স্মরণীয় যাঁরা পাঠানি সামন্ত উমা ভট্টাচার্য বর্ষা ২০১৬

আগের পর্বে জ্যোতির্বিদ রাধাগোবিন্দ চন্দ্র

ভারতীয় ধ্রুপদী জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চার শেষ উত্তরসূরী

smaron02 (Medium)সময়টা ১৮৪৫ বা ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দ। উড়িষ্যার এক গন্ডগ্রামের সামন্ত রাজপরিবারের এক দরিদ্র উত্তরসূরী শ্যামবন্ধু সিং সামন্ত তাঁর দশ বছরের ছেলে চন্দ্রশেখর বা পাঠানিকে আকাশ দেখাচ্ছেন। এ তাঁর নিত্যকার কাজ। শিবের কাছে মানত করে পাওয়া অতি আদরের রোগাভোগা এই ছেলে। এক আবদার, রোজ তাকে তারা দেখাতে হবে,চেনাতে হবে।

সারাদিন ধরে সেই ছেলে একখানা লম্বা লাঠি নিয়ে বাগানের গাছপালার মাপামাপি করে,পাখিদের ডিম পাড়বার সময় খেয়াল রাখে,বাড়ির কাছের পাহাড়টাকে মাপার চেষ্টা করে,আর পুথিঘরের পুরনো পুথিগুলি মনোযোগের সঙ্গে পড়ে। নানা প্রশ্নও করে বাবাকে। তিনি সাধ্যমত উত্তর দেন। ছেলেটা কখনও সন্তুষ্ট হয়,কখনও হয় না। দিন কেটে অন্ধকার নামলেই চলে তার বাবাকে নিয়ে তারা দেখার খেলা। শ্যামবন্ধু কি তখন কল্পনাও করতে পেরেছিলেন যে এই ছেলেই একদিন হয়ে উঠবে ভারতের এক বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ?

কিন্তু সেটাই হয়েছিল। ভারতবর্ষ পেয়েছিল ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাচীন ধারার শেষ জ্যোতির্বিজ্ঞানী উৎকলবাসী সামন্ত চন্দ্রশেখরকে। যিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই স্বশিক্ষিত, খালি চোখে আকাশ দেখা এক অসামান্য ভারতীয় জ্যোতির্বিদ।    

        পাঠানি সামন্তের পুরো নামটি বিরাট- মহামহোপাধ্যায় পন্ডিত চন্দ্রশেখর সিং মর্দরাজ হরিচন্দন মহাপাত্র  সামন্ত। পারিবারিক ডাকনাম পাঠানি সামন্ত নামেই পরিচিত উড়িষ্যার পন্ডিত সমাজের কাছে। জন্ম উড়িষ্যার অবিভক্ত পুরী জেলার খন্ডপাড়া গ্রামে, একটি সামন্ত রাজ্যের রাজপরিবারে। খন্ডপাড়া আধুনিক উড়িষ্যার নয়াগড় জেলায় অবস্থিত। প্রাচীন খন্ডপাড়ার সামন্তরাজ্যটি ছিল নয়াগড় থেকে বিশ মাইল দূরে, মাত্র ২৪৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে, পাহাড় জঙ্গল দিয়ে ঘেরা একটি গন্ডগ্রাম।

১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে এক বাঘেলা রাজপুত এই সামন্ত রাজ্যে স্থাপন করেছিলেন। রাজপরিবারের সপ্তম পুরুষের চতুর্থ সন্তান ছিলেন পাঠানি সামন্তের বাবা শ্যামবন্ধু সামন্ত। রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠপুত্রই রাজা হ’ন, তাই পরিবারের অন্য ছেলেদের আর্থিক  অবস্থা ঠিক  রাজার মত স্বচ্ছল থাকতো না।

শ্যামবন্ধুরও অভাবের সংসার ছিল।  এই অসচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিলেন চন্দ্রশেখর। এই পোশাকি নামটিই ব্যবহার করব এখন থেকে।

 চন্দ্রশেখর সামন্তর বিশেষত্ব হচ্ছে, তিনি জীবনে কখনো স্কুলে পড়েননি। উচ্চশিক্ষার জন্য কোন গৃহশিক্ষকও তাঁর ছিল না। ইংরাজি ভাষা বা ইংরেজি শিক্ষা, পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁর কোনও পরিচয়  ছিল না। সংস্কৃত আর মাতৃভাষা ওড়িয়া, এই দুটি ভাষা ছাড়া আর কোনো ভাষা তিনি জানতেন না।

সংস্কৃতে তিনি ছিলেন অসাধারণ পারদর্শী। তাঁর জ্ঞান আহরণের উৎস ছিল রাজপরিবারের পুথিঘরে রক্ষিত তালপাতায় লেখা পুরোনো, জীর্ণ  পুথিগুলি। বহুকাল কেউ যেসব বইতে হাত দেবার প্রয়োজন মনে করেনি, সেগুলিই হয়ে উঠেছিল আগ্রাসী জ্ঞানলিপ্সু বালক চন্দ্রশেখরের পড়াশুনার প্রধান অবলম্বন।

মিতবাক্,মেধাবী, অক্লান্ত পরিশ্রমী,দশ বছরের বালকের কাছে এই পুথির ভান্ডার হয়ে উঠেছিল উচ্চতর জ্ঞানের উৎস। এই জ্ঞানের ভিত্তিতেই নিজের আগ্রহ,পরিশ্রম,  মেধা,কল্পনাশক্তি,স্থাপত্য আর প্রযুক্তিতে দক্ষতা নিয়ে হয়ে উঠলেন উনবিংশ শতাব্দির একজন শ্রেষ্ঠ  জ্যোতির্বিদ, গণিতজ্ঞ, ও যন্ত্র উদ্ভাবনের কারিগর। তিনিই ভারতের প্রাচীন ধারার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে দূরবীক্ষণ যন্ত্র না ব্যবহার করা শেষ জ্যোতির্বিদ ।    

ছেলেবেলায় বাড়িতে বসেই প্রাথমিক পাঠ নিয়েছিলেন গ্রামেরই এক পন্ডি্তের কাছে। সেই গুরুমশাইয়ের কাছেই সংস্কৃত অক্ষর পরিচিতি। ব্যাকরণ,স্মৃতি(লজিক), দর্শন(ফিলজফি), পুরাণ, কালিদাসের কাব্য রঘুবংশ, কুমারসম্ভব ইত্যাদিও পড়েছিলেন তাঁর কাছে।

গুরুর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে এরপর শুরু হয় নিজের পছন্দের পড়াশুনা। তিনি নিজে পড়তে শুরু করেন অন্যান্য সংস্কৃত কাব্য গ্রন্থসমুহ। সংস্কৃত মাধ্যমে  বিশাল সাহিত্যপাঠের ফলে ভাষার অপুর্ব  উৎকর্ষ দেখা যায়   তাঁর লেখায়।

ভাষাটাকে তৈরি করে নিয়ে এবার হাত বাড়ালেন নিজের প্রিয় বিষয় নক্ষত্রজগতের দিকে। রাজপরিবারের পুথিঘরে থাকা প্রাচীন  ভারতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আর্যভট্ট, বরাহমিহির, ব্রহ্মগুপ্ত, ভাস্করাচার্য প্রমুখের লেখা সিদ্ধান্ত গ্রন্থগুলোর (*সিদ্ধান্ত গ্রন্থ—উচ্চ শ্রেণীর যে কোনো জ্যোতিষীর গ্রন্থকেই হিন্দুরা সেকালে সিদ্ধান্ত গ্রন্থ নামে অভিহিত করতেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত মতগুলিই ‘সিদ্ধান্ত’ নামে পরিচিত ছিল।) দিকে নজর দিলেন তিনি। আগ্রাসী জ্ঞানতৃষ্ণা  নিয়ে পড়লেন ভাস্করাচার্যের লীলাবতী, বীজগণিত, আর্যভটের আর্যভটিয় ইত্যাদি অমূল্য গ্রন্থ। একক পাঠে, নিজের একাগ্রতায় প্রাচীন ভারতের ধ্রুপদী জ্যোতির্বিদ্যায় ও গণিতে অসাধারণ পান্ডিত্য অর্জন করলেন।

ছোটোবেলার তারা দেখার নেশা ততদিনে বদলে গেছে বৈজ্ঞানিক কৌতুহলে। দশ বছর বয়স থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর সচেতনভাবে মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণ। বালক চন্দ্রশেখর সামন্তর ‘মানমন্দির’ ছিল পাহাড়ঘেরা গন্ডগ্রামের  ঘন গাছপালার ফাঁক দিয়ে রাতের বেলা উকি দেওয়া জ্যোতিষ্কখচিত আকাশটুকু। ধারাবাহিকভাবে প্রাচীন ভারতের জ্যোতির্বিদদের রচিত পুথিগুলি পড়ার পাশাপাশিই চলতে লাগলো পঠিত সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে  মিলিয়ে রাতের আকাশের গ্রহ নক্ষত্রদের অবস্থান,উদয়,অস্ত,চলন, গতি, গ্রহণ,ইত্যাদি বিষয় খুঁটিয়ে নিরীক্ষণের  কাজ। নিজের তৈরি  একখন্ড দুমুখ খোলা বাঁশ ছিল তাঁর তারা দেখার যন্ত্র। ওই ছিল তাঁর দূরবীণ।         

  রাতের পর রাত জেগে, খালি চোখে, আর কখনো বাঁশের চোঙার দূরবীণ দিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে এক একটি নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করতেন। নোট রাখতেন তালপাতার খাতায়। যখন তাঁর পনেরো বছর বয়স, তিনি  লক্ষ করলেন প্রাচীন জ্যোতির্বিদদের রচিত  সিদ্ধান্ত গ্রন্থগুলোতে দেয়া কিছু নিয়ম অনুযায়ী তারাদের অবস্থান তাঁর নিজের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলছে না। একটি লম্বা বাঁশের লাঠির সাহায্যে তিনি বারবার নির্দিষ্ট তারাদের আপেক্ষিক দূরত্ব মাপতে শুরু  করলেন । রাতের পর রাত জেগে পরীক্ষা করেও প্রতিবারেই বিফল হলেন। কেন পূর্বজদের  সিদ্ধান্তগুলি নিজের পর্যবেক্ষণের ফলের সঙ্গে মিলছে না,এই বিভ্রান্তি  তাঁকে অস্থির করে তুলল।

এ পার্থক্যের অনেকগুলো সম্ভাব্য কারণ এসেছিল তাঁর মাথায়।

বছরের বিভিন্ন সময়ে এদের গতির আর অবস্থানের তারতম্য হাজার বছর আগে যা ছিল তার কিছু অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে। দ্বাদশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় ভাস্করাচার্যের পরের দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ভারতবর্ষের জ্যোতির্বিজ্ঞানে এ বিষয়ে কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি। দীর্ঘকাল ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চায় এক অন্ধকার যুগ চলেছিল। এই কারণে প্রায় হাজার বছরের পুরোন পুর্বতনদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর পর্যবেক্ষণের ফল না মিলতে পারে।

আবার এমনও হতে পারে যে সে সিদ্ধান্তগুলোতেগুলিতে কিছু ভ্রান্তি আছে নতুবা তাঁর নিজের দেখায়  কোন ত্রুটি থাকছে।

শেষের ত্রুটিটা সংশোধন করা তাঁর হাতে ছিল। তার জন্য প্রয়োজন কিছু যন্ত্রের। তিনি দ্বিতীয় ভাস্করাচার্যের লেখা কিছু যন্ত্রের বিবরণ পড়েছিলেন। নিজের কল্পনাশক্তি আর উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে  তৈরি করলেন কিছু যন্ত্র । সেই অজ পাড়াগায়ে এ কাজ করবার মতন এমন কোন দক্ষ কারিগর ছিল না যে নির্দেশমত যন্ত্রগুলি তৈরি করে দিতে পারে।

অতএব নিজেই চেষ্টা করে, নিজের পরিকল্পনামত দরকারি যন্ত্রগুল বানিয়ে নিলেন তিনি। বাঁশ, কাঠের টুকরো, মোটা কাঠি, তার, লাউয়ের শক্ত খোলা,ধাতুর বাটি এইসব দিয়ে তৈরি হল তাঁর যন্ত্রগুলো। সে’সব যন্ত্রের অনেকগুলিই কার্যকারিতায় সে’সময় পশ্চিমে জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চায় ব্যবহৃত যন্ত্রগুলির সমান মানের ছিল।

নিজের তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়ে মহাজাগতিক জ্যোতিঃপদার্থগুলিকে ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ আর বারংবার নিখুঁত মাপজোখ করবার কাজ শুরু করলেন তিনি। নিশ্চিত হবার পর দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণের ফলাফল নথিবদ্ধ করতে শুরু করলেন সতেরো বছর বয়স থেকে। চলল তেইশ বছর বয়স পর্যন্ত। পরীক্ষার ফলাফলে পূর্বতনদের যে  সিদ্ধান্তগুলো ভ্রান্ত মনে হচ্ছিল সেগুলি সংশোধন ও নতুন তথ্যের সংযোজন  করলেন। তেইশ বছর বয়স থেকে ‘পুথিবদ্ধ’ করতে শুরু করলেন নিজের পরীক্ষার ফলাফল।

২৫০০০ সংস্কৃত শ্লোক সম্বলিত, জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক পুথি-“সিদ্ধান্ত দর্পণ”, লেখা শেষ হল তাঁর চৌত্রিশ বছর বয়সে, ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে। সংস্কৃত ভাষার শ্লোকে, পদ্যছন্দে আর ওড়িয়া হরফে লিখলেন পুথিটি। সনাতন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের পুথির তালিকায় নবতম সংযোজন হল দুই  খন্ডে তালপাতাতে হাতে লেখা তাঁর এই পুথি। সেই পুথি ত্রিশ বছর ধরে অনাদৃত ,অমুদ্রিত হয়ে পড়ে রইল তাঁর পাঠগৃহে।     

অনেক পন্ডিতেরা তাঁকে বলেছেন ভারতের ‘টাইকো ব্রাহে’। কেন বলেছেন সেই কথা বলি।

স্পেনিয় জ্যোতির্বিদ টাইকো ব্রাহে ‘জিও-হেলিওসেন্ট্রিক’ (একই সঙ্গে পৃথিবী ও সুর্যকেন্দ্রিক) বিশ্বের কল্পনা করেছিলেন ও ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে সেই বিশ্বের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। আর  বিজ্ঞানী  কেপলার, ব্রাহের মৃত্যুর পরে ব্রাহের  মডেল ও ব্রাহের সংগৃহীত ও একত্রিত মূল্যবান তথ্যগুলির সদ্বব্যবহার করে, কোপার্নিকাসের ‘হেলিওসেন্ট্রিক’(সূর্য কেন্দ্রিক) বিশ্বের ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, গ্রহদের সঠিক গতিপথগুলি চিহ্নিত করেছিলেন। এ ব্যাপারে ‘টাইকো ব্রাহে’ কেপলারের সহায়ক হয়েছিলেন।

ব্রাহে যে বিশ্বের মডেল তৈরি করেছিলেন হুবহু সেই মডেলই সৃষ্টি করেছিলেন, এই সংস্কৃত পন্ডিত, জ্যোতির্বিদ চন্দ্রশেখর সামন্ত। এঁদের দু’জনের করা বিশ্বের মডেলে যদি  একটি কল্পিত কক্ষপথের ওপর ‘পৃথিবী’কে স্থাপন করা যায়, তবে সেটি ‘হেলিওসেন্ট্রিক’ বা সৌরকেন্দ্রিক মডেলই হয়ে দাঁড়ায়। এখানেই টাইকো  ব্রাহের সঙ্গে চন্দ্রশেখরের  মিল। ধনী বিজ্ঞানী ‘টাইকো ব্রাহে’ আর্থসামাজিক সুবিধার মধ্যে থেকে, রাজসমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে কাজটি সম্ভব করেছিলেন। কোন আর্থিক সমর্থন,রাজসহায়তা, বা উৎকৃষ্ট যন্ত্রপাতি ছাড়াই সেই কাজটি করে ছিলেন পাঠানি  সামন্ত। এখানেই  টাইকো ব্রাহের সাথে সামন্ত চন্দ্রশেখরের তফাৎ।   

তাঁর তৈরি করা যন্ত্রগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। সময় মাপার যন্ত্র, সবরকম  মাপজোকের উপযুক্ত যন্ত্র(ভার্সেটাইল যন্ত্র),আর আর্মিলারি স্ফিয়ার।  

আর্মিলারি স্ফিয়ার বা ‘গোলযন্ত্র’-

smaron03 (Medium)

অনেকটা এখনকার গ্লোবের মত দেখতে, মহা জাগতিক গোলকের (সেলেশিয়াল স্ফিয়ার) একটি ত্রিমাত্রিক মডেল। কোপারনিকাসদের ব্যবহৃত দামি যন্ত্রের মত ছিল না, কিন্তু কার্যকারিতায় কম ছিল না। তাঁর যন্ত্রটিতে ছিল পৃথিবীর অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও অন্যান্য গ্রহ গতিপথ হিসাবে চিহ্নিত নানা বৃত্ত, রবিপথ বা জোডিয়াক রিং। ছাত্রদের বোঝাবার জন্য তিনি এটি ব্যবহার করতেন।  


চাপযন্ত্র-

smaron04 (Medium)

এটি আসলে একটি অর্ধবৃত্তাকার ডায়াল,যাতে ধ্রুবতারার (পোলস্টার) দিক নির্দেশক একটি সুচালো দন্ড(পয়েন্টার)থাকে । এই যন্ত্র একদিনের অর্ধাংশের পরিমাপ করতে ব্যবহৃত  হয়।


গোলার্ধ যন্ত্র-

একটি অর্ধগোলাকার (হেমিস্ফেরিকাল) সূর্যঘড়ি

স্বয়ম্ভূ যন্ত্র-

smaron05 (Medium)জলঘড়ি।


চক্রযন্ত্র-

smaron06 (Medium)সারা দিনের সময় মাপার যন্ত্র,যাতে সময় সূচক মাপ নেবার জন্য  মাত্রাঙ্কিত(গ্রাজুয়েটেড) ডায়াল থাকে,ডায়ালের মাঝখানে একটি স্থির দন্ড লাগান থাকে।


মানযন্ত্র-

smaron07 (Medium)এটি সব রকম মাপজোখের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহা্রের যন্ত্র। শঙ্কুর মতই ব্যবহার করা যায় মানযন্ত্রটি।  দুটি দন্ড দিয়ে তৈরি ‘টি’ আকারের একটি যন্ত্র। একটি দন্ডের মাথায় একটি  খাঁজকাটা দন্ড লাগানো থাকে। আনুভূমিক(মাটির সঙ্গে সমান্তরাল) অবস্থায় রেখে দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোয় সৃষ্ট এই খাঁজগুলির ছায়ার দৈর্ঘ্যের মাপ নিয়ে কোনো জায়গার দূরত্ব, সেখানকার স্থানীয় সময়, দর্শকের অবস্থানের অক্ষাংশ, স্থানের উচ্চতা, সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থান (জেনিথ) এবং সূর্যের অবনতি (ডিক্লাইনেশন) এবং রবিপথে (জোডিয়াক বেল্টে)  সূর্যের অবস্থান নির্ণয় করা যায়।  তাঁর নিজের তৈরি মৌলিক যন্ত্র এই ‘মানযন্ত্র’ ছিল সবচেয়ে উপযোগী।

তাঁর পান্ডিত্যের পরিচয় আধুনিক সমাজের সামনে আসার পরে, তাঁর পান্ডিত্যের পরীক্ষা নেবার জন্য পুরীর রাজা আর কটকের ব্রিটিশ কমিশনার মিঃ কুক অনুরোধ করেছিলেন নিকটবর্তী সপ্তশয্যা পাহাড়ের উচ্চতা মেপে দেখাতে। সঙ্গে সঙ্গে ‘মানযন্ত্রটি’  হাতে ধরে তিনি সেই পাহাড়ের উচ্চতা নিখুঁতভাবে মেপে দিয়েছিলেন। ‘মঞ্জুষা’ নামক আর এক সামন্তরাজ্যের রাজার অনুরোধে তিনি মহেন্দ্রগিরি পর্বতের উচ্চতাও সঠিক নির্ণয় করে দিয়েছিলেন। এই মাপের ফলাফল সঠিক ও যুক্তিযুক্ত কিনা তা মাদ্রাজ সরকার মেপে দেখেছিলেন। সমুদ্রে জাহাজের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পশ্চিমের নাবিকেরা যে নটিকাল আলমানাক (পঞ্জিকা বা সারণী) ব্যবহার করত,তাতে বিভিন্ন নির্দেশক নক্ষত্রের অবস্থান দেওয়া থাকত। সামন্ত চন্দ্রশেখর ‘গোলার্ধ যন্ত্র’ দিয়ে নির্দেশক নক্ষত্রর যে স্থান নির্দেশ করেছিলেন তা আধুনিক বিজ্ঞানের সহায়তায়  নির্মিত ইউরোপীয়ান ‘নটিকাল আলমানাকের’ সঙ্গে  মিলে গিয়েছিল।

প্রতি সৌর বছরে সূর্য, চাঁদ আর গ্রহদের কক্ষপথে পরিক্রমণের দিনসংখ্যা লিখে তিনি যে সারণী তৈরি  করেছিলেন, সেই সারণীর দিনসংখ্যার সঙ্গে, তাঁর পূর্বজদের দেওয়া পরিসংখ্যান অপেক্ষা ইউরোপীয়ান জ্যোতির্বিদদের দেওয়া পরিসংখ্যান আর আধুনিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে বেশি মিল লক্ষিত হয়।

তাঁর কাজের মধ্যে আরেকটি গুরত্বপূর্ণ কাজ ছিল চন্দ্র ও সুর্যের  কৌণিক পরিলম্বন(প্যারালাক্স)এর  পরিমাপ সঠিকভাবে নির্ধারণ। এই পরিমাপের উপর নির্ভর করে গ্রহণের সঠিক সময় নির্ধারণ করা সহজ হয়েছিল। কল্পিত মহাজাগতিক গোলক বা সেলেশিয়াল স্ফিয়ারে  নিজ নিজ কক্ষপথে গ্রহনক্ষত্রদের অবনমনের (টিল্টেড অবস্থিতি) মানও তিনি নির্ণয় করেছিলেন। জ্যোতিষে সঠিক গণিতজ্ঞান সবার আগে প্রয়োজন, আর এ বিষয়ে তাঁর দক্ষতাও ভাস্করাচার্যের থেকে কিছু কম ছিল না। গ্রহণ নিয়ে তাঁর গণিতভিত্তিক ভবিষ্যবচন(প্রেডিকশন) প্রতিবারেই মিলেছিল।

১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে শুক্রগ্রহের কারণে একটা সূর্যগ্রহণ নিয়ে সারা ভারতে একসময় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে হইহই  পড়ে গিয়েছিল। যন্ত্রপাতি সহযোগে  সেই গ্রহণ দেখার ব্যবস্থা হয়েছিল ভারতের নানা জায়গায়। সেসব  ব্যাপারে তিনি কিছু না জানলেও এই গ্রহণটি যে ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ই মার্চ ঘটবে সেকথা তিনি  গণনা করে আগেই লিখে রেখেছিলেন ও নিজেও প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি গাণিতিক জ্ঞানের প্রয়োগে গ্রহণের বহু পূর্বেই  লিখেছিলেন যে, ওইদিন শুক্র ও সূর্যের বিম্বের অনুপাত হবে ১/৩২। বাস্তবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে মেপে দেখা এই অনুপাতও হয়েছিল, তাঁর লিখিত অনুপাতের কাছাকাছি। সুর্যের বিম্ব(কৌণিক দুরত্ব)৩২ মিনিট ২৯ সেকেণ্ড,আর  শুক্রের বিম্ব ছিল ১মিনিট  ৩০ সেকেন্ড। দুটি অনুপাতে তফাৎ ছিল সামান্যই।   

চন্দ্রের দ্রুতগতি, বিভিন্ন সময়ের গতির গড় পার্থক্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কিছু ভ্রান্তি ছিল,যে কারণে চন্দ্রের সঠিক দ্রাঘিমা নির্ণয় সম্ভব হচ্ছিল না। সেগুলি তিনি সংশোধন করেছিলেন ও সঠিক দ্রাঘিমা  নির্ণয় করেছিলেন। সেটি করেছিলেন নিজের আবিষ্কৃত তুঙ্গভদ্র, পাক্ষিক আর দিগংশ নামে তিনটি সূত্রের সাহায্যে।

ভারতীয় জ্যোতির্বিদদের মধ্যে তিনিই একমাত্র সে কাজ করেছিলেন। আর এই ফলাফলের ভিত্তিতে ভারতীয় পঞ্জিকাতে অনেক সংস্কার আনা সম্ভব হয়েছিল। ভারতে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান চান্দ্রমাস,চান্দ্রতিথি মেনেই হয়ে থাকে। তাই চান্দ্র তিথি নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে যে মতপার্থক্যগুলি ছিল, যেগুলির জন্য বিভিন্ন পঞ্জিকার তিথির সময়ের ফারাক হত, সেগুলি দূর করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। পুরীতে কঠোরভাবে পঞ্জিকা মেনেই সমস্ত উৎসব নিষ্ঠার  সঙ্গে  পালিত হয়। পুরীর মন্দিরের মাদলাপঞ্জীর  সংস্কার হয়নি বহুদিন। পুরীতে তখন সামন্ত চন্দ্রশেখর পান্ডিত্যের বিশেষ পরিচিতি ছিল না। কিন্তু তাঁর গণিতনির্ভর পদ্ধতিতে নির্ণীত তিথি  নক্ষত্রের অবস্থানের সঠিক ফলের ভিত্তিতে তৈরি পঞ্জিকা ব্যবহৃত হত পুরীর মন্দিরে। ‘কৌতুকপঞ্জী’ নামে এই পঞ্জিকা অংশটি তিনি  যোগ  করেছিলেন তাঁর পুথি ‘সিদ্ধান্ত দর্পণের’ শেষভাগে ।     

প্রচারবিমুখ মানুষটির দুই ছাত্রের একজন, কৌতুকপঞ্জিকা অনুসারে প্রতি বছর বাংলাভাষায় একটি পঞ্জিকা প্রকাশ করতেন। আর এক ছাত্র ওড়িয়া  ভাষায় একটি করে পঞ্জিকা প্রকাশ করতেন উড়িষ্যাতে। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে যে পঞ্জিকা ওড়িয়া ভাষায় ছাপা হয়েছিল সেই ওড়িয়া পত্রিকা অনুসারে পুরীর মন্দিরের সমস্ত পূজা-পার্বণ, অনুষ্ঠান চালু হয়েছিল, উড়িষ্যার সর্বত্রই এই পত্রিকা অনুসৃত হত।

নিঃশব্দ পদচারণে, অনাদৃত,অপরিচিত এই বিজ্ঞানীর কাজ পৌঁছে গিয়েছিল সমাজের কাছে। সম্পূর্ণ হিন্দুমতে, হিন্দু পন্ডিতের তৈরি  পঞ্জিকা মেনে নিয়েছিলেন পুরীর রক্ষণশীল পন্ডিত আর পুরোহিতেরা। এভাবেই তিনি সর্বসমক্ষে চলে এলেন নিজের  অজান্তে।

প্রাচীন ভারতের অতুল ঐশ্বর্যময় জ্যোতির্বিদ্যার যে অবশেষ তখনও টিকে ছিল পাহাড়,জঙ্গল দিয়ে ঘেরা উড়িষ্যার এক প্রত্যন্ত জনপদে তাকে বিশ্বের দরবারে পেশ করলেন রায় বাহাদূর যোগেশ চন্দ্র রায় বিদ্যানিধি। বিশ্বের জ্যোতির্বিদদের কাছে একজন শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসাবে চন্দ্রশেখর সামন্তের যে খ্যাতি, সেটি সম্ভব  হয়েছে বাংলার এই বিদ্যোৎসাহী অধ্যাপকের চেষ্টায়।

যোগেশচন্দ্র ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে কটকের র‍্যাভেনশ্‌ কলেজে অধ্যাপনা করছিলেন। সেই কলেজেই তিনি তাঁর বিজ্ঞানচর্চার আর ভারতবিদ্যাচর্চায়(ইন্ডোলোজি) নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। সে সময়ে কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ  পন্ডিত মহেশচন্দ্র ন্যায়রত্ন পঞ্জিকা সংস্কার বিষয়ে আলোচনার জন্য  সামন্ত চন্দ্রশেখরের সঙ্গে দেখা   করতে উড়িষ্যায় যান। সঙ্গে নিয়েছিলেন যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধিকে। যোগেশচন্দ্র রায় আপাতসাধারণ এই জ্যোতির্বিজ্ঞানীকে দেখে প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও চন্দ্রশেখর সামন্তর পান্ডিত্য, গবেষণার মৌলিকত্ব আর তাঁর লেখা পুথিটির বিষয়বস্তুর বিশালতা  দেখে বিস্মিত হয়ে যান। তাঁর কাজের যোগ্য মর্যাদা দিতে বদ্ধপরিকর হন।

অধ্যাপক যোগেশচন্দ্রের  একান্ত চেষ্টা আর তত্ত্বাবধানে চন্দ্রশেখর সামন্তের অমূল্য পুথিটি দিনের আলো দেখতে পায়, মুদ্রিত হয়, সর্বসমক্ষে আসে তাঁর  অভাবনীয় কৃতিত্ব।  অধ্যাপক যোগেশচন্দ্র রায় প্রথমে  পুথিটির সংস্কৃত হরফে তর্জমা করান। তারপরে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে শুরু করেন ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে।

পাঁচ বছরের মাথায়, ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে, কলকাতার একটি মুদ্রণ সংস্থা থেকে পুথিটি মুদ্রিত হয়। পুথির শুরুতে ষাট পৃষ্ঠা জুড়ে ভূমিকা লিখেছিলেন যোগেশচন্দ্র। ভূমিকাতেই তিনি  চন্দ্রশেখরের  জীবনী ও কৃতিত্ব বর্ণনা করেছিলেন হৃদয়গ্রাহী  ভাষায়। সেখানেই তিনি দুজনের কাজের প্রেক্ষিতের তুলনামূলক আলোচনা করে ‘টাইকো  ব্রাহের’  ওপরে স্থান দিয়েছিলেন ‘সামন্ত চন্দ্রশেখর’কে। এই পুথি মুদ্রণের জন্য সম্পূর্ণ অর্থের যোগান দিয়েছিলেন উড়িষ্যার  দুটি সামন্তরাজ্য-ময়ূরভঞ্জ ও আত্তমালিক-এর  রাজারা।

পঞ্জিকাসংস্কারের সূত্রে সামন্ত চন্দ্রশেখরের নাম ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের গোচরে আসে। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে সম্মানিত করতে চান ও ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে কটকে একটি স্পেশাল কনভোকেশন উৎসবের আয়োজন করে তাঁকে ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি দান করেন।  

বিখ্যাত ব্রিটিশ জার্নাল, ‘নেচার’ পত্রিকা ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ সংখ্যায়, ও আমেরিকান জার্নাল ‘নলেজ’পত্রিকার ডিসেম্বর-জানুয়ারী ১৮৯৯,সংখ্যায় তাঁর কাজের ভূয়সী প্রংশসা করে। আমেরিকান জার্নাল পত্রিকাও তাঁকে ‘টাইকো ব্রাহে’র ওপরে স্থান দেয়।

তাঁর জন্ম ও মৃত্যু  দুটি দিন নিয়েই দ্বৈতমত আছে। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী দিনটি ছিল ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই ডিসেম্বর। যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধির লেখা অনুসারে তাঁর জন্মের তারিখটি ছিল ১১ই জানুয়ারি, ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দ। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১১ই জুন, মতান্তরে ১৩ই জুন, ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে। পারিবারিক সুত্রে জানা যায় যে,  তিনি গণনা করে নিজের মৃত্যুর তারিখ ও সময়টি জানতে পেরেছিলেন। কারণ তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল অন্তিমকালে পুরীতে- পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে থাকার। সেই নির্দিষ্ট দিনের (মৃত্যুর) ১৬দিন আগে, পুত্র গদাধরের সঙ্গে পুরীতে  চলে যান। সেখানে সকল  মন্দিরের দেবতাদের পূজারতি করেন। তারপর মন্দিরের কাছাকাছি মার্কন্ড শাহিতে, রাজার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। এখান থেকে প্রতিদিন মন্দিরের নীলচক্রটি দেখতে পেতেন, সেইজন্যই সেখানে থাকতেন।

সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তাঁর সামান্য জ্বর হয়। বিখ্যাত কবিরাজের কোনও ওষুধেই কাজ হয়নি। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায় যে,নিজের গণনা করা দিনেই নাকি তাঁর দেহান্ত হয়েছিল ।

সরকার তাঁর নামে ডাকটিকিট বের করেছেন। উড়িষ্যার একমাত্র তারামন্ডলটি স্থাপিত হয়েছে ভুবনেশ্বরে, তাঁরই নামে। ‘সামন্ত চন্দ্রশেখর অ্যামেচার অ্যাস্ট্রোনমার্স অ্যাসোসিয়েশন’প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খন্ডপাড়া ও ভুবনেশ্বরে তাঁর নামে স্মৃতিপরিষদ স্থাপিত হয়েছে। উড়িষ্যা সরকার পুরীতে তাঁর নামে ‘সামন্ত চন্দ্রশেখর অটনোমাস কলেজ’ নামে সরকারী মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেছে। উৎকলবাসী তাঁদের দেশের এই উজ্জ্বল মানুষটির নাম অক্ষয় রাখতে নানা জায়গায় তাঁর মূর্তি স্থাপন করেছে।

ভুবনেশ্বর গেলে সিটিসেন্টারের কাছে  পাঠানি সামন্ত প্ল্যানেটরিয়াম দেখে আসতে ভুলো না যেন তোমরা।। ভুলো না তাঁর মূর্তিতে প্রণাম করে আসতে। আসল ঠাকুরদেবতা তো এই মানুষরাই, তাই না?       

smaron01

স্মরণীয় যাঁরা আগের সব পর্ব একত্রে