্য। আকাশ থেকে পাখির চোখে দেখলে ফুলের মত দেখতে যেন, ফিতে দিয়ে বানানো বিনুনির ফুল।

ব্যস্ত জনপদের পাশ দিয়ে যখন চলে যায় সেই ইন্টারস্টেট, তখন তার জন্য বেশ কিছু একজিট লাগে। হাইওয়ের দ্রুতগামী গাড়ির সারি কোনভাবে ব্যাহত হবে না, বাঁ পাশে ডানপাশে বেরিয়ে যাবে ফ্যাকড়া রাস্তা, যা দিয়ে শহরের গাড়ি ঢুকবে হাইওয়েতে, কিন্তু দ্রুতগতির গাড়িদের স্লো ডাউন করতে হবে না, আবার কোন শহরে যেতে গেলে বেরিয়েও যেতে হবে ফ্যাকড়া দিয়েই কারো অসুবিধা না ঘটিয়ে।

অনেক সাইনবোর্ড লাগানো থাকে হাইওয়েতে। প্রতিটা জাংশনের আগে বুঝিয়ে দেওয়া থাকে কোনদিকে যেতে গেলে গাড়িকে তুমি কোন লেনে নেবে। একেবারে মাঝে লেনগুলি থ্রু যাচ্ছে। এপার ওপার হয়ে যাচ্ছে সব জাংশন অতি দ্রুত। আগে পাশে পেছনে বিশাল বিশাল ট্রাক ট্রেইলার দেখা যায়… সেসব ট্রাকে বা কন্টেইনার-এ করে যাচ্ছে খাদ্যবস্তু… এক রাজ্য থেকে আর এক রাজ্যে বাণিজ্য হচ্ছে যেখানকার যা বেশি বেশি করে তৈরি হয় তা যে রাজ্যের প্রয়োজন সেখানে যাচ্ছে। কোথাও গম বেশি ত কোথাও ভুট্টা। মূলত ভুট্টাই টেক্সাস অঞ্চলে বেশি বেশি করে হয়।

পথের দৃশ্যও তাই ভুট্টাখেতের অধিকাংশ… চষা ক্ষেত, বা সদ্য কাটা শেষ হওয়া। চিরু ও তার মা শীতের শেষে গিয়েছে তাই ফসল ভরা খেত দেখার সৌভাগ্য তাদের হয়নি।

টেক্সাস থেকে নিউ মেক্সিকোর রূপ, নীল চকচকে আকাশ আর হলুদ গমের বা ভুট্টার  ক্ষেতের সীমাহীন বিস্তার।  ভ্যান গহ-এর আঁকা ছবিও মনে পড়তেই পারে। তবে বেশি গা ছমছম করছিল হিচককের ছবি নর্থ বাই নর্থ ওয়েস্টের সেই   শুনশান রাস্তা আর  গমের ক্ষেতের সিকোয়েন্সের কথা মনে পড়ে। ছোট প্লেন নিয়ে কেরি গ্রান্টকে তাড়া করার দৃশ্যটা ভেবে। সে দৃশ্য নাকি ক্যালিফোর্নিয়ায় শুট করা হয়েছিল।

পড়ন্ত সূর্যের আলোয় হলুদ মাঠ সোনালি। আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ, অলক মেঘের অবাস্তব দৃশ্য।

আবার নিউ মেক্সিকো থেকে যখন আরিজোনার দিকে যাওয়া, নানা ধরনের আকৃতির বহু প্রাচীন পাহাড়ের ফর্মেশন দেখতে দেখতে পথ চলা। আপাশে থেকে শুরু করে নানা ধরণের ইন্ডিয়ান আদিবাসীদের বাসভূমি অসংখ্য ছোটবড় পাহাড়ে সাজানো এই পথ।

আর রাত্রি হয়ে এলে, আকাশে অগণিত তারার ঝকমকিয়ে থাকা, স্পষ্ট দেখতে পাওয়া কালপুরুষের কোমরবন্ধ কালপুরুষের সঙ্গের কুকুরটি।

পৃথিবীর সব দেশ, মানুষ, পথ… কালপুরুষের কাছে সমান।

এই যাত্রার প্রথম স্টপেজ সান্টা ফে-তে তারা পৌঁছল গভীর রাতে। কিছু খাওয়াদাওয়া করা হল। তারপর ঘুম। শরীর ছেড়ে দিল যেন।

পরদিন দেখতে যাওয়া হল দু’তিনটে বিখ্যাত মিউজিয়াম। একটি স্প্যানিশদের প্রভাবের মিউজিয়াম। এখানে বোঝা গেল, মেক্সিকোর আগেও স্যান্টা ফে-তে স্প্যানিশরা এসে স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের মেরেকেটে তাড়িয়ে রাজ্য বিস্তার করে একটা ছোটখাট রাজধানীও বসিয়েছিল। সান্টা ফে কথাটার স্প্যানিশ ভাষায় অর্থ হোলি ফেথ।

উত্তর পুবের দিকে ইংরেজরা এসে নিউ ইংলন্ড স্থাপন করেছিল যে, তা কিন্তু আরো বেশ কিছু বছর পরে। মানে ঐতিহাসিকভাবে সান্টা ফে আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন শহর বলাই যায়। যদিও নামডাক বেশি নিউ ইংল্যান্ডের দিকের পেনসিলভানিয়া, প্লিমাউথ , অ্যালবানি , নিউ ইয়র্ক বা জার্সির… বস্টনের… এগুলি সবই ইংরেজ অধিগৃহীত আমেরিকার প্রথম কলোনি।

তা সান্টা ফের ঐতিহাসিক গুরুত্ব যে সান্টা ফে-তে না এলে জানতে পারতাম না সে ত নিঃসন্দেহে বলাই যায়।

একটা চকচকে উদগ্র নীল আকাশ। তার নীচে হলদে মাটির ঘরের মত করে বানানো সব বাড়ি। এটা স্থানীয় অ্যাডোবো ঘরানা। রেড ইন্ডিয়ানদের অ্যাডোবো স্টাইলের গ্রামের মাটির ঘর, যা হলদেটে বেলেমাটি দিয়ে তৈরি হয়… তারই অনুকরণে গোটা শহরের সব বাড়ির বহিরঙ্গের রঙ ঐ রকম রাখা হয়েছে। বাইরের দেওয়ালে গুঁড়ো গুঁড়ো অসমান খড়খড়ে ভাব রাখা হয়েছে… গ্রামের বাড়ির মত।

সান্তা ফে শিল্পীদের শহর। শিল্পের রাজধানীও বলা যায়। মিউজিয়াম, গ্যালারি, শিক্ষাক্ষেত্র, অসংখ্য শিল্পসদন, অনেক আর্টিস্টদের বাড়ি, ক্লাব, কাফে,  প্রচুর রেস্তোরাঁ, সব কিছু একেবারে ছবির মত… যেন গোটা শহরটাই এক মিউজিয়াম। এখানে আছে জর্জিয়া ওকীফ মিউজিয়াম ও। জর্জিয়া ওকীফ এক অসামান্য শিল্পী। ভদ্রমহিলা বসবাস করতেন এই শহরেই। তুমুল রঙ এর ব্যবহারে, স্থানমাহাত্ম্যের তুলে ধরায় তিনি এই অঞ্চলকে অমর করেছেন তাঁর অতি উজ্জ্বল সব ছবিতে। জর্জিয়ার ফুলের ছবি আর ল্যান্ডস্কেপ দুইই তুলে ধরে উষ্ণ নিউ মেক্সিকোকে।

তাছাড়াও বিশাল একটা রেড ইন্ডিয়ানদের মিউজিয়াম দেখল চিরুরা। এই মিউজিয়ামে রাখা আছে আমেরিকার আদি বাসিন্দাদের অসংখ্য উপজাতির ব্যবহার্য জিনিস, তাদের শিল্পের নমুনা, অনেক তথ্য রয়েছে। ডকুমেন্টারি দেখা যায় বসে বসে। ব্ল্যাক পটারি বা কালো চকচকে এক রকমের মাটির বাসন তাঁদের বিখ্যাত। নানারকমের মাটির বাসন আছে। প্রতিটাই শিল্পসৌন্দর্যে অতুলনীয়। কালো মাটির জিনিসের কালো রঙ, ধাতুর মত চকচকে ভাব, আসে বিশেষ এক পদ্ধতিতে কাঁচা মাটির জিনিসগুলোকে বহুক্ষণ ধরে ধিকিধিকি আঁচে পোড়ানোর ওপরে।

ওখানে দেখা গেল এক ডকুমেন্টারি, যাতে এই শিল্পকে আজও কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে, এবং বংশপরম্পরায় ওই জিনিস বানানোর শিক্ষাটা যাতে থেকে যায়, আজকের যান্ত্রিক জীবনের চাপে ওই ধীর পদ্ধতিটা, বহু বহু প্রজন্ম ধরে বয়ে আসা পদ্ধতিটা হারিয়ে না যায় তার চেষ্টাটা ধরে রাখা হয়েছে।

আমেরিকায় প্রতি মিউজিয়ামের পাশাপাশি আছে একটি করে মিউজিয়াম স্টোর। সেই দোকানে পাওয়া যায় কিছু না কিছু শিল্পকলার নমুনা। এও এক বিশাল প্রাপ্তি বৈকি।

সান্তা ফে-র প্লাজা অঞ্চল স্প্যানিশ সেই রাজধানীর আমলকার।  ১৬০৭ থেকে ১৬১০ এর মধ্যে এর স্থাপনা। সেই সময়কার কালো কালো পাথর দিয়ে বাঁধানো কবলড প্লাজা এটা। মধ্যে পার্ক। চারধারে বাড়ি। পুরনো রাজবাড়িটাও আছে। চিরুরা ঢোকেনি সময় ছিল না বলে। আর কত যাদুঘর দেখবে, সত্যি!

তার বদলে বাড়ির সামনের উঠোনে স্থানীয় শিল্পীদের বানানো পুঁতির গয়না কিনেছে ঘুরে ঘুরে। অসাধারণ সব ছোট ছোট শিল্পকলা… প্রচুর গয়না, পাথরের জিনিস… যেন একটা মেলা। দেখলে রাজস্থান বা অন্য কোন আদিবাসীদের মেলার কথাই মনে পড়বে।

তারপর দুপুরের খাবার খেয়েছে প্লাজার মধ্যেই ছোট্ট একটা খাবার স্টল থেকে । দুটো খাবারই একেবারে সুস্বাদুর চরম। দুটোই স্থানীয় ইন্ডিয়ান তথা মেক্সিকান ভোজের অনিবার্য অংশ। একটা হল চাপাতি বা  আটা রুটির মত গোল চ্যাপ্টা ভুট্টার ময়দার রুটির মধ্যে চিজ আর প্রচুর মাংস ভরে দিয়ে কেসাদিয়া। অন্যটা হল ভুট্টার সাদা সাদা খোসার মধ্যে করে ভাপে সেদ্ধ করা মাংসের পুর দেওয়া ভুট্টার পিঠে…। আমরা যেমন ভাপা পিঠে খাই , তেমনি। গরমাগরম। এগুলোর নাম তামালে। চিকেন তামালে বিফ তামালে ইত্যাদি পাওয়া যায়।

এইসব সুখাদ্যের পর ও আরেক সুখাদ্য খাওয়া বাকি ছিল চিরুদের। সেটা হচ্ছে ফুল্‌কো লুচির মত মুচমুচে আর ফাঁপা, কিন্তু আকারে চৌকো, অনেকটা যেন সেই মোগলাই পরোটার মত আকারের বিশাল বিশাল “ফ্রায়েড কেক” সোপাইপিয়া। এর সঙ্গে মধু দিয়ে খেতে হয়। অমৃতের মত গরম গরম সোপাইপিয়া খেতে খেতে চিরুরা টের পেল হাড় হিম হাওয়া বইছে কানের পাশ দিয়ে। সময়টা মার্চ। এখনো শীত যায়নি। মরুভূমির হাওয়া বয়ে আনছে রকি মাউন্টেনের শীতলতাকে।

শোনা গেল কাল বরফ পড়তে পারে। আর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের সাউথ রিম, এমনিই অনেক উঁচুতে আর খুব শোঁ শোঁ ঠান্ডা হাওয়া দেয়। এমনিই ত চিরুর মা কলকাতার শীতের মাঙ্কি ক্যাপ পরা পাবলিক, কান না ঢাকলে তার চলে না। কাজেই কাল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত থাকতে হবে।

ফ্ল্যাগস্টাফে গিয়ে পৌঁছনো আবার গভীর রাতে। নইলে দেখা যেতেই পারত বিখ্যাত  লোয়েল  অবজার্ভেটরি; এটা ১৮৯০ এর দশকে তৈরি। অসংখ্য টেলিস্কোপ রয়েছে আর বিকেল থেকেই দেখান শুরু হয়ে যায় আকাশভরা তারার মেলা নানা ভাবে। মরুভূমির আকাশে কোন ধুলো ধোঁয়া কুয়াশা মেঘ বরফ কিছুই থাকে না। নির্মেঘ, জলকণামুক্ত আকাশের তলায় টেলিস্কোপ পেতে মহাকাশের সন্ধানে বসে থাকে অ্যাস্ট্রনমাররা। এই লোয়েল অবজার্ভেটরি থেকেই আবিষ্কৃত হয়েছিল প্লুটো। সেটা আবার নাকি অঙ্কে ভুল করার ফলে।

পরদিন আমাদের গন্তব্য ছিল গ্র্যান্ড কানিয়ন। চিরু আর তার মায়ের এমনই মন্দ কপাল যে সকাল থেকেই তুষারঝড়, আর তুষারপাত শুরু হয়ে গেল। দুপুরে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পার্ক নামক ঘেরা দেওয়া জায়গায় টিকিট কেটে পৌঁছে দেখা গেল এক হাড় হিম করা অবস্থা। চারিদিকে কুয়াশার চাদর। রাস্তায় দ্রুত জমে উঠল বরফের স্তর। তার ভেতরে “মজা করে ক্যানিয়ন দেখতে আসা” অনেকেই তেমন বেশি গরম জামা পরে আসেননি। তবে চিরু ও তার মা পুরোপুরি পোলার বেয়ার সেজে পৌঁছে গেছিল। তবু বেশিক্ষণ বাইরে থাকলেই হাড় ঠক ঠক শুরু হয়ে যাবে। মাঝে মাঝেই ছোট দোকান বা রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়তে হচ্ছিল তাই।

বেলা দুটো থেকে আকাশ পরিষ্কার হতে লাগল। ক্রমশ বিশাল রূপবান ক্যানিয়নের গা থেকে মেঘ সরে গিয়ে চিলতে হাসির মত রৌদ্ররেখায় স্তরে স্তরে নানা শেডের লাল আর বাদামি পাথরের আস্তরণের আঁকা বাঁকা রেখাগুলো দেখা যেতে লাগল। সে এক অনির্বচনীয় অনুভূতি।

দুটো থেকে পাঁচটা এই তিনঘন্টা প্রবল শীতে  ভেজা মাটির ওপর দিয়ে চলল ওরা। রিম বা ধার দিয়ে দিয়ে। কোথাও বেড়া করা আছে, কোথাও নেই। গা ছমছমে সুন্দর নিচের দিকে তাকালে অতলস্পর্শী খাদ দেখা যাওয়া। খানিক হাঁটার পর দূর ওই কোণে দেখা যায় রুপোর পাতের মত কলোরাডো নদীর জল। যে নদীর জন্যই বহু বহু যুগের ক্ষয় জনিত এই ক্যানিয়ন তৈরি হয়েছে। ছবি তুলে তুলে আর আশ মেটে না।

অপরূপ ক্যানিয়নে ঝুপ করে অন্ধকার নামার আগে মেঘের আড়ালে সূর্য  আকাশের প্যালেটে গুলে ফেলল গোলাপি বেগুনি কমলা রঙ। আর তারপরই ঠান্ডা, কুয়াশা আর অন্ধকারে হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে শেষ বাসের অপেক্ষা। বাসটা নিয়মিত  ক্যানিয়ন বিলাসীদের পয়েন্ট থেকে পয়েন্টে তুলে আর নামিয়ে চলে।

অনবদ্য সৌন্দর্য দেখার শেষে কফি খাওয়া আর চুপটি করে আবার গাড়িতে ফেরা। গাড়ি চলল ফিনিক্স শহরের দিকে।

ফিনিক্সে পরদিন সকালে ছুটির মেজাজ । আপাতত কোন তাড়া নেই, চাপ নেই। খালি আরাম করা।রেস্তোরায় ইতালিয় স্টাইলে পিজ্জা খাওয়া হল, বাজার-হাট করা হল। যাওয়া হল সাউয়ারো পার্কে। এটা ট্রেইল। একটা রাস্তা কেটে বানিয়ে, পার্কের মত করে দেখভাল করা হয় এখানে।  মানে ট্রেলটা গোটাটাই পাহাড়ে। আপিসে পর সবাই গাড়ি রাখছে আর হয় গাড়ির মাথা থেকে সাইকেলটা পেড়ে নিয়ে বাইকিং করছে, নয়, হাঁটাহাঁটি। পোষা কুকুর সঙ্গে আছে কারুর। কারুর আছে ছেলে বা মেয়ে। পাহাড়ে চড়ো, অসংখ্য হাত তোলা মানুষের মত, কিন্তু মানুষের তিন গুণ আকার সাউয়ারো ( বানান অনুযায়ী পড়লে সাগুয়ারো) ক্যাকটাস বৃক্ষ, ছোট ছোট বদমাইশ বাচ্চার মত ক্যাকটাসের ঝোপ, অসংখ্য বুনো ঝাড়, হলুদ সাদা ফুল ফুটে ওঠা নানা ধরণের ঝোপ আসেপাশে আলো করে আছে। পাথরের চট্টানে পড়ে বিকেলের সোনালি রোদ্দুর ঝলকে উঠছে। শুষ্ক ঠান্ডা চমৎকার বাতাস বসন্তের। আর কদিন পরে ভয়ানক গরম পড়বে, উষ্ণতায় ফুটি ফাটবে। জল , জল করে অস্থির হবে তুমি। তবু  সন্ধে সাতটা, সাড়ে সাতটা , আটটা, নটা অব্দি সূর্য থাকবে এই উত্তর গোলার্ধে। অফিসের পর এসে যতখুশি শরীর চর্চা কর, পকেটে জলের বোতল রেখে অবশ্যই।

এর পরের গল্প অতি সংক্ষিপ্ত । দুরাত পর ফিনিক্স থেকে আবার সক্কাল সক্কাল রওনা। এবার টানা পনেরো ঘন্টা যাত্রা করে, পরে লাস ক্রুসেস এ এক চায়ের দোকানে বসে  চিরুর মা আর মাসির ইশকুলের ছাত্রী, ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া সুদেষ্ণা সেনগুপ্তকে মিট করা আর গল্প করার পর, আবার প্রায় রাত দেড়টা অব্দি গাড়ি চালিয়ে ফেরত আসা স্যান এঞ্জেলোতে।

পথে এল পাসোতে পাসপোর্ট পরীক্ষা। আমাদের বুক হিম হয়ে গেছিল। ট্রাম্প সাহেব কী না করছেন মেক্সিকোর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে। আর কে না জানে, ভারতীয় আর মেক্সিকানদের চেহারায় প্রবল মিল!

সব ভাল যার শেষ ভাল। ফেরার পর মুখে লেগে রইল তামালে আর সোপাইপিয়ার স্বাদ। আর বিশাল রাতের আকাশের কালপুরুষ। অথবা ভুট্টাখেতের গায়ে সূর্য সোনার রঙ।

ফটোগ্রাফিঃ লেখক

  জয়ঢাকের ভ্রমণ লাইব্রেরি

 

Advertisements

One Response to ভ্রমণ ইয়াঙ্কিদের দেশে দ্বিতীয় বার: সাউথ বাই সাউথ ওয়েস্ট যশোধরা রায়চৌধুরী শরৎ ২০১৮

  1. Sudeep says:

    অসাধারণ.. জীবনে একবার আমেরিকায় রুট 66 এ রোড ট্রিপ করার ইচ্ছে আছে..

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s