স্মরণীয় যাঁরা বাস্তব গোয়েন্দা চ্যাং আপানা নীলাদ্রি মুখার্জি বর্ষা ২০১৯

বাস্তব_গোয়েন্দা_চরিত্র ৩

চ্যাং আপানা

নীলাদ্রি মুখার্জি

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের নাম শুনলে প্রথমেই আমাদের মাথায় কী আসে? মধুচন্দ্রিমার গন্তব্য, ফেটে পড়া আগ্নেয়গিরি ছাড়াও মিস হাওয়া হাওয়াইকে মনে পড়ে না এমন দাবি চরম সাত্ত্বিক ব্যাক্তিও করতে পারবেন না। মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের সংযোগ চপ্পল থেকে নিয়ে টেনি শর্মার মাকুদা পর্যন্ত বিস্তৃত। মাকুদা কোথা থেকে এসেছিলেন মনে আছে নিশ্চয়ই? হনলুলু কিন্তু এই হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জেরই রাজধানী।

তা হাওয়াইয়ান ভাষায় এই হনলুলু শব্দের অর্থ হল ‘শান্ত বন্দর’। তবে এই নামকরণটি যে অনেকটা সেই আমাদের পদ্মলোচন নামকরণেরই রূপবিশেষ তা হনলুলুর ইতিহাস ঘাঁটলেই বোঝা যায়। এই দ্বীপপুঞ্জ মানুষের প্রথম পদার্পণের সময় থেকেই অশান্ত এবং রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে বারে বারে।

কথিত আছে যে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ইউরোপীয়দের পদার্পণ ঘটে ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের হাত ধরে। যদিও নথি ঘাঁটলে জানা যায় যে, প্রখ্যাত ব্রিটিশ অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন জেমস কুকের ১৭৭৮ খ্রীষ্টাব্দে এই দ্বীপপুঞ্জে আগমনের আগে অন্য কোন অভিযাত্রীদের এখানে আদৌ আগমন ঘটেছিল কিনা তার সম্পর্কে যথেষ্ট প্রামাণ্য তথ্যের অভাবে বিশেষজ্ঞরা যথেষ্ট সন্দিহান। যদিও স্প্যানিশ মহলের এক বড় অংশ বিশ্বাস করেন যে ক্যাপ্টেন জেমস কুকের আগমনের ও প্রায় দুশো বছর আগেই ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে নাগাদ রে লোপেজ দ্য ভিলালোবোস নামক স্প্যানিশ অভিযাত্রী এখানে এসেছিলেন।

এরপরের হাওয়াইয়ের ইতিহাসটা মোটামুটি বাকি ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর মতনই। প্রথমেই এসে আদি বাসিন্দাদের শাসকস্থানীয় লোকেদের হাত করে নিয়ে দলে দলে ইউরোপীয় এবং আমেরিকানরা ঢুকতে শুরু করে হাওয়াইতে। তাদের অত্যাচারে প্রায় নিশ্চিন্হ হয়ে পড়তে থাকে হাওয়াইয়ের আদি জনজাতিরা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থাবা বসায় প্রায় জনশুন্য এই দ্বীপপুঞ্জতেই এবং স্বল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ক্রিশ্চান শাসনের সূচনাও হয়ে যায় রাজা কামেহামেহাকে হাতের পুতুল বানিয়ে। 

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশতম রাজ্য হল এই হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, কিন্তু হাওয়াইয়ের ইতিহাস মার্কিনিদের পক্ষে মোটেই সুখপ্রদ নয়। অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে চীনের গুয়াংদং প্রদেশ থেকে প্রচুর চিনা শ্রমিকদের নিয়ে আসে এই মার্কিন ব্যবসায়ীরা এবং বেশ কিছু চৈনিক শ্রমিক ক্যাপ্টেন জেমস কুকের সঙ্গেও এই অঞ্চলে আসে। তবে তারা একলা আসেনি, তাদের সঙ্গে এসেছিল ছোঁয়াচে মারণব্যাধি কুষ্ঠ।

কুষ্ঠ রোগের মহামারী ছাড়াও আর একটি ঘটনা ঘটেছিল এই দ্বীপপুঞ্জে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তথা বিশ্ব রাজনীতিতে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। হনলুলু শহর থেকে অনতিদূরে পার্ল হারবার বন্দরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হানা দেয় জাপানি নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান। ১৯৪১ সালের ৭ ই ডিসেম্বরের এই হামলা ইতিহাসের পাতায় ‘Operation AI’ নামে কুখ্যাত। সেই দিন শুধুমাত্র মার্কিন সেনাবাহিনীর চারটে যুদ্ধজাহাজ আর একশো অষ্টআশিখানা যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়নি, রক্তক্ষয়ী সেই সংগ্রামে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় আড়াই সহস্রাধিক মানুষ এবং আহত হয়েছিলেন প্রায় দু’হাজার জন।

এবার বক্তব্য হল চ্যাং আপানা-র কথা বলতে গিয়ে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাস কপচানোর প্রয়োজনীয়তা কি আদৌ ছিল? হাওয়ই দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাস এর অবতারণা করার প্রয়োজন এই জন্যই তার কারণ একসময় যে আফিম দিয়ে মার্কিনীরা চীনা ব্যবসায়ীদের বশ করেছিল সেই আফিমই পরবর্তীকালে তাদের কাছে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে।হাওয়ই দ্বীপপুঞ্জে, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে মাঝামাঝি অবধি যেসকল অপরাধমূলক ঘটনা ঘটত তার মূলে ছিল আফিমের নেশা এবং সেই নেশার জন্য টাকা যোগাতে অবৈধ জুয় খেলার ব্যবসা। বলাই বাহুল্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হাওয়ই দ্বীপপুঞ্জে পুলিশ বাহিনী একেবারে নাজেহাল হয়ে পড়েছিল এই দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে, কেননা যুদ্ধের কারণে একদিকে যেমন দারিদ্র বাড়ছিল ঠিক তেমনি সহজাতভাবেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল অপরাধমূলক কাজকর্মের ঘটনা।

এবং ঠিক এই অস্থির সময়ের পটভূমিকাতেই হনুলুলু পুলিশ দপ্তরে আবির্ভাব ঘটে চ্যাং আপানার। সেই সময় সাদা চামড়ার মার্কিনিদের রমরমা ছিল হনুলুলু পুলিশ দপ্তর এবং তৎকালীন হনুলুলু পুলিশের সমস্ত উচ্চপদস্থ কর্তারাই ছিলেন মার্কিনী সাদা চামড়ার লোক। কিন্তু সংখ্যাগুরু চৈনিক অপরাধী রে শায়েস্তা করতে তারা মোটের উপর অক্ষম ছিলেন কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় চ্যাং আপানা দপ্তরে অংশগ্রহণ করার পরে।

হনলুলু  পুলিশে চ্যাং আপানার কীর্তিকলাপ জেনে নেওয়র আগে একবার তার ছোটবেলাতে এক ঝলক নজর বুলিয়ে নেওয় যাক। আপানার জন্ম 26 শে ডিসেম্বর 1871সালে হনলুলু কাউন্টির ওয়ইপিওতে। জাতিসূত্রে চৈনিক হলেও আপানার জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই কেটেছে হনলুলুতে। আপানার বয়স যখন তিন বছর তখন কয়েক বছরের জন্য নিজের পরিবারের সঙ্গে আপানা ফিরে যান চীনে, কিন্তু আবার দশ বছর বয়সে ফিরে আসেন ও ওয়ইপিওতে নিজের কাকার কাছে। মজার ব্যাপার হল পুলিশের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ গোয়েন্দা কিন্তু কোনদিন লিখতে বা পড়তে পাড়েননি, অথচ অনর্গল বলতে পারতেন হাওয়ইয়ান এবং ক্যান্টনীয় ভাষা। লিখতে পড়তে না জানলে কী হবে, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে শোনা খবরের কাগজের রিডিং তাকে ভাষাগুলি শিখতে সাহায্য করেছিল।

প্রথম জীবনে চ্যাং আপানা কাউবয় হিসেবে আঠারোশো একানব্বই থেকে তিন বছর কাজ করেছেন। হাওয়ইয়ান ভাষায় কাউবয়কে প্যানিওলা বলা হয় এবং এই প্যানিওলা  থাকাকালীনই চ্যাং বুল হুইপ চালাতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং তাঁর হাতের বুল হুইপই পরবর্তীকালে হনুলুলু দুষ্কৃতীদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এই বুল হুইপ  হল পশ্চিমী দেশে ব্যবহৃত এক ধরনের পাতলা চাবুক যা দৈর্ঘ্যে প্রায় আট ফুটের কাছাকাছি হয় এবং চরতে নিয়ে যাওয়র সময় গবাদি পশুদেরকে সংযত রাখতে সাহায্য করে। ওয়াইল্ড ওয়েস্ট সংক্রান্ত সিনেমাগুলোতে আমরা এই ধরনের চাবুকের ব্যবহার দেখতে পাই।

এবার প্রশ্ন হল, হঠাৎ করে গোয়েন্দার পরিচয় দিতে গিয়ে চাবুকের কথা উল্লেখ করলাম কেন! আসলে আমাদের বাঙালিদের একটা ধারণা রয়েছে যা হল গোয়েন্দা যদি হতে হয় তাকে ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব অধিকারী হতে হবে এবং  অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে সেরকম সক্ষম অথবা বলবান হওয়টা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু আমরা যে সময়ের কথা বলছি সেই সময় হনলুলু শহরে ডিটেকটিভ হতে গেলে একধারে যেমন প্রয়োজন ছিল মগজাস্ত্র তার সঙ্গে প্রয়োজন ছিল অসম্ভব সাহস এবং শারীরিক সক্ষমতার।

শারীরিক সক্ষমতার কথা বলাতে পাঠক মনে করতে পারেন যে চ্যাং আপানা বেজায় স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন! কিন্তু বাস্তবটা সম্পূর্ণ অন্যরকম, বাস্তবের চ্যাং আপানা মাত্র 5 ফুট 3 ইঞ্চি লম্বা ছিলেন এবং তার পূর্ণবয়স্ক শরীরের আনুমানিক ওজন ছিল 145 পাউন্ড অর্থাৎ 66 কেজির কাছাকাছি। অথচ খর্বকায় দেহের অধিকারী আপাত নিরীহ দেখতে মানুষটা হাওয়ইয়ে দুষ্কৃতীদের ত্রাস ছিলেন। কোমরে গোঁজা বুল হুইপ ছাড়া আর জীবনে কোনো অস্ত্র কখনও ব্যবহার করেননি তিনি। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ছাড়া দাগী অপরাধীদের শায়েস্তা করা সত্যিই পুলিশের এবং গোয়েন্দাদের ইতিহাসে এক অন্যতম বিরল নজির।

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের অলিগলিতে তখন জুয়াড়ি আর আফিমখোরদের রমরমা। চিনা শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া মার্কিনিদের সেই বিষাক্ত নেশা যে তাদের বিরুদ্ধেই এরকম বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে সেটা চরম দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি তারা। এর সঙ্গে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতন কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব হয় দ্বীপপুঞ্জে। শহরের কোনায় কোনায় তৈরি হয়ে ওঠে কুষ্ঠরোগীদের বস্তি। আর সেই বস্তিগুলোর বেশিরভাগ বাইরের তথাকথিত সভ্য সমাজের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে,অপরাধের করাল গ্রীবা বিস্তৃতি লাভ করে সেখানে।

চ্যাং আপানা হনলুলু পুলিশে কাজ শুরু করার পরেই আদা জল খেয়ে নামেন এই জুয়াড়ি আর নেশাখোরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। ক্ষুরধার বুদ্ধি, অসামান্য সাহস এবং জনসংযোগের মাধ্যমে গড়ে তোলা ফিল্ড এজেন্টদের সহায়তায় এই অপরাধীদের কাছাকাছি পৌঁছতে তাঁকে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। আপানার আমলে মুলত তাঁর তদন্তপ্রক্রিয়ার জোরে হনলুলু পুলিশ জুয়া এবং নেশা সংক্রান্ত বেশিরভাগ অপরাধীকে গ্রেফতার করে মহামান্য আদালতের সামনে পেশ করতে এবং উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের সহায়তায় আইনানুগ ভাবে সাজা দিতেও সক্ষম হয়।

মনে রাখতে হবে চ্যাং আপানা ছিলেন হনলুলু পুলিশের সর্বপ্রথম ডিটেকটিভ। দুঃসাহসিক কীর্তিকলাপের জন্য বহুবার প্রাণ সংশয় হয়েছে আপানার, কিন্তু তাতেও তাঁকে দমানো যায়নি। একবার এক অপরাধী মাসেতি চালিয়ে দেয় আপানার গাল বরাবর, কোনরকমে প্রাণে বাঁচেন আপানা। কিন্তু মুখমন্ডলে সেই ছুরির কোপের দাগ তাঁকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়েছিল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

আর একবার এক কুখ্যাত অপরাধীকে ধাওয়া করতে করতে আপানা ঢুকে পড়েন এক অপরিচিত এলাকার কুখ্যাত এক ইমারতের ভিতর। আপানার অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সেই অপরাধী ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর ওপরে এবং দুপক্ষের হাতাহাতি হতে হতে আচমকাই তিনতলার বারান্দা থেকে একেবারে নীচে পড়ে যান আপানা। অন্য কেউ হলে হয়ত অকুস্থলেই প্রাণ হারাত, কিন্তু কড়া জানের আপানা গুরুতর আহত হলেও সে যাত্রায় কোনমতে প্রাণে বেঁচে যান। এবং সেই আহত শরীর নিয়ে আবার ঐ একই ইমারতে ঢুকে শ্রান্ত শরীর নিয়ে সেই অপরাধীর সঙ্গে যুঝে, গ্রেপ্তার করে নিয়ে তাকে নিয়ে আসেন পুলিশ থানায়।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপানার কৃতিত্বের এবং তার বর্ণময় চরিত্রের খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। বিভিন্ন দেশের আইনরক্ষকদের মুখে মুখে আপনার নাম ঘুরতে থাকে উদাহরণ হিসেবে। এমতাবস্থায় হনলুলুতে ছুটি কাটাতে আসেন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আর্ল ডার বিগার্স, উদ্দেশ্যে-হনলুলুতে মনোরম পরিবেশে বসে লিখবেন তাঁর আগামী উপন্যাস ‘হাউস উইদাউট এ কি’।

হনলুলুতে এসে আপানার কীর্তিকলাপের গল্পে মুগ্ধ হয়ে বিগার্স তাঁর উপন্যাসে আপানার চরিত্রের আদলে এক নতুন চরিত্রের জন্ম দেন যার নাম ‘চার্লি চ্যান’। এই চার্লি চ্যানের চরিত্রটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয় এবং পরবর্তীতে চার্লি চ্যান সিরিজ লিখতে শুরু করেন বিগার্স যেগুলোও বাজারে খুব জনপ্রিয় হয়।

জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা চার্লি চ্যান চরিত্রটি নিয়ে একটি সিনেমা এবং বেশ কয়েকটি টিভি সিরিজের ও অবতারণা হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আপানাকে চার্লি চ্যানের চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হলে তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন কেননা বিগার্সের কল্পনাপ্রসূত চার্লি চ্যান, চ্যাং আপানার থেকে শারীরিকভাবে অনেকটাই বেশি বলিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁর চেহারাও ছিল নজরকাড়া যা বাস্তবের আপানার সঙ্গে মোটেও মিল খেত না।

চৌত্রিশ বছর হনলুলু পুলিশে চাকরি করার পর একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে, ১৯৩২ সালের মে মাসে চাকরি থেকে চ্যাং আপানা অবসর নেন।

জীবনে অনেকবার গুরুতর প্রাণ সংশয় হলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি প্রতিবারই। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর ঘটনাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপানার একটা পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়ে যাওয়ার ফলে সেটি কেটে বাদ দিতে হয় এবং এই অপারেশনের পরের দিন সকালেই হনলুলুর কুইনস হাসপাতালে একষট্টি বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আপানা।

চ্যাং আপানা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন হনলুলুর মানোয়া চাইনিস কবরস্থানে। কিন্তু আজও প্রাচীন গাথার মতন দ্বীপপুঞ্জের অন্ধকার গলিতে সামুদ্রিক হাওয়ার সাঁই সাঁই আওয়াজকে বুল হুইপের আওয়াজ বলে ভুল করে চমকে ওঠেন কুখ্যাত থেকে কুখ্যাততর অপরাধীরা। ভয় একটাই, যদি আবার আপানা ফিরে আসে !

স্মরণীয় যাঁরা সব এপিসোড একত্রে

                            

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s