স্মরণীয় যাঁরা বাস্তব গোয়েন্দা পঞ্চানন ঘোষাল নীলাদ্রি মুখার্জি বসন্ত ২০১৯

পঞ্চানন ঘোষাল

নীলাদ্রি মুখার্জি

তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখছেন, একবার তিনি তাঁর এক পাড়াতুতো দাদার সঙ্গে গিয়েছিলেন পুলিশের এক বড়বাবুর সঙ্গে দেখা করতে। তবে পঞ্চাননবাবুর পেশার প্রতি কোন আগ্রহ তারাদাস বাবুর ছিল না, তবে দেখা করার আগ্রহ জন্মানোর যথেষ্ট কারণ ছিল কেন না শুধুমাত্র পুলিশ অফিসার নয়, পঞ্চানন ঘোষাল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন একজন বিখ্যাত অপরাধ বিজ্ঞানের লেখক এবং রহস্য রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক হিসেবে। এবং আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এটা ভাবতে অবাক লাগে যে স্বয়ং তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চানন ঘোষাল মহাশয়ের একজন গুনমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন।

পাঠকদের মনে হতে পারে যে বাস্তব গোয়েন্দা সিরিজে হঠাৎ পঞ্চানন ঘোষাল লোকটি কেন! কথা হচ্ছিলো আধুনিক সময়ের বাস্তবের গোয়েন্দাদের নিয়ে ,তা হঠাৎ করে একজন থ্রিলার লেখক বা রহস্য-রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিকের কথা উঠলো কেন? মানলাম তিনি পুলিশ কিন্তু তাঁর জন্যে গোয়েন্দাদের দলে তাকে ভেরানোই বা কেন? সমস্ত প্রশ্নের উত্তরই ক্রমশ প্রকাশ্য তাঁর চেয়ে বড় আগে পড়ে নেওয়া যাক শ্রদ্ধেয় তারাদাস বাবু কি লিখে গেছেন,পঞ্চাননবাবু সম্পর্কে।

তারাদাস বাবুর বয়স তখন  বাইশ কি তেইশ, পরম উৎসাহে  নিজের পাড়াতুতো দাদা কে নিয়ে গিয়ে পৌছলেন পঞ্চানন বাবুর কাছে। এ কথা সে কথা বলার পর সেই পাড়াতুতো দাদাটি তারাদাসবাবুর বংশপরিচয় জানালেন পঞ্চানন বাবুকে‌। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শুনে পঞ্চানন বাবু খানিকটা গম্ভীর হয়ে গেলেন,তাঁরপর বললেন, ‘তুমি কি জানো তোমার বাবাকে একবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল? কোন থানা আমার ঠিক খেয়াল নেই তবে সম্ভবত ধর্মতলা বা এন্টালী থানা এলাকার কোন জায়গায়!’

পঞ্চাননবাবুর একথা শুনে তারাদাস বাবু স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। এ কি কথা বলছেন এই ভদ্রলোক!  তারাদাস বাবু যতটা শুনেছেন বিভূতিভূষণ অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন এবং থানা পুলিশের সঙ্গে দূর-দূরান্তেও তাঁর কোন ধরনের কোনরূপ সম্পর্ক থাকার কথা নয়। তারাদাসবাবু পঞ্চানন বাবুর কথার তীব্র প্রতিবাদ করে বললেন, “এ-ধরনের কোন কাজ আমার বাবা কখনও করতে পারেন না যাতে পুলিশ তো দূরের কথা তাকে কখনো উকিলের বাড়ির ছায়াও মাড়াতে হয়।”

তরুণ তারাদাস বাবুর কথা শুনে স্মিত হাসলেন পঞ্চানন বাবু। মুখে বললেন, “পুলিশের পুরনো রেকর্ড ঘাঁটলে হয়তো এখনো সেই ঘটনার কথা খুঁজে পাওয়া যাবে তবে যেহেতু সেদিনের ঘটনাটা একটু অন্যরকম ছিল,তাই তোমার সেটা জানা প্রয়োজন।”

পঞ্চাননবাবুর কথা শুনে খুব একটা প্রীত হলেন না তারাদাসবাবু, তবুও পুরো ঘটনাটা শোনার লোভ সামলাতে পারলেন না তিনি এবং তাঁর দাদা,কাজেই পুরো ঘটনাটা জানাবার জন্য পঞ্চানন বাবুকে অনুরোধ করলেন।

খানিক অনুরোধ-উপরোধ এরপর পঞ্চানন বাবু পুরো বিষয়টা তারাদাস বাবুদের কে খুলে বলতে রাজি হলেন। যে ঘটনাটা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তারাদাস বাবুদের জানালেন সেই ঘটনাটা কোন সিনেমার গল্পের থেকে কম নয়।

ঘটনাটা বেশ কয়েক বছর আগেকার কাজেই থানার নামটাও পঞ্চাননবাবু ঠিক মনে করে বলতে পারলেন না। তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে থানার বড়বাবু তাঁর রোজকার ডিউটি টহল সেরে লক আপ এর সামনে এসে লক আপ অফিসারকে বললেন সারাদিন লকআপে যে লোকজন বন্দি হয়ে আছে তাদের তাঁর সামনে এনে হাজির করতে।

ছিঁচকে চোর ,পকেটমার এবং আরো অন্য সমাজবিরোধীর সঙ্গে বড়বাবু লক্ষ করলেন যে একটি ভদ্রলোক সেই ভিড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। খানিকটা অবাকই হলেন বড়বাবু, কেননা এই ধরনের সভ্য ভদ্র পোশাক পরিচ্ছদ পরিহিত কোন ভদ্রলোক লকআপে কেনই বা ভর্তি হবে !

ভদ্রলোক থেকে আলাদা করে ডেকে আনলেন থানার বড়বাবু এবং ভদ্রলোকের লকআপে আগমনের কারণ জেনে বিস্মিত হওয়ার থেকে বিরক্ত হলেন বেশি কেন না ভদ্রলোকের অপরাধ হল ভদ্রলোক থানার দেওয়ালে সর্বসমক্ষে প্রস্রাব করেছিলেন।

বড়বাবু ঝাঁঝিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি তো বড্ড বেআক্কেলে লোক মশাই! পোশাক আশাক দেখে তো ভদ্রলোক বলেই মনে হয়! তা খামোখা থানার দেওয়ালে সর্বসমক্ষে প্রস্রাব করতে গেলেন কেন?”

কাঁচুমাচু মুখ করে ভদ্রলোক জানালেন, “বড় ভুল হয়ে গেছে স্যার! আসলে এত জোর পেয়ে গেছিল যে আর থাকতে পারিনি। আর কিছুক্ষণ চাপলে কাপড় চোপড়ে হয়ে একটা যাচ্ছেতাই ব্যাপার হত!”

“কী করা হয় আপনার?”

এই প্রশ্নের উত্তরে  ভদ্রলোক ধর্মতলার কাছাকাছি একটি স্কুলের নাম করে বললেন, “আজ্ঞে ওখানে শিক্ষকতা করি আর কি!”

ভদ্রলোকের কর্ম পরিচয় শুরে আরও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন থানার বড়বাবু। দাঁত খিঁচিয়ে বললেন, “আপনি এই শিক্ষকতা করেন! ছেলে মেয়েদের এইসব শেখান!”

বড়বাবুর রূপ দেখে প্রমাদ গুনলেন ভদ্রলোক। তিনি পরিষ্কার বুঝতে পারলেন যে তিনি যে অপরাধ করেছেন তাঁর জন্য এই অফিসারটি তাকে কোর্টে চালান না করে ছাড়বেন না। শেষমেষ মরিয়া হয়ে উঠে বললেন, “শিক্ষকতা ছাড়াও একটু লেখালেখির কাজও করি আরকি। গল্প উপন্যাস এইসব লিখি মাঝেসাঝে।”

এবার যেন খানিকটা নরম হলেন থানার বড়বাবু। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, “তা কী উপন্যাস লিখেছেন শুনি! একটা নাম বলুন তো?”

ভদ্রলোক বিনয়ের সঙ্গে জানালেন, “’আপনি নাম শুনেছেন কি না সেটা তো বলতে পারব না তবে পথের পাঁচালী উপন্যাসটি আমার লেখা।”

উপন্যাসের নাম শুনে বড়বাবু তেড়ে উঠে এই মারেন কী সেই মারেন ভদ্রলোককে।

“মশকরা করার আর জায়গা পাননি! বিভূতিবাবুর ওই লেখাকে নিয়ে আপনার এই কথা বলার স্পর্ধা হয় কী করে! আপনি লিখেছেন পথের পাঁচালী এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?”

উত্তেজিত হলেন না ভদ্রলোক। শান্ত স্বরে বললেন, “আপনি হয়তো খেয়াল করেননি যে আমার নামটা আপনাকে বলেছিলাম; আমার নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।”

স্তম্ভিত হয়ে গেলেন থানার বড়বাবু। নতমস্তকে কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, “মুতুন,মুতুন, যত খুশি মুতুন, আপনি মুতলে এই থানাটা শুদ্ধ হয়ে যাবে।”

পুরো ঘটনাটা শোনার পর স্তম্ভিত হয়ে গেলেন তারাদাসবাবু। প্রথমে তো কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইছিলেন না। বরং বেশ অবিশ্বাসের সুরে পঞ্চানন বাবুকে বললেন, “আমার বাবা এ-রকম করতেই পারেন না! এ-রকম কুরুচিশীলতাঁর পরিচয় আমার বাবা কখনোই দিতে পারেন না বলেই আমার মনে হয়।”

অফিসারটির ভদ্রলোককে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে কোথাও একটা গোলমাল হয়েছিল এবং তা না হলে ও হয়ত পুলিশ রেকর্ডের ঘটনাটা নথিভুক্তিকরণের সময় কিছু একটা গোলযোগ হয়েছিল‌।”

পঞ্চানন বাবু হেসে বললেন, “না কোথাও কোন ভুল হয়নি। সে যেমন পুলিশের নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্র গোলযোগ হয়নি তেমনি সেদিনের থানার বড়বাবুটিরও তাকে চিনতে কোন সমস্যা হয়নি তাঁর কারণ সেদিনের থানার বড়বাবুটি ছিলেন আর অন্য কেউ নয় স্বয়ং আমি।”

এরকমই সোজাসাপটা মানুষ ছিলেন পঞ্চানন ঘোষাল। উনিশশো সাত সালে নৈহাটির মাদ্রাল গ্রামে এক অভিজাত জমিদার বংশে পঞ্চানন ঘোষালের জন্ম। শোনা যায় স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পঞ্চাননবাবুর দাদুর কাছ থেকে ইংরেজি শিক্ষা নিতেন এবং ঘটনাচক্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন নৈহাটিরই বাসিন্দা। এও কথিত আছে যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ইন্দিরা উপন্যাস,পঞ্চানন ঘোষাল যেখানে থাকতেন সেই এলাকার পটভূমিকার ওপর ভিত্তি করে রচনা করা।

পঞ্চানন ঘোষাল-এর পুলিশে ভর্তি হওয়ার ঘটনাটি বেশ চমকপ্রদ। তিনি বন্ধুর সঙ্গে হুগলিতে গিয়েছিলেন নজরুলের সঙ্গে দেখা করতে, কিন্তু সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন করা ছিল ব্রিটিশ পুলিশের গুপ্তচর। তারা পঞ্চাননবাবুকে ধরে নিয়ে আসে পুলিশ স্টেশনে। কিন্তু যেহেতু অভিজাত পরিবারের সন্তান ছিলেন পঞ্চাননবাবু তাই তাঁকে জেলে না ভরে তাঁর পরিবারকে খবর দেন তৎকালীন পুলিশের বড়বাবু। পরামর্শ দেন পঞ্চাননবাবুকে পুলিশে ভর্তি করে দেয়ার জন্য। সেই শুরু এবং এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুকুটে যুক্ত হয়েছে একের পর এক পালক।

পুলিশ অফিসার হয়ে চাকরি জীবন শুরু করার প‍রে হোমিসাইড শাখা,দুর্নীতি দমন শাখা ইত্যাদি বিভিন্ন দপ্তরে দক্ষতাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন বহু বছর এবং শেষমেশ কমিশনার পদে থাকাকালীন অবসর গ্রহণ করেন।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি যেমন সুনিপুণ তদন্তকারী ছিলেন তাঁর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের। পঞ্চাননবাবু তাঁর বাসস্থান মাদ্রাল গ্রামে মেয়েদের জন্য একটি আবাসিক স্কুলের স্থাপনা করেছিলেন। এছাড়াও মাদ্রাল অঞ্চলের বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং লাইব্রেরির পত্তনও করেন তিনি। তবে তাঁর সমস্ত কার্যকলাপের মধ্যে যে কাজটি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা হল সোনাগাছি অঞ্চলে দেহপসারিনীদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য তৈরি করা একটি বিদ্যালয়। এছাড়াও গরিব মানুষদের জন্য তৈরি করা কৃষিভিত্তিক খামারবাড়ি ও কারিগরি শিক্ষার বিদ্যালয় স্থাপনা করার দ্বারা সমাজে নিজের কীর্তি স্থাপন করে গেছেন।

পঞ্চানন বাবু পড়াশোনার জীবন ছিল যথেষ্ট ঈর্ষণীয়, প্রাণীবিদ্যা স্নাতকোত্তর পাশ করার পরে পঞ্চাননবাবু ক্রিমিনাল সাইকোলজিতে ডক্টরেট উপাধি প্রাপ্ত করেন‌। পঞ্চাননবাবু ছিলেন ভারতবর্ষে প্রথম অপরাধ বিজ্ঞানের ডক্টরেট। সেই সূত্রে বলা যায় যে তিনি প্রথম ভারতের অপরাধ বিজ্ঞানী ছিলেন।

তবে পঞ্চাননবাবু শুধুমাত্র যে প্রাণিবিদ্যা বা অপরাধ বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন তা নয়। তিনি একজন উচ্চমানের সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর প্রথম লেখা কল্লোল পত্রিকায়  একটি সামাজিক প্রবন্ধ যেটা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও চোখ এড়িয়ে যায়নি।

তখন জোড়াসাঁকো থানাতে অফিসার হিসেবে নিযুক্ত পঞ্চাননবাবু এবং সবে তাঁর লেখা সামাজিক প্রবন্ধ বেরিয়েছে কল্লোল পত্রিকায়। এমন সময় এক দিন পঞ্চাননবাবু তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে গিয়ে হাজির হলেন ঠাকুরবাড়িতে। ঠাকুরবাড়িতে তখন সাহিত্যের আড্ডা বসেছে এবং আড্ডার মধ্যমণি হয়ে বসে রয়েছেন স্বয়ং কবিগুরু। পঞ্চাননবাবুর পরিচয় পাওয়ার পর কবিগুরু তাঁকে বললেন যে সামাজিক প্রবন্ধ সামাজিক লেখা লেখার জন্য তো আমিও আছি শরৎ ও আছে তুমি বরং যে বিষয়ে লোক সে বিষয়ে লেখালেখি করো না কেন! তাতে আমাদের সাহিত্য জগত সমৃদ্ধও হবে আর আমরা নতুন কিছু জানতে পারব।

সাহিত্য জগতে সেই পঞ্চাননবাবুর পথচলা শুরু। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক অসামান্য সৃষ্টি উপহার দিয়ে গেছেন আমাদের, সেটা প্রাণীবিদ্যার উপর লেখা বই হোক বা অপরাধ বিজ্ঞানের উপর লেখা বই বা নিজের পুলিশ জীবনে চাকুরিরত অবস্থায় মুখোমুখি হওয়া অভিজ্ঞতাঁর কথা বর্ণনা করা হোক না কেন!

‘পুলিশ বাহিনী’,’রক্তনদীর ধারা’, ‘আমি যখন পুলিশ ছিলাম’,’একটি অদ্ভুত মামলা’,’ অন্ধকারের’ দেশ ‘,’খুনে রাঙা রাত্রি’,এই সমস্ত লেখাগুলির মাধ্যমে আপামর পাঠককূলকে মুগ্ধ করে গেছেন তিনি। তিনি হয়ত ভারতবর্ষের একমাত্র অপরাধ বিজ্ঞানী। তিনি একাধারে পুলিশ তদন্তকারী সাহিত্যিক এবং সমাজসংস্কারক।

পুলিশ হিসেবে পঞ্চাননবাবু এতটাই দোর্দণ্ডপ্রতাপ ছিলেন যা আজকের দিনে বসে ভাবা প্রায় অসম্ভব। কলকাতা পুলিশের এই একজন অফিসারের ভয়ে বিহার উড়িষ্যা বাংলার সমস্ত কুখ্যাত দুষ্কৃতী এবং গুন্ডারা ভয়ে কাঁপত। এরকমই একজন গুন্ডার কথা শোনা যায় যার নাম হল খোকা গুন্ডা। পঞ্চাননবাবু অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই এই খোকা গুন্ডাকে বাগে আনতে পারছিলেন না। সে বহুদিন ধরে ফেরার, কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি খানাতল্লাশি করার পরেও তাঁর হদিশ পাচ্ছিলেন না পঞ্চাননবাবু।

শেষে একদিন ছদ্মবেশে গিয়ে হাজির হলেন বিহারের এক শহরে এবং স্টেশনেই মুখোমুখি হলেন খোকা গুণ্ডার সঙ্গে। দুজনের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বেধে গেল। পকেট থেকে ছোরা বার করে পঞ্চাননবাবুর বুকে বসিয়ে দিতে উদ্যত হলে কিছু লোকজন তাকে চেপে ধরায় সে ব্যর্থ হয়, কিন্তু এক পেল্লাই ঘুঁষি মেরে দেয় পঞ্চানন বাবুকে। মুখ ফেটে রক্তারক্তি। কিন্তু পঞ্চাননবাবুও ছাড়ার পাত্র নয়। শেষমেশ হার মানতে বাধ্য হয় খোকা গুন্ডা। মজার ব্যাপার হল যে শোনা যায় এই খোকা গুন্ডাই নাকি ফাঁসির সময় পঞ্চাননবাবুকে অনুরোধ করে গিয়েছিল যে তিনি যেন খোকা গুন্ডার কীর্তিকলাপ নিয়ে তাঁর নিজের বইতে লেখেন।

দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ডিআইজি হিসেবে অবসর নেন পঞ্চাননবাবু। তিনি তাঁর সারা জীবনের অপরাধ বিজ্ঞানের উপর করা কাজ দান করেছিলেন সরকারকে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে এই মহান ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তবে বহু বছর কেটে যাওয়ার পরও তাঁর মতন অপরাধবিজ্ঞানী এবং তদন্তকারী আজকের দিনে খুঁজে পাওয়া শুধু দুষ্করই নয় প্রায় অসম্ভব।

তথ্য ঋণ :আনন্দবাজার পত্রিকা,  প্রাক্তন আই পি এস অফিসার দেবাশিস ঘোষ এবং উইকিপিডিয়া

স্মরণীয় যাঁরা সব এপিসোড একত্রে

                            

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s