সিনেমা হল-স্পিলবার্গ অ্যালবাম রুমেলা দাস শরৎ ২০১৯

জয়ঢাকের সিনেমা হল

ফরাসী চলচ্চিত্রের দিকপাল পরিচালক জাঁ লুক একসময় বলেছিলেন, “স্পিলবার্গকে একজন ব্যক্তি হিসাবে ভাবা ঠিক হবে না। স্পিলবার্গ হলিউডের একটা ধারার প্রবর্তক!” একেবারেই তাই! সারা বিশ্বের চলচ্চিত্র জগৎ-ই যাঁকে আইকন বলে চেনে, তিনি হলেন স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গ ( জন্ম ১৯৪৬, ১৮ই ডিসেম্বর)। তাঁকে ঘিরেই গোটা হলিউডের চলচ্চিত্রশিল্পের একাধিক ধারা ঘোরে।
চলচ্চিত্র যে শুধু শিল্প নয়, বিশাল বাণিজ্য ক্ষেত্র, ছবি তৈরি করেও যে বিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়া যায় তার প্রমাণ স্পিলবার্গ। এখনও পর্যন্ত হলিউডের বিশাল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যত মেধাবী পরিচালক প্রযোজক এসেছেন তাদের মধ্যে স্পিলবার্গ নিঃসন্দেহে অন্যতম।
সাধ্যাতীত পরিশ্রম করে স্পিলবার্গ নিজের জায়গা করেন। ছোট একটা ঘর ছেড়েমুছে পরিষ্কার করে প্রথম স্টুডিও ‘এমব্লিন’ দাঁড় করান। সেসময় তাঁকে প্রতিদিন গেটের দারোয়ানের সঙ্গে সুট-টাই পরে অফিসে ঢুকতে দেখা যেত, স্টুডিও থেকে বেরোতেন রাতে সবাই বাড়ি ফেরার পরেই। ২৪মিনিটের ছবির কাজ নিয়ে তিনি এমব্লিনের যাত্রা শুরু করেন। ধার করেন ১৫,০০০ডলার। এরপর তাঁকে পিছু ফিরে আর তাকাতে হয়নি। ক্রমশঃ শিখর থেকে আরো সুউচ্চ শিখরে উঠতে থাকেন তিনি। প্রতিমুহূর্তে সৃজনশীলতায় ও সৃষ্টিশীলতায় নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে গেছেন।
আর তাই চলচ্চিত্রের নোবেল পুরস্কারহেন অস্কার ছাড়াও ভূষিত হয়েছেন দেশি বিদেশি অনেক পুরস্কারে। হ্যাঁ শুধু তাঁর নিজের দেশ আমেরিকা নয়, প্রিয় দেশ ইংল্যান্ড নয়, পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষই এই অসাধারণ মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোটি কোটি মানুষ তাঁকে মনে ঠাঁই দিয়েছে। তাঁর ক্যামেরা যেন সত্যিই কোনো মায়াময় জাদুবাক্স। যেখান থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক বিস্ময়কর রাজ্য!
এসো দেখে নেওয়া যাক তাঁর সেসব বিস্ময়ের একঝলক।

 

“দ্য সুগারল্যান্ড এক্সপ্রেস”(১৯৭৪)-
মোটামুটিভাবে ১১০মিনিটের সিনেমার মূল ভিত্তি অপরাধ। নায়িকা লুই জেন (অভিনয়ে গোল্ডি হন) এবং নায়ক ক্লভিস পপলিন (অভিনয়ে উইলিয়াম অ্যাথারটন) কীভাবে আইন ভেঙে ঘটনা পরম্পরায় একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়েন সেই প্রকৃত ঘটনারই রূপায়ণ করেছেন পরিচালক। রুদ্ধশ্বাস নাটকে পরিপূর্ণ এ সিনেমা ১৯৭৪ কান চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের শিরোপা জিতে নিয়েছে সহজেই।

 

“জ’স (১৯৭৫)-
এটি ১২৪ মিনিটের একটি থ্রিলার চলচ্চিত্র। পিটার বেঞ্চলির লেখা ‘জস'( ইংরেজিতে যার অর্থ চোয়াল) নামের উপন্যাস থেকেই চলচ্চিত্র চিত্রায়ণ হয়। উপন্যাসটি ১৯১৬সালে জার্সি সমুদ্রতীরে হাঙর আক্রমণের ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছিল। অ্যামিটি দ্বীপের পুলিশ প্রধান সমুদ্র সৈকত বন্ধ করে দিয়ে সৈকতে ঘুরতে আসা ট্যুরিস্টদের একটা বড় শ্বেত হাঙরের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যবসায়িক লাভ চায় নগর কাউন্সিল। এভাবেই একের পর এক দমবন্ধকর উত্তেজনায় কাহিনি এগোতে থাকে।
ছবিটি বিভিন্নদেশে সুপারহিট হওয়ার পর ১৯৭৬সালে এটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়। সবাইকে অবাক করে প্রথমবার স্পিলবার্গের কোনো ছবি এডিটিং, সাউন্ড ও অরিজিনাল স্কোর এই তিনটি শাখায় অস্কার জিতে নেয়। পরবর্তীতে ১০০টি শ্রেষ্ঠ আমেরিকান “হাই কনসেপ্ট” সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় ‘জস’।

“ক্লোজ এনকাউন্টার্স অফ দ্য থার্ড কাইন্ড”(১৯৭৭)-
১৩৭মিনিটের একটি কল্পবিজ্ঞান ছবি। রয় নেরি নামের এক মার্কিন ইলেকট্রিক্যাল লাইটম্যানের ইউএফও-র সাথে ক্লোজ ইনকাউন্টার, পুরো ছবিটিই ইউএফও-র ওপর ভিত্তি করেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজস ছবিটিতে অন্য মাত্রা দিয়েছে। চিত্রনাট্য রচনায় স্পিলবার্গের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন পল শ্রাডার, জন হিল, ডেভিড জিলার সহ আরো অনেকে।
‘৩২তম ব্রিটিশ একাডেমি ফিলম অ্যাওয়ার্ড’, ‘৩৫তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড’, এবং ‘৫ম স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ড’ ছাড়াও আরো অনেক জাতীয় পুরস্কার গোটা ছবির ঝুলিতে।

 

 

“১৯৪১”
আমেরিকার সমসাময়িক সময়ের ওপর ভিত্তি করে ১৯৭৯ সালে মূলত যুদ্ধ ও হাসির পটভূমিকায় এ ছবি চিত্রায়িত হয়। মোটামুটিভাবে ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরের পরে পার্ল হার্বর আক্রমণের আতঙ্কই ১১৮মিনিটের গোটা ছবিতে ছড়িয়ে। পুরস্কারের ঝুলিতে রয়েছে ‘অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি’, ‘অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অফ বেস্ট সাউন্ড মিক্সিং’ ছাড়াও আরো অনেক।

 

“রেইডার্স অফ দ্য লস্ট আর্ক”(১৯৮১)-
পরবর্তীকালে ছবিটি নামাঙ্কিত হয় ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ‘রাইডার্স অফ দ্য লস্ট আর্ক’ নামে। ১১৫মিনিটের রহস্য রোমাঞ্চে ঠাসা ছবি ইন্ডিয়ানা জোন্স সিরিজের প্রথম ছবি। অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ড অভিনয় করেছেন মূল চরিত্র পুরাতত্ত্ববিদ ইন্ডিয়ানা জোন্সের ভূমিকায়। নাৎসি গোষ্ঠীর যুদ্ধ ও আরো নানা ঘটনার ঘনঘটা একপলকের জন্যও দর্শককে চোখ সরাতে দেবে না ছবি থেকে।
শ্রেষ্ঠ ছবি, শ্রেষ্ঠ পরিচালনা, শব্দ, দৃশ্যায়ন একের পর এক পুরস্কার জিতে নেবার পর ছবিটি ইউএসএ-র ‘ন্যাশনাল ফিলম রেজিস্ট্রি’তে অন্তর্ভুক্ত হয়। দর্শক ও ক্রিটিক মহলে সাড়া ফেলে দেওয়া ছবিটি টেলিভিশনে পরে আরো তিনটি অংশে পরিবর্ধিত হয়ে সকলের সামনে আসে, ‘দ্য ইয়াং ইন্ডিয়ানা জোন্স ক্রনিক্যালস’ (১৯৯২- ১৯৯৬)। আসে অনেক জনপ্রিয় ভিডিও গেমস।

“ই টি দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল”(১৯৮২)-

‘মেলিসা মাথিসনে’র লেখার ওপর ভিত্তি করেই কল্পবিজ্ঞানসম্মত এ ছবির প্রকাশ। ১১৪মিনিটের এই ছবিতে মূল চরিত্রে এলিয়টের ভূমিকায় অভিনয় করেছে হেনরি থমাস। যার পরিচয় ঘটে অন্য গ্রহের প্রাণী ‘ই টি’র সঙ্গে। সকলের নজর এড়িয়ে ইলিয়ট ও তার এক বন্ধু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ‘ই টি’কে।
ইউনিভার্সাল পিকচার্সের এই ছবিটি দর্শকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ‘রোটেন টোমাটজ সার্ভে’ মতে বন্ধুত্ব ও বিজ্ঞানের অটুট বন্ধন ছবিটিকে ‘ন্যাশনাল ফিলম রেজিস্ট্রি’র অন্তর্ভুক্ত করে। সেসময় কানাডা ও সমগ্র ইউরোপের সর্বাধিক প্রচলিত ছবির মধ্যে পায় চতুর্থ স্থান।

“টোয়াইলাইট জোন: দ্য মুভি” (১৯৮৩)-

এ চলচ্চিত্র ভয় ও কল্পবিজ্ঞানের মিশেল। ১৯৫৯-৬৪ টেলিভিশন সিরিজের ওপর ভিত্তি করে স্টিফেল স্পিলবার্গ ও জন লেনডিসের প্রযোজনায় ছবিটি রূপায়ণ করা হয়। মূল পর্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১০১মিনিট সময়ে চারটি চলচ্চিত্র দর্শকের সামনে আনা হয়। জন লেনডিস পরিচালনা করেন ‘প্রলং সামথিং স্কেয়ারি’, ‘টাইম আউট’ এবং ‘এপিলং ইভেন স্কেরিয়ার’, স্পিলবার্গ করেন ‘কিক দ্য ক্যান’, জ্ব দান্তে করেন ‘ইটস এ গুড লাইফ’ জর্জ মিলার করেন সর্বশেষ কাহিনিটি ‘নাইটমিয়ার অফ টোয়েন্টি থাউসেন্ড ফিট’।

 

“ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য টেম্পল অফ ডুম”(১৯৮৪)-

অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চারের ১১৮ মিনিটের ছবি। ইন্ডিয়ানা জোন্স সিরিজের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। প্রথম অংশ ‘রাইডার্স অফ দ্য লস্ট আর্ক’। এর সূত্র ধরেই ১৯৮৯ সালে ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড ও ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য কিংডম অফ দ্য ক্রিস্টাল স্কাল নির্মিত।
উত্তর ভারতে ইন্ডিয়ানা জোন্সকে গ্রামবাসীরা ঠগীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য অনুরোধ জানায়। দেবী কালি, নরবলি, কালা জাদু উঠে আসে আরো অনেক রহস্য।
কিন্তু সবমিলিয়ে এটি আর্থিকভাবে তেমন সফল হয়নি। দর্শকের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র থাকার কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নানা বিতর্কের জন্ম দেয় এ ছবি।

“দ্য কালার পার্পল”(১৯৮৫)-

এলিস ওয়াকারের পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী উপন্যাস দ্য কালার পার্পেল অবলম্বনে নির্মিত এটি। বিংশ শতকের একেবারে প্রথমের দিকে আফ্রিকান-মার্কিন মেয়েদের জীবনের সামগ্রিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিটির মূল আধার দারিদ্র্য, বর্ণবাদ, লিঙ্গ বৈষম্য! ১৫৩মিনিটের ছবিটিতে কেলি নামের একটি নবীন আফ্রিকান-মার্কিন মেয়ের জীবনী তুলে ধরা হয়েছে।
এই ছবিতে ‘ডিরেকশন গিল্ড অফ আমেরিকা অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং ডিরেক্টরিয়াল অ্যাচিভমেন্ট’ পাওয়ায় স্পিলবার্গের শিল্প নৈপুণ্য আরো উচ্চ প্রশংসা পায়।

 

“এম্পায়ার অফ দ্য সান”(১৯৮৭)-
একটি মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র। জে জি বালার্ডের উপন্যাস অবলম্বনে কাহিনির ধারাপাত। উপন্যাস অবলম্বনে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন টম স্টপার্ড আর মেননো মেইজেস। সমালোচনা প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে ছবির ঝুলিতে আসে ছয়টি ক্ষেত্রে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন। চিত্রগ্রহণ, সঙ্গীত, শব্দের জন্য পায় বাফটা পুরস্কার। প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ক্রিশ্চিয়ান বেলকে ‘কিশোর অভিনেতা’ হিসেবে সেরার সম্মান দেওয়া হয়।

 

“অলওয়েজ” (১৯৮৯)-

১২৩ মিনিটের সিনেমার মূল উপস্থাপনা প্রেম, কমেডি আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহকাল। ১৯৪৩সালে নাটক ‘এ গে নেমড জিও’ নতুনভাবে নতুনরূপে ‘অলওয়েজ’এ দেখা যায়। এমনকি নাটকের প্রধান চারটি চরিত্র একইভাবে ফিরে এসেছে সিনেমাটিতে। অভিনয়ে দক্ষতা দেখিয়েছেন রিচার্ড ড্রেফুড, হোলি হান্টার, জন গুডম্যান, ব্র্যাড জনসন, এবং আউড্রে হেপবুরন।
পুরস্কারের ঝুলিতে আসে স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডের বেস্ট ফ্যান্টাসি ফিলম (১৯৯১), নির্বাচিত হয় শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যরূপের জন্যও।

 

 

“ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড” (১৯৮৯)-
ইন্ডিয়ানা জোন্স সিরিজের তৃতীয় ছবি এটি। এই সিরিজের দ্বিতীয় ছবি ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য টেম্পল অফ ডুম’ সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ায় পাঁচ বছরের ব্যবধান রেখে ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ত্রুসেড’ দর্শকের সামনে আনেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। ১২৮মিনিটের ছবির কানায় কানায় রহস্য রোমাঞ্চ। স্পেন, ইটালি, পশ্চিম জার্মানি, জর্ডন, ইউনাইটেড স্টেটস জুড়েই ছবির রূপায়ণ।
তুমুল জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা পায় ছবিটি। মেলে প্রচুর বাণিজ্যিক সাফল্যও। পুরস্কারের ঝুলিতে আসে ‘বেস্ট সাউন্ড এফেক্টস এডিটিং।’

 

 

“হুক” (১৯৯১)
১৪১মিনিটের ছবিটি বলা যায় ফ্যান্টাসি রোমাঞ্চে ভরপুর। ১৯১১সালে জে.এম, ব্যারিসের লেখা ‘পিটার অ্যান্ড ওয়েন্ডি’ উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করেই চিত্রায়িত হয়েছে। যুবক পিটার প্যান তার ছেলেবেলার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেছে। স্ত্রী, দুটো সন্তান নিয়ে তার পরিবার। কিন্তু পুরোনো শত্রু ক্যাপ্টেন হুক তার সন্তানদের অপহরণ করে। তাদের উদ্ধারের জন্য পিটার প্যানকে ফিরে যেতে হয় নেভারল্যান্ডে। ‘হুক’-এর চরিত্রে ডাস্টিন হফম্যান, ‘পিটার প্যানে’র চরিত্রে রবিন রবিন উইলিয়ামস অসাধারণ অভিনয় করেছেন। ৬৪তম একাডেমি পুরস্কারে পাঁচটি ভাগে নমিনেশন পায় ছবিটি। পরবর্তীতে এই ছবির অনুকরণে ভিডিও গেম, কমিক বইও বাজার ছেয়ে যায়।

জুরাসিক পার্ক” (১৯৯৩)-
স্টিভেন স্পিলবার্গের পরিচালিত আরো একটি জনপ্রিয় ছবি। ১২৭মিনিটের বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ছবিটি ১৯৯০সালে মাইকেল ক্রিচটনের লেখা ‘জুরাসিক পার্ক’ উপন্যাস অনুকরণেই দর্শকের সামনে আনা হয়। ক্লোন পদ্ধতিতে তৈরি করা ডাইনোসরের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আইলা নুবলার দ্বীপে একটা বিনোদন পার্ক গড়ে তোলে। জন হ্যামন্ড, কয়েকজন বিজ্ঞানীকে পার্ক পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু কিছু ডাইনোসর আচমকাই বাইরে চলে আসে। তাদের হাত থেকে বেঁচে ফেরার তাগিদ নিয়ে চরম রুদ্ধশ্বাসে এগিয়ে চলে ছবি।
মোট ৯১৪মিলিয়ন ডলার আয় করে সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী ছবি হিসেবেই শুধু প্রশংসিত নয়, ছবির অ্যানিমেশন ও ইফেক্ট সমালোচকের কাছেও বিশেষভাবে জনপ্রিয়। নতুন মাত্রা যোগ করেছে সেসময়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে কৃত্রিম চিত্র প্রস্তুতি।

“শিন্ডলার্স লিস্ট” (১৯৯৩)
 অস্ট্রেলিয়ান লেখক টমাস কেনেলি’র লেখা উপন্যাস ‘শিন্ডলার্স আর্ক’এর উপর ভিত্তি করেই গোটা ছবিটি চিত্রায়িত করেন স্পিলবার্গ। ইতিহাসনির্ভর ১৯৫ মিনিটের ছবিটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমকালীন একজন জার্মান ব্যবসায়ী কিভাবে একহাজারের বেশি ইহুদি যাযাবরকে উদ্ধার করে তার কারখানায় বহাল করেন, সেই সংগ্রামের কাহিনিই ছবির মর্মে মর্মে।
বাফটা পুরস্কারের তিনটে গোল্ডেন গ্লোব আসে ঘরে। শ্রেষ্ঠ ছবি, শ্রেষ্ঠ পরিচালনা, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যেও অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন স্পিলবার্গ। আমেরিকান ফিলম ইনস্টিটিউটের ১০০টি শ্রেষ্ঠ ছবির মধ্যে রীতিমত সাড়া ফেলে জায়গা করে নেয় ৮ম স্থানটিও।

 

“দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড: জুরাসিক পার্ক” (১৯৯৭)-

জুরাসিক পার্ক ছবি সিরিজের দ্বিতীয় ছবি এটি। জন হ্যামন্ড ম্যালকমের নেতৃত্বে আবারো একটা দল তৈরি করে অন্যত্র একটি দ্বীপে পাঠান। তোড়জোড় চলে আবারো কিভাবে জুরাসিক পার্ক গড়ে তোলা যায়! ১২৯মিনিটের ছবিটিতে আগের চেয়ে আরো রোমাঞ্চ, আরো সাসপেন্স ও কম্পিউটারের বিপুল প্রযুক্তি আনেন স্পিলবার্গ।
১৯৯৭সালে ছবিটি সর্বাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হয়ে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। পুরস্কারের ঝুলিতে আসে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডও।

 

“আমিস্টাড” (১৯৯৭)

১৫২ মিনিটের এই ছবিটিতে ১৮৩৯ সালে লা আমিস্টাড নামে একটি জাহাজের দাস বিদ্রোহ, পরে সেই বিদ্রোহকে ঘিরে আইনি লড়াই গোটা ছবিতে দেখতে পাওয়া যায়। অঙ্গরাজ্যের আদালতে জয় আসার পরেও তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি মার্টিন ভ্যান বিউরেন উচ্চ আদালতে আপিল করেন।
স্পিলবার্গের পরিচালনার দক্ষতায় আসে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য সহ আরো অনেক পুরস্কার।

 

 

 

“সেভিং প্রাইভেট রায়ান” (১৯৯৮)
স্পিলবার্গ পরিচালিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকায় আরো একটি অনবদ্য ছবি। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন টম হ্যাঙ্কস। ১৭০মিনিটের চলচ্চিত্রের শুরু এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মরণে তৈরি ফ্রান্সের নরম্যান্ডি কবরে যায়, শোকের অদ্ভুত পরিমণ্ডল দিয়ে কাহিনির বাস্তবতা অতুলনীয়।
৭১তম একাডেমি পুরস্কারের জন্য মোট ১১টি বিষয়ে মনোনয়ন পায়। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে স্পিলবার্গ জিতে নেন শ্রেষ্ঠ পরিচালনার খেতাবও। বলতে গেলে তাঁর মুকুটে দ্বিতীয়বারের জন্য সেরার পালক পেল।

“এ আই: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স” (২০০১)-
বিজ্ঞান কল্পকাহিনিমূলক ছবি। সহকারী প্রযোজক, রচয়িতা, পরিচালক ছিলেন স্পিলবার্গ। এটি ছিল শেষ চলচ্চিত্র প্রকল্প যাতে চলচ্চিত্র নির্মাতা স্ট্যানলি কুবরেক কাজ করেছেন। এই ছবিটিতে অভিনয় শুরু হবার আগেই কুবরেক মারা যান। স্পিলবার্গ কুবরেক স্মরণে উৎসর্গ করেন ছবিটি।
চলচ্চিত্রটি মোট পাঁচটি স্যাটার্ন পুরস্কার জিতে নেয়। এছাড়া পায় একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়নও। প্রশংসা পায় সেরা ভিজুয়াল এফেক্ট এবং সেরা মূল সঙ্গীত স্কোরেও।

 

“মাইনরিটি রিপোর্ট” (২০০২)-
রহস্য রোমাঞ্চে ভরা একটি থ্রিলার ছবি। ফিলিপ কে ডিকের ছোট গল্প “দ্য মাইনরিটি রিপোর্ট” কাহিনি অবলম্বন করে চিত্রায়িত। ২০৫৪সালে ওয়াশিংটন, উত্তর ভার্জিনিয়াকে ঘিরে চলতে থাকা অপরাধ জগতের মোকাবিলায় তৎপর সরকার পুলিশি দপ্তর। ১৫২মিনিটের টান টান রোমাঞ্চে ভরা ছবিতে টম ক্রুসের অভিনয় ও স্পিলবার্গের পরিচালনা এককথায় অনবদ্য।
উচ্চ প্রশংসা প্রাপ্তি সহজেই ২০০২সালে একাডেমি পুরস্কারের বহু তকমা জিতে নেয়। শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রহণ, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ কল্পবিজ্ঞানের ছবি ছাড়াও শ্রেষ্ঠ পরিচালনার শিরোপাও দেয়। আকাশ ছোঁয়া সফলতা পায় ছবিটির বাণিজ্যিক সাফল্য।

 

 

“ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান”(২০০২)

একটি আত্মজীবনীমূলক অপরাধপ্রবণ ছবি। পরিচালক, প্রযোজক উভয়ই স্পিলবার্গ। ফ্রাঙ্ক আব্যাংনালে’র জীবনের ওপর আলোকপাত করেই গোটা ছবি।
বাণিজ্যিক ও সমালোচনা দুই ক্ষেত্রেই সফলতা ছুঁয়েছিল ছবিটি।

 

 

 

“ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ড”(২০০৫)-
কল্পবিজ্ঞানের আরো একটি অনবদ্য ছবি। ১৮৯৮ সালে এইচ জি ওয়েলসের লেখা ‘ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ উপন্যাস থেকেই চলচ্চিত্রের রূপায়ণ। অন্যগ্রহের আক্রমণ ও বিধ্বংসী শহর থেকে কিভাবে একজন আমেরিকান ব্যক্তি তার সন্তানদের রক্ষা ও প্রতিপালন করে, মূল কাহিনির ছত্রে ছত্রে তাই দেখানো হয়েছে। অভিনয়ে দক্ষতা দেখিয়েছেন টম ক্রুশ, ড্যাকোটা ফ্যানিং, মিরান্ডা ওটো, টিম রবিন্স ও আরো অনেকে। ১১৬মিনিটের ছবিটিতে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক ও ভার্জিনিয়ার নানা শহর দেখানো হয়েছে।
সমালোচক মহলে যথেষ্ট প্রশংসা পায় ছবিটি। একাডেমি পুরস্কারের মধ্যে দিয়ে পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রেষ্ঠ ভিজুয়াল এফেক্ট, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রহণের তকমাও আসে ঝুলিতে।

 

“মিউনিখ”(২০০৫)

 

একটি ইতিহাস ভিত্তিক চলচ্চিত্র। প্রযোজনা পরিচালনা দুইই করেন স্পিলবার্গ। ভেনগিন্স বইয়ের আধারে গোটা ছবি।
১৬৩মিনিটের ছবিটি ৫টি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পায়, সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা এডিটিং, সেরা স্কোর। ২০১৭সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ২১শতকের এখনও পর্যন্ত সেরা চলচ্চিত্র বলে অভিহিত করে।

 

 

 

 

“ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য কিংডম অফ দ্য ক্রিস্টাল স্কাল” (২০০৮)-

রহস্য রোমাঞ্চে পূর্ণ ইন্ডিয়ানা জোন্স সিরিজের চতুর্থ অংশ। তৃতীয় ছবি প্রকাশ পাবার প্রায় ১৯বছর বাদে চিত্রায়িত হয় ছবিটি। পুনরায় ১৯৫৭র আবহে গোটা ছবি চিত্রায়িত।
১২২মিনিটের ছবিটি ২০০৮সালের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় ছবি হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়।

 

“দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ টিনটিন” (২০১১)-

ছবিটি “দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ টিনটিন: দ্য সিক্রেট অফ দ্য ইয়ুনিকর্ন” নামেই দর্শকের কাছে পরিচিত। অ্যানিমেশন থ্রিডি নির্ভর চলচ্চিত্রটি বেলজিয়াম কার্টুনিস্ট হার্জ’এর কমিক সিরিজের ওপর চিত্রায়িত। স্পিলবার্গ পরিচালনার টিনটিন সিরিজের প্রথম আত্মপ্রকাশ এই ছবিটির মধ্যে দিয়েই। ‘দ্য ক্র্যাব উইথ দ্য গোল্ডেন ক্লস’, ‘দ্য সিক্রেট অফ দ্য ইউনিকর্ন, ‘রেড রাচামস ট্রেসার্স’ হার্জ-এর এই গল্পগুলোতেই ছবির ঘোরাফেরা।
বিপুল বাণিজ্যিক সফলতা নিয়ে ১০৭মিনিটের চলচ্চিত্র জিতে নেয় বেস্ট অ্যানিমেশনের গোল্ডেন গ্লোব খেতাবও। সিক্স স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডের শ্রেষ্ঠ পরিচালনার পুরস্কার পান স্পিলবার্গ।

 

 

 

“ওয়ার হর্স” (২০১১)-
পরিচালক এবং একই সঙ্গে সহ-প্রযোজক স্পিলবার্গের আরো একটি ছবি। ১৯৮২সালের মাইকেল মর্পূর্গ-র “ওয়ার হর্স” উপন্যাসের রূপায়ণ। ১৪৬মিনিটের ছবিটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকায় গড়ে উঠেছে। অ্যালবার্টের কাছে এসে পৌঁছয় একটি শিক্ষানবিশ ঘোড়া। যুদ্ধের ঘটনাবহুল পরিস্থিতি একের পর এক আবর্তিত হয় তাদের ঘিরে।
বক্স অফিসের চূড়ান্ত সফলতার পর পায় সমালোচকের উচ্চ প্রশংসাও। একাডেমি পুরস্কারের সঙ্গে সঙ্গে জিতে নেয় দুটো গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার এবং পাঁচটা বাফটা খেতাব।

 

 

 

“লিঙ্কন” (২০১২)-

আব্রাহাম লিঙ্কনের আত্মজীবনীমূলক ছবিটিতে আব্রাহামের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ড্যানিয়েল ডে ড্যানিস। ছবিটির প্রযোজক ও পরিচালক একইসাথে স্পিলবার্গ।
অন্যান্য ছবিগুলোর মতোই লিঙ্কন সমাদৃত হয় শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে। পায় সমালোচকের উচ্চ প্রশংসাও।

 

 

“ব্রিজ অফ স্পাই” (২০১৫)-

 

 

ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্র। কোল্ড ওয়ারের পটভূমিকায় গড়া এ কাহিনির মূল চরিত্রে উকিল জেমস বি ডোনোভান। যার ওপরে পুরোপুরি নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুসেনার এক পাইলটের মুক্তি।
অসম্ভব উত্তেজনা এবং ঘটনার ঘনঘটা ১৪১মিনিটের ছবিটিকে এনে দিয়েছে শ্রেষ্ঠ ছবি, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য ও শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতার পুরস্কার।

 

 

 

 

“দ্য বিএফজি” (২০১৬)

ফ্যান্টাসি রহস্য মিলেমিশে গেছে মেলিসা ম্যাথিসনের চিত্রনাট্যে ‘রোয়াল্ড ডাহলস দ্য বিএফজি’-এর চলচ্চিত্রের রূপায়ণে। বিশালাকার রাক্ষসের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় একটি মেয়ের। ঘটনা পরম্পরায় রাক্ষসটি তাকে নিয়ে আসে তাদের দেশে। তার উদ্দেশ্য ঠিক কী? জানতে হলে দেখতে হবে সিনেমাটি।
প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি বক্স অফিসে চূড়ান্ত সফলতা পেয়েছিল।

 

 

“দ্য পোস্ট” (২০১৭)

ইতিহাস নির্ভর রাজনৈতিক ছবি। পুরোপুরিভাবে সত্য ঘটনার আধারেই ছবিটি আবর্তিত। ১৯৭১সাল নাগাদ পেন্টাগন পেপার্সে ভিয়েতনামের যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংযোগ নিয়ে যে বিশেষ খবরটি প্রকাশিত হয় তা নিয়েই তৎকালীন সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও কাহিনির জটিলতা।
১১৬মিনিটের ছবিটি ৯০তম একাডেমি পুরস্কারে পায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর তকমা। এছাড়াও ৭৫তম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে পেয়ে যায় শ্রেষ্ঠ পরিচালনা, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য ও শ্রেষ্ঠ নাটক হিসেবে।

 

 

 

“রেডি প্লেয়ার ওয়ান” (২০১৮)

 

 

কল্পবিজ্ঞানের আরো এক অনবদ্য রূপায়ণ। ২০৪৫এর পটভূমিকায় ভার্চুয়াল সফ্টওয়্যার ব্যবহারের কী সাংঘাতিক পরিমাণ হতে পারে, পৃথিবীর কোনায় কোনায় অদ্ভূতভাবে ছড়িয়ে পড়া নির্জনতাই নিয়েই গোটা ছবি।
অসাধারণ প্লট ও পরবর্তী সম্ভাবনাময় পৃথিবীর সত্য দিকটা তুলে ধরায় মেলে ৯১তম একাডেমি পুরস্কার, ৭২তম ব্রিটিশ একাডেমি ফিলম পুরস্কারের তকমা।

 

 

ঠিক কতগুলো জনপ্রিয় ছবি ও টিভি সিরিজ স্পিলবার্গ নির্মাণ করেছেন তা হয়ত তিনি নিজেই বলতে পারবেন না। কারণ তাঁর বেশিরভাগ ছবিই সফলতা ছুঁয়েছে। শুধু পরিচালক হিসেবেই নয়, প্রযোজক হিসেবেও তিনি উজ্জ্বল। পরিচালিত ছবি ৪৮টি হলেও প্রযোজিত ছবির সংখ্যা ১০৭টি। পরিচালক ও প্রযোজকের বাইরে আরো একটা পরিচয় আছে তাঁর। তাঁর অভিনয় করা ছবির সংখ্যাও নেহাৎ কম নয়। ‘অস্টিন পাওয়ার্স ইন গোল্ডম্যাম্বার’, ‘ভেলিনা স্কাই’, ‘দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড’, ‘জুরাসিক পার্ক’, ‘গ্রেমলিনস’, ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’, ‘ইউওর স্টুডিও অ্যান্ড ইউ’, ‘জস’ ছাড়াও আরো অনেক। তাঁর অনেক জনপ্রিয় ছবির চিত্রনাট্য তাঁরই করা। কিছু টিভি সিরিজ উল্লেখ না করে পারা যায় না, যা তাঁকে পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়, ‘নাইট গ্যালারি’ (১৯৭০), ‘দ্য নেম অফ দ্য গেম’ (১৯৭১), ‘ডুয়েল’ (১৯৭১), ‘সামথিং ইভিল’ (১৯৭২) ইত্যাদি।
এসবের বাইরে স্পিলবার্গ করেন কিছু উল্লেখযোগ্য এনিমেশন টিভি শো। ‘টিনি টোন অ্যাডভেঞ্চারস’ (১৯৯৮), ‘ফ্যামিলি ডগ’ (১৯৯৩), ‘পিঙ্কি’, ‘ফ্রিকাজুইড’ (১৯৯৫) ছাড়াও করেন অনেক কার্টুন ছবির প্রযোজনাও।
এই খ্যাতনামা মানুষটিকে নিয়ে হয়ত বলা গেল কিছু, না-বলা থেকে গেল আরো অনেকটা। কারণ আমাদের জানা থেকে অজানাই যে বেশি। তাই বেশি আরো বেশি করে জানার জন্য ছোট্ট বন্ধুরা যারা স্পিলবার্গের ছবি এখনও দেখে উঠতে পারোনি, তারা আর দেরি না করে চটপট দেখে ফেলো ছবিগুলো। আর জেনে ফেলো পৃথিবীর আরো অনেক অজানা দিক। কে বলতে পারে তোমাদের হাতের নাগালেও হয়ত কোনোদিন না কোনোদিন সেই অজানা ধরা দেবে!

3 Responses to সিনেমা হল-স্পিলবার্গ অ্যালবাম রুমেলা দাস শরৎ ২০১৯

  1. Sudeep says:

    eta bhalo kaj hoyeche…amar favorite Schindlers list ar Saving Private Ryan

    Like

  2. রূমেলা says:

    থাঙ্কু

    Like

  3. Rumela says:

    Thanks

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s