সোনার খোঁজে চাঁদে অরিন্দম দেবনাথ খবরের কাগজ ১১ জুন ২০১৭

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এল ডোরাডো নামে সোনায় তৈরি এক স্বপ্নের শহরের খোঁজে শত শত অভিযাত্রী দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনের জঙ্গলে হারিয়ে গিয়েছেন । কথিত জঙ্গলে গাছপালার নিবিড়  অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা সেই শহরের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, আসবাবপত্র সব সোনা দিয়ে তৈরি। বহু অভিযান হয়েছে এই শহরের খোঁজে, এমনকি এখনও  পেরুর ইনকা ধ্বংসাবশেষের  নিচে লুকিয়ে থাকা  স্থাপত্যের সন্ধানে অত্যাধুনিক রাডারের সাহায্যে অনুসন্ধান চলছে।

 ২০০১ সালে এক ইটালিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদ একটি সুপ্রাচীন দলিলের ওপর ভিত্তি করে পেরুর গভীর জঙ্গলে আকাশ পথে অভিযান চালিয়ে কিছু স্থাপত্যের দেখা পান। কিন্তু গভীর জঙ্গলের মাঝে স্থলপথে ওই স্থাপত্যর কাছে পৌছনোর কোন পথ না থাকায় এবং আকাশ পথে অভিযান চালানো অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ হওয়ায় সেই অভিযান আপাতত স্থগিত রয়েছে।

 ভারতবর্ষ থেকে কত যে সোনা লুট হয়ে বিদেশে চলে গেছে তার কোন হিসাব নেই। সোনার ওপর মানুষের লোভ সেই আদিকাল থেকে। সোনার খোঁজে মানুষ এখন পৃথিবী ছেড়ে পাড়ি জমাতে চলেছে মহাকাশের অন্য বলয়ে। যেখানে আপাতদৃষ্টিতে বাধা দেওয়ার কেউ নেই।

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা ‘মুন এক্সপ্রেস’ চাঁদের বুকে খনিজ পদার্থ বিশেষত সোনা খোঁজার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।মার্কিন সরকার এই  বেসরকারি চন্দ্র অভিযানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।  ২০১৭ সালের ৩১সে ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোন দিন নিউজিল্যান্ডের মাটি থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে মুন এক্সপ্রেস কোম্পানির পরীক্ষামূলক মহাকাশযান। ইলেকট্রন  রকেটে চেপে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে ঠাসা বেসরকারি মহাকাশযান  এম.এক্স-১ই  পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বলয় ছাড়িয়ে, রকেট থেকে নিজেকে বিচ্যুত করে  নিজের জ্বালানিতে যাত্রা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, জন্মসূত্রে ভারতীয় নবীন জৈন।

মাত্র চারদিন যাত্রা করে চাঁদে পৌঁছে যাবে এম.এক্স-১ই। তারপর শুরু করবে তার কাজ। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য চাঁদের মাটি খুঁড়ে বিরল সব মূল্যবান খনিজ যেমন সোনা, প্লাটিনাম ইত্যাদির সন্ধান করা। এছারাও জল ও অন্যান্য গাসের সন্ধানও করা হবে।  এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০০ কোটি ডলার চাঁদা সংগ্রহ করে ফেলেছে সংস্থাটি। এই অভিযান চালাতে খরচ পড়বে প্রায় ৩৫০০ কোটি ডলার।

লেক্ট্রন রকেটঃ খুদে  এই রকেট তৈরি করছে মার্কিন সংস্থা রকেট ল্যাব। মাত্র ১৭ মিটার লম্বা।ওজন মাত্র ১০ টন। দ্বিস্তর।ব্যাটারিতে চালানো ইলেকট্রিক পাম্প ব্যবহার করে। ১৫০ কিলোগ্রাম ওজন মহাকাশে ৫০০ কিলোমিটার ওপরে পাঠাতে পারে। গত ২৫ মে তারিখে প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে ২৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে। এখনও কাজ চলছে।  

সংস্থার আরও দুই  প্রতিষ্ঠাতা  ডক্টর বব রিচার্ড ও ডক্টর বারনে পেল জানিয়েছেন,আমাদের চাঁদ অভিযানের উদ্দেশ্য হল আমাদের বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণ্ডিকে চাঁদের বুকে ছড়িয়ে দেওয়া। কম খরচে  ছাত্র ছাত্রী, বিজ্ঞানী, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র  ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো যাতে চাঁদে বিভিন্ন অভিযান করতে পারেন তা নিশ্চিন্ত করা। চাঁদ হল আমাদের অনাবিষ্কৃত অষ্টম মহাদেশ ! খনিজসম্পদ খুঁজে বের করার পাশাপাশি আমাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল চাঁদের বুকে জলের সন্ধান করা। জল হল সৌরজগতের জ্বালানি তেল। চাঁদ হল একটা পেট্রোল পাম্প। জল পাওয়া গেলে এটাকে মহাকাশযানের জ্বালানিতে রুপান্তর করা সম্ভব হবে। চাঁদ অভিযান পৃথিবীর  সীমা ছাড়িয়ে অসীমের মাঝে অনুসন্ধানের সূচনা মাত্র।

যদিও মুন একপ্রেস প্রথমেই বড় দল পাঠাচ্ছে না। পাঠাচ্ছে ছোট আকারের রবোটিক মহাকাশ যান। এই রবোটিক যানটি থেকে পাওয়া তথ্য সন্তোষজনক হলে তবেই মূল অভিযান শুরু হবে।

অনুমান মতো যদি চাঁদে জল ও মানুষের বাবহারের উপযোগী খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় তবে চাঁদে মানুষের তৈরি উপনিবেশ হতে আর খুব একটা দেরি নেই!

জয়ঢাকি খবরের কাগজ-এর আরো খবর।

.

Advertisements

One Response to সোনার খোঁজে চাঁদে অরিন্দম দেবনাথ খবরের কাগজ ১১ জুন ২০১৭

  1. রুমেলা দাস says:

    ভালো লাগলো

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s